, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

সাবেক এক কর্মস্থলের এক করুন অভিজ্ঞতা:

  • প্রকাশের সময় : ০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৮৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সাবেক এক কর্মস্থলের এক করুন অভিজ্ঞতা:
দুই দিন পর কোরবানির ঈদ। ঈদের ছুটিতে ডিউটির তালিকায় বরাবরের মতো আমিও ছিলাম। পরের দিনের কাজের পরিকল্পনা করে কেবল রাতের খাবার খেতে বসেছি। তখনই একটা ফোন। ওপাশ থেকে শুধু একটা কথা“কাল থেকে অফিসে আসবেন না। রিজাইন লেটার পাঠিয়ে দিয়েন।”
টানা পাঁচ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেছি।পারফরম্যান্সের কারণে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক বেড়েছিল। তারপরও কেন এমন সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্ন করার সুযোগ সেদিন ছিল না। সেই রাতটা কীভাবে কেটেছিল, তা আজও কাউকে বোঝাতে পারব না।
পরদিন এডমিন ম্যানেজারকে ফোন করে বললাম, “আমার রিজাইন দেওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। যদি সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে, তাহলে আমাকে চাকরিচ্যুত করুন। উনি বারবার বললেন, “উপরের নির্দেশ।” আমি ‘উপরে’ তাকিয়ে নির্দেশদাতা কিংবা সেই নির্দেশের কারণ—কোনোটিই দেখতে পেলাম না।
এদিকে রিজাইন দেওয়ার আগেই আমাকে সব নিউজ গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। সারাবাংলা ডট নেটের তৎকালীন হেড অব নিউজের নির্দেশে দরজায় আমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও পাঞ্চিংও মুছে দেওয়া হয়।
আমি রিজাইন না দেওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই এডমিন থেকে ফোন আসত। আর আমি শুধু একটি প্রশ্নই করতাম—“কারণটা কী?” একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে তারা বলে ফেললেন, তাদের নিউজ প্রধানের নির্দেশ—“তারা ডানপন্থী নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাই অন্য ধর্মের লোকজন রাখবেন না।” এর আগে তিনি সাতজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন হিন্দু। কথাটা শোনার পর দ্রুতই রিজাইন দিয়ে চলে আসি। কারণ, আমি আমার জন্মপরিচয় তো আর বদলাতে পারব না।
আমার বিরুদ্ধে আরও কিছু ‘অভিযোগ’ তোলা হয়েছিল। আমি ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দিই না কেন, আওয়ামী লীগবিরোধী, বিএনপিবিরোধী স্ট্যাটাস দেই না কেন, অন্তবর্তী সরকারের প্রশংসা করিনা কেন এবং তাঁর সাম্প্রদায়িক ও উস্কানিমূলক স্ট্যাটাসে লাইক, কমেন্ট কিংবা শেয়ার করি না কেন—এসবও নাকি আমার অপরাধ।
( আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না)
সাবেক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছরের কর্মজীবনের শেষ হিসাবটা এমনই ছিল যে, কাজের মূল্যায়ন কিংবা যোগ্যতার বিচার নয়, বরং আমার পরিচয়, আমার বিশ্বাস এবং আমি কী লিখলাম বা লিখলাম না—সেটাই হয়ে উঠেছিল আমার ‘অপরাধ’।
আমার সঙ্গে যা করেছে আমি কখনো চাইনা তা অন্য কারো সঙ্গে ঘটুক। কিন্তু প্রকৃতি বিচার তো ক্ষমতাকেও চূর্ণ করে, তা আমরা ভুলে যাই।
***শুনেছি সেই হেড অব নিউজ ভাইয়ের নাকি চাকরি চলে গেছে।

Jharna Roy’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

সাবেক এক কর্মস্থলের এক করুন অভিজ্ঞতা:

প্রকাশের সময় : ০৪:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
সাবেক এক কর্মস্থলের এক করুন অভিজ্ঞতা:
দুই দিন পর কোরবানির ঈদ। ঈদের ছুটিতে ডিউটির তালিকায় বরাবরের মতো আমিও ছিলাম। পরের দিনের কাজের পরিকল্পনা করে কেবল রাতের খাবার খেতে বসেছি। তখনই একটা ফোন। ওপাশ থেকে শুধু একটা কথা“কাল থেকে অফিসে আসবেন না। রিজাইন লেটার পাঠিয়ে দিয়েন।”
টানা পাঁচ বছর প্রতিষ্ঠানটিতে কাজ করেছি।পারফরম্যান্সের কারণে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক বেড়েছিল। তারপরও কেন এমন সিদ্ধান্ত? এই প্রশ্ন করার সুযোগ সেদিন ছিল না। সেই রাতটা কীভাবে কেটেছিল, তা আজও কাউকে বোঝাতে পারব না।
পরদিন এডমিন ম্যানেজারকে ফোন করে বললাম, “আমার রিজাইন দেওয়ার কোনো কারণ দেখছি না। যদি সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ থাকে, তাহলে আমাকে চাকরিচ্যুত করুন। উনি বারবার বললেন, “উপরের নির্দেশ।” আমি ‘উপরে’ তাকিয়ে নির্দেশদাতা কিংবা সেই নির্দেশের কারণ—কোনোটিই দেখতে পেলাম না।
এদিকে রিজাইন দেওয়ার আগেই আমাকে সব নিউজ গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হলো। সারাবাংলা ডট নেটের তৎকালীন হেড অব নিউজের নির্দেশে দরজায় আমার ফিঙ্গারপ্রিন্ট ও পাঞ্চিংও মুছে দেওয়া হয়।
আমি রিজাইন না দেওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই এডমিন থেকে ফোন আসত। আর আমি শুধু একটি প্রশ্নই করতাম—“কারণটা কী?” একপর্যায়ে বিরক্ত হয়ে তারা বলে ফেললেন, তাদের নিউজ প্রধানের নির্দেশ—“তারা ডানপন্থী নীতিতে বিশ্বাস করেন, তাই অন্য ধর্মের লোকজন রাখবেন না।” এর আগে তিনি সাতজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচজনই ছিলেন হিন্দু। কথাটা শোনার পর দ্রুতই রিজাইন দিয়ে চলে আসি। কারণ, আমি আমার জন্মপরিচয় তো আর বদলাতে পারব না।
আমার বিরুদ্ধে আরও কিছু ‘অভিযোগ’ তোলা হয়েছিল। আমি ভারতবিরোধী স্ট্যাটাস দিই না কেন, আওয়ামী লীগবিরোধী, বিএনপিবিরোধী স্ট্যাটাস দেই না কেন, অন্তবর্তী সরকারের প্রশংসা করিনা কেন এবং তাঁর সাম্প্রদায়িক ও উস্কানিমূলক স্ট্যাটাসে লাইক, কমেন্ট কিংবা শেয়ার করি না কেন—এসবও নাকি আমার অপরাধ।
( আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না)
সাবেক প্রতিষ্ঠানে পাঁচ বছরের কর্মজীবনের শেষ হিসাবটা এমনই ছিল যে, কাজের মূল্যায়ন কিংবা যোগ্যতার বিচার নয়, বরং আমার পরিচয়, আমার বিশ্বাস এবং আমি কী লিখলাম বা লিখলাম না—সেটাই হয়ে উঠেছিল আমার ‘অপরাধ’।
আমার সঙ্গে যা করেছে আমি কখনো চাইনা তা অন্য কারো সঙ্গে ঘটুক। কিন্তু প্রকৃতি বিচার তো ক্ষমতাকেও চূর্ণ করে, তা আমরা ভুলে যাই।
***শুনেছি সেই হেড অব নিউজ ভাইয়ের নাকি চাকরি চলে গেছে।

Jharna Roy’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।