বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনোত্তর গঠিত সরকারের মন্ত্রিপরিষদ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করছে যে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে দেশের বিভিন্ন জেলায় উন্নয়নের বরাদ্দ কাগজে-কলমে থাকলেও ব্যাপক দুর্নীতির মাধ্যমে লুটপাট করা হয়েছে। এসব লুটপাটের অর্থের একাংশ বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
লুটপাটের অর্থের অন্য অংশ দেশের অভ্যন্তরে মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়, জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ কাজে ব্যবহৃত হয়েছে, যা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
সরকার তথা মন্ত্রিপরিষদ দেশে উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কার্যাবলীর জন্য সমষ্টিগতভাবে জাতীয় সংসদ ও জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।
টেকসই উন্নয়ন, সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতি নির্মূল নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক জরুরি কর্মসূচি।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সংবিধানের ৫৫(২) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্টভাবে বলা আছে, ‘প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বা তাঁহার কর্তৃত্বে এই সংবিধান অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতা প্রযুক্ত হইবে।’
যেহেতু রুলস অব বিজনেসের চ্যাপ্টার-৫-এর রুল ৩৩ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো ক্ষেত্রে বা ক্ষেত্রসমূহে এই রুলস থেকে বিচ্যুতির অনুমতি দিতে বা তা মঞ্জুর করতে পারেন।
রুলস অব বিজনেসের চ্যাপ্টার-১-এর রুল ৪(২) এবং চ্যাপ্টার-২-এর রুল ১৬(৯)(ই) ও রুল ১৬(১২) অনুযায়ী উল্লিখিত বিষয়গুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মন্ত্রিসভায় আলোচিত হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত রিট পিটিশন মামলা নং ৩৫১২/২০০৩-এর রায়ের মর্মমতে এ ধরনের দায়িত্ব বণ্টন সরকারের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়ে।
স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো এবং অন্যান্য সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থার আইনগত ক্ষমতা খর্ব না করে সংবিধান প্রদত্ত প্রধানমন্ত্রীর উল্লিখিত ক্ষমতা এবং রুলস অব বিজনেসের বিধান অনুসরণ করে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে সরকার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপদের নিম্নলিখিত জেলা বা জেলাসমূহের আইন-শৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়ন কার্যক্রমসহ সার্বিক সরকারি কার্যাবলী তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়েছে।
মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান প্রতিরোধ, গুরুতর অপরাধ দমনসহ জেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও হুইপরা।
তারা সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিসহ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের তদারকি ও পরামর্শ প্রদান করবেন।
এছাড়াও দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের হুইপরা প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন সভায় অংশগ্রহণ এবং পরামর্শ প্রদান করতে পারবেন।
প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
দায়িত্বপ্রাপ্তদের জেলা-ভিত্তিক তালিকা-
ইকবাল হাসান মাহমুদ- রাজশাহী ও নাটোর
ড. আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন – লালমনিরহাট, নীলফামারী ও পঞ্চগড়
আব্দুল আউয়াল মিন্টু – লক্ষ্মীপুর
নিতাই রায় চৌধুরী – চুয়াডাঙ্গা
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির – হবিগঞ্জ
আরিফুল হক চৌধুরী – মৌলভীবাজার
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি – চট্টগ্রাম
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত – শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
আসাদুল হাবিব দুলু – ঠাকুরগাঁও ও দিনাজপুর
মো. আসাদুজ্জামান – খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট
জাকারিয়া তাহের – ফেনী ও নোয়াখালী
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল – মানিকগঞ্জ ও মুন্সিগঞ্জ
সাচিং প্রু – কক্সবাজার
মো. শরীফুল আলম – টাঙ্গাইল ও নরসিংদী
শামা ওবায়েদ ইসলাম – মাদারীপুর ও শরীয়তপুর
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত – মেহেরপুর, কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ
আব্দুল বারী – বগুড়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ
সুলতান আহমেদ টুকু – ঢাকা
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন – খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙামাটি
হাবিবুর রশিদ – গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ
মো. রাজীব আহসান – বরগুনা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর
মীর শাহে আলম – রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম
ফারজানা শারমিন – সিরাজগঞ্জ ও পাবনা
শেখ ফরিদুল ইসলাম – যশোর, মাগুরা ও নড়াইল
ইয়াসের খান চৌধুরী – জামালপুর ও কিশোরগঞ্জ
আহমেদ সোহেল মঞ্জুর – বরিশাল, ভোলা ও ঝালকাঠি
মোহাম্মদ শামীম কায়সার – জয়পুরহাট ও নওগাঁ
মো. জি কে গউস – সিলেট ও সুনামগঞ্জ
মিয়া নুরুদ্দিন আহম্মেদ – রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ
এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজাম – ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা ও চাঁদপুর।





















