, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোন সৃষ্টিশীলতা নেই।শুধু হিংসা আর বিদ্বেষ

  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
  • ৮ পড়া হয়েছে
অঅলাইন শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
কোন সৃষ্টিশীলতা নেই।
আনন্দ নেই। উচ্ছ্বাস নেই।
কবিতা পড়ে না, সাহিত্য চর্চা করে না।
সিনেমা দেখে না, গান শোনে না, বই পড়ে না।
প্রেম করে না—প্রেমকে বরং সন্দেহের চোখে দেখে।
উৎসবের রঙে মেশে না, নাচে না, গায় না, প্রাণ খুলে হাসে না।
ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার অবসর নেই।
ভোরের শিশিরে ভেজা সবুজ ঘাসে খালি পায়ে হাঁটার আনন্দ জানে না।
নদীর ধারে বসে সূর্য ডুবে যেতে দেখে না।
পাখির ডাক শুনে থমকে দাঁড়ায় না।
পূর্ণিমার চাঁদ কিংবা বৃষ্টির শব্দ তাদের মনে কোনো কবিতা জাগায় না।
একটি শিশুর হাসি, একজন বৃদ্ধের নিঃসঙ্গতা কিংবা একজন নারীর চোখের জল—কোনোটাই তাদের হৃদয়কে খুব বেশি স্পর্শ করে না।
জীবন যে শুধু জন্ম, নিয়ম, নিষেধ আর মৃত্যুর মাঝখানের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র নয়—জীবন যে নিজেই এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা, সেটাই যেন তারা ভুলে গেছে।
দিনরাত শুধু হিংসা আর বিদ্বেষ।
নারীবিদ্বেষ। জাতিবিদ্বেষ। ভিন্নমতবিদ্বেষ।
ভিন্ন ধর্মের মানুষকে সন্দেহ, ভিন্ন সংস্কৃতিকে ঘৃণা, ভিন্ন জীবনযাপনকে পাপ বলে দাগিয়ে দেওয়া।
কে কী পোশাক পরল, কে কার সঙ্গে প্রেম করল, কে গান গাইল, কে ছবি আঁকল, কে কোন বই পড়ল, কে বিশ্বাস করল আর কে করল না—সবকিছুতেই তাদের অসীম আগ্রহ। অথচ নিজের ভেতরের অন্ধকারটুকু দেখার সময় নেই।
একটুতেই রাগ।
একটুতেই গালাগাল।
একটুতেই মারামারি, কাটাকাটি।
যুক্তির বদলে হুমকি, আলোচনার বদলে ফতোয়া, প্রশ্নের বদলে শাস্তি।
ন্যূনতম সহিষ্ণুতা নেই। ভিন্নমত শোনার ধৈর্য নেই। নিজের বিশ্বাস নিয়ে এতটাই অনিশ্চয়তা যে অন্যের একটি প্রশ্নেও যেন তাদের পুরো পৃথিবী কেঁপে ওঠে।
সংবেদনশীল মন নেই—অথচ মুখে সারাক্ষণ শান্তির কথা।
পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে পৃথিবীটাকেই তারা বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে চায়। মানুষের বর্তমান জীবনকে আনন্দহীন করে, শিল্পকে সন্দেহ করে, প্রেমকে অপরাধ বানিয়ে, নারীকে ভয় ও প্রলোভনের বস্তুতে নামিয়ে এনে, চিন্তার স্বাধীনতাকে শত্রু বানিয়ে তারা অপেক্ষা করে আরেক পৃথিবীর জন্য।
কী অদ্ভুত বৈপরীত্য!
এই পৃথিবীর ফুলের ঘ্রাণ নেবে না,
কিন্তু মৃত্যুর পরের বাগানের স্বপ্ন দেখবে।
এই পৃথিবীর নারীকে সম্মান ও সমান মানুষ হিসেবে দেখতে শিখবে না,
কিন্তু পরকালে অগণিত নারীর পুরস্কারের কল্পনায় বিভোর থাকবে।
এই পৃথিবীর খাবার ভাগ করে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ানোর চেয়ে
মৃত্যুর পর অঢেল খাবারের বর্ণনা তাদের বেশি আকৃষ্ট করবে।
এই পৃথিবীর মানুষকে ভালোবাসতে শিখবে না,
অথচ পরের পৃথিবীতে অনন্ত সুখের নিশ্চয়তা চাইবে।
কিন্তু মানুষ যদি এই জীবনটাকেই ভালোবাসতে না শেখে, তবে পরের জীবনের স্বপ্ন তাকে কতটা মানবিক করবে?
ধর্ম মানুষের হৃদয়কে কোমল করার কথা, নিষ্ঠুর করার নয়। বিশ্বাস মানুষকে বিনয়ী করার কথা, উদ্ধত করার নয়। আধ্যাত্মিকতা মানুষের মধ্যে মমতা, ক্ষমা, সৌন্দর্যবোধ ও সহিষ্ণুতা বাড়ানোর কথা—মানুষে মানুষে দেয়াল তোলার নয়।
একজন মানুষ কবিতা পড়ুক, গান শুনুক, প্রেমে পড়ুক, ছবি আঁকুক, সিনেমা দেখুক, গাছ লাগাক, ফুলের ঘ্রাণ নিক, সন্তানের সঙ্গে হাসুক, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে বসুক, ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে চা খেতে খেতে তর্ক করুক—তারপর সন্ধ্যায় নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনাও করুক। একটির সঙ্গে অন্যটির শত্রুতা কোথায়?
পৃথিবীকে ঘৃণা করে স্বর্গের সন্ধান করার মধ্যে কোনো মহত্ত্ব দেখি না।
বরং আমার কাছে স্বর্গের শুরু এখানেই—
যেদিন একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে তার ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ, পোশাক, প্রেম কিংবা মতাদর্শের আগে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখে।
কারণ পৃথিবীটা নোংরা হয় গান গাইলে নয়,
কবিতা লিখলে নয়, প্রেম করলে নয়, ফুলের ঘ্রাণ নিলে নয়।
পৃথিবী নোংরা হয় তখনই—
যখন মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার জায়গাটা
ধীরে ধীরে দখল করে নেয় ঘৃণা।
ফেসবুক থেকে নেওয়া

Md Hamid’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

কোন সৃষ্টিশীলতা নেই।শুধু হিংসা আর বিদ্বেষ

প্রকাশের সময় : ০৫:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
অঅলাইন শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
কোন সৃষ্টিশীলতা নেই।
আনন্দ নেই। উচ্ছ্বাস নেই।
কবিতা পড়ে না, সাহিত্য চর্চা করে না।
সিনেমা দেখে না, গান শোনে না, বই পড়ে না।
প্রেম করে না—প্রেমকে বরং সন্দেহের চোখে দেখে।
উৎসবের রঙে মেশে না, নাচে না, গায় না, প্রাণ খুলে হাসে না।
ফুলের ঘ্রাণ নেওয়ার অবসর নেই।
ভোরের শিশিরে ভেজা সবুজ ঘাসে খালি পায়ে হাঁটার আনন্দ জানে না।
নদীর ধারে বসে সূর্য ডুবে যেতে দেখে না।
পাখির ডাক শুনে থমকে দাঁড়ায় না।
পূর্ণিমার চাঁদ কিংবা বৃষ্টির শব্দ তাদের মনে কোনো কবিতা জাগায় না।
একটি শিশুর হাসি, একজন বৃদ্ধের নিঃসঙ্গতা কিংবা একজন নারীর চোখের জল—কোনোটাই তাদের হৃদয়কে খুব বেশি স্পর্শ করে না।
জীবন যে শুধু জন্ম, নিয়ম, নিষেধ আর মৃত্যুর মাঝখানের একটি পরীক্ষাকেন্দ্র নয়—জীবন যে নিজেই এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা, সেটাই যেন তারা ভুলে গেছে।
দিনরাত শুধু হিংসা আর বিদ্বেষ।
নারীবিদ্বেষ। জাতিবিদ্বেষ। ভিন্নমতবিদ্বেষ।
ভিন্ন ধর্মের মানুষকে সন্দেহ, ভিন্ন সংস্কৃতিকে ঘৃণা, ভিন্ন জীবনযাপনকে পাপ বলে দাগিয়ে দেওয়া।
কে কী পোশাক পরল, কে কার সঙ্গে প্রেম করল, কে গান গাইল, কে ছবি আঁকল, কে কোন বই পড়ল, কে বিশ্বাস করল আর কে করল না—সবকিছুতেই তাদের অসীম আগ্রহ। অথচ নিজের ভেতরের অন্ধকারটুকু দেখার সময় নেই।
একটুতেই রাগ।
একটুতেই গালাগাল।
একটুতেই মারামারি, কাটাকাটি।
যুক্তির বদলে হুমকি, আলোচনার বদলে ফতোয়া, প্রশ্নের বদলে শাস্তি।
ন্যূনতম সহিষ্ণুতা নেই। ভিন্নমত শোনার ধৈর্য নেই। নিজের বিশ্বাস নিয়ে এতটাই অনিশ্চয়তা যে অন্যের একটি প্রশ্নেও যেন তাদের পুরো পৃথিবী কেঁপে ওঠে।
সংবেদনশীল মন নেই—অথচ মুখে সারাক্ষণ শান্তির কথা।
পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠার নামে পৃথিবীটাকেই তারা বসবাসের অযোগ্য করে তুলতে চায়। মানুষের বর্তমান জীবনকে আনন্দহীন করে, শিল্পকে সন্দেহ করে, প্রেমকে অপরাধ বানিয়ে, নারীকে ভয় ও প্রলোভনের বস্তুতে নামিয়ে এনে, চিন্তার স্বাধীনতাকে শত্রু বানিয়ে তারা অপেক্ষা করে আরেক পৃথিবীর জন্য।
কী অদ্ভুত বৈপরীত্য!
এই পৃথিবীর ফুলের ঘ্রাণ নেবে না,
কিন্তু মৃত্যুর পরের বাগানের স্বপ্ন দেখবে।
এই পৃথিবীর নারীকে সম্মান ও সমান মানুষ হিসেবে দেখতে শিখবে না,
কিন্তু পরকালে অগণিত নারীর পুরস্কারের কল্পনায় বিভোর থাকবে।
এই পৃথিবীর খাবার ভাগ করে ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ানোর চেয়ে
মৃত্যুর পর অঢেল খাবারের বর্ণনা তাদের বেশি আকৃষ্ট করবে।
এই পৃথিবীর মানুষকে ভালোবাসতে শিখবে না,
অথচ পরের পৃথিবীতে অনন্ত সুখের নিশ্চয়তা চাইবে।
কিন্তু মানুষ যদি এই জীবনটাকেই ভালোবাসতে না শেখে, তবে পরের জীবনের স্বপ্ন তাকে কতটা মানবিক করবে?
ধর্ম মানুষের হৃদয়কে কোমল করার কথা, নিষ্ঠুর করার নয়। বিশ্বাস মানুষকে বিনয়ী করার কথা, উদ্ধত করার নয়। আধ্যাত্মিকতা মানুষের মধ্যে মমতা, ক্ষমা, সৌন্দর্যবোধ ও সহিষ্ণুতা বাড়ানোর কথা—মানুষে মানুষে দেয়াল তোলার নয়।
একজন মানুষ কবিতা পড়ুক, গান শুনুক, প্রেমে পড়ুক, ছবি আঁকুক, সিনেমা দেখুক, গাছ লাগাক, ফুলের ঘ্রাণ নিক, সন্তানের সঙ্গে হাসুক, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের পাশে বসুক, ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে চা খেতে খেতে তর্ক করুক—তারপর সন্ধ্যায় নিজের বিশ্বাস অনুযায়ী প্রার্থনাও করুক। একটির সঙ্গে অন্যটির শত্রুতা কোথায়?
পৃথিবীকে ঘৃণা করে স্বর্গের সন্ধান করার মধ্যে কোনো মহত্ত্ব দেখি না।
বরং আমার কাছে স্বর্গের শুরু এখানেই—
যেদিন একজন মানুষ আরেকজন মানুষকে তার ধর্ম, জাতি, লিঙ্গ, পোশাক, প্রেম কিংবা মতাদর্শের আগে মানুষ হিসেবে দেখতে শেখে।
কারণ পৃথিবীটা নোংরা হয় গান গাইলে নয়,
কবিতা লিখলে নয়, প্রেম করলে নয়, ফুলের ঘ্রাণ নিলে নয়।
পৃথিবী নোংরা হয় তখনই—
যখন মানুষের হৃদয়ে ভালোবাসার জায়গাটা
ধীরে ধীরে দখল করে নেয় ঘৃণা।
ফেসবুক থেকে নেওয়া

Md Hamid’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।