
অনলাইন বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬
এই সব চরিত্রহীন, সুবিধাবাদী লুটেরা মিডিয়া মোগলদের চিনে রাখুন –
বাংলাদেশের মিডিয়াকে যারা ধ্বংস করেছে তাদের অন্যতম শিরোমণি হলো ফরিদুর রেজা সাগর এবং শাইখ সিরাজ।
যখন যে সরকার ক্ষমতায় আসে তখন তাদের পা চেটে দেয়। ঘনিষ্ঠ হয়ে ইচ্ছেমতো লুটপাট করে।
এদের আদি প্রতিষ্ঠান ইমপ্রেস টেলিফিল্ম। এরা মিডিয়ায় ব্যবসার প্রসার ঘটায় মূলত মেয়ে সাপ্লাই দিয়ে। সহজ বাংলায় বলা যায় দালাল।
ফরিদুর রেজা সাগরের বাবা ভারতে বিয়ে করে দেশের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন। তখন সাগর বিটিভিতে কাজী কাইয়ুমের সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করে। পরে ঢাকা স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে পিঠাঘর চালু করে।
সাগর আর শাইখ সিরাজ মিলে ইমপ্রেস করে। এদের প্রধান কাজ ছিল বিয়ের ভিডিও করা।
সাগর টেলিভিশনে যাতায়াতের সুবাদে শাইখ সিরাজকেও নিয়ে আসে। শাইখ মাটি ও মানুষ নামে কৃষি বিষয়ক একটি অনুষ্ঠানের সহকারী ছিলেন। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করতেন রেজাউল করিম সিদ্দিকী রানা। প্রযোজক কে অনেক অনুরোধ করে শাইখ দুই মিনিটের একটি রিপোর্ট করার সুযোগ পান। মূলত তার কাজ ছিল প্রোডাকশন সাপোর্ট।
কিন্তু ১৯৯১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দ্রুত শাইখ সিরাজ আর সাগর বিএনপি নেতাদের ঘনিষ্ঠ হয়ে যান। শাইখ সিরাজ তৎকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন। একসময় রেজাউল করিম রানাকে হটিয়ে মাটি ও মানুষের উপস্থাপক বনে যান।
নোমানের কাছে তদবির করে একুশে পদক হাতিয়ে নেন সাগর।
এই সময় মাটি ও মানুষের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেন শাইখ সিরাজ। বাংলাদেশ কৃষি তথ্য সার্ভিস, বারি সহ একাধিক প্রতিষ্ঠান লিখিত অভিযোগ করে শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে। কিন্তু বিএনপি আমলে সবাই তাকে ভয় পেত। কেউ নোমানের বাম হাত হিসেবে পরিচিত শাইখ সিরাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সাহস পায় নাই।
১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে বেগম মতিয়া চৌধুরী কৃষি মন্ত্রী হন। বিভিন্ন অভিযোগ তদন্ত করে তিনি শাইখ সিরাজকে মাটি ও মানুষ উপস্থাপনা থেকে বাদ দেয়ার জন্য বিটিভিকে লিখিত অনুরোধ করেন। শাইখ সিরাজের বদলে উপস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব নেন রেজাউল করিম সিদ্দিকী।
এসময় মাঠে নামেন ফরিদুর রেজা সাগর। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তথ্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। আবু সাইয়িদ জ্ঞানী মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রচুর লেখাপড়া করতেন। কিন্তু দুটি বিষয়ে তার প্রবল দুর্বলতা ছিলো। নারী এবং খাদ্য। আর এই দুটি জিনিস সরবরাহ করে ফরিদুর রেজা সাগর হয়ে যান আবু সাইয়িদের সবচেয়ে প্রিয় একজন।
প্রতিদিন সাগর পিঠাঘর থেকে নানা রকম খাবার নিয়ে হাজির হতেন সচিবালয়ে আবু সাইয়িদের দপ্তরে।
আর সন্ধ্যায় গোপন জায়গায় পাঠাতেন নারী উপস্থাপকদের।
এভাবেই ফরিদুর রেজা সাগর আবু সাইয়িদের মাধ্যমে বিটিভিতে এক চেটিয়া প্যাকেজ বানিজ্য করেন। চ্যানেল আই এর অনুমোদন নেন এবং সংবাদ প্রচারের অনুমতি পান।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ফরিদুর রেজা সাগর এবং শাইখ সিরাজ বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।
শাইখ সিরাজ আবার বিটিভিতে মাটি ও মানুষ নতুন নামে চালু করেন।
ফরিদুর রেজা সাগর মতিউর রহমান চৌধুরী, জিল্লুর রহমানের উপর ভর করে তাঁর বানিজ্য সম্প্রসারণ করতে থাকেন। এসময় চ্যানেল আই তে প্রচারিত হয় তারেক রহমানের একান্ত সাক্ষাৎকার।
২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে ফরিদুর রেজা সাগর তারানা হালিম, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে মাঠে নামান। সহজেই ঘনিষ্ট হয়ে ওঠেন শেখ রেহানার। তারপর শেখ হাসিনার।
অন্যদিকে শাইখ সিরাজ তৎকালীন মিলিটারি সেক্রেটারি জয়নাল আবেদিনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন।
ব্যস শুরু হয় লুটপাট।
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অডিও ভিজুয়াল কাজের এক চেটিয়া ঠিকাদারি নেন সাগর- শাইখ জুটি।
তিশা ,জ্যোতিকার মতো এক ঝাঁক ডানাকাটা পরীরা চ্যানেল আইয়ের ছায়ায় পলক, বিপু, হাছান মাহমুদের কাছের মানুষ হয়ে উঠে।
শাইখ সিরাজ শেখ হাসিনাকে নিয়ে দীর্ঘ অনুষ্ঠান করে। প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনে প্রথম সারির অতিথি হিসেবে উপস্থিত হতে দেখা যায় রাজাকার পুত্র শাইখ সিরাজকে।
আওয়ামী লীগের উপর সাগর শাইখদের প্রভাব এতোটাই প্রবল ছিল যে একুশে পদক এবং স্বাধীনতা পদক কে তারা পারিবারিক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেন।
আওয়ামী লীগ আর কিছুদিন ক্ষমতায় থাকলে হয়তো সাগর শাইখ সিরাজের কাজের বুয়াও এসব পদক পেতো। আর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার তো চ্যানেল আইয়ের পৈতৃক সম্পত্তিতে পরিণত হয়েছিল। টেলিফিল্ম বা নাটক সিনেমা হিসেবে চালিয়ে এরা বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ধ্বংসের জন্য দায়ী।
কিন্তু শাইখ সিরাজ এবং সাগর বিচক্ষণ।
তারা যেমন অবাধে গনভবনে যেত তেমনি চ্যানেল আই অফিসে লালন করতো জিল্লুর রহমান, দিপ্তীর মতো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের।এক সময় তথ্য মন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাগরকে বললেন, তৃতীয় মাত্রার উপস্থাপক বদলাতে।
তার কদিন পরই এক বিশাল সাংস্কৃতিক দল নিয়ে তিনি গেলেন প্যারিসে। চ্যানেল আইয়ের এক সিনেমার প্রিমিয়ার শো উদ্বোধন করতে। সাথে এক ঝাঁক নায়িকা। সেখান থেকে ফিরে প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন, জিল্লুর কে তৃতীয় মাত্রা থেকে বাদ দিলে সবাই বিষয়টি নেগেটিভলি নেবে।
দিপ্তী যখন বিচারপতি মানিকের সাথে বেয়াদবি করলো তখন খোদ প্রধানমন্ত্রী জানতে চাইলেন কি হয়েছে? উত্তরে ফরিদুর রেজা সাগর বলেছিলেন, মানিক ভাই তো এবনরমাল।
আওয়ামী লীগের ঘাতকদের এভাবেই দুধকলা দিয়ে লালনপালন করেছে চ্যানেল আই। শেষ দিকে চ্যানেল আইয়ের কোন অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের হুড়োহুড়ি পড়ে যেত।
২০২৪ এরপর এখন সাগর আর শাইখ সিরাজের আসল চেহারা দেখা যাচ্ছে। আওয়ামীলীগ সভাপতির বিরুদ্ধে কুৎসিত রিপোর্ট চ্যানেল আই করবে না তো কে করবে? এরাই তো আওয়ামী লীগের আমলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করেছে।
এদের শুধু চিনে রাখুন।
— মূল লিখা – Syed (বরহান) Kabir ভাই
Shafiqur Rahman Anu’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















