প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় চট্টগ্রামের ৫০ শতাংশ এলাকা, কক্সবাজারের ৪৯ শতাংশ এবং খাগড়াছড়ির প্রায় ৭৩ শতাংশ এলাকা এখনো প্লাবিত রয়েছে। অন্যদিকে, বিভাগের মোট ৪০৮টি ইউনিয়ন ও পৌরসভা এবং ৭৯ হাজার ১৮৭টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৭৬টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ১৪ হাজার ২৮১টি, কক্সবাজারের ৭৪টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৪৮ হাজার ৬৩টি, বান্দরবানের ৩৬টিতে ১৫ হাজার ৩৩০টি, খাগড়াছড়িতে ৪১টিতে ১ হাজার ৪০টি এবং রাঙ্গামাটিতে ৪২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভায় ৪৭৩টি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া, ৩৪৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে চট্টগ্রামে ২১২টি, কক্সবাজারে ৩০টি, রাঙ্গামাটিতে ৩২টি, বান্দরবানে ৪১টি এবং খাগড়াছড়িতে ২৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
প্রতিবেদনের অনুযায়ী এসব এলাকায় মোট ৩ হাজার ৮৪১ কিলোমিটার সড়ক এবং ৩৩৯টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার সড়ক ও ১৪৫টি কালভার্ট, কক্সবাজারে ২ হাজার ৬০ কিমি সড়ক ও ৭৯টি কালভার্ট, রাঙ্গামাটিতে ১০২ কিমি সড়ক ও ২৫টি কালভার্ট, বান্দরবানে ৩৭০ কিমি সড়ক ও ২৯টি কালভার্ট, খাগড়াছড়িতে ১১৯ কিমি সড়ক ও ৪১টি কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের দেয়া তথ্য মতে, বিভাগে মোট ৩ হাজার ৯৪১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩৪ হাজার ৭২৩ জন মানুষ অবস্থান করছেন। যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৬৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২২ হাজার ৬০০ জন, কক্সবাজারে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন, রাঙ্গামাটিতে ৫৩টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৯০৩ জন, বান্দরবানে ২০০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন, খাগড়াছড়িতে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৫৮১ জন এবং ফেনিতে ২০২ জন মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন।
এদিকে প্রশাসন জানিয়েছে, বান্দরবানের লামা-আলীকদম সড়কের নিচু অংশে পানি বাড়ায় উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি প্রধান সড়কের সঙ্গে সংযোগকারী বেইলি ব্রিজটি ঝুঁকির মুখে রয়েছে। দ্রুত সড়ক ও ব্রিজটি সংস্কার করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা হতে পারে বলে জানিয়েছে তারা।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের স্টাফ অফিসার ও সহকারী কমিশনার আসিফ জাহান সিকদার জানান, চট্টগ্রামে বন্যার কারণে বিভিন্ন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনো কয়েকটি উপজেলার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, শুকনা খাবার ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।