, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

-হত্যাকারী জবাব দিয়েছিল,

  • প্রকাশের সময় : ৩৯ মিনিট আগে
  • ২৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
সাবেক মিশরীয় রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের হত্যাকারীকে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারক, “প্রেসিডেন্ট সাদাতকে কেন হত্যা করেছ তুমি?”
-হত্যাকারী জবাব দিয়েছিল, “কারণ সে সেক্যুলার ছিল।”
বিচারক তখনই পরের প্রশ্নটি করলেন, “সেক্যুলার মানে কী?”
-হত্যাকারী জানালো, “আমি জানি না।”
প্রয়াত মিশরীয় লেখক নাগিব মাহফুজকে ছুরি মেরে হত্যা-চেষ্টাকারীর একজনকে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারক, “নাগিব সাহেবকে তুমি ছুরিকাঘাত করেছ কেন?”
-জবাবে সন্ত্রাসী বলেছিলো, “কারণ সে ধর্মবিরোধী ‘চিলড্রেন অভ গেবালাবি’ উপন্যাসটি লিখেছে।”
বিচারক আগ্রহ দেখালেন, “উপন্যাসটি পড়েছ তুমি?”
-অপরাধী জবাব দিয়েছিলো, “না।”
মিশরীয় সাহিত্যিক ফারাজ ফাউদাকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীটিকে বিচারক প্রশ্ন করেছিলেন, “ফারাজ ফাউদাকে মেরে ফেললে কেন?”
-হত্যাকারী জবাব দিয়েছিল, “কারণ তার ঈমান নাই।”
বিচারক জানতে কৌতূহলী হলেন, “তুমি কিভাবে বুঝলে যে তাঁর ঈমান নেই?”
-সন্ত্রাসীর জবাব ছিল, “তার বইগুলা পড়লেই সব বোঝা যায়।”
বিচারকের কৌতূহল বেড়ে গেলো,”তাঁর কোন্‌ বইটিতে তুমি তাঁর ঈমানহীনতার প্রমাণ পেলে?”
-হত্যাকারী স্বীকার করলো, “বইয়ের নাম আমি জানি না। আমি পড়িনি ওসব। আমি শুনেছি। ” বিচারক বিস্মিত হলেন, “কেন পড়োনি?”
-খুনীটি বলেছিলো, “আমি লিখতে-পড়তে জানি না।”
ঘৃণা, কখনোই জ্ঞানের মাধ্যমে ছড়ায় না। ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে অজ্ঞতার মাধ্যমে। সমাজ অজ্ঞতার খেসারত এবং অজ্ঞ করে রাখার খেসারত এভাবেই দেয়।
সুতরাং কারো বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, “তুমি আদৌ বিষয়টি পরিস্কারভাবে, প্রমাণসহকারে জানো কিনা?”

Shakhawat Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

-হত্যাকারী জবাব দিয়েছিল,

প্রকাশের সময় : ৩৯ মিনিট আগে

অনলাইন বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
সাবেক মিশরীয় রাষ্ট্রপতি আনোয়ার সাদাতের হত্যাকারীকে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারক, “প্রেসিডেন্ট সাদাতকে কেন হত্যা করেছ তুমি?”
-হত্যাকারী জবাব দিয়েছিল, “কারণ সে সেক্যুলার ছিল।”
বিচারক তখনই পরের প্রশ্নটি করলেন, “সেক্যুলার মানে কী?”
-হত্যাকারী জানালো, “আমি জানি না।”
প্রয়াত মিশরীয় লেখক নাগিব মাহফুজকে ছুরি মেরে হত্যা-চেষ্টাকারীর একজনকে প্রশ্ন করেছিলেন বিচারক, “নাগিব সাহেবকে তুমি ছুরিকাঘাত করেছ কেন?”
-জবাবে সন্ত্রাসী বলেছিলো, “কারণ সে ধর্মবিরোধী ‘চিলড্রেন অভ গেবালাবি’ উপন্যাসটি লিখেছে।”
বিচারক আগ্রহ দেখালেন, “উপন্যাসটি পড়েছ তুমি?”
-অপরাধী জবাব দিয়েছিলো, “না।”
মিশরীয় সাহিত্যিক ফারাজ ফাউদাকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীটিকে বিচারক প্রশ্ন করেছিলেন, “ফারাজ ফাউদাকে মেরে ফেললে কেন?”
-হত্যাকারী জবাব দিয়েছিল, “কারণ তার ঈমান নাই।”
বিচারক জানতে কৌতূহলী হলেন, “তুমি কিভাবে বুঝলে যে তাঁর ঈমান নেই?”
-সন্ত্রাসীর জবাব ছিল, “তার বইগুলা পড়লেই সব বোঝা যায়।”
বিচারকের কৌতূহল বেড়ে গেলো,”তাঁর কোন্‌ বইটিতে তুমি তাঁর ঈমানহীনতার প্রমাণ পেলে?”
-হত্যাকারী স্বীকার করলো, “বইয়ের নাম আমি জানি না। আমি পড়িনি ওসব। আমি শুনেছি। ” বিচারক বিস্মিত হলেন, “কেন পড়োনি?”
-খুনীটি বলেছিলো, “আমি লিখতে-পড়তে জানি না।”
ঘৃণা, কখনোই জ্ঞানের মাধ্যমে ছড়ায় না। ঘৃণা ছড়িয়ে পড়ে অজ্ঞতার মাধ্যমে। সমাজ অজ্ঞতার খেসারত এবং অজ্ঞ করে রাখার খেসারত এভাবেই দেয়।
সুতরাং কারো বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, “তুমি আদৌ বিষয়টি পরিস্কারভাবে, প্রমাণসহকারে জানো কিনা?”

Shakhawat Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।