, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে

  • প্রকাশের সময় : ১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
  • ২৫ পড়া হয়েছে

অনলাইন মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

তীব্র গরমে সারা দেশের লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার বাইরে কোথাও বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।

বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কিছু এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।

 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে দাগনভূঞার গ্রাহকদের। মাদারীপুরে চাহিদার বিপরীতে কম বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাসিন্দারা।

 

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে অনেকেই না ঘুমিয়ে রাত পার করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়ে, যা চলে ভোর পর্যন্ত। উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। শরীর এত দুর্বল লাগে যে সকালে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। একদিন কাজ না করলে ঘরে চাল ওঠে না, পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কাকিনা বাজারের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান লিটন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়ছি।

এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু শাহাদত সিয়াম বলেন, সামনে তাদের টেস্ট পরীক্ষা; কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নিতে চরম সমস্যা হচ্ছে। কালীগঞ্জ নেসকো পিএলসির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, কালীগঞ্জে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট, অথচ তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট।

 

ফেনীর দাগনভূঞায় বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে গ্রামের কোথাও সরকারি শিডিউল মানা হচ্ছে না। গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস বা উপকেন্দ্রে অথবা অভিযোগ অফিসগুলোতে ফোন করলে কেউ রিসিভও করছে না। প্রতিদিন সমিতির আওতাধীন দাগনভূঞা এলাকায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ১৬

 

আরইবির ফেনী সমিতি বলছে, তারা প্রতিদিন চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এ কারণে তারা সরকারি শিডিউল মানতে পারছেন না। সাধারণ সময়েও সমিতিগুলো গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং করে থাকে। এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে সেটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করতে হচ্ছে। গরম বাড়লে এ লোডশেডিং আরও ১-২ ঘণ্টা বেড়ে যায়।

চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী। শহর থেকে গ্রাম কোনো জায়গায়ই যেন রেহাই নেই। দিন-রাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা।

এদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদনও নেমে গেছে অর্ধেকে। শ্রমিক-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

রংয়ের ছোঁয়া প্রেসের মালিক রুবেল মাতুব্বর বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রেসের কোনো কাজই করতে পারছি না। কাস্টমার এতে বিরক্ত হচ্ছে। আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্র জানিয়েছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট।

অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ১৪টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ।

 

জনপ্রিয়

তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে

প্রকাশের সময় : ১১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬

তীব্র গরমে সারা দেশের লোডশেডিং অব্যাহত রয়েছে। ঢাকার বাইরে কোথাও বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কোথাও একবার গেলে কয়েক ঘণ্টায়ও আসছে না। তীব্র গরমে মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে।

বিতরণ কোম্পানির সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিং আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। গড়ে প্রায় তিন হাজার মেগাওয়াট লোডশেডিং হচ্ছে।

দেশজুড়ে প্রচণ্ড গরমের মধ্যে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরের তুলনায় গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কিছু এলাকায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সময় বিদ্যুৎ থাকছে না।

 

লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে বেড়েছে লোডশেডিং। দিন-রাত মিলিয়ে ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা বিদুৎ ছাড়া থাকতে হচ্ছে দাগনভূঞার গ্রাহকদের। মাদারীপুরে চাহিদার বিপরীতে কম বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে বাসিন্দারা।

 

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর: লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে তীব্র গরমের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসহনীয় লোডশেডিং। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। একদিকে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, অন্যদিকে রাতে লোডশেডিংয়ের ফলে অনেকেই না ঘুমিয়ে রাত পার করছেন।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সন্ধ্যার পর থেকেই লোডশেডিংয়ের তীব্রতা বাড়ে, যা চলে ভোর পর্যন্ত। উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের ইশোরকোল গ্রামের দিনমজুর আজগার আলী আক্ষেপ করে বলেন, সারা রাত বিদ্যুৎ থাকে না, গরমে একফোঁটাও ঘুমাতে পারি না। শরীর এত দুর্বল লাগে যে সকালে কাজে যাওয়া সম্ভব হয় না। একদিন কাজ না করলে ঘরে চাল ওঠে না, পরিবার নিয়ে এখন কী করব বুঝতে পারছি না।

একই ভোগান্তির কথা জানান স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। কাকিনা বাজারের ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান লিটন বলেন, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য একপ্রকার বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, কোমল পানীয়সহ পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে চরম লোকসানে পড়ছি।

এদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। মোমবাতি বা কুপির আলোতে তীব্র গরমে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাকিনা মহিমা রঞ্জন স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবু শাহাদত সিয়াম বলেন, সামনে তাদের টেস্ট পরীক্ষা; কিন্তু লোডশেডিংয়ের কারণে প্রস্তুতি নিতে চরম সমস্যা হচ্ছে। কালীগঞ্জ নেসকো পিএলসির (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তরিকুল ইসলাম জানান, কালীগঞ্জে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৬ মেগাওয়াট, অথচ তার বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট।

 

ফেনীর দাগনভূঞায় বেপরোয়া লোডশেডিংয়ে গ্রামের কোথাও সরকারি শিডিউল মানা হচ্ছে না। গ্রাহকরা অতিষ্ঠ হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল অফিস বা উপকেন্দ্রে অথবা অভিযোগ অফিসগুলোতে ফোন করলে কেউ রিসিভও করছে না। প্রতিদিন সমিতির আওতাধীন দাগনভূঞা এলাকায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টা করে বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও কোথাও ১৫ থেকে ১৬

 

আরইবির ফেনী সমিতি বলছে, তারা প্রতিদিন চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ পাচ্ছেন। এ কারণে তারা সরকারি শিডিউল মানতে পারছেন না। সাধারণ সময়েও সমিতিগুলো গড়ে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা লোডশেডিং করে থাকে। এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে সেটি ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা করতে হচ্ছে। গরম বাড়লে এ লোডশেডিং আরও ১-২ ঘণ্টা বেড়ে যায়।

চাহিদা তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মাদারীপুরবাসী। শহর থেকে গ্রাম কোনো জায়গায়ই যেন রেহাই নেই। দিন-রাত মিলিয়ে ১০-১২ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা।

এদিকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার উৎপাদনও নেমে গেছে অর্ধেকে। শ্রমিক-কর্মচারীরা অলস সময় কাটাচ্ছেন।

রংয়ের ছোঁয়া প্রেসের মালিক রুবেল মাতুব্বর বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় প্রেসের কোনো কাজই করতে পারছি না। কাস্টমার এতে বিরক্ত হচ্ছে। আর্থিকভাবে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

বিদ্যুৎ বিভাগ অফিস সূত্র জানিয়েছে, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রায় ৪০ হাজার গ্রাহকের ১৭ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ১১ মেগাওয়াট।

অপরদিকে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪ লাখ ২৩ হাজার গ্রাহকের ১০৬ মেগাওয়াটের বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে ৫২ মেগাওয়াট। ১৪টি সাবস্টেশনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা বিবেচনা করে লোডশেডিং ভাগ করছে কর্তৃপক্ষ।