, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ভালো থাকবেন, গুলশান আরা নিউইয়র্ক বিমানবন্দরে তোপের মুখে ড. ইউনূস অনলাইন ডেস্ক অনলাইন ভার্সন সংগৃহীত ছবি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের তোপের মুখে পড়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তাকে লক্ষ্য করে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘গো ব্যাক’সহ বিভিন্ন স্লোগান ও মন্তব্য করেন সেখানে উপস্থিত কয়েকজন প্রবাসী। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেন। সোমবার কাতার এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দোহা থেকে নিউইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছান ড. ইউনূস। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনালে এ ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হুইলচেয়ারে করে বিমানবন্দর থেকে বের হওয়ার সময় ড. ইউনূসকে লক্ষ্য করে নানা মন্তব্য করছেন কয়েকজন প্রবাসী। তাদের মুখে ‘ইউ আর টেররিস্ট’, ‘ইউ কিল্ড বাংলাদেশিজ’, ‘গো ব্যাক’, ‘ইউ ডেস্ট্রয় ডেমোক্রেসি’ এবং ‘ইউ কিল্ড থাউজেন্ডস অব পুলিশ’—এ ধরনের বক্তব্য শোনা যায়। ভিডিওতে দেখা যাওয়া ঘটনার পর নিরাপত্তাকর্মীরা ড. ইউনূসকে দ্রুত সেখান থেকে নিয়ে যান। এ সময় তার সঙ্গে থাকা লামিয়া মোর্শেদও দ্রুত বিমানবন্দরের ভেতরে চলে যান বলে জানিয়েছেন সেখানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি। তবে এ ঘটনায় জড়িত প্রবাসীদের পরিচয় এবং ঘটনার বিস্তারিত বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ৪ ঘণ্টাতেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের আগুন, সরু গলি ও পানি স্বল্পতায় বেগ পাচ্ছে ১০ ইউনিট রোটন ভাইর জানাজায়:মোটা অংকের মুক্তিপণ মব মারধর ১০হাজারে ছাড় দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটিতে সরকারে বইসা আছেন, আর নিজের ক্যাপিটালেই বিরোধীদলের রাজত্ব? চ্যানেল আইয়ের গণভবন প্রবেশাধিকার শেখ হাসিনার ,নিরাপত্তার অন্তরায় শেখ হাসিনা আসার আগে১৬৬জন পাকিস্তানি ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভিসার মেয়াদ ঢাকায় কেন? সেনা অফিসারদের নোংরা ও কদর্য মানসিকতার চরিত্র খুলে দিয়েছিলেন কাজী গুলশান আরা গুওয়ালা রাজাকারদের পক্ষেই বিশ্বাস করা সম্ভব! হুজুর-আলেমদের যৌন কেলেঙ্কারি ইসলামকেই কলঙ্কিতকরে?

আবদুস সালাম ছিলেন নজরুলের মতোই বিপ্লবী ও সাংবাদিক

  • প্রকাশের সময় : ১১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • ৩৫ পড়া হয়েছে

অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবি ও সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আজ রোববার বিকেলে পিআইবির অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা যদি আবদুস সালাম সাহেবের সম্পূর্ণ জীবন আলোচনা করি, তবে তাঁর খুব একটা মিল পাই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে। নজরুল কবি হিসেবে প্রখ্যাত, কিন্তু তিনি সাংবাদিকও ছিলেন। আবদুস সালামও ছিলেন নজরুলের মতো বিপ্লবী ও সাংবাদিক। দুজনই জেল খেটেছেন, একুশে পদক পেয়েছেন ১৯৭৬ সালে ‘
তিনি আরও বলেন, ‘যা সত্য, যা বস্তুনিষ্ঠ তিনি সেটাই ছাপাতেন, সেটাই বলতেন। তিনি কোন পয়সার কাছে বা কোন হুমকির কাছে, কোন ক্ষমতার কাছে মাথা বিক্রি করেননি।’
রিজভী আরও বলেন, ‘আবদুস সালাম শুধু বাংলাদেশে নয় গোটা বিশ্বে প্রয়োজন। আবার যদি আমাদেরকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন নাগরিক, স্বাধীনচেতা মানুষ এবং সত্য মিথ্যার বিভাজনকারী একটি সীমারেখা টানতে হয়, তাহলে আবদুস সালামদের আজকের বিপন্ন পৃথিবীতে খুবই প্রয়োজন। যদি তাঁদের মতো মানুষ আবার জেগে উঠে তাহলে আর দেশে-দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ বোমাবাজিতে বুক খালি হবে না, সত্য উদ্ভাসিত হবে, মিথ্যা অপসৃত হবে।’
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের আসলে দুই ধরনের রোল আছে: পেশাগতভাবে সাংবাদিকতা করা, জাতির প্রয়োজনে তাঁকে এক ধরনের অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে কাজ করারও দরকার আছে। যেখানে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি সেখানে কোন না কোন সময়, কোন না কোনোভাবে অ্যাক্টিভিজম দরকার। সাংবাদিক আবদুস সালামের জীবনে অবিশ্বাস্যভাবে দুটো ব্যাপারই একসাথে আছে। তিনি সাংবাদিকতা করেছেন, সাংবাদিকদের ট্রেনিংয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকুক যেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে যে-কোনো সরকার পরিবর্তিত হবে। সরকারের জায়গা থেকে আমি দেখি, অনেক কিছুর সমালোচনা আছে, যৌক্তিক সমালোচনা আছে; আমাদের ব্যর্থতা আছে, আমাদের ভুল আছে। কোন না কোন ফর্মে আরেক কোন দল অন্য কেউ আসবেন যারা নির্বাচিত হবেন। আমরা উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে একেবারে নির্ভয়ে যে-কোনো সাংবাদিক তার মত প্রকাশ করতে পারবেন, সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।’
মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টরেই আলোকবর্তিকার মতো কিছু মহাপুরুষের জন্ম হয়, তাঁরা বাতিঘর হিসেবে সেই সেক্টরে বাতিগুলো জ্বালিয়ে রাখেন এবং সেই বাতি অনুসরণ করে অন্যরা পথ চলে। সাংবাদিক আবদুস সালাম যিনি পিআইবির জন্মদাতা, তাঁকে ঘিরে অনেক সাংবাদিক বাংলাদেশে জন্ম হয়েছেন। তিনি একজন বাতিঘর।’
সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে তোপখানা রোডের নাম পরিবর্তন করে সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে করার প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেটা গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মো. আব্দুস সালাম।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, দ্য ফাইন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া ও সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ও সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক লোটন একরাম।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের শক্তিকে বৃদ্ধি করবে৷ আমরা যেন সেটা শিখতে পারি, সাংবাদিক আবদুস সালাম এটা শিখিয়েছেন৷ তিনি ভাষা আন্দোলন করেছেন, জেলে গেছেন। উনি (আবদুস সালাম) অ্যাক্টিভিস্ট-জার্নালিস্ট ছিলেন, তাঁর জীবনী থেকে শিখতে হবে৷’
শামসুল হক জাহিদ বলেন, ‘একটি শক্তিশালী সংবাদপত্রের, শিল্প ও সাংবাদিকতার স্বপ্ন দেখতেন সাংবাদিক আবদুস সালাম। সেটা আমরা ধরে রাখতে পারিনি৷ গণমাধ্যম কমিশন হয়েছে, বর্তমানে কীভাবে হবে সেটা জানি না৷ গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে, আবদুস সালামের চাওয়া পূরণ হবে।’
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আবদুস সালাম সাংবাদিকতার বাতিঘর৷ তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী ও আবদুস সালামরা মিলে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সাংবাদিকতা করেছেন। আবদুস সালাম একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন, স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আবদুস সালাম থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে৷’
‘নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার পরেও সাংবাদিক আবদুস সালাম সাংবাদিকতা করেছেন, তিনি সাংবাদিকতা ছেড়ে দেননি, আকড়ে ধরেছেন,’ বলেন আব্দুল হাই সিদ্দিক।
আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, ‘আবদুস সালাম একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর অনুসৃত পথ ধরে সাংবাদিকতায় আছেন তাঁর পরিবারের লোকজন৷ আবদুস সালাম এখনও সাংবাদিকতায় আছেন, তাঁর আত্মীয়স্বজন এখনো নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো সময় বেকার হওয়ার মতো পেশা জানার পরেও তিনি পরিবারের লোকজনকে তাঁর পথ দেখিয়েছেন।’
জোবায়ের বাবু বলেন, ‘আবদুস সালাম শুধু সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নয়, তিনি ছিলেন আধুনিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। তিনি গণতন্ত্র, মুক্ত, স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা শিখিয়ে গেছেন৷ উনার থেকে আমরা কী পেতে পারি, আমাদের সেটা আমাদের জানতে হবে৷ বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে ১৪ নম্বর দফায় মিডিয়া কমিশনের কথা বলেছে৷ মিডিয়া কমিশন বাস্তবায়ন করতে পারলে আবদুস সালামের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’
রেহানা সালাম বলেন, ‘সাংবাদিক আবদুস সালামকে স্মরণ করা আমার দায়িত্ব না, পিতা আবদুস সালামকে আমি স্মরণ করি৷ বাকি দায়িত্ব তাঁর সন্তানতুল্য প্রতিষ্ঠানের৷ সেই দায়িত্ব পিআইবি নিয়েছে৷ বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, পেশার প্রতি আনুগত্যর জন্য আবদুস সালামকে চিনতে হবে৷’ ঢাকা শহরের একটি সড়কের নাম সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে করার অনুরোধ জানান তিনি৷
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জানান, সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক দেওয়ার জন্য তিনি পিআইবি পরিচালনা বোর্ডে অনুমোদনের প্রস্তাব রাখবেন।

জনপ্রিয়

ভালো থাকবেন, গুলশান আরা

আবদুস সালাম ছিলেন নজরুলের মতোই বিপ্লবী ও সাংবাদিক

প্রকাশের সময় : ১১:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর প্রতিষ্ঠাতা মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ অবজারভারের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক, উপমহাদেশের প্রখ্যাত সম্পাদক ও ভাষাসৈনিক সাংবাদিক আবদুস সালামের ১১৬তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে পিআইবি ও সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের আয়োজনে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আজ রোববার বিকেলে পিআইবির অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমরা যদি আবদুস সালাম সাহেবের সম্পূর্ণ জীবন আলোচনা করি, তবে তাঁর খুব একটা মিল পাই আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাথে। নজরুল কবি হিসেবে প্রখ্যাত, কিন্তু তিনি সাংবাদিকও ছিলেন। আবদুস সালামও ছিলেন নজরুলের মতো বিপ্লবী ও সাংবাদিক। দুজনই জেল খেটেছেন, একুশে পদক পেয়েছেন ১৯৭৬ সালে ‘
তিনি আরও বলেন, ‘যা সত্য, যা বস্তুনিষ্ঠ তিনি সেটাই ছাপাতেন, সেটাই বলতেন। তিনি কোন পয়সার কাছে বা কোন হুমকির কাছে, কোন ক্ষমতার কাছে মাথা বিক্রি করেননি।’
রিজভী আরও বলেন, ‘আবদুস সালাম শুধু বাংলাদেশে নয় গোটা বিশ্বে প্রয়োজন। আবার যদি আমাদেরকে সত্যিকার অর্থেই স্বাধীন নাগরিক, স্বাধীনচেতা মানুষ এবং সত্য মিথ্যার বিভাজনকারী একটি সীমারেখা টানতে হয়, তাহলে আবদুস সালামদের আজকের বিপন্ন পৃথিবীতে খুবই প্রয়োজন। যদি তাঁদের মতো মানুষ আবার জেগে উঠে তাহলে আর দেশে-দেশে যুদ্ধ বিগ্রহ বোমাবাজিতে বুক খালি হবে না, সত্য উদ্ভাসিত হবে, মিথ্যা অপসৃত হবে।’
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের আসলে দুই ধরনের রোল আছে: পেশাগতভাবে সাংবাদিকতা করা, জাতির প্রয়োজনে তাঁকে এক ধরনের অ্যাক্টিভিস্ট হিসেবে কাজ করারও দরকার আছে। যেখানে গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়নি সেখানে কোন না কোন সময়, কোন না কোনোভাবে অ্যাক্টিভিজম দরকার। সাংবাদিক আবদুস সালামের জীবনে অবিশ্বাস্যভাবে দুটো ব্যাপারই একসাথে আছে। তিনি সাংবাদিকতা করেছেন, সাংবাদিকদের ট্রেনিংয়ের জন্য প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে টিকে থাকুক যেখানে নির্বাচনের মাধ্যমে যে-কোনো সরকার পরিবর্তিত হবে। সরকারের জায়গা থেকে আমি দেখি, অনেক কিছুর সমালোচনা আছে, যৌক্তিক সমালোচনা আছে; আমাদের ব্যর্থতা আছে, আমাদের ভুল আছে। কোন না কোন ফর্মে আরেক কোন দল অন্য কেউ আসবেন যারা নির্বাচিত হবেন। আমরা উদার গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে একেবারে নির্ভয়ে যে-কোনো সাংবাদিক তার মত প্রকাশ করতে পারবেন, সঠিক তথ্য দিতে পারবেন।’
মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘প্রতিটি সেক্টরেই আলোকবর্তিকার মতো কিছু মহাপুরুষের জন্ম হয়, তাঁরা বাতিঘর হিসেবে সেই সেক্টরে বাতিগুলো জ্বালিয়ে রাখেন এবং সেই বাতি অনুসরণ করে অন্যরা পথ চলে। সাংবাদিক আবদুস সালাম যিনি পিআইবির জন্মদাতা, তাঁকে ঘিরে অনেক সাংবাদিক বাংলাদেশে জন্ম হয়েছেন। তিনি একজন বাতিঘর।’
সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের পক্ষ থেকে তোপখানা রোডের নাম পরিবর্তন করে সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে করার প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং প্রধানমন্ত্রী সেটা গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন মো. আব্দুস সালাম।
সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, দ্য ফাইন্যানশিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের সদস্য সচিব সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ বাবু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভুঁইয়া ও সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সভাপতি রেহানা সালাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক ও সাংবাদিক আবদুস সালাম স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক লোটন একরাম।
অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের শক্তিকে বৃদ্ধি করবে৷ আমরা যেন সেটা শিখতে পারি, সাংবাদিক আবদুস সালাম এটা শিখিয়েছেন৷ তিনি ভাষা আন্দোলন করেছেন, জেলে গেছেন। উনি (আবদুস সালাম) অ্যাক্টিভিস্ট-জার্নালিস্ট ছিলেন, তাঁর জীবনী থেকে শিখতে হবে৷’
শামসুল হক জাহিদ বলেন, ‘একটি শক্তিশালী সংবাদপত্রের, শিল্প ও সাংবাদিকতার স্বপ্ন দেখতেন সাংবাদিক আবদুস সালাম। সেটা আমরা ধরে রাখতে পারিনি৷ গণমাধ্যম কমিশন হয়েছে, বর্তমানে কীভাবে হবে সেটা জানি না৷ গণমাধ্যম কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়িত হলে, আবদুস সালামের চাওয়া পূরণ হবে।’
কাদের গণি চৌধুরী বলেন, ‘আবদুস সালাম সাংবাদিকতার বাতিঘর৷ তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, জহুর হোসেন চৌধুরী ও আবদুস সালামরা মিলে নানা চড়াই উৎরাই পেরিয়ে সাংবাদিকতা করেছেন। আবদুস সালাম একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন, স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আবদুস সালাম থেকে আমাদের শিক্ষা নিতে হবে৷’
‘নানা ঝড়-ঝঞ্ঝার পরেও সাংবাদিক আবদুস সালাম সাংবাদিকতা করেছেন, তিনি সাংবাদিকতা ছেড়ে দেননি, আকড়ে ধরেছেন,’ বলেন আব্দুল হাই সিদ্দিক।
আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, ‘আবদুস সালাম একটি অবিস্মরণীয় নাম। তাঁর অনুসৃত পথ ধরে সাংবাদিকতায় আছেন তাঁর পরিবারের লোকজন৷ আবদুস সালাম এখনও সাংবাদিকতায় আছেন, তাঁর আত্মীয়স্বজন এখনো নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। যেকোনো সময় বেকার হওয়ার মতো পেশা জানার পরেও তিনি পরিবারের লোকজনকে তাঁর পথ দেখিয়েছেন।’
জোবায়ের বাবু বলেন, ‘আবদুস সালাম শুধু সাংবাদিকতার পথিকৃৎ নয়, তিনি ছিলেন আধুনিক সাংবাদিকতার পথিকৃৎ। তিনি গণতন্ত্র, মুক্ত, স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা শিখিয়ে গেছেন৷ উনার থেকে আমরা কী পেতে পারি, আমাদের সেটা আমাদের জানতে হবে৷ বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে ১৪ নম্বর দফায় মিডিয়া কমিশনের কথা বলেছে৷ মিডিয়া কমিশন বাস্তবায়ন করতে পারলে আবদুস সালামের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে।’
রেহানা সালাম বলেন, ‘সাংবাদিক আবদুস সালামকে স্মরণ করা আমার দায়িত্ব না, পিতা আবদুস সালামকে আমি স্মরণ করি৷ বাকি দায়িত্ব তাঁর সন্তানতুল্য প্রতিষ্ঠানের৷ সেই দায়িত্ব পিআইবি নিয়েছে৷ বাংলাদেশের সাংবাদিকতা, পেশার প্রতি আনুগত্যর জন্য আবদুস সালামকে চিনতে হবে৷’ ঢাকা শহরের একটি সড়কের নাম সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে করার অনুরোধ জানান তিনি৷
পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ জানান, সাংবাদিক আবদুস সালামের নামে সাংবাদিকদের পেশাগত কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পদক দেওয়ার জন্য তিনি পিআইবি পরিচালনা বোর্ডে অনুমোদনের প্রস্তাব রাখবেন।