, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

বিচি নিয়ে টানাটানিঃ রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক বৈপ্লবিক মাইলফলক

  • প্রকাশের সময় : ১০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৪২ পড়া হয়েছে

অনলাইন০৯ জুলাই, ২০২৬

বিচি নিয়ে টানাটানিঃ রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক বৈপ্লবিক মাইলফলক!
গবেষকরা নিশ্চয়ই শিগগিরই এ বিষয়ে সম্মানসূচক ডিগ্রির দাবিও তুলবেন!
আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘বিচি নিয়ে টানাটানি’—বাংলার রাজনৈতিক অভিধানে সম্ভবত এটাই সাম্প্রতিক সবচেয়ে ‘যুগান্তকারী’ অবদান। “শাউমাউ” এর পরে “ বিচি টানা “বাংলাদেশে বিস্ময়কর আবিষ্কার । সংসদে এ নিয়ে অভিনন্দন প্রস্তাব উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ রাজনৈতিক শালীনতা এখন পুরোনো ফ্যাশন; কুরুচিই নতুন রাষ্ট্রদর্শন।
শাউমাউ হাদির কবর জিয়ারত করার পর জিয়ার সোনার সৈনিকরা অবশ‍্যই বিচি টানা ও মধ‍্যবয়সি নারীকে রাজপথে উলঙ্গ করার উৎসাহে আজ উজ্জিবীত হয়েছে। এরা সোনার ছেলে।
সবখানেই যেন নতুন এক নন্দনতত্ত্বের জন্ম হয়েছে। যুক্তি যত কম, ইঙ্গিত তত বেশি, চিন্তা যত কম, কুরুচি তত বেশি। মনে হচ্ছে, রাজনীতির নতুন সিলেবাসে আদর্শ বাদ পড়েছে, আর অশ্লীলতাই বাধ্যতামূলক বিষয়।এখন করতালি পাওয়ার সূত্র খুবই সহজ।
ব্যক্তিগত আক্রমণ করো, অশালীন ইঙ্গিত দাও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গরম রাখো , তাহলেই তুমি সফল রাজনীতিবিদ! তোমার কবর কাজী নজরুলের পাশে হয়ে যেতে পারে।
একজন নারীর লাঞ্ছনা ও বস্ত্রহরণের ভিডিও দেখে মনে হলো—আমরা কি সত্যিই রাজনীতি করছি, নাকি সভ্যতার পোস্টমর্টেম করছি? মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি মানুষের মর্যাদাই প্রথম বলি হয়, তবে পতাকাটা যত উঁচুতেই ওড়ানো হোক, বিবেকটা মাটিতেই পড়ে থাকে।
হয়তো ভবিষ্যতের ইতিহাস বইয়ে লেখা থাকবে—
“একটি সময় ছিল, যখন যুক্তি ছুটিতে গিয়েছিল, রুচি নির্বাসনে ছিল, আর কুরুচিই জাতীয় সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।”
রাজনীতি যদি শেষ পর্যন্ত গালির অলিম্পিক আর অশ্লীলতার বিশ্বকাপে পরিণত হয়, তাহলে ট্রফি হয়তো কেউ জিতবে; কিন্তু হারবে পুরো সমাজ , পুরো বাংলাদেশ। 🇧🇩

তওহীদ ফিতরাত হোসেন।

Towhid Fitrat Hussain

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এলেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

বিচি নিয়ে টানাটানিঃ রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক বৈপ্লবিক মাইলফলক

প্রকাশের সময় : ১০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

অনলাইন০৯ জুলাই, ২০২৬

বিচি নিয়ে টানাটানিঃ রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক বৈপ্লবিক মাইলফলক!
গবেষকরা নিশ্চয়ই শিগগিরই এ বিষয়ে সম্মানসূচক ডিগ্রির দাবিও তুলবেন!
আমেরিকার স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে ‘বিচি নিয়ে টানাটানি’—বাংলার রাজনৈতিক অভিধানে সম্ভবত এটাই সাম্প্রতিক সবচেয়ে ‘যুগান্তকারী’ অবদান। “শাউমাউ” এর পরে “ বিচি টানা “বাংলাদেশে বিস্ময়কর আবিষ্কার । সংসদে এ নিয়ে অভিনন্দন প্রস্তাব উঠলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। কারণ রাজনৈতিক শালীনতা এখন পুরোনো ফ্যাশন; কুরুচিই নতুন রাষ্ট্রদর্শন।
শাউমাউ হাদির কবর জিয়ারত করার পর জিয়ার সোনার সৈনিকরা অবশ‍্যই বিচি টানা ও মধ‍্যবয়সি নারীকে রাজপথে উলঙ্গ করার উৎসাহে আজ উজ্জিবীত হয়েছে। এরা সোনার ছেলে।
সবখানেই যেন নতুন এক নন্দনতত্ত্বের জন্ম হয়েছে। যুক্তি যত কম, ইঙ্গিত তত বেশি, চিন্তা যত কম, কুরুচি তত বেশি। মনে হচ্ছে, রাজনীতির নতুন সিলেবাসে আদর্শ বাদ পড়েছে, আর অশ্লীলতাই বাধ্যতামূলক বিষয়।এখন করতালি পাওয়ার সূত্র খুবই সহজ।
ব্যক্তিগত আক্রমণ করো, অশালীন ইঙ্গিত দাও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গরম রাখো , তাহলেই তুমি সফল রাজনীতিবিদ! তোমার কবর কাজী নজরুলের পাশে হয়ে যেতে পারে।
একজন নারীর লাঞ্ছনা ও বস্ত্রহরণের ভিডিও দেখে মনে হলো—আমরা কি সত্যিই রাজনীতি করছি, নাকি সভ্যতার পোস্টমর্টেম করছি? মতের বিরোধিতা করতে গিয়ে যদি মানুষের মর্যাদাই প্রথম বলি হয়, তবে পতাকাটা যত উঁচুতেই ওড়ানো হোক, বিবেকটা মাটিতেই পড়ে থাকে।
হয়তো ভবিষ্যতের ইতিহাস বইয়ে লেখা থাকবে—
“একটি সময় ছিল, যখন যুক্তি ছুটিতে গিয়েছিল, রুচি নির্বাসনে ছিল, আর কুরুচিই জাতীয় সম্পদ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার অপেক্ষায় ছিল।”
রাজনীতি যদি শেষ পর্যন্ত গালির অলিম্পিক আর অশ্লীলতার বিশ্বকাপে পরিণত হয়, তাহলে ট্রফি হয়তো কেউ জিতবে; কিন্তু হারবে পুরো সমাজ , পুরো বাংলাদেশ। 🇧🇩

তওহীদ ফিতরাত হোসেন।

Towhid Fitrat Hussain

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এলেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।