, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

অপশক্তি ও দখল প্রচেষ্ঠাকারীদের হাত থেকে সিলেট

  • প্রকাশের সময় : ০১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
  • ১৪ পড়া হয়েছে
অনলাইন সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
অপশক্তি ও দখল প্রচেষ্ঠাকারীদের হাত থেকে সিলেট
বিভাগ উন্নয়ন পরিষদকে রক্ষা করার আকুল আহ্বান
—————————————————–
সিলেট বিভাগ আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত প্রায় তিন দশক ধরে যেসব নিবেদিতপ্রাণ কৃতি সন্তান তিলে তিলে, মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে, অর্থ ও শ্রম দিয়ে ‘সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ’ গড়ে তুলেছিলেন—আজ তাঁরাই চরম অবমূল্যায়ন ও অপমানের শিকার। ক্ষমতার ও অর্থের দাপট, মিথ্যা অপপ্রচার ও বেপরোয়া দখলদারিত্ব আর লোভের গ্রাসে ঐতিহ্যবাহী এই সামাজিক সংগঠনটি আজ ধ্বংসের মুখে।
———————————————
দখলের ব্যর্থ চেষ্টা ও কমিটির ওপর হস্তক্ষেপ:
——————————————–
শতবর্ষী একজন বিতর্কিত ব্যক্তি, কথিত দানবীর রাগীব আলী এবং তাঁর অনুগামী কতিপয় তৈলবাজ চাটুকার গোষ্ঠী, যারা মূলত তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে, ২০২২-২৩ সালে সংগঠনের সম্পত্তি দখলের মরিয়া চেষ্টা চালায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পল্টন এলাকার তৎকালীন কাউন্সিলর আবুল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পল্টন এলাকার তৎকালীন সরকারদলীয় কিছু প্রভাবশালী সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর পল্টনে পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় দখলের চক্রান্ত করা হয়।
সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে উক্ত কাউন্সিলরের অফিসে বসে বেআইনিভাবে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। অফিসে এসে বারবার হুমকি-ধামকি দেওয়া, ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরের চেষ্টা এবং পুলিশ এনে কার্যালয় দখলের অপচেষ্টা করা হয়। তবে পরিষদের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তৎকালে সিলেটের প্রবীণ মুরুব্বিরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন—সংগঠনের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা সিলেটের জ্যেষ্ঠ ও গুণীজনেরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন। বহিরাগত কোনো কাউন্সিলর বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের ভাগ্য নির্ধারণ করার কে?
———————————————-
কল্যাণ ট্রাস্টে সীমাহীন অনিয়ম ও জিম্মিদশা:
————————————————
বিগত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ কল্যাণ ট্রাস্টকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন ব্যক্তি আমৃত্যু সভাপতি এবং তাঁর অনুগত এক সদস্য সচিব ট্রাস্টের সর্বময় কর্তৃত্ব কুক্ষিগত করে রেখেছেন। গত ১৫ বছরের মধ্যে ট্রাস্টের কোনো আনুষ্ঠানিক সভা ডাকা হয়নি।
কার্যকরী কমিটি বারবার সভার তাগিদ এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। পরিষদের মালিকানাধীন ৩টি ফ্লোরের সমস্ত ভাড়া জমা হয় ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে, যার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ওই গোষ্ঠীর হাতে। তারা নিজেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও পর্দার আড়ালে থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে চলেছে।
——————————————–
প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সদস্যদের অবমূল্যায়ন:
———————————————
যেসব প্রবীণ ও সম্মানিত সদস্য নিজেদের ঘাম ঝরানো উপার্জনে কো-চেয়ারম্যান, ডোনার মেম্বার ও লাইফ মেম্বার হয়ে এই সম্পত্তি ও ফান্ড গড়ে তুলেছিলেন, আজ তাঁদের অবদানকে অস্বীকার করা হচ্ছে। সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়।
এমনকি উক্ত ব্যক্তির এক অনুগামী (যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন—তিনি সভাপতি হওয়ায় নাকি পরিষদ ‘কুলীন’ (অভিজাত) হয়েছে! এতে সাধারণ সদস্যদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে—তবে কি হাজারো সম্মানিত সদস্য এতদিন ‘কমজাত’ বা মর্যাদাশৈথিল্যের শিকার ছিলেন? বাস্তবতা হলো, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের মতো ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব পেয়ে উক্ত ব্যক্তি নিজেই নিজেকে সম্মানিত (কুলীন) করার সুযোগ পেয়েছেন, বরং জালিয়াতির ঘটনায় জেলে যাওয়ার পর পরিষদকে ডুবিয়েছেন। তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পতি দখলের জালিয়াতি মামলায় শাস্তি হওয়ার পর তিনি চেয়েছিলেন সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ তার মুক্তি দাবি করে ঢাকায় মিছিল-মিটিং করুক। কিন্তু সংগঠনের নেতাকর্মিরা জালিয়াতির পক্ষে কোনো কর্মসূচি দিতে রাজি না হওয়ার তিনি সংগঠনের কমিটির উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং জেল থেকে বের হওয়ার পর কমিটি বাতিল করে নিজের অনুসারিদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অপচেষ্ঠা চালান।
————————————–
বার্ধক্য, অপশাসন ও দুর্নীতির অতীত:
————————————-
বার্ধক্যের কারণে যিনি নিজে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না, যাঁর জন্য সার্বক্ষণিক সহায়তার প্রয়োজন হয়—তিনি কেন এখনো আমৃত্যু ট্রাস্টের সভাপতি এবং পরিষদের সভাপতি পদ আঁকড়ে থাকতে চান? এই অদম্য লোভের পেছনে কি তবে বহু বছরের আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য চেপে রাখার রহস্য লুকিয়ে আছে?
স্মারক জালিয়াতি, সরকারি ও দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, অর্থ আত্মসাৎ এবং আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস যাঁদের রয়েছে—যাঁরা অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন, কিংবা দুদকের হাতে ঘুষসহ গ্রেপ্তার হয়ে বরখাস্ত ও জেল খেটেছেন—এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে এই সম্মানিত সংগঠনকে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
——————————————-
সাধারণ ভোটার ও সদস্যদের প্রতি আহ্বান:
——————————————-
সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সিলেটবাসীর অধিকার আদায়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার এক সর্বজনীন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। ৩টি ফ্লোরসহ সংগঠনের বিপুল সম্পদ লুটপাট থেকে বাঁচাতে হলে এবং পরিষদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হলে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি ও দখলদার অপশক্তির বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক জবাব দিতে হবে।
দল-মত নির্বিশেষে আমরা চাই—নতুন, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ তার পূর্বের মর্যাদা ও মহিমায় ফিরে আসুক এবং
সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবি আদায়ের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুক।

Dulal Ahmed Chowdhury’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

অপশক্তি ও দখল প্রচেষ্ঠাকারীদের হাত থেকে সিলেট

প্রকাশের সময় : ০১:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
অনলাইন সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
অপশক্তি ও দখল প্রচেষ্ঠাকারীদের হাত থেকে সিলেট
বিভাগ উন্নয়ন পরিষদকে রক্ষা করার আকুল আহ্বান
—————————————————–
সিলেট বিভাগ আন্দোলন থেকে শুরু করে বিগত প্রায় তিন দশক ধরে যেসব নিবেদিতপ্রাণ কৃতি সন্তান তিলে তিলে, মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে, অর্থ ও শ্রম দিয়ে ‘সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ’ গড়ে তুলেছিলেন—আজ তাঁরাই চরম অবমূল্যায়ন ও অপমানের শিকার। ক্ষমতার ও অর্থের দাপট, মিথ্যা অপপ্রচার ও বেপরোয়া দখলদারিত্ব আর লোভের গ্রাসে ঐতিহ্যবাহী এই সামাজিক সংগঠনটি আজ ধ্বংসের মুখে।
———————————————
দখলের ব্যর্থ চেষ্টা ও কমিটির ওপর হস্তক্ষেপ:
——————————————–
শতবর্ষী একজন বিতর্কিত ব্যক্তি, কথিত দানবীর রাগীব আলী এবং তাঁর অনুগামী কতিপয় তৈলবাজ চাটুকার গোষ্ঠী, যারা মূলত তাঁর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করছে, ২০২২-২৩ সালে সংগঠনের সম্পত্তি দখলের মরিয়া চেষ্টা চালায়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পল্টন এলাকার তৎকালীন কাউন্সিলর আবুল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের একজন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এবং পল্টন এলাকার তৎকালীন সরকারদলীয় কিছু প্রভাবশালী সন্ত্রাসীকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর পল্টনে পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় দখলের চক্রান্ত করা হয়।
সংগঠনের গঠনতন্ত্রকে তোয়াক্কা না করে উক্ত কাউন্সিলরের অফিসে বসে বেআইনিভাবে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। অফিসে এসে বারবার হুমকি-ধামকি দেওয়া, ব্যাংকে চিঠি পাঠিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট স্থানান্তরের চেষ্টা এবং পুলিশ এনে কার্যালয় দখলের অপচেষ্টা করা হয়। তবে পরিষদের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সেই অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
তৎকালে সিলেটের প্রবীণ মুরুব্বিরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিলেন—সংগঠনের ভেতরে কোনো সমস্যা থাকলে তা সিলেটের জ্যেষ্ঠ ও গুণীজনেরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবেন। বহিরাগত কোনো কাউন্সিলর বা প্রভাবশালী গোষ্ঠী সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের ভাগ্য নির্ধারণ করার কে?
———————————————-
কল্যাণ ট্রাস্টে সীমাহীন অনিয়ম ও জিম্মিদশা:
————————————————
বিগত ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ কল্যাণ ট্রাস্টকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, একজন ব্যক্তি আমৃত্যু সভাপতি এবং তাঁর অনুগত এক সদস্য সচিব ট্রাস্টের সর্বময় কর্তৃত্ব কুক্ষিগত করে রেখেছেন। গত ১৫ বছরের মধ্যে ট্রাস্টের কোনো আনুষ্ঠানিক সভা ডাকা হয়নি।
কার্যকরী কমিটি বারবার সভার তাগিদ এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব চাইলেও তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে। পরিষদের মালিকানাধীন ৩টি ফ্লোরের সমস্ত ভাড়া জমা হয় ট্রাস্টের অ্যাকাউন্টে, যার সার্বিক নিয়ন্ত্রণ ওই গোষ্ঠীর হাতে। তারা নিজেরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও পর্দার আড়ালে থেকে ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে চলেছে।
——————————————–
প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সদস্যদের অবমূল্যায়ন:
———————————————
যেসব প্রবীণ ও সম্মানিত সদস্য নিজেদের ঘাম ঝরানো উপার্জনে কো-চেয়ারম্যান, ডোনার মেম্বার ও লাইফ মেম্বার হয়ে এই সম্পত্তি ও ফান্ড গড়ে তুলেছিলেন, আজ তাঁদের অবদানকে অস্বীকার করা হচ্ছে। সংগঠনের সাধারণ সদস্যদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র করা হয়।
এমনকি উক্ত ব্যক্তির এক অনুগামী (যিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছেন—তিনি সভাপতি হওয়ায় নাকি পরিষদ ‘কুলীন’ (অভিজাত) হয়েছে! এতে সাধারণ সদস্যদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে—তবে কি হাজারো সম্মানিত সদস্য এতদিন ‘কমজাত’ বা মর্যাদাশৈথিল্যের শিকার ছিলেন? বাস্তবতা হলো, সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদের মতো ঐতিহ্যবাহী প্ল্যাটফর্মের দায়িত্ব পেয়ে উক্ত ব্যক্তি নিজেই নিজেকে সম্মানিত (কুলীন) করার সুযোগ পেয়েছেন, বরং জালিয়াতির ঘটনায় জেলে যাওয়ার পর পরিষদকে ডুবিয়েছেন। তারাপুর চা বাগানের দেবোত্তর সম্পতি দখলের জালিয়াতি মামলায় শাস্তি হওয়ার পর তিনি চেয়েছিলেন সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ তার মুক্তি দাবি করে ঢাকায় মিছিল-মিটিং করুক। কিন্তু সংগঠনের নেতাকর্মিরা জালিয়াতির পক্ষে কোনো কর্মসূচি দিতে রাজি না হওয়ার তিনি সংগঠনের কমিটির উপর প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হন এবং জেল থেকে বের হওয়ার পর কমিটি বাতিল করে নিজের অনুসারিদের দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের অপচেষ্ঠা চালান।
————————————–
বার্ধক্য, অপশাসন ও দুর্নীতির অতীত:
————————————-
বার্ধক্যের কারণে যিনি নিজে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারেন না, যাঁর জন্য সার্বক্ষণিক সহায়তার প্রয়োজন হয়—তিনি কেন এখনো আমৃত্যু ট্রাস্টের সভাপতি এবং পরিষদের সভাপতি পদ আঁকড়ে থাকতে চান? এই অদম্য লোভের পেছনে কি তবে বহু বছরের আর্থিক অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য চেপে রাখার রহস্য লুকিয়ে আছে?
স্মারক জালিয়াতি, সরকারি ও দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, অর্থ আত্মসাৎ এবং আদালতের রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার দীর্ঘ ইতিহাস যাঁদের রয়েছে—যাঁরা অতীতে ভারতে পালিয়ে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছেন, কিংবা দুদকের হাতে ঘুষসহ গ্রেপ্তার হয়ে বরখাস্ত ও জেল খেটেছেন—এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের হাতে এই সম্মানিত সংগঠনকে ছেড়ে দেওয়া যায় না।
——————————————-
সাধারণ ভোটার ও সদস্যদের প্রতি আহ্বান:
——————————————-
সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। এটি সিলেটবাসীর অধিকার আদায়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষার এক সর্বজনীন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম। ৩টি ফ্লোরসহ সংগঠনের বিপুল সম্পদ লুটপাট থেকে বাঁচাতে হলে এবং পরিষদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হলে আসন্ন নির্বাচনে জালিয়াতি ও দখলদার অপশক্তির বিরুদ্ধে ব্যালটের মাধ্যমে সঠিক জবাব দিতে হবে।
দল-মত নির্বিশেষে আমরা চাই—নতুন, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমে সিলেট বিভাগ উন্নয়ন পরিষদ তার পূর্বের মর্যাদা ও মহিমায় ফিরে আসুক এবং
সিলেটবাসীর ন্যায্য দাবি আদায়ের ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠস্বর হয়ে উঠুক।

Dulal Ahmed Chowdhury’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।