, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিনি মাহামুদুর রহমান মান্না

  • প্রকাশের সময় : ০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
  • ৮ পড়া হয়েছে

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬,

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬,
তিনি মাহামুদুর রহমান মান্না। বয়সে আমাদের বেশ বড় হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আমাদের সিনিয়র বড় ভাই।পরীক্ষা দিতে দিতে এবং না দিতে দিতে নেতারা ছোটোদেরও সমান হয়ে যায়। মান্না ভাই সেরকমই একজন নেতা। তবে তিনি ভালো ছাত্র ছিলেন বলেই জানতাম।
তাঁকে দুবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিপি হিসেবে পেয়েছি। তখন কী তার ব্যক্তিত্ব, কী তাঁর ক্ষুরধার বক্তব্য, কী তাঁর সার্বজনিক গ্রহণযোগ্যতা! তাঁর দল ছিল ছোটো। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল( বাসদ)।
তিনি ছিলেন তাঁর দলের চেয়েও অনেক বড়।
কলা ভবনের সামনের চত্বরে বহুদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মান্না ভাইয়ের বক্তব্য শুনেছি। শিক্ষকদের অনেককেই দাঁড়িয়ে যেতে দেখেছি শ্রোতা সারিতে।
কিন্তু কী দুর্ভাগ্য। যে ওবায়দুল কাদেরকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তিনি ডাকসু ভিপি হলেন সেই ওবায়দুল কাদের হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর তিনি নামিতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হলেন কয়েকজন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। ওবায়দুল কাদের এমপি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এবং ডাকসাইটে মন্ত্রী হলেন। আর মান্না সাহেব ফেল করে করে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে রাজনৈতিক ভিখারিতে পরিণত হলেন।
কোথায় গেল তাঁর আদর্শ, কোথায় গেলো তাঁর বাম চিন্তা। একবার এদিকে আবার ওদিকে হন্যে হয়ে ছুটলেন।কোথাও কেউ বিশ্বাস করে না। দালালী তোষামোদ করেও একখানা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা করতে পারলেন না।
তাঁরই চোখের সামনে নূর, সাকিরা মন্ত্রী হয়ে যায়, আর তিনি ফেউ ফেউ করেই যাচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কত আবোল তাবোল বক্তৃতা দিচ্ছেন। সেই ক্ষুরধার বক্তৃতার মুখখানা পরিণত হয়েছে মরিচা ধরা এক বুগদা বটিতে। কী প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তাঁর ডাকসু কেবিনেটের আরেক তুখোড় নেতা সলিমুল্লাহ খানেরও একই অবস্থা। সবাই বারান্দায় বসতে দেয়।ঘরের মধ্যে স্থান দিতে চায় না।
২০০৬/ ৭ সালের দিকে হবে।তখন আমার বাসা ঢাকায়। এক বিকেলের মিছিল মিটিং শেষ করে মান্না ভাই জিপিও’র উল্টা দিক দিয়ে কয়েকজন সঙ্গী সহ হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলেন। আমি ফুটপাতের ক্রেতা। হঠাৎ তাঁর সাথে চোখাচোখি। সালাম দিলাম। তিনি বেশ আগ্রহের সাথে সালাম নিয়ে জিজ্ঞেস করলন কেমন আছেন? তিনি আমাকে চেনেন না। তাঁর সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। কিন্তু সালামের আন্তরিকতা দেখে হয়তো সৌজন্য করেছেন মাত্র। আমি পরিচয় দিয়ে বল্লাম আমি আপনার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি।
পরে তিনি পকেট থেকে একখানা কার্ড বের করে দিয়ে তাঁর অফিসে আসতে বল্লেন। সম্ভবত মহাখালির ঐদিকে তাঁর গার্মেন্টস এবং অফিস ছিল। একদিন সত্যি তাঁর অফিসে গেলাম। অনেক কথা হলো দেশ জাতি নিয়ে। তখনো তাঁর কন্ঠের তেজ আর দীপ্তি অনেকটাই সেই ৭৮/ ৭৯ র মতো রয়ে গেছে।
সেই মান্না সাহেবের আজকের সকালের বক্তৃতায় মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। ” আমি তেল মারি না” বলে তিনি যে তেলাতেলিটা করলেন তা আশির দশকের মান্না ভাইকে মানায় না। কী তাঁর রাজনৈতিক কাঙালপণা! তাঁকে শ্রদ্ধার জায়গা থেকে নামাতে কষ্ট হয়।তবুও তিনি যেনো স্বেচ্ছায় সেই পতনের সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাচ্ছেন। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে মান্না ভাইয়ের ভালো কিছুর জন্য দোয়া করছি ।Abul Islam Sikder’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

তিনি মাহামুদুর রহমান মান্না

প্রকাশের সময় : ০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬,

শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬,
তিনি মাহামুদুর রহমান মান্না। বয়সে আমাদের বেশ বড় হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি আমাদের সিনিয়র বড় ভাই।পরীক্ষা দিতে দিতে এবং না দিতে দিতে নেতারা ছোটোদেরও সমান হয়ে যায়। মান্না ভাই সেরকমই একজন নেতা। তবে তিনি ভালো ছাত্র ছিলেন বলেই জানতাম।
তাঁকে দুবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিপি হিসেবে পেয়েছি। তখন কী তার ব্যক্তিত্ব, কী তাঁর ক্ষুরধার বক্তব্য, কী তাঁর সার্বজনিক গ্রহণযোগ্যতা! তাঁর দল ছিল ছোটো। বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল( বাসদ)।
তিনি ছিলেন তাঁর দলের চেয়েও অনেক বড়।
কলা ভবনের সামনের চত্বরে বহুদিন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মান্না ভাইয়ের বক্তব্য শুনেছি। শিক্ষকদের অনেককেই দাঁড়িয়ে যেতে দেখেছি শ্রোতা সারিতে।
কিন্তু কী দুর্ভাগ্য। যে ওবায়দুল কাদেরকে বিপুল ভোটে পরাজিত করে তিনি ডাকসু ভিপি হলেন সেই ওবায়দুল কাদের হলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। আর তিনি নামিতে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে হলেন কয়েকজন সাংগঠনিক সম্পাদকের একজন। ওবায়দুল কাদের এমপি হয়ে প্রতিমন্ত্রী এবং ডাকসাইটে মন্ত্রী হলেন। আর মান্না সাহেব ফেল করে করে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে রাজনৈতিক ভিখারিতে পরিণত হলেন।
কোথায় গেল তাঁর আদর্শ, কোথায় গেলো তাঁর বাম চিন্তা। একবার এদিকে আবার ওদিকে হন্যে হয়ে ছুটলেন।কোথাও কেউ বিশ্বাস করে না। দালালী তোষামোদ করেও একখানা মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থা করতে পারলেন না।
তাঁরই চোখের সামনে নূর, সাকিরা মন্ত্রী হয়ে যায়, আর তিনি ফেউ ফেউ করেই যাচ্ছেন। কিন্তু কিছুতেই কিছু হচ্ছে না। কত আবোল তাবোল বক্তৃতা দিচ্ছেন। সেই ক্ষুরধার বক্তৃতার মুখখানা পরিণত হয়েছে মরিচা ধরা এক বুগদা বটিতে। কী প্রাণান্তকর চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য। তাঁর ডাকসু কেবিনেটের আরেক তুখোড় নেতা সলিমুল্লাহ খানেরও একই অবস্থা। সবাই বারান্দায় বসতে দেয়।ঘরের মধ্যে স্থান দিতে চায় না।
২০০৬/ ৭ সালের দিকে হবে।তখন আমার বাসা ঢাকায়। এক বিকেলের মিছিল মিটিং শেষ করে মান্না ভাই জিপিও’র উল্টা দিক দিয়ে কয়েকজন সঙ্গী সহ হেঁটে হেঁটে যাচ্ছিলেন। আমি ফুটপাতের ক্রেতা। হঠাৎ তাঁর সাথে চোখাচোখি। সালাম দিলাম। তিনি বেশ আগ্রহের সাথে সালাম নিয়ে জিজ্ঞেস করলন কেমন আছেন? তিনি আমাকে চেনেন না। তাঁর সাথে আমার কোনো ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। কিন্তু সালামের আন্তরিকতা দেখে হয়তো সৌজন্য করেছেন মাত্র। আমি পরিচয় দিয়ে বল্লাম আমি আপনার সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি।
পরে তিনি পকেট থেকে একখানা কার্ড বের করে দিয়ে তাঁর অফিসে আসতে বল্লেন। সম্ভবত মহাখালির ঐদিকে তাঁর গার্মেন্টস এবং অফিস ছিল। একদিন সত্যি তাঁর অফিসে গেলাম। অনেক কথা হলো দেশ জাতি নিয়ে। তখনো তাঁর কন্ঠের তেজ আর দীপ্তি অনেকটাই সেই ৭৮/ ৭৯ র মতো রয়ে গেছে।
সেই মান্না সাহেবের আজকের সকালের বক্তৃতায় মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো। ” আমি তেল মারি না” বলে তিনি যে তেলাতেলিটা করলেন তা আশির দশকের মান্না ভাইকে মানায় না। কী তাঁর রাজনৈতিক কাঙালপণা! তাঁকে শ্রদ্ধার জায়গা থেকে নামাতে কষ্ট হয়।তবুও তিনি যেনো স্বেচ্ছায় সেই পতনের সিঁড়ি বেয়ে নেমে যাচ্ছেন। মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে মান্না ভাইয়ের ভালো কিছুর জন্য দোয়া করছি ।Abul Islam Sikder’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।