, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন বেতনকাঠামোবাস্তবায়ন,সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়:তিতুমীর

  • প্রকাশের সময় : ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
  • ১৪ পড়া হয়েছে
আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থ জোগাড় এবং কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শিগগিরই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘পরিচালন ব্যয়ের ১ নম্বর খাত হিসাবে যখন আবির্ভূত হয়েছে ঋণের সুদ ব্যয়, তখন বাংলাদেশে উন্নয়নের বয়ান প্রচারিত হয়েছে। কেউ বলেছেন উন্নয়ন মিরাকল, কেউ বলেছেন উন্নয়ন প্যারাডক্স। যেদিন খাদ্য আমদানি করা হচ্ছিল, সেদিনও পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে খাদ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছিলাম।’

তাহলে কি ঋণ নিয়ে বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঋণ ছাড়া কি কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলে? ঋণ কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে বাজেট–ঘাটতি কত শতাংশ হলো এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) কত শতাংশ কর আদায় হচ্ছে। এ ছাড়া জিডিপির তুলনায় কত শতাংশ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয় হচ্ছে। আর নীতিকাঠামো ও রাজস্বনীতি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকে নিশ্চিত করতে পারছে কি না এবং সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে কি না, তা–ও গুরুত্বপূর্ণ।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বেতনকাঠামো নিয়ে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন বা সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে প্রথম দুটির বিষয় সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের পে-স্কেলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির প্রথম সভাও হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে পে-স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে। কোন কোন বিষয় কবে থেকে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই হবে বলে জানান তিনি।

বেতনকাঠামোর সুবিধা সীমিতসংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বেতনবৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনা নিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের ব্যয় বা বেতন তুলনার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয়কে একই ধরনের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তিতুমীর বলেন, ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’ এই নীতিই বিবেচনায় রাখতে হবে।

বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার নিশ্চয়তা আছে কি না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন দাবি করছে না। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া। বেতনকাঠামোর আর্থিক প্রভাব নিয়ে বক্তব্যে উপদেষ্টা জানান, মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং পেনশনভোগীসহ অন্যদের যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি হতে পারে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বড় মাত্রায় বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পে-স্কেল নিয়ে কাজ চলছে।

আবার তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় বেতন কমিশন বাস্তবায়ন হবে কবে এবং কত ধাপে। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কাজ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ শিগগিরই সব ঠিক করবে।

‘আগামী শীতে জ্বালানি খাতে স্বস্তি আসবে’

এদিকে জ্বালানি খাতে শীতকালের মধ্যে স্বস্তি আসবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, শীতকালে জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তি আসবে এবং গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। পাশাপাশি ২০২৯ সালের মধ্যে বড় আকারের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি কার্গো না আসার বিষয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জ্বালানির কার্গোগুলো না আসার বিষয়টি সবাই জানেন। সেখানে ‘ফোর্স মেজারস (অপ্রত্যাশিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ঘটনা)’ হয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ওপর অভিঘাত বেশি পড়ছে।

জনপ্রিয়

নতুন বেতনকাঠামোবাস্তবায়ন,সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভায়:তিতুমীর

প্রকাশের সময় : ১২:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
আজ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে বাড়তি অর্থ জোগাড় এবং কবে থেকে বাস্তবায়ন হবে, তা নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। শিগগিরই মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আরও বলেন, ‘পরিচালন ব্যয়ের ১ নম্বর খাত হিসাবে যখন আবির্ভূত হয়েছে ঋণের সুদ ব্যয়, তখন বাংলাদেশে উন্নয়নের বয়ান প্রচারিত হয়েছে। কেউ বলেছেন উন্নয়ন মিরাকল, কেউ বলেছেন উন্নয়ন প্যারাডক্স। যেদিন খাদ্য আমদানি করা হচ্ছিল, সেদিনও পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে খাদ্য রপ্তানি করা হচ্ছে। এ রকম একটা পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছিলাম।’

তাহলে কি ঋণ নিয়ে বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন করা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ঋণ ছাড়া কি কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চলে? ঋণ কোনো বিষয় নয়। বিষয় হচ্ছে বাজেট–ঘাটতি কত শতাংশ হলো এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) কত শতাংশ কর আদায় হচ্ছে। এ ছাড়া জিডিপির তুলনায় কত শতাংশ স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তায় ব্যয় হচ্ছে। আর নীতিকাঠামো ও রাজস্বনীতি ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগকে নিশ্চিত করতে পারছে কি না এবং সেই বিনিয়োগের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে কি না, তা–ও গুরুত্বপূর্ণ।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বেতনকাঠামো নিয়ে সাধারণত তিনটি পর্যায়ে কাজ হয়। প্রথম পর্যায়ে পে সার্ভিস কমিশন বা সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পে কমিটি এবং বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে জুডিশিয়াল পে কমিশন তাদের প্রতিবেদন দিয়েছে। এসব প্রতিবেদনের মধ্যে প্রথম দুটির বিষয় সচিব কমিটি পর্যালোচনা করে সুপারিশ দিয়েছে। তিনি বলেন, বিচার বিভাগের পে-স্কেলের জন্য মন্ত্রিপরিষদ গঠিত একটি কমিটি রয়েছে। ওই কমিটির প্রথম সভাও হয়েছে। বাংলাদেশের বাস্তবতা, বিষয়টির সংবেদনশীলতা এবং সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নিয়ে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দেবে। এর মাধ্যমে পে-স্কেল প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় পর্যায় শেষ হবে। এরপর তৃতীয় পর্যায়ে মন্ত্রিসভা সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করবে। কোন কোন বিষয় কবে থেকে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার বৈঠকেই হবে বলে জানান তিনি।

বেতনকাঠামোর সুবিধা সীমিতসংখ্যক সরকারি চাকরিজীবী পাবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বেতনবৈষম্য ও সরকারি-বেসরকারি খাতের বেতনের তুলনা নিয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন খাতের ব্যয় বা বেতন তুলনার ক্ষেত্রে একই ধরনের বিষয়কে একই ধরনের বিষয়ের সঙ্গে তুলনা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের বেতন এবং বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বেতন সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। তিতুমীর বলেন, ‘যার কর্ম অনুযায়ী তার ব্যবস্থা’ এই নীতিই বিবেচনায় রাখতে হবে।

বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমার নিশ্চয়তা আছে কি না, জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন দাবি করছে না। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে কার্যকর ও যুক্তিসংগত ব্যবস্থা নেওয়া। বেতনকাঠামোর আর্থিক প্রভাব নিয়ে বক্তব্যে উপদেষ্টা জানান, মূল বেতনভোগী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ এবং পেনশনভোগীসহ অন্যদের যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় ২০ লাখের কাছাকাছি হতে পারে। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি ইতিমধ্যে বড় মাত্রায় বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগীদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে পে-স্কেল নিয়ে কাজ চলছে।

আবার তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয় বেতন কমিশন বাস্তবায়ন হবে কবে এবং কত ধাপে। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, কাজ চলছে। মন্ত্রিপরিষদ শিগগিরই সব ঠিক করবে।

‘আগামী শীতে জ্বালানি খাতে স্বস্তি আসবে’

এদিকে জ্বালানি খাতে শীতকালের মধ্যে স্বস্তি আসবে বলে জানিয়েছেন উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, শীতকালে জ্বালানি পরিস্থিতিতে স্বস্তি আসবে এবং গ্রীষ্মকালে পরিস্থিতিতে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে। পাশাপাশি ২০২৯ সালের মধ্যে বড় আকারের অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এলএনজি কার্গো না আসার বিষয়ে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, জ্বালানির কার্গোগুলো না আসার বিষয়টি সবাই জানেন। সেখানে ‘ফোর্স মেজারস (অপ্রত্যাশিত ও নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা ঘটনা)’ হয়েছে। ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এ ধরনের ঘটনা নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। তবে এ ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ওপর অভিঘাত বেশি পড়ছে।