, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাফিজ সরাফাতের কতিপয় দূর্নীতি গুলশান-এ ২০ তলা ভবন

  • প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে
  • ৪ পড়া হয়েছে

  অনলাইন ১২ জুলাই, ২০২৬

গতকাল আমার ফেসবুক ওয়ালে একটি
বহুতল ভবনের ছবি পোস্ট করেছিলাম।
পোষ্টে অনেকেই লাইক ও কমেন্ট দিয়েছেন।
শুধু ভবন নিয়ে তো কোনো কাহিনী লেখা যায় না।
লিখতে গেলে ভবনের মালিকের নাম এসে যায়।
যেমন খুলনার সেই বহুল আলোচিত ‘স্বর্ণকমল‘ ভবন।
এর মালিক ছিলো একদা সেখানকার আন্ডারওয়াল্ডের
সম্রাট এরশাদ শিকদার!
তৎকালীন এই এরশাদ শিকদার খুলনায়
সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো।
তখন খুলনার জাতীয় পার্টি চলতো তার অঙ্গুলি হেলনে।
চাঁদাবাজি করে সে রাতারাতি হাজার হাজার কোটি
টাকার মালিক হয়ে যায়।
সেই অবৈধ অর্থে খুলনার অভিজাত আবাসিক এলাকা
সোনাডাঙ্গায় নির্মাণ করে একটি প্রাসাদ।
যার নাম দেয় ‘স্বর্ণকমল‘।
কুখ্যাত এরশাদ শিকদারের হুকুমে
সেখানে হত্যা-গুম চলতো।
পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে এরশাদকে
গ্রেফতার করা হয়।
বিভিন্ন হত্যা মামলায় তার ফাঁসি হয়।
নীচের যে ভবনের ছবি পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে
সেটা গুলশান-২ এলাকার ১০৩ নম্বর সড়কে
দাঁড়িয়ে আছে।
ভবনের নাম দেয়া হয়েছে ‘ফাইন্যান্স স্কয়ার‘।
এর মূল মালিক চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।
তবে ইনি তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদের নামে
ভবনটির মালিকানা দেখিয়েছেন।
যে প্লটে ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে সেটা ছিলো
আবাসিক প্লট।
কিন্তু দুর্নীতির মাধ্যমে তা বানিজ্যিক প্লট করা হয়।
এ নিয়ে দুদক ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করেছে।
কে এই চৌধুরী নাফিজ সরাফাত?
উত্তরাধিকার সূত্রেই নাফিজ সরাফাত
ডিগবাজীতে চ্যাম্পিয়ন।
তার প্রপিতামহ (দাদার বাবা) তাদের
আদি ধর্ম ত্যাগ করে ডিগবাজী দেন।
তিন শিশুপুত্রসহ নিম্নবর্ণের হিন্দু থেকে
মুসলমান হয়েই নামের আগে বংশ পরিচয়
চৌধুরী লাগান।
কিন্তু জাতে উঠতে পারলেন না।
কেননা, এলাকার লোকজন এখনও তাদের
‘চাড়াল চৌধুরী’ বলেই সম্বোধন করে।
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার
কুশলা গ্রামে তাদের বাড়ি।
একটা প্রবাদ আছে,
‘জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো‘।
এই কথাটা কয়জন মানুষের বেলায়
সত্যি হয় তা বলা কঠিন।
কারন,বেশীভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রক্তের দোষ যায়না। নাফিজ সরাফাতই তার জলজ্যান্ত প্রমান।
যতরকমের দূর্নীতি,ধান্ধাবাজি, বাটপারি আছে
সবগুলোতেই তিনি সিদ্ধহস্ত।
এক কথায় বলা যায় চ্যাম্পিয়ন।
আওয়ামী লীগের সাড়ে পনেরো বছরের শাসনামলে
কতিপয় দূর্নীতিবাজ লোককে ব্যবহার করে
দূর্নীতি,বাটপারির মাধ্যমে গড়ে তোলেন
অর্থ-সম্পদের পাহাড়।
শুন্য থেকে হয়ে যান কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। ব্যংক, বীমা,পাঁচ তাঁরকা হোটেল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টা
ফ্ল্যাট ও গুলশান-২ এ ২০ তলা বানিজ্যিক ভবনসহ
কি নেই তার!
এছাড়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও দুবাইতে
কিনেছেন বাড়ি-ভিলা।
আওয়ামী লীগের আমলে অতি আওয়ামী লীগার
সেজে অর্জিত অবৈধ সম্পদ রক্ষা করার চেষ্টায়
চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই বরগুনার এক
বিএনপি নেতাকে পীর ধরেছেন।
ওই নেতার পিছনে কোটি কোটি টাকা
বিনিয়োগ করছেন বলে জানা গেছে।
নাফিজ সরাফাতের টাকা বিএনপি‘র
কিছু সিনিয়র নেতাদের পিছনে ব্যয় করে
তিনি এখন দলের ও রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ
বাগিয়ে নিয়ে নাফিজ সরাফাতকে
রক্ষা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।
আর নাফিজ সরাফাত নিজেও ডিগবাজী দিয়ে
এখন নব্য বিএনপি হওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাফিজ সরাফাতের কোন নীতি-আদর্শ
বলতে কিছু নাই।
নিজের স্বার্থে ইনি যে কারও কাছে
আত্মসমর্পণ করতে পারেন।
আওয়ামী লীগের সময়ে যেমন একজন ভুঁইফোড়
বুদ্ধিজীবীর পিছনে বিনিয়োগ করেছিলেন,
ঠিক তেমনি এখন বিএনপির ওই নেতার পিছনে
বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করছেন।
এই ভূঁইফোড় বুদ্ধিজীবীকে প্রথমে
তার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকের চাকরি দিয়েছিলেন। একইভাবে বিএনপির ওই নেতাকে
নাফিজ সরাফাত তার আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার
সম্পাদকের চাকরি দিয়েছেন।
সিস্টেম একই, শুধু দল আর ব্যাক্তি আলাদা।
এছাড়া, বাটপার নাফিজ সরাফাত
গুলশান-২ এর ২০ তলা বানিজ্যিক ভবনটি
রক্ষা করতে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে
মোটা বেতনে চাকরি দিয়েছেন।
তারা নিয়মিত ওই ভবনে অফিস করার নামে
ভবনটি পাহারা দিচ্ছেন।
নাফিজ সরাফাতের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ আছে।
তাই একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে কোম্পানির চেয়ারম্যান বানিয়ে দিব্বি ব্যবসা চালিয় যাচ্ছেন।
কথায় আছে, রতনে রতন চিনে…..।
নাফিজ সরাফাত নিজেও যেমন বাটপার,
তার সাথে সম্পর্কও হয় সব বাটপারদের।
আওয়ামী লীগের সময়ে পুলিশ অফিসার
ডিবি হারুনের তদবিরে কিশোরগঞ্জের
মিঠামইন উপজেলার ছাত্রলীগের ক্যাডার
পরিচয় দেয়া এক টোকাইকে
নিম্ন বেতনে চাকরি দেন নাফিজ সরাফাত।
এই টোকাই কখনও চৌকিদার-দারোয়ান,
কখনও কখনও ব্যক্তিগত চাকর-বাকরের মতো
ফুটফরমাশ খাটতো।
টোকাইটা নিজেকে ডিবি হারুনের
চাচাতো ভাই বলে পরিচয় দিত।
এই টোকাই বরগুনার ওই বিএনপি নেতার
পায়ে সালাম দেয়া ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে
ক্যাপশনে লিখে, ‘আমার আত্মার আত্মীয়’।
যে টোকাই পত্রিকা অফিসে পিয়নের কাজ করতো,
সে নাকি এখন অসাংবাদিক সম্পাদক
বিএনপি নেতার পায়ে তেল মালিশ করে
নাফিজ সরাফাতের আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা
দৈনিক বাংলার একজন হর্তাকর্তা হয়েছে।
এক সময় এই টোকাইয়ের ডিউটি ছিল
সাংবাদিকদের কাজকর্ম করে দেয়া।
পবিত্র রমজান মাসে দোকান থেকে ইফতার কিনে
এনে তা রেডি করে সাংবাদিকদের
টেবিলে টেবিলে পরিবেশন করতো।
ইফতার কিনে সে প্রতিদিনই কিছু টাকা হাতিয়ে নিতো।
ধীরে ধীরে চুরির পরিমাণ বেড়ে গেলে
সাংবাদিকরা বিরক্ত হয়ে তাকে চড়ধাপ্পর মেরে
অফিস থেকে বের করে দিয়েছিল।
পরপর দুই বছরই রোজার মাসে এই ঘটনা ঘটে।
কিন্তু নাফিজ সরাফাতের ক্যারিশমায়
সে এখন ওই পত্রিকারই হর্তাকর্তা।
ইংল্যান্ড:১১ জুলাই ২০২৬

Farazi Azmal Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

নাফিজ সরাফাতের কতিপয় দূর্নীতি গুলশান-এ ২০ তলা ভবন

প্রকাশের সময় : ৩ ঘন্টা আগে

  অনলাইন ১২ জুলাই, ২০২৬

গতকাল আমার ফেসবুক ওয়ালে একটি
বহুতল ভবনের ছবি পোস্ট করেছিলাম।
পোষ্টে অনেকেই লাইক ও কমেন্ট দিয়েছেন।
শুধু ভবন নিয়ে তো কোনো কাহিনী লেখা যায় না।
লিখতে গেলে ভবনের মালিকের নাম এসে যায়।
যেমন খুলনার সেই বহুল আলোচিত ‘স্বর্ণকমল‘ ভবন।
এর মালিক ছিলো একদা সেখানকার আন্ডারওয়াল্ডের
সম্রাট এরশাদ শিকদার!
তৎকালীন এই এরশাদ শিকদার খুলনায়
সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলো।
তখন খুলনার জাতীয় পার্টি চলতো তার অঙ্গুলি হেলনে।
চাঁদাবাজি করে সে রাতারাতি হাজার হাজার কোটি
টাকার মালিক হয়ে যায়।
সেই অবৈধ অর্থে খুলনার অভিজাত আবাসিক এলাকা
সোনাডাঙ্গায় নির্মাণ করে একটি প্রাসাদ।
যার নাম দেয় ‘স্বর্ণকমল‘।
কুখ্যাত এরশাদ শিকদারের হুকুমে
সেখানে হত্যা-গুম চলতো।
পরে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন হলে এরশাদকে
গ্রেফতার করা হয়।
বিভিন্ন হত্যা মামলায় তার ফাঁসি হয়।
নীচের যে ভবনের ছবি পোস্টে ব্যবহার করা হয়েছে
সেটা গুলশান-২ এলাকার ১০৩ নম্বর সড়কে
দাঁড়িয়ে আছে।
ভবনের নাম দেয়া হয়েছে ‘ফাইন্যান্স স্কয়ার‘।
এর মূল মালিক চৌধুরী নাফিজ সরাফাত।
তবে ইনি তার স্ত্রী আঞ্জুমান আরা শহীদের নামে
ভবনটির মালিকানা দেখিয়েছেন।
যে প্লটে ভবনটি গড়ে তোলা হয়েছে সেটা ছিলো
আবাসিক প্লট।
কিন্তু দুর্নীতির মাধ্যমে তা বানিজ্যিক প্লট করা হয়।
এ নিয়ে দুদক ইতিমধ্যে মামলা দায়ের করেছে।
কে এই চৌধুরী নাফিজ সরাফাত?
উত্তরাধিকার সূত্রেই নাফিজ সরাফাত
ডিগবাজীতে চ্যাম্পিয়ন।
তার প্রপিতামহ (দাদার বাবা) তাদের
আদি ধর্ম ত্যাগ করে ডিগবাজী দেন।
তিন শিশুপুত্রসহ নিম্নবর্ণের হিন্দু থেকে
মুসলমান হয়েই নামের আগে বংশ পরিচয়
চৌধুরী লাগান।
কিন্তু জাতে উঠতে পারলেন না।
কেননা, এলাকার লোকজন এখনও তাদের
‘চাড়াল চৌধুরী’ বলেই সম্বোধন করে।
গোপালগঞ্জ জেলার কোটালিপাড়া উপজেলার
কুশলা গ্রামে তাদের বাড়ি।
একটা প্রবাদ আছে,
‘জন্ম হোক যথাতথা, কর্ম হোক ভালো‘।
এই কথাটা কয়জন মানুষের বেলায়
সত্যি হয় তা বলা কঠিন।
কারন,বেশীভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, রক্তের দোষ যায়না। নাফিজ সরাফাতই তার জলজ্যান্ত প্রমান।
যতরকমের দূর্নীতি,ধান্ধাবাজি, বাটপারি আছে
সবগুলোতেই তিনি সিদ্ধহস্ত।
এক কথায় বলা যায় চ্যাম্পিয়ন।
আওয়ামী লীগের সাড়ে পনেরো বছরের শাসনামলে
কতিপয় দূর্নীতিবাজ লোককে ব্যবহার করে
দূর্নীতি,বাটপারির মাধ্যমে গড়ে তোলেন
অর্থ-সম্পদের পাহাড়।
শুন্য থেকে হয়ে যান কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক। ব্যংক, বীমা,পাঁচ তাঁরকা হোটেল, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৩০টা
ফ্ল্যাট ও গুলশান-২ এ ২০ তলা বানিজ্যিক ভবনসহ
কি নেই তার!
এছাড়া, কানাডা, যুক্তরাজ্য ও দুবাইতে
কিনেছেন বাড়ি-ভিলা।
আওয়ামী লীগের আমলে অতি আওয়ামী লীগার
সেজে অর্জিত অবৈধ সম্পদ রক্ষা করার চেষ্টায়
চব্বিশের ৫ আগস্টের পরপরই বরগুনার এক
বিএনপি নেতাকে পীর ধরেছেন।
ওই নেতার পিছনে কোটি কোটি টাকা
বিনিয়োগ করছেন বলে জানা গেছে।
নাফিজ সরাফাতের টাকা বিএনপি‘র
কিছু সিনিয়র নেতাদের পিছনে ব্যয় করে
তিনি এখন দলের ও রাস্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদ
বাগিয়ে নিয়ে নাফিজ সরাফাতকে
রক্ষা করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।
আর নাফিজ সরাফাত নিজেও ডিগবাজী দিয়ে
এখন নব্য বিএনপি হওয়ার চেষ্টা করছেন।
নাফিজ সরাফাতের কোন নীতি-আদর্শ
বলতে কিছু নাই।
নিজের স্বার্থে ইনি যে কারও কাছে
আত্মসমর্পণ করতে পারেন।
আওয়ামী লীগের সময়ে যেমন একজন ভুঁইফোড়
বুদ্ধিজীবীর পিছনে বিনিয়োগ করেছিলেন,
ঠিক তেমনি এখন বিএনপির ওই নেতার পিছনে
বিপুল পরিমান অর্থ বিনিয়োগ করছেন।
এই ভূঁইফোড় বুদ্ধিজীবীকে প্রথমে
তার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপকের চাকরি দিয়েছিলেন। একইভাবে বিএনপির ওই নেতাকে
নাফিজ সরাফাত তার আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকার
সম্পাদকের চাকরি দিয়েছেন।
সিস্টেম একই, শুধু দল আর ব্যাক্তি আলাদা।
এছাড়া, বাটপার নাফিজ সরাফাত
গুলশান-২ এর ২০ তলা বানিজ্যিক ভবনটি
রক্ষা করতে কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে
মোটা বেতনে চাকরি দিয়েছেন।
তারা নিয়মিত ওই ভবনে অফিস করার নামে
ভবনটি পাহারা দিচ্ছেন।
নাফিজ সরাফাতের ব্যাংক একাউন্ট জব্দ আছে।
তাই একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে কোম্পানির চেয়ারম্যান বানিয়ে দিব্বি ব্যবসা চালিয় যাচ্ছেন।
কথায় আছে, রতনে রতন চিনে…..।
নাফিজ সরাফাত নিজেও যেমন বাটপার,
তার সাথে সম্পর্কও হয় সব বাটপারদের।
আওয়ামী লীগের সময়ে পুলিশ অফিসার
ডিবি হারুনের তদবিরে কিশোরগঞ্জের
মিঠামইন উপজেলার ছাত্রলীগের ক্যাডার
পরিচয় দেয়া এক টোকাইকে
নিম্ন বেতনে চাকরি দেন নাফিজ সরাফাত।
এই টোকাই কখনও চৌকিদার-দারোয়ান,
কখনও কখনও ব্যক্তিগত চাকর-বাকরের মতো
ফুটফরমাশ খাটতো।
টোকাইটা নিজেকে ডিবি হারুনের
চাচাতো ভাই বলে পরিচয় দিত।
এই টোকাই বরগুনার ওই বিএনপি নেতার
পায়ে সালাম দেয়া ছবি ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে
ক্যাপশনে লিখে, ‘আমার আত্মার আত্মীয়’।
যে টোকাই পত্রিকা অফিসে পিয়নের কাজ করতো,
সে নাকি এখন অসাংবাদিক সম্পাদক
বিএনপি নেতার পায়ে তেল মালিশ করে
নাফিজ সরাফাতের আন্ডারগ্রাউন্ড পত্রিকা
দৈনিক বাংলার একজন হর্তাকর্তা হয়েছে।
এক সময় এই টোকাইয়ের ডিউটি ছিল
সাংবাদিকদের কাজকর্ম করে দেয়া।
পবিত্র রমজান মাসে দোকান থেকে ইফতার কিনে
এনে তা রেডি করে সাংবাদিকদের
টেবিলে টেবিলে পরিবেশন করতো।
ইফতার কিনে সে প্রতিদিনই কিছু টাকা হাতিয়ে নিতো।
ধীরে ধীরে চুরির পরিমাণ বেড়ে গেলে
সাংবাদিকরা বিরক্ত হয়ে তাকে চড়ধাপ্পর মেরে
অফিস থেকে বের করে দিয়েছিল।
পরপর দুই বছরই রোজার মাসে এই ঘটনা ঘটে।
কিন্তু নাফিজ সরাফাতের ক্যারিশমায়
সে এখন ওই পত্রিকারই হর্তাকর্তা।
ইংল্যান্ড:১১ জুলাই ২০২৬

Farazi Azmal Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।