, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লি এখন চাইছে তারেক রহমানকে সরাতে

  • প্রকাশের সময় : ১১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৮ পড়া হয়েছে

 অনলাইন সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬
দিল্লি এখন চাইছে তারেক রহমানকে সরাতে পারলে আওমী উত্থান সম্ভব।
কর্ণেল অলি পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রী যেনো রাতে ঢাকার বাইরে অবস্থান না করেন।
ধান্দাবাজ বলেন আর যাই বলেন, কর্ণেল অলি বর্ষিয়ান, একসময়ের ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ।
তিনি থ্রেট দেখছেন বিধায়ই বলছেন বলে আমার বিশ্বাস।
আর এই থ্রেট দেখার জন্য খুব বেশি বিজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
অনেকে বলছেন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের কারণে অনেকের চক্ষুশূল হয়েছেন।
এগুলো কিছু নাহ।
মূল সমস্যা আরো গুরুতর।
আওয়ামীলীগ।
ভারত খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে বিএনপি গত ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের স্বার্থে অনেক বিষয়ে নমনীয়তা দেখালেও, নির্বাচনের পর ১৮০ ডিগ্রী চেঞ্জ।
এখন ভারতের দুশচিন্তার অন্ত নেই!
তারা যেকোনো মূল্যে আওয়ামীলীগকে দেশের রাজনীতিতে ফেরত চায়।
কেনো?
ক্ষমতায় বসার মত দেশে আর কোন বড় রাজনৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই যারা কিনা আপাদমস্তক দিল্লীর গোলামী করবে।
তো কেয়ামত পর্যন্ত বাংলাদেশ আর কখনো দিল্লির গোলামী করবে না – এটা ভারত কশ্চিমকালেও মানবে না!
কিন্তু এইধরণের গোলামীর জন্য ভারতের হাতে একমাত্র অপশানই আওয়ামীলীগ!
সুতরাং আওয়ামীলীগের উপরই বাজি ধরবে ভারত। কোন সন্দেহ নেই!
কিন্তু কিভাবে সম্ভব?
এটা তখনই সম্ভব যখন বাংলাদেশের রাজিনীতিতে মাইলস্টোন কোন ঘটনা ঘটবে। খুব বড় কোনো স্ক্যান্ডাল, খুব বড় কোনো ম্যাসাকার যেটা বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম!
আর জিয়া পরিবারের উপর আঘাতের থেকে বড় কোন পলিটিক্যাল ম্যাসাকার আজকের বাংলাদেশে হতে পারেনা।
ভয়টা এখানেই।
আরো একটা সমস্যা।
প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সস্ত্রীক যাচ্ছেন।
তারেক রহমান মূলত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার দুই মেয়াদ বা দশ বছর পূর্তির পরের অপশান হিসাবে ডা: জোবাইদাকে প্রস্তুত করছেন।
কিন্তু এই যে উনি যেখানেই যাচ্ছেন, বেশিরভাগ সময় সস্ত্রীক যাচ্ছেন, এটা আমাদেরকে আরো দুশ্চিতায় ফেলে।
অর্থাৎ খারাপ কিছু ঘটলে দুজনের সাথে একসাথে ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়।
সলিউশান কি?
৪ টা।
১) ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলোকে প্রচন্ড সক্রিয় থাকতে হবে। সত্তর আশির দশকে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ হাইলি ক্যাপাবল ছিল না, এজন্য আমরা ব্যাক টু ব্যাক দুই গ্রেট লিডারকে হারিয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে ক্যাপাবিলিটির দোহাই দেয়ার সুযোগ নেই। আশার খবর হল, ইতিমধ্যে এজেন্সিগুলোতে দারূন কিছু রদবদল হয়েছে, সামনে আরো কিছু চেঞ্জ আসছে।
২) প্রধানমন্ত্রীর ফার্স্ট লাইন ডিফেন্স – এসএসএফ কে খুব জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। সিকিউরিটি খুব টাইট করতে হবে। এখনের থেকে অন্তত ১০ গুন, টুয়েন্টি ফোর সেভেন, এনিটাইম, এনিহয়ার।
৩) আগামি বছর জেনারেল ওয়াকার অবসরে যাবেন। পরবর্তী সেনাপ্রধান খুব ভেবেচিন্তে নিয়োগ দিতে হবে। এটা একটা হিউজ ডিসাইসিভ ফ্যাক্টর। এটা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করবো আরেক দিন।
৪) প্রধানমন্ত্রীর উচিত অন্তত ঢাকার বাইরের সফর গুলোতে, খুব স্পেশাল কিছু না হলে, ডা: জোবাইদা কে সাথে না নেওয়া।
শেষ করছি আরেকটা তথ্য দিয়ে। ৮১ সালে হাসিনা দেশে ফেরেন ১৭ মে। কিন্তু শুধু তার দেশে ফেরাটাই যথেষ্ঠ ছিলনা।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার কাছে বাকি সবাই ফিকে হয়ে পড়ছিল।
সেই দিন গুলোর সাথে আজকের প্রেক্ষাপট অনেকটাই মিলে যায়।
দিল্লির দরকার ছিলো খাস গোলাম। কিন্তু গোলামকে ক্ষমতায় বসাতে দরকার ছিল একটা ম্যাসাকার।
অত:পর শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় নির্মম ভাবে খু’ন হন জিয়াউর রহমান।
আজ ৪৫ বছর পর, বাংলাদেশ আবারো একই রকম একটা ইতিহাসের মোড়ে দাঁড়িয়ে।
প্লেয়ারগুলোও প্রায় সব একই।
সেই দিল্লি, সেই হাসিনা।
শুধু সিনিয়র জিয়ার জায়গায় জুনিয়র জিয়া!

Tita Bhai’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

দিল্লি এখন চাইছে তারেক রহমানকে সরাতে

প্রকাশের সময় : ১১:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

 অনলাইন সোমবার ১৩ জুলাই, ২০২৬
দিল্লি এখন চাইছে তারেক রহমানকে সরাতে পারলে আওমী উত্থান সম্ভব।
কর্ণেল অলি পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রধানমন্ত্রী যেনো রাতে ঢাকার বাইরে অবস্থান না করেন।
ধান্দাবাজ বলেন আর যাই বলেন, কর্ণেল অলি বর্ষিয়ান, একসময়ের ধুরন্ধর রাজনীতিবিদ।
তিনি থ্রেট দেখছেন বিধায়ই বলছেন বলে আমার বিশ্বাস।
আর এই থ্রেট দেখার জন্য খুব বেশি বিজ্ঞ হওয়ার প্রয়োজন নেই।
অনেকে বলছেন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের কারণে অনেকের চক্ষুশূল হয়েছেন।
এগুলো কিছু নাহ।
মূল সমস্যা আরো গুরুতর।
আওয়ামীলীগ।
ভারত খুব ভালো করেই বুঝতে পারছে বিএনপি গত ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনের স্বার্থে অনেক বিষয়ে নমনীয়তা দেখালেও, নির্বাচনের পর ১৮০ ডিগ্রী চেঞ্জ।
এখন ভারতের দুশচিন্তার অন্ত নেই!
তারা যেকোনো মূল্যে আওয়ামীলীগকে দেশের রাজনীতিতে ফেরত চায়।
কেনো?
ক্ষমতায় বসার মত দেশে আর কোন বড় রাজনৈতিক শক্তি অবশিষ্ট নেই যারা কিনা আপাদমস্তক দিল্লীর গোলামী করবে।
তো কেয়ামত পর্যন্ত বাংলাদেশ আর কখনো দিল্লির গোলামী করবে না – এটা ভারত কশ্চিমকালেও মানবে না!
কিন্তু এইধরণের গোলামীর জন্য ভারতের হাতে একমাত্র অপশানই আওয়ামীলীগ!
সুতরাং আওয়ামীলীগের উপরই বাজি ধরবে ভারত। কোন সন্দেহ নেই!
কিন্তু কিভাবে সম্ভব?
এটা তখনই সম্ভব যখন বাংলাদেশের রাজিনীতিতে মাইলস্টোন কোন ঘটনা ঘটবে। খুব বড় কোনো স্ক্যান্ডাল, খুব বড় কোনো ম্যাসাকার যেটা বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ পরিবর্তন করে দিতে সক্ষম!
আর জিয়া পরিবারের উপর আঘাতের থেকে বড় কোন পলিটিক্যাল ম্যাসাকার আজকের বাংলাদেশে হতে পারেনা।
ভয়টা এখানেই।
আরো একটা সমস্যা।
প্রধানমন্ত্রী যেখানেই যান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সস্ত্রীক যাচ্ছেন।
তারেক রহমান মূলত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তার দুই মেয়াদ বা দশ বছর পূর্তির পরের অপশান হিসাবে ডা: জোবাইদাকে প্রস্তুত করছেন।
কিন্তু এই যে উনি যেখানেই যাচ্ছেন, বেশিরভাগ সময় সস্ত্রীক যাচ্ছেন, এটা আমাদেরকে আরো দুশ্চিতায় ফেলে।
অর্থাৎ খারাপ কিছু ঘটলে দুজনের সাথে একসাথে ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়।
সলিউশান কি?
৪ টা।
১) ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলোকে প্রচন্ড সক্রিয় থাকতে হবে। সত্তর আশির দশকে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগ হাইলি ক্যাপাবল ছিল না, এজন্য আমরা ব্যাক টু ব্যাক দুই গ্রেট লিডারকে হারিয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালে এসে ক্যাপাবিলিটির দোহাই দেয়ার সুযোগ নেই। আশার খবর হল, ইতিমধ্যে এজেন্সিগুলোতে দারূন কিছু রদবদল হয়েছে, সামনে আরো কিছু চেঞ্জ আসছে।
২) প্রধানমন্ত্রীর ফার্স্ট লাইন ডিফেন্স – এসএসএফ কে খুব জোরালো ভূমিকা পালন করতে হবে। সিকিউরিটি খুব টাইট করতে হবে। এখনের থেকে অন্তত ১০ গুন, টুয়েন্টি ফোর সেভেন, এনিটাইম, এনিহয়ার।
৩) আগামি বছর জেনারেল ওয়াকার অবসরে যাবেন। পরবর্তী সেনাপ্রধান খুব ভেবেচিন্তে নিয়োগ দিতে হবে। এটা একটা হিউজ ডিসাইসিভ ফ্যাক্টর। এটা নিয়ে বিস্তর আলোচনা করবো আরেক দিন।
৪) প্রধানমন্ত্রীর উচিত অন্তত ঢাকার বাইরের সফর গুলোতে, খুব স্পেশাল কিছু না হলে, ডা: জোবাইদা কে সাথে না নেওয়া।
শেষ করছি আরেকটা তথ্য দিয়ে। ৮১ সালে হাসিনা দেশে ফেরেন ১৭ মে। কিন্তু শুধু তার দেশে ফেরাটাই যথেষ্ঠ ছিলনা।
রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার কাছে বাকি সবাই ফিকে হয়ে পড়ছিল।
সেই দিন গুলোর সাথে আজকের প্রেক্ষাপট অনেকটাই মিলে যায়।
দিল্লির দরকার ছিলো খাস গোলাম। কিন্তু গোলামকে ক্ষমতায় বসাতে দরকার ছিল একটা ম্যাসাকার।
অত:পর শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ১৩ দিনের মাথায় নির্মম ভাবে খু’ন হন জিয়াউর রহমান।
আজ ৪৫ বছর পর, বাংলাদেশ আবারো একই রকম একটা ইতিহাসের মোড়ে দাঁড়িয়ে।
প্লেয়ারগুলোও প্রায় সব একই।
সেই দিল্লি, সেই হাসিনা।
শুধু সিনিয়র জিয়ার জায়গায় জুনিয়র জিয়া!

Tita Bhai’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।