, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মদেরঅগ্রিম,শুল্ক মমতার সুবিধা পাবেনা:শুভেন্দুর প্রথম বাজেট

  • প্রকাশের সময় : ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
  • ৩৪ পড়া হয়েছে

আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে রাজস্ব বৃদ্ধির এ হেন পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

অনলাইন ২০ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে মদ বিক্রি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। আগামী ২৫ জুন, ২০২৬ থেকে রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে আবগারি শুল্ক সংগ্রহের নতুন নিয়ম। অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ বার থেকে প্রস্তুতকারক সংস্থা, ব্রুয়ারি বা বটলিং প্ল্যান্ট থেকে কোনও পণ্য সরানোর আগেই সংশ্লিষ্ট আবগারি শুল্ক এবং অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ ভাবে জমা দিতে হবে। ফলে মদ সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থায় আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে রাজস্ব বৃদ্ধির এ হেন পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

এই বিষয়ে শুক্রবার সল্টলেকের ‘শুভান্ন’ ভবনে অবস্থিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড’-এর সদর দফতরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন এফএল (বিদেশি মদ) এবং আইএমএল (দেশি মদ) ডিস্ট্রিবিউটরদের উপস্থিতিতে নতুন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের আবগারি কমিশনার এবং কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সেখানেই নতুন নিয়ম কার্যকর করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জানিয়ে দেওয়া হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা শুল্ক পরিশোধ ও বন্ডভিত্তিক হিসাব ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পদ্ধতি চালু করা হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে রাজস্ব সংগ্রহ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে এবং শুল্ক বকেয়া থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে মদ সরবরাহ চক্রের উপর প্রশাসনিক নজরদারিও আরও শক্তিশালী হবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে আগামী ২১ জুন সোমবার পর্যন্ত নতুন রিকুইজিশন বা সেলস অর্ডার জমা দেওয়া যাবে। এর পরে পুরনো নিয়মে আর কোনও নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

  • এ ছাড়া ২২ জুনের পর কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোনও নতুন ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ ইস্যু করা হবে না। ফলে ডিস্ট্রিবিউটরদের হাতে থাকা বিদ্যমান অর্ডারগুলিই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। ইতিমধ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত অর্ডার আগামী ২৪ জুন দুপুর ২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাক্টরি, ব্রুয়ারি বা বটলিং প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

Advertisement

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বন্ড ভ্যালু রেজিস্টার পদ্ধতির অবসান। দীর্ঘ দিন ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থাটি ২৫ জুন থেকে সম্পূর্ণ ভাবে ‘ডিকমিশন’ করা হবে। তার পরিবর্তে ডিস্ট্রিবিউটরদের ‘পার্সোনাল লেজার’ অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হবে। ফলে শুল্ক প্রদানের ক্ষেত্রে আলাদা কোনও বন্ড বা রেজিস্টার ব্যবস্থার প্রয়োজন থাকবে না। এ ছাড়া ডিস্ট্রিবিউটরদের ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ‘পার্সোনাল লেজার’ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথিপত্রও নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবগারি দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে রাজস্ব আদায়ের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত হবে।

জনপ্রিয়

মদেরঅগ্রিম,শুল্ক মমতার সুবিধা পাবেনা:শুভেন্দুর প্রথম বাজেট

প্রকাশের সময় : ১০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে রাজস্ব বৃদ্ধির এ হেন পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

অনলাইন ২০ জুন ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে মদ বিক্রি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। আগামী ২৫ জুন, ২০২৬ থেকে রাজ্যে কার্যকর হতে চলেছে আবগারি শুল্ক সংগ্রহের নতুন নিয়ম। অর্থ দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এ বার থেকে প্রস্তুতকারক সংস্থা, ব্রুয়ারি বা বটলিং প্ল্যান্ট থেকে কোনও পণ্য সরানোর আগেই সংশ্লিষ্ট আবগারি শুল্ক এবং অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক সম্পূর্ণ ভাবে জমা দিতে হবে। ফলে মদ সরবরাহ ও বণ্টন ব্যবস্থায় আর্থিক লেনদেন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে চলেছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। প্রসঙ্গত, আগামী সোমবার রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। তার আগে রাজস্ব বৃদ্ধির এ হেন পদক্ষেপকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন প্রশাসনিক কর্তারা।

এই বিষয়ে শুক্রবার সল্টলেকের ‘শুভান্ন’ ভবনে অবস্থিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেড’-এর সদর দফতরে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন এফএল (বিদেশি মদ) এবং আইএমএল (দেশি মদ) ডিস্ট্রিবিউটরদের উপস্থিতিতে নতুন ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন রাজ্যের আবগারি কমিশনার এবং কর্পোরেশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর। সেখানেই নতুন নিয়ম কার্যকর করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ডিস্ট্রিবিউটরদের প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা জানিয়ে দেওয়া হয়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বর্তমানে চালু থাকা শুল্ক পরিশোধ ও বন্ডভিত্তিক হিসাব ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও স্বচ্ছ ও কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পদ্ধতি চালু করা হবে। সরকারের দাবি, এর ফলে রাজস্ব সংগ্রহ আরও দ্রুত ও কার্যকর হবে এবং শুল্ক বকেয়া থাকার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে মদ সরবরাহ চক্রের উপর প্রশাসনিক নজরদারিও আরও শক্তিশালী হবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ডিস্ট্রিবিউটরদের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। জানানো হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থার অধীনে আগামী ২১ জুন সোমবার পর্যন্ত নতুন রিকুইজিশন বা সেলস অর্ডার জমা দেওয়া যাবে। এর পরে পুরনো নিয়মে আর কোনও নতুন আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

  • এ ছাড়া ২২ জুনের পর কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে কোনও নতুন ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ ইস্যু করা হবে না। ফলে ডিস্ট্রিবিউটরদের হাতে থাকা বিদ্যমান অর্ডারগুলিই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর করতে হবে। ইতিমধ্যে ইস্যু হওয়া সমস্ত অর্ডার আগামী ২৪ জুন দুপুর ২টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট ম্যানুফ্যাক্টরি, ব্রুয়ারি বা বটলিং প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ কার্যকর না হলে সংশ্লিষ্ট ‘অর্ডার অফ সাপ্লাই’ স্বয়ংক্রিয় ভাবে বাতিল হয়ে যাবে বলে জানানো হয়েছে।

Advertisement

নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হল বন্ড ভ্যালু রেজিস্টার পদ্ধতির অবসান। দীর্ঘ দিন ধরে চালু থাকা এই ব্যবস্থাটি ২৫ জুন থেকে সম্পূর্ণ ভাবে ‘ডিকমিশন’ করা হবে। তার পরিবর্তে ডিস্ট্রিবিউটরদের ‘পার্সোনাল লেজার’ অ্যাকাউন্ট থেকে সরাসরি অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক কেটে নেওয়া হবে। ফলে শুল্ক প্রদানের ক্ষেত্রে আলাদা কোনও বন্ড বা রেজিস্টার ব্যবস্থার প্রয়োজন থাকবে না। এ ছাড়া ডিস্ট্রিবিউটরদের ব্যাংক গ্যারান্টি এবং ‘পার্সোনাল লেজার’ অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথিপত্রও নতুন নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আবগারি দফতরের কর্মকর্তাদের মতে, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলে রাজস্ব আদায়ের গতি বৃদ্ধি পাবে এবং আর্থিক স্বচ্ছতা আরও নিশ্চিত হবে।