শুধু যুক্তরাজ্য নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের স্বাধীন বই বিক্রেতারাও একই ধরনের বড় অর্ডারের কথা জানিয়েছেন। ল্যাটিন ভাষার প্রাচীন বই থেকে শুরু করে সাধারণ কাউবয় উপন্যাস, নানা ধরনের পুরোনো বইই কেনা হচ্ছে।
এআইয়ের এই বাড়তি চাহিদার পেছনের কারণ খুঁজতে গিয়ে সামনে এসেছে মার্কিন আদালতের একটি মামলার নথি। ২০২৫ সালে এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের বিরুদ্ধে তিনজন লেখক কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে মামলা করেন।
মামলার বিচারক উইলিয়াম আলসাপের রায়ে বলা হয়, এআই সফটওয়্যার প্রশিক্ষণের জন্য বই ব্যবহার কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করে না, কারণ এটি প্রযুক্তির একটি রূপান্তরমূলক ব্যবহার।
মামলার নথিতে আরও জানা যায়, অ্যানথ্রোপিক তাদের চ্যাটবট ‘ক্লদ’ প্রশিক্ষণের জন্য ‘প্রজেক্ট পানামা’ নামে একটি প্রকল্প পরিচালনা করছিল। এর আওতায় বিশ্বজুড়ে পুরোনো বই সংগ্রহ করে সেগুলো ডিজিটাইজ করার পরিকল্পনা ছিল।
দ্রুত বই ডিজিটাইজ করার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে ‘ডেস্ট্রাকটিভ স্ক্যানিং’ পদ্ধতি। এতে দ্রুত স্ক্যান করার সুবিধার জন্য বইয়ের বাঁধাই কেটে ফেলা হয়। স্ক্যানের পর কাগজের অবশিষ্টাংশ পুনর্ব্যবহার বা ধ্বংস করা হয়।
তবে অ্যানথ্রোপিকের একজন মুখপাত্র বলেছেন, তাদের কোনো তথ্য সংগ্রহ কর্মসূচির মাধ্যমে দুর্লভ বা বিরল পুরোনো বই কিনে ধ্বংস করা হয় না। এআই শিল্পে তথ্য সংগ্রহের জন্য বই ব্যবহার একটি সাধারণ প্রক্রিয়া বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে যুক্তরাজ্যের কপিরাইট আইন এ ক্ষেত্রে ভিন্ন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাস্বত্ব বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমিলি হাডসন জানান, যুক্তরাজ্যে এআই প্রশিক্ষণের জন্য ডেটাসেট তৈরি করতে কপিরাইট মালিকের পূর্বানুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক।
পুরোনো বই ধ্বংসের বিষয়টি নিয়ে বই বিক্রেতাদের মধ্যেও রয়েছে ভিন্নমত। লন্ডনের ‘ওয়ালডেন বুকস’-এর মালিক ডেভিড টোবিন বলেন, বহু বছর ধরে অবিক্রিত বই বিক্রি হওয়া আনন্দের হলেও সেগুলো শেষ পর্যন্ত ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ভাবলে কষ্ট হয়।
এডিনবার্গের ‘ম্যাকনটনস’ বইয়ের দোকানের মালিক ডেরেক ওয়াকার আরও উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ১৮ শতকের কোনো বিরল ও একমাত্র টিকে থাকা সংস্করণ স্ক্যান করার জন্য ধ্বংস করা হলে সেটি অপূরণীয় ক্ষতি হবে।
তবে স্টুয়ার্ট ম্যানলি মনে করেন, দীর্ঘদিন অবিক্রিত থাকা অপ্রয়োজনীয় বই বিক্রি হয়ে যাওয়া খারাপ কিছু নয়। তাঁর ভাষায়, ২০ বছর ধরে ওয়েবসাইটে পড়ে থেকেও যেসব বই বিক্রি হয়নি, সেগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি






















