
অনলাইন বৃহস্পতিবার,২৭ আগস্ট ২০২৬
জাফরুল্লাহর ওষুধনীতি”
প্রখ্যাত চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্যবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
১. জন্ম ও পৈতৃক নিবাস (পরিচয়)
পূর্ণ নাম: ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
জন্মতারিখ: ২৭ ডিসেম্বর, ১৯৪১।
জন্মস্থান ও পৈতৃক নিবাস: চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার কোয়েপাড়া গ্রাম (কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী)।
মৃত্যু: ১১ এপ্রিল, ২০২৩ (ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন)।
২. পরিবার ও বংশপরিচয়
পিতা: হুমায়ুন মোর্শেদ চৌধুরী (তিনি পেশায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন)।
মাতা: হাছিনা বেগম চৌধুরী (তিনি গৃহিণী ছিলেন)।
ভাই-বোন: পিতা-মাতার ১০ জন সন্তানের মধ্যে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ছিলেন সবার জ্যেষ্ঠ (বড়)।
৩. শিক্ষাজীবন
মাধ্যমিক (ম্যাট্রিকুলেশন): ঢাকার বকশীবাজারের নবকুমার ইনস্টিটিউশন থেকে পাস করেন।
উচ্চ মাধ্যমিক (ইন্টারমিডিয়েট): ঢাকা কলেজ থেকে সম্পন্ন করেন।
উচ্চশিক্ষা: তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করেন (১৯৬৪/১৯৬৬ সালে)। এরপর উচ্চতর ডিগ্রি (এফআরসিএস) অর্জনের জন্য বিলেত (লন্ডন) যান এবং রয়্যাল কলেজ অব সার্জনস-এ পড়াশোনা করেন। তবে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ না করেই তিনি যুদ্ধরত দেশের টানে দেশে ফিরে আসেন।
৪. বৈবাহিক জীবন ও সংসার জীবন
স্ত্রী: শিরীন হক (যিনি নারী অধিকার আন্দোলন ও ‘নারীপক্ষ’ এবং ‘উইমেন ফর উইমেন’ নামক সংগঠনের সাথে যুক্ত বিশিষ্ট অধিকারকর্মী)।
সন্তান: তাঁদের সংসারে এক কন্যাসন্তান ও এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
৫. কর্মজীবন ও অবদান
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা: ১৯৭১ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে এসে তিনি ভারতের ত্রিপুরায় আগরতলার মেলাঘরে গেরিলা প্রশিক্ষণ নেন এবং ডা. এম এ মবিনের সাথে মিলে ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট ঐতিহাসিক “বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল”
প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেন, যেখানে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও শরণার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হতো।
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা: ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সাভারে প্রতিষ্ঠা করেন বিখ্যাত ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’। স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি নারীশিক্ষা, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, কৃষি ও সমবায় কার্যক্রমের প্রসার ঘটান তিনি।
জাতীয় ওষুধ নীতি (১৯৮২): তাঁর দূরদর্শিতা ও নেতৃস্থানীয় ভূমিকার ফলেই ১৯৮২ সালে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জাতীয় ওষুধ নীতি প্রণীত হয়। এর ফলে দেশে অপ্রয়োজনীয় ও ক্ষতিকর ওষুধের আমদানি বন্ধ হয় এবং কম মূল্যে জীবনরক্ষাকারী জেনেরিক ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হয়, যা দেশকে পরবর্তীতে ওষুধ রপ্তানিকারক দেশে পরিণত করতে সাহায্য করে।
প্যারামেডিক ধারণা: তিনিই প্রথম বাংলাদেশে গ্রামীণ নারীদের স্বল্প প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর্মী বা প্যারামেডিক হিসেবে গড়ে তোলার যুগান্তকারী ধারণা বাস্তবায়ন করেন।
৬. প্রাপ্ত প্রধান প্রধান পুরস্কার ও সম্মাননা
স্বাধীনতা পুরস্কার: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে অনন্য অবদানের জন্য ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ লাভ করেন। পরবর্তীতে ২০২৬ সালে সমাজসেবায় তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।
রামন ম্যাগসাইসাই পুরস্কার:
ফিলিপাইন থেকে ১৯৮৫ সালে এই সম্মাননা পান।
রাইট লাভলিহুড অ্যাওয়ার্ড:
সুইডেন থেকে ১৯৯২ সালে বিকল্প নোবেল হিসেবে পরিচিত এই পুরস্কার লাভ করেন।
এছাড়া তিনি বার্কলি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ইন্টারন্যাশনাল হেলথ হিরো’ (২০০২) এবং কানাডা থেকে ডক্টরেট অব হিউম্যানিটারিয়ান ডিগ্রি লাভ করেছিলেন।
প্রখ্যাত চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী
সাভারের ঐতিহাসিক ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র’
. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাতে গড়া জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। গণস্বাস্থ্য ও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর চিন্তাদর্শে গড়া পথচলা।
আঞ্জুমান আরা খান কলি
𝒦𝑜𝓁𝒾 | কলি
________________
ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে শায়েস্তা করার জন্য সব ঔষধ কোম্পানিগুলো একজোট হয়ে মাঠে নেমেছেন। আর তাতে বিদেশি দূতাবাস গুলোকেও কাজে লাগানো হচ্ছিল।
বামপন্থী এবং ডানপন্থী দুই ঘরানার দুই মহান দেশ প্রেমিকের বদান্যতায় আজ আমরা জাতীয় ঔষধনীতি পেয়েছি। আজ আমরা বিদেশে ঔষধ রপ্তানি করছি। বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানিগুলো একে একে পাততাড়ি গুটিয়ে এ দেশ থেকে চলে গেছে।
সেদিন এ জেড এম শামসুল আলম সঠিক দায়িত্ব পালন না করলে ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী হয়তো থেমে যেতেন। নব্য ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ রূপী বহুজাতিক ঔষধ কোম্পানিগুলো আজও আমাদের শোষণ করতো।
একজন জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জন্ম না হলে আজ আমরা একটি প্যারাসিটামল ২০ টাকা কিনে খেতে হতো ।
তথ্যসূত্র : এ জেড এম শামসুল আলম, সাবেক নির্বাচন কমিশন সচিব, সাবেক ধর্ম সচিব ও সাবেক মহাপরিচালক ইসলামিক ফাউন্ডেশন। “
( ছবিতে জনাব এ জেড এম শামসুল আলম ( CSP , সাবেক সচিব ) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরী )
-
-
Reply
“ তদন্ত “
ডাঃ জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা এনে তা আত্মসাতের অভিযোগে ।
আর এই অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার কৃতি সন্তান জনাব এ জেড এম শামসুল আলম ( CSP ও সাবেক সচিব )
বিস্তারিত ;
” প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদ ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিলেন।
ডাক্তার চৌধুরীর বিরুদ্ধে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নামে বিদেশ থেকে কোটি কোটি টাকা এনে তা আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।
রাষ্ট্রপতি এরশাদ ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করতেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে তদন্তের জন্য ক্রমাগত বিদেশী দূতাবাসের চাপ আসতে থাকে।
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র অফিসাররা বেশিরভাগই তখন সিএসপি অফিসার। এরা সবাই ষাটের দশকের তরুন। তাদের বেশিরভাগই বামপন্থী চিন্তার ধারক ও বাহক। তাদের মাঝে বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরীর এক ধরনের জনপ্রিয়তা রয়েছে।
অদৃশ্য শক্তি ডাক্তার চৌধুরীকে সাইজ করার জন্য উপযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা খুঁজছিলেন। তারা খুঁজছিলেন একজন দাঁড়িওয়ালা -টুপিওয়ালা তদন্ত কর্মকর্তা।
নানামুখী চাপে তৎকালীন সংস্থাপন সচিব ৬২ ব্যাচের সিএসপি অফিসার এ জেড এম শামসুল আলম কে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করেন।
তদন্তের নির্দেশনা পেয়ে এ জেড এম শামসুল আলম সংস্থাপন সচিবের কাছে একটি চিঠি লেখেন।
চিঠিতে তিনি বলেন “ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন বামপন্থী সমাজকর্মী। আর আমি একজন ডানপন্থী সরকারি কর্মকর্তা। তার মত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমার তদন্ত রিপোর্ট প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। আমি তদন্ত কর্মকর্তা থেকে অব্যাহতি চাই।”
এদিকে ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী তার তদন্ত কর্মকর্তা সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে থাকেন। নানামুখী খোঁজ শেষে তিনি সংস্থাপন সচিবের নিকট একটি চিঠি লেখেন। চিঠিতে ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী উল্লেখ করেন ” এ জেড এম শামসুল আলম যদি আমার তদন্ত কর্মকর্তা হয়ে থাকেন তাহলে এই তদন্তে আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। এখানে আমাকে দোষী সাব্যস্ত করলে আমি যেকোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব।”
তদন্ত কাজ শেষ হলো। তদন্ত কর্মকর্তা গোপনে রুমের দরজা বন্ধ করে তার তদন্ত রিপোর্ট লিখছেন। চারিদিক থেকে তদন্ত কর্মকর্তার উপর নজরদারি।
সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে বলাবলি হচ্ছিল এইবার ডাক্তার জাফরুল্লাহর আর রক্ষা নেই।
তদন্ত রিপোর্ট চূড়ান্ত করার এক পর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে একটু দেখা করার ইচ্ছা পোষণ করলেন। বঙ্গভবন থেকে তদন্ত কর্মকর্তাকে মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করার অনুমতি দেয়া হলো।
তদন্ত কর্মকর্তা প্রায় ঘন্টাখানেক মহামান্য রাষ্ট্রপতি কে তদন্তের বিভিন্ন দিক অবহিত করলেন। এরপর রাষ্ট্রপতির হাতে তদন্ত রিপোর্ট পেশ করলেন।
আশ্চর্য বিষয়! ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী শাস্তির পরিবর্তে কয়েকদিন পরে উল্টো মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাস্থ্য উপদেষ্টা হয়ে গেলেন!
জানা গেছে তদন্ত কর্মকর্তা মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেছেন যে ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক ।
তিনি বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানিগুলোর ষড়যন্ত্রের শিকার। বহুজাতিক কোম্পানি গুলো নিন্মমানের ঔষধ বানিয়ে সীমাহীন মুনাফা করছিলেন। তারা ঔষধ তৈরি করে এদেশের মানুষকে গিনিপিগ বানিয়ে ঔষধের প্রাথমিক পরীক্ষা করছিলেন । এ বিষয়ে জাফরুল্লাহ চৌধুরী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে মানুষকে সচেতন করার চেষ্টা করছিলেন।
কলি বিবি’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।




















