
“আমরা কি সত্যিই ভুল জায়গায় ফুল দিয়েছিলাম?”
দ্য ডেইলি স্টার আয়োজিত “সাংস্কৃতিক বাজেট” শীর্ষক রাউন্ড টেবিল বৈঠকের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ” বিনোদন ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বর্তমান অবস্থা, আমরা যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছি, এবং শিল্প ও সংস্কৃতির জন্য আরও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে কী ধরনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন মোটামুটি এইসব বিষয়ের উপরে ! বেশ!! বেশ!!
ছবিতে অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবু, সঙ্গীত শিল্পী ফাহমিদা নবী,প্রিয়াঙ্কা গোপসহ অনেককেই দেখতে পাচ্ছি এই বৈঠকে । দুইদিন আগে বাংলা একাডেমিতে ডলা খাওয়া মোহন রায়হানও আছে। ৫ই আগস্টের পর অনেকগুলো ইন্টারভিউতে দেশের অবস্থা নিয়ে বাবু ভাইকে ক্ষোভ ঝাড়তে দেখেছিলাম। সে যাকগে, এই পথে কতজনকেই তো পথভ্রষ্ট হতে দেখলাম!!
তো, জনাব রামেন্দু মজুমদার, খায়রুল আনাম শাকিল, ফজলুর রহমান বাবু দেশের সং স্কৃতির বর্তমান অবস্থা কি ? কি জানালেন কর্তৃপক্ষকে ?
সবচেয়ে অবাক হয়েছি তিনজন মানুষকে দেখে। প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী লুবনা মারিয়াম, আমাদের লুবনা খালা, কালচারাল ফ্যাসিস্ট রামেন্দু মজুমদার এবং নজরুল সঙ্গীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিলকে দেখে।
লুবনা খালাকে নিয়ে বলার কিছু নাই আসলে!! তার বাবা কাজী নুরুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধে ৭নং সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। তার একমাত্র ভাই নাদিম ওমর মাত্র ১৫/১৬ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তারা দুই বোন নায়লা জামান খান এবং তিনি মুক্তিসংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’-র সাথে শরণার্থী শিবির ও যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে ঘুরে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা দিতে গান গাইতেন। যে পরিবারের প্রত্যেকটা সদস্য মুক্তিযুদ্ধ করেছে সেই তারাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়ে যে কয়জন মানুষ স্বাক্ষর করেছিলেন, তাদের মধ্যে লুবনা মারিয়াম, তার মেয়ে আনুশেহ আনাদিল, এবং বোন নায়লা জামান খান ও ছিলেন । এই দুঃখ কোথায় রাখি??
আমরা বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের যে ঐতিহাসিক ভাষনটা শুনি সেই ভাষণের অডিও মঞ্চের নিচ থেকে যিনি ধারণ করেছিলেন তিনি ৭১ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে গিয়ে সেই অডিও উপহার দেন। অডিও ধারণ করেছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমান বাংলাদেশ) গোপালগঞ্জ-১ আসনের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জনাব আবুল খায়ের। আর এই মহান মানুষটির অপদার্থ পুত্রের নাম খায়রুল আনাম শাকিল। নজরুল সঙ্গীত শিল্পী।
আমি ভাবছি ছায়ানটের মত প্রতিষ্ঠানের আলো বাতাসে যার বেড়ে ওঠা, সনজীদা খাতুন, ওয়াহিদুল হকের কাছ যিনি সুরের তালিম নিয়েছেন, এমন বাপের সন্তান হয়ে এতটা অধঃপতন হয় কিসের আক্ষেপে? ছায়ানট পোড়ার পরও কি তিনি বুঝতে পারেন নাই কাদের সাথে এই গোল বৈঠকে বসলেন? চেনেন নাই এখনও এটা হতে পারে!!! ২০১৯ সালে এই অপদার্থকে একুশে পদক প্রদান করা হয়েছে। ডেইলি স্টারের অফিসে সাংস্কৃতিক বাজেটের এই সভায় না গেলে খায়রুল আনাম শাকিলের জীবন থেকে কি হারিয়ে যেতো? একটা জিনিস হারাইতো অবশ্য বাঁধনের পাশে বসা হইতো না।
জনাব রামেন্দু মজুমদার,
ডেইলি স্টারের অফিসে সাংস্কৃতিক বাজেট করছিলেন তখন কি একবারও শহীদ মুনির চৌধুরীকে মনে পড়ে নাই? আপনার বয়স এখন ৮৪ বছর। কত বছর বাঁচার লোভে এরকম একটি ছবির অংশ হলেন? শেখ হাসিনা আপনাদের কোনোদিন সম্মান করেন নাই? যার জন্য এভাবে প্রতিশোধ নিলেন? প্রতিটা ২১ শে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস,বিজয় দিবসে যে কয়জনের ভয়েস শুনতাম প্রভাত ফেরি কিংবা প্যারেড গ্রাউন্ডে তারমধ্যে আপনি একজন।
শিল্পকলায় অবদানের জন্য আপনাকে ২০০৯ সালে একুশে পদক, ১৯৯৮ সালে শহীদ মুনীর চৌধুরীর বোন ফেরদৌসী মজুমদারকে একুশে পদক এবং ২০২০ সালে স্বাধীনতা পুরস্কার, ২০২১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার শেখ হাসিনা দেয়। আর কি চাওয়া কিংবা পাওয়া বাকি ছিলো যে কারণে দেশদ্রোহীদের সাথে একই কাতারে মিলেমিশে গেলেন!!? আসাদুজ্জামান নূরকে চেনেন? এত মিলেমিশে তার জামিনটা করাতে পারছেন না কেনো? নাকি কোনো জন্মের প্রতিশোধ বাকি আছে সেটা নিচ্ছেন।
ভাবছিলাম এই বিষয়গুলো এড়িয়ে যাবো, গিয়েছিলামও। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হয়ে সারাজীবন যাদের শ্রদ্ধা করলাম তারা আমাদের এভাবে প্রতারিত করবেন সেটা বিনা জবাবে ছেড়ে দেয়া অন্যায় হবে। আমরা সারাজীবন ভুল জায়গায় ফুল ঢেলেছি, আগামী প্রজন্ম চিনে নিক আপনাদের । জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে বাংলাদেশের বুকে পারা দিয়ে ৭১ বিরোধীদের সাথে এভাবে মিশে গেলেন!!! আপনাদের ছেড়ে দিলে ১৪ই ডিসেম্বর হারিয়ে যাওয়া জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মা কষ্ট পাবে। শহীদ মুনীর চৌধুরীর আত্মা কষ্ট পাবে।
আপনারা আবার ভুল করেও বকবেন না যে এখানে সবাই শিল্পী ছিলো, শিল্পী হিসেবে গিয়েছি। এরা শিল্পী!! দেশটার বারোটা বাজানোর চ্যালাচামুন্ডারা শিল্পী!!!
জুলাই না আসলে সাপের মুখে চুমু,আর ব্যাঙের মুখে চুমু দেয়া আপনাদের এই চরিত্রটা আমাদের জানা হতো না।
দুলারি তাহিম-এর ওয়াল থেকে
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















