, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বালোচদের স্বাধীনতা:মাহেরং বালোচ অস্ত্র নাই কিন্তু আমাদের শিনা আছে।

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ২৫ পড়া হয়েছে

অনলাইন  ১৮ জুলাই ২০২৬
মাহেরং বালোচ – এক অদ্ভুত অগ্নি স্ফুলিঙ্গ।। তার লম্বা একটা ভাষণ শুনছিলাম, অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, সেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত, বাংলাদেশের মানুষ, পাকিস্তানের যে অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম ভোগ করেছে, পাকিস্তানের যে কু-শাসন আমরা পেয়েছি। বালোচরা বেশ অনেক বছর ধরেই ঠিক একই রকম ভাবে অত্যাচারিত হয়ে আসছে, নিপীড়িত হয়ে আসছে সেই একই পুরনো শকুনের হাতে।
একই রকম ভাবে বালোচদের বুদ্ধিজীবী যারা আছে তাদেরকে বেছে বেছে হ**ত্যা করেছে পাকিস্তানিরা। বহু বালোচ নওজোয়ানকে তারা হ*ত্যা করেছে। বহু মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তার বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে, যারাই এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, নিচ্ছে তাদেরকেই সিলেক্টিভ ভাবে হ**ত্যা করা হয়েছে, হচ্ছে৷
তার বক্তব্যে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্ট হল সে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে এনেছে বেশ অনেকবার। সেখানে সে স্পষ্ট ভাবে বলেছে বাঙালিরা পারলে আমরা কেন পারব না? মাহেরাং সুস্পষ্ট করে বলেছে বাঙালিরা যে রকম অস্ত্রহীন ভাবে পাকিস্তানের অস্ত্রের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আমরাও ঠিক একইভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি কারণ আমাদের অস্ত্র নাই কিন্তু আমাদের শিনা (বুক) আছে। আমাদের স্বাধীনতাকামী কওম (ঐক্য) আছে। তার বক্তব্যে সে মুক্তিযোদ্ধাদের কে নিয়ে গর্ব করেছে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গর্ব করেছে, সে আমাদের আত্মত্যাগের বিষয়ে গর্ব করে প্রসঙ্গ টেনে এনে তাদের জনগোষ্ঠীকে উৎসাহ দিয়েছে।।
বালোচদের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে যতই জানতে পারছি ততই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সুস্পষ্ট হচ্ছে। আরো বেশি ভাবে প্রমাণিত হচ্ছে কেন যৌক্তিক ছিল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের চিরতরে আলাদা হয়ে যাওয়া। সম্ভবত পৃথিবীতে এরাই একমাত্র জাতি যারা শোষণ নিপীড়ন ছাড়া আর অন্য কোন কিছু শেখেনি, আমার মনে হয় এরা ভালবাসতে জানে না, আমার মনে হয় এরা সৌহার্দ্য জানে না, সম্প্রীতি বুঝে না। এরা ভীষণ স্বার্থপর।।
মাহেরাং বালোচের ভাষণ খুব মন দিয়ে শুনছিলাম, এই এত দূরে বসেও আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাদের নিপীড়ন অত্যাচার সম্পর্কে জানতে পেরে। পত্রিকার পাতায় বা মিডিয়ায় সবকিছু তো আর উঠে আসে না, হয়তো এর থেকে আরো অনেক বেশি ভয়ংকর তাদের গল্প। আর এভাবেই এক একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে উৎপাদিত আগুন ধ্বংস করে দিতে পারে বিশাল জনপদ। সেই আগুনেই জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে শকুন আরো একবার ছারখার হয়ে যাক।।
একই অবস্থানে থাকার কারণে বাংলাদেশী হয়ে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি আজ বালোচদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কতটা জরুরী। আশা করব শীঘ্রই তাদের স্বাধীনতা বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং পৃথিবীর বুকে জন্ম নিবে নতুন এক দেশ বালুচিস্থান।।
শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।।

Tamanna Akhter’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

বালোচদের স্বাধীনতা:মাহেরং বালোচ অস্ত্র নাই কিন্তু আমাদের শিনা আছে।

প্রকাশের সময় : ০৭:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

অনলাইন  ১৮ জুলাই ২০২৬
মাহেরং বালোচ – এক অদ্ভুত অগ্নি স্ফুলিঙ্গ।। তার লম্বা একটা ভাষণ শুনছিলাম, অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, সেই ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ এর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত, বাংলাদেশের মানুষ, পাকিস্তানের যে অন্যায়, অত্যাচার, জুলুম ভোগ করেছে, পাকিস্তানের যে কু-শাসন আমরা পেয়েছি। বালোচরা বেশ অনেক বছর ধরেই ঠিক একই রকম ভাবে অত্যাচারিত হয়ে আসছে, নিপীড়িত হয়ে আসছে সেই একই পুরনো শকুনের হাতে।
একই রকম ভাবে বালোচদের বুদ্ধিজীবী যারা আছে তাদেরকে বেছে বেছে হ**ত্যা করেছে পাকিস্তানিরা। বহু বালোচ নওজোয়ানকে তারা হ*ত্যা করেছে। বহু মা-বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে। তার বক্তব্যে আরও স্পষ্ট হয়েছে, যারাই এই নিপীড়নের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে, নিচ্ছে তাদেরকেই সিলেক্টিভ ভাবে হ**ত্যা করা হয়েছে, হচ্ছে৷
তার বক্তব্যে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং পার্ট হল সে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে এনেছে বেশ অনেকবার। সেখানে সে স্পষ্ট ভাবে বলেছে বাঙালিরা পারলে আমরা কেন পারব না? মাহেরাং সুস্পষ্ট করে বলেছে বাঙালিরা যে রকম অস্ত্রহীন ভাবে পাকিস্তানের অস্ত্রের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল আমরাও ঠিক একইভাবে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারি কারণ আমাদের অস্ত্র নাই কিন্তু আমাদের শিনা (বুক) আছে। আমাদের স্বাধীনতাকামী কওম (ঐক্য) আছে। তার বক্তব্যে সে মুক্তিযোদ্ধাদের কে নিয়ে গর্ব করেছে, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে গর্ব করেছে, সে আমাদের আত্মত্যাগের বিষয়ে গর্ব করে প্রসঙ্গ টেনে এনে তাদের জনগোষ্ঠীকে উৎসাহ দিয়েছে।।
বালোচদের আন্দোলন সংগ্রামের ইতিহাস সম্পর্কে যতই জানতে পারছি ততই আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সুস্পষ্ট হচ্ছে। আরো বেশি ভাবে প্রমাণিত হচ্ছে কেন যৌক্তিক ছিল পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের চিরতরে আলাদা হয়ে যাওয়া। সম্ভবত পৃথিবীতে এরাই একমাত্র জাতি যারা শোষণ নিপীড়ন ছাড়া আর অন্য কোন কিছু শেখেনি, আমার মনে হয় এরা ভালবাসতে জানে না, আমার মনে হয় এরা সৌহার্দ্য জানে না, সম্প্রীতি বুঝে না। এরা ভীষণ স্বার্থপর।।
মাহেরাং বালোচের ভাষণ খুব মন দিয়ে শুনছিলাম, এই এত দূরে বসেও আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে তাদের নিপীড়ন অত্যাচার সম্পর্কে জানতে পেরে। পত্রিকার পাতায় বা মিডিয়ায় সবকিছু তো আর উঠে আসে না, হয়তো এর থেকে আরো অনেক বেশি ভয়ংকর তাদের গল্প। আর এভাবেই এক একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে উৎপাদিত আগুন ধ্বংস করে দিতে পারে বিশাল জনপদ। সেই আগুনেই জ্বলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে শকুন আরো একবার ছারখার হয়ে যাক।।
একই অবস্থানে থাকার কারণে বাংলাদেশী হয়ে স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছি আজ বালোচদের সম্পূর্ণ স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কতটা জরুরী। আশা করব শীঘ্রই তাদের স্বাধীনতা বৈশ্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য হবে এবং পৃথিবীর বুকে জন্ম নিবে নতুন এক দেশ বালুচিস্থান।।
শুভেচ্ছা ও শুভকামনা রইল।।

Tamanna Akhter’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।