, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

৪ লাখ কোটি টাকা ব্যাংকে অলস: বিনিয়োগ গতি নাই

  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬
  • ৬৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বা অলস টাকা বেড়ে চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একদিকে আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগে গতি না থাকায় ব্যাংকগুলো বাড়তি অর্থ খাটাতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা।

এদিকে আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির ব্যবধানও পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট করছে। জুনে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংক আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৭৪ শতাংশ। বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪.৪৭ শতাংশে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে সম্প্রতি নীতি সুদহার কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণের পর রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বন্ধ কলকারখানা চালুতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো ৪১ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঋণের সুদ কমলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে কিছুটা গতি ফিরতে পারে। তবে শুধু সুদহার কমালেই বিনিয়োগ বাড়বে না। উদ্যোক্তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, স্থিতিশীল করনীতি এবং ঘুষ-দুর্নীতি কমানোও জরুরি। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে সাম্প্রতিক অতিরিক্ত তারল্য স্থায়ী নয়। বাজেট পাস হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়ছে। তবে ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থের কাস্টডিয়ান। তাই এ অর্থ বিনিয়োগে ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রো, কটেজ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বড় বড় বিনিয়োগ আপাতত কিছুটা দূরে রাখা উচিত।

বিনিয়োগের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বালানি-তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন সুবিধা এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোও জরুরি। এসব বিষয় ধীরে ধীরে ঠিক হচ্ছে। একসময় এগুলো খুব খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি সাময়িক। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ধীরে ধীরে ব্যাংকিং খাতের সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

৪ লাখ কোটি টাকা ব্যাংকে অলস: বিনিয়োগ গতি নাই

প্রকাশের সময় : ০৪:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২৬

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য বা অলস টাকা বেড়ে চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। একদিকে আমানত বাড়ছে, অন্যদিকে নতুন বিনিয়োগে গতি না থাকায় ব্যাংকগুলো বাড়তি অর্থ খাটাতে পারছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুন শেষে ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য ছিল চার লাখ আট হাজার কোটি টাকা।

এদিকে আমানত ও ঋণের প্রবৃদ্ধির ব্যবধানও পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট করছে। জুনে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ব্যাংক আমানতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১০.৭৪ শতাংশ। বিপরীতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি নেমে এসেছে ৪.৪৭ শতাংশে, যা ইতিহাসের সর্বনিম্ন।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে সম্প্রতি নীতি সুদহার কমিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ সময় উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণের পর রেপো রেট ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও বন্ধ কলকারখানা চালুতে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত তারল্য থাকা ব্যাংকগুলো ৪১ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ করবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, ঋণের সুদ কমলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে কিছুটা গতি ফিরতে পারে। তবে শুধু সুদহার কমালেই বিনিয়োগ বাড়বে না। উদ্যোক্তাদের মতে, নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত অবকাঠামো, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি, স্থিতিশীল করনীতি এবং ঘুষ-দুর্নীতি কমানোও জরুরি। এ বিষয়ে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, ব্যাংক খাতে সাম্প্রতিক অতিরিক্ত তারল্য স্থায়ী নয়। বাজেট পাস হওয়া এবং রেমিট্যান্সপ্রবাহ বাড়ার কারণে ব্যাংকগুলোতে আমানত বাড়ছে। তবে ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থের কাস্টডিয়ান। তাই এ অর্থ বিনিয়োগে ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মাইক্রো, কটেজ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। বড় বড় বিনিয়োগ আপাতত কিছুটা দূরে রাখা উচিত।

বিনিয়োগের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো জ্বালানি-তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ। পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন সুবিধা এবং কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস কমানোও জরুরি। এসব বিষয় ধীরে ধীরে ঠিক হচ্ছে। একসময় এগুলো খুব খারাপ অবস্থায় চলে গিয়েছিল, তবে এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তাঁর মতে, বর্তমান তারল্য পরিস্থিতি সাময়িক। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারলে ধীরে ধীরে ব্যাংকিং খাতের সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসবে।