, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংসদে উত্তাপ ছড়াতে পারে সংবিধান সংশোধন ইস্যু

  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
  • ২২ পড়া হয়েছে

সংসদে উত্তাপ ছড়াতে পারে সংবিধান সংশোধন ইস্যু

  • আগের অধিবেশনে সরকারি দলের নাম ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়। কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি বিরোধী দল থেকে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন আগামীকাল রবিবার বসছে। অধিবেশনে বাজেট মূল আকর্ষণ হলেও সংবিধান সংশোধন ইস্যু সবার দৃষ্টিতে রয়েছে।

কারণ নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের আগেই সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করতে চায় সরকারি দল।আগের অধিবেশনের এই আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে সরকারি দলের নাম ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়। কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি বিরোধী দল থেকে। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুতে সংসদের বাজেট অধিবেশন উত্তপ্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত হবে।

আগামী ১১ জুন অধিবেশনে পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনা শেষে ৩০ জুন ওই বাজেট পাস হবে।সূত্রগুলো জানায়, প্রথম অধিবেশন চলাকালে গত ২৯ এপ্রিল আইনমন্ত্রী সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি সংসদকে জানান, বিশেষ কমিটিতে সরকারি দল ও তাদের শরিকদের ১২ জন এবং বিরোধী দলের পাঁচজন রাখা হবে। বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন ইস্যু নিয়ে চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। দুই দফা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ছাড়াও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনাসহ অন্যান্য বিধিতে বক্তব্য দিয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের শরিকরা সরকারি দল প্রস্তাবিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বিরোধিতা করছে। গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেছে তারা।

বিরোধীদলীয় নেতারা বলছেন, সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য গণভোটের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটানোর চেষ্টা। তাঁদের ভাষায়, সংস্কার পরিষদই বৈধ প্ল্যাটফর্ম। সংসদীয় কমিটি তৈরি করে মূল প্রক্রিয়াকে দুর্বল করা হচ্ছে।

তবে সরকারি দল বিএনপি এখনো আশাবাদী, বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত বিশেষ কমিটিতে তাদের প্রতিনিধিদের নাম যুক্ত করবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জুলাই সনদের প্রস্তাবের আলোকে সংবিধান সংশোধন হবে।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জুলাই সনদের প্রতিটি পর্ব অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবেন। সেই আলোকে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দল পাঁচজনের নাম জমা দিলে বিশেষ কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে।’

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি বলেন, জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে।’

জনপ্রিয়

সংসদে উত্তাপ ছড়াতে পারে সংবিধান সংশোধন ইস্যু

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

সংসদে উত্তাপ ছড়াতে পারে সংবিধান সংশোধন ইস্যু

  • আগের অধিবেশনে সরকারি দলের নাম ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়। কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি বিরোধী দল থেকে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশন আগামীকাল রবিবার বসছে। অধিবেশনে বাজেট মূল আকর্ষণ হলেও সংবিধান সংশোধন ইস্যু সবার দৃষ্টিতে রয়েছে।

কারণ নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপনের আগেই সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠন করতে চায় সরকারি দল।আগের অধিবেশনের এই আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়ে সরকারি দলের নাম ঘোষণার পাশাপাশি বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম চাওয়া হয়। কিন্তু এখনো সাড়া মেলেনি বিরোধী দল থেকে। ফলে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুতে সংসদের বাজেট অধিবেশন উত্তপ্ত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন।

অধিবেশন শুরুর আগে সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের মেয়াদ ও কার্যসূচি চূড়ান্ত হবে।

আগামী ১১ জুন অধিবেশনে পরবর্তী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবনা উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের আলোচনা শেষে ৩০ জুন ওই বাজেট পাস হবে।সূত্রগুলো জানায়, প্রথম অধিবেশন চলাকালে গত ২৯ এপ্রিল আইনমন্ত্রী সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে ১৭ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি সংসদকে জানান, বিশেষ কমিটিতে সরকারি দল ও তাদের শরিকদের ১২ জন এবং বিরোধী দলের পাঁচজন রাখা হবে। বিরোধী দলের পাঁচজনের নাম দেওয়ার আহবান জানান তিনি।

সংবিধান সংশোধন ইস্যু নিয়ে চলতি সংসদের প্রথম অধিবেশনে কয়েক দফা আলোচনা হয়েছে। দুই দফা মুলতবি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ছাড়াও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সাধারণ আলোচনাসহ অন্যান্য বিধিতে বক্তব্য দিয়েছেন সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীসহ তাদের শরিকরা সরকারি দল প্রস্তাবিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বিরোধিতা করছে। গণভোটের রায়ের আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে সংসদের বাইরে আন্দোলন কর্মসূচিও পালন করেছে তারা।

বিরোধীদলীয় নেতারা বলছেন, সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্দেশ্য গণভোটের ম্যান্ডেটকে পাশ কাটানোর চেষ্টা। তাঁদের ভাষায়, সংস্কার পরিষদই বৈধ প্ল্যাটফর্ম। সংসদীয় কমিটি তৈরি করে মূল প্রক্রিয়াকে দুর্বল করা হচ্ছে।

তবে সরকারি দল বিএনপি এখনো আশাবাদী, বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত বিশেষ কমিটিতে তাদের প্রতিনিধিদের নাম যুক্ত করবে। সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জুলাই সনদের প্রস্তাবের আলোকে সংবিধান সংশোধন হবে।

এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন জুলাই সনদের প্রতিটি পর্ব অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করবেন। সেই আলোকে জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিরোধী দল পাঁচজনের নাম জমা দিলে বিশেষ কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে।’

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, সংসদ এবং কমিটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকারি দল যা চাইবে তাই হবে। তাই এ ধরনের কমিটিতে অংশগ্রহণ অর্থহীন এবং বৈধতা দেওয়া ছাড়া আর কিছু নয়। তিনি বলেন, জামায়াত বা ১১ দলের নিজস্ব কোনো দাবি নেই। গণভোটের ফলাফল যেভাবে হয়েছে, সেভাবেই সংবিধান সংস্কার করতে হবে।’