, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

ভেতরের ছবিটা কিন্তু নির্মম।

  • প্রকাশের সময় : ১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ১১ পড়া হয়েছে

অনলাইন বুধবার,০৭ অক্টোবর ২০২৬

আজ যারা ক্ষমতায় আছে, কাল যারা আসবে, সবার জন্য এই দৃশ্য সতর্কবার্তা। মানুষের রায় অগ্রাহ্য করলে, জবাবদিহি এড়িয়ে গেলে, পরিণতি একই হবে। হয়তো আরও কঠিন। কারণ সবার জন্য উড়োজাহাজ অপেক্ষা করে না, সব প্রতিবেশীও দরজা খোলে না।

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার উড়োজাহাজকে নামতে দেওয়া ছাড়া ভারতের ‘প্রায় কোনো উপায় ছিল না’। ভারত তাঁকে নিয়ে যায়নি। তাঁর আসার জন্য তৈরিও ছিল না।
কথাটা কূটনীতির মোলায়েম ভাষায় বলা। ভেতরের ছবিটা কিন্তু নির্মম।
পনেরো বছরের বেশি সময় যিনি দেশ চালিয়েছেন, যাঁর ইশারায় প্রশাসন, পুলিশ, আদালত নড়েছে, তাঁর শেষ ঠিকানা নিয়ে আশ্রয়দাতা দেশ বলছে, আমরা ডাকিনি, নিতে বাধ্য হয়েছি। একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা অসহায় হলে তাঁকে এভাবে ‘মেনে নেওয়া বাস্তবতা’ হয়ে যেতে হয়! নিজের দেশে দাঁড়ানোর মতো এক টুকরো মাটি থাকলে কাউকে অন্যের দরজায় অনাহূত অতিথি হতে হয় না। সেই মাটি তিনি নিজেই হারিয়েছেন। গু/লিতে, গু/মে, ভোটহীন নির্বাচনে।
এবার ভারতের দিকটা দেখা যাক। ত্রিবেদী বলছেন, ভালো প্রতিবেশী পাশে দাঁড়ায়। প্রশ্ন হলো, কার পাশে? বাংলাদেশের মানুষের পাশে, নাকি একজন শাসকের পাশে? দেড় দশক ধরে দিল্লি একটি দলের ওপর বাজি ধরে রেখেছিল। সেই বাজি হেরে যাওয়ার পর এখন বলা হচ্ছে, আমরা আনিনি, উপায় ছিল না। এই বক্তব্যে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা যতটা আছে, আত্মসমালোচনা ততটা নেই।
প্রত্যর্পণের প্রশ্নে উত্তর আরও চেনা। প্রক্রিয়া চলছে, আদালত যুক্ত, সময়সীমা কেউ বলতে পারবে না। মানে দরজা বন্ধও নয়, খোলাও নয়। ঝুলিয়ে রাখাটাই এখানে নীতি। সম্পর্ক ‘লেনদেনের চেয়ে বেশি কিছু’ বলা সহজ। সেটা প্রমাণ হয় সীমান্তে, পানির হিস্যায়, আর বিচারের প্রশ্নে সহযোগিতায়।
তবু এই বক্তব্য থেকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা দিল্লির জন্য নয়, ঢাকার ক্ষমতার জন্য।
আগস্টের সেই দৃশ্য কারও ভুলে গেলে চলবে না। যে শাসক জনগণকে প্রতিপক্ষ বানায়, তার শেষ ভরসা হয় বিদেশের রানওয়ে। আর সেখানেও তাকে শুনতে হয়, আমাদের উপায় ছিল না। আজ যারা ক্ষমতায় আছে, কাল যারা আসবে, সবার জন্য এই দৃশ্য সতর্কবার্তা। মানুষের রায় অগ্রাহ্য করলে, জবাবদিহি এড়িয়ে গেলে, পরিণতি একই হবে। হয়তো আরও কঠিন। কারণ সবার জন্য উড়োজাহাজ অপেক্ষা করে না, সব প্রতিবেশীও দরজা খোলে না।
ক্ষমতার আসল আশ্রয় দেশের মানুষ। সেটা হারালে আর কোথাও আশ্রয় মেলে না, মেলে শুধু করুণা।
৬ অক্টোবর ২৬

Jannatul Ferdaus’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

ভেতরের ছবিটা কিন্তু নির্মম।

প্রকাশের সময় : ১১:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন বুধবার,০৭ অক্টোবর ২০২৬

আজ যারা ক্ষমতায় আছে, কাল যারা আসবে, সবার জন্য এই দৃশ্য সতর্কবার্তা। মানুষের রায় অগ্রাহ্য করলে, জবাবদিহি এড়িয়ে গেলে, পরিণতি একই হবে। হয়তো আরও কঠিন। কারণ সবার জন্য উড়োজাহাজ অপেক্ষা করে না, সব প্রতিবেশীও দরজা খোলে না।

ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার উড়োজাহাজকে নামতে দেওয়া ছাড়া ভারতের ‘প্রায় কোনো উপায় ছিল না’। ভারত তাঁকে নিয়ে যায়নি। তাঁর আসার জন্য তৈরিও ছিল না।
কথাটা কূটনীতির মোলায়েম ভাষায় বলা। ভেতরের ছবিটা কিন্তু নির্মম।
পনেরো বছরের বেশি সময় যিনি দেশ চালিয়েছেন, যাঁর ইশারায় প্রশাসন, পুলিশ, আদালত নড়েছে, তাঁর শেষ ঠিকানা নিয়ে আশ্রয়দাতা দেশ বলছে, আমরা ডাকিনি, নিতে বাধ্য হয়েছি। একজন প্রধানমন্ত্রী কতটা অসহায় হলে তাঁকে এভাবে ‘মেনে নেওয়া বাস্তবতা’ হয়ে যেতে হয়! নিজের দেশে দাঁড়ানোর মতো এক টুকরো মাটি থাকলে কাউকে অন্যের দরজায় অনাহূত অতিথি হতে হয় না। সেই মাটি তিনি নিজেই হারিয়েছেন। গু/লিতে, গু/মে, ভোটহীন নির্বাচনে।
এবার ভারতের দিকটা দেখা যাক। ত্রিবেদী বলছেন, ভালো প্রতিবেশী পাশে দাঁড়ায়। প্রশ্ন হলো, কার পাশে? বাংলাদেশের মানুষের পাশে, নাকি একজন শাসকের পাশে? দেড় দশক ধরে দিল্লি একটি দলের ওপর বাজি ধরে রেখেছিল। সেই বাজি হেরে যাওয়ার পর এখন বলা হচ্ছে, আমরা আনিনি, উপায় ছিল না। এই বক্তব্যে দায় ঝেড়ে ফেলার চেষ্টা যতটা আছে, আত্মসমালোচনা ততটা নেই।
প্রত্যর্পণের প্রশ্নে উত্তর আরও চেনা। প্রক্রিয়া চলছে, আদালত যুক্ত, সময়সীমা কেউ বলতে পারবে না। মানে দরজা বন্ধও নয়, খোলাও নয়। ঝুলিয়ে রাখাটাই এখানে নীতি। সম্পর্ক ‘লেনদেনের চেয়ে বেশি কিছু’ বলা সহজ। সেটা প্রমাণ হয় সীমান্তে, পানির হিস্যায়, আর বিচারের প্রশ্নে সহযোগিতায়।
তবু এই বক্তব্য থেকে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় শিক্ষাটা দিল্লির জন্য নয়, ঢাকার ক্ষমতার জন্য।
আগস্টের সেই দৃশ্য কারও ভুলে গেলে চলবে না। যে শাসক জনগণকে প্রতিপক্ষ বানায়, তার শেষ ভরসা হয় বিদেশের রানওয়ে। আর সেখানেও তাকে শুনতে হয়, আমাদের উপায় ছিল না। আজ যারা ক্ষমতায় আছে, কাল যারা আসবে, সবার জন্য এই দৃশ্য সতর্কবার্তা। মানুষের রায় অগ্রাহ্য করলে, জবাবদিহি এড়িয়ে গেলে, পরিণতি একই হবে। হয়তো আরও কঠিন। কারণ সবার জন্য উড়োজাহাজ অপেক্ষা করে না, সব প্রতিবেশীও দরজা খোলে না।
ক্ষমতার আসল আশ্রয় দেশের মানুষ। সেটা হারালে আর কোথাও আশ্রয় মেলে না, মেলে শুধু করুণা।
৬ অক্টোবর ২৬

Jannatul Ferdaus’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।