, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

শেখ হাসিনাকে কেন ফাঁসি দেওয়া সম্ভব নয়?

  • প্রকাশের সময় : ১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার২৩সেপ্টেম্বর ২০২৬

🇧🇩 আবেগের রাজনীতি বনাম আইনি বাস্তবতা: শেখ হাসিনাকে কেন ফাঁসি দেওয়া সম্ভব নয়? বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো
​বর্তমান সরকার, সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং আমলা মহলে যারা লাগামহীন ও হঠকারী বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি স্পষ্ট হুশিয়ারি উচ্চারণ করা প্রয়োজন।
​এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবাস্তব কথাবার্তা অবিলম্বে বন্ধ করুন।
​বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার ফাঁসি হবে না এবং তাঁর কোনো একজন নেতাকর্মীরও ফাঁসি হওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
​বরং উল্টো এই সরকারের ভেতরের এমন বহু বিতর্কিত ও মামলার আসামি ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ ও ফাঁসিযোগ্য অপরাধের মামলা রয়েছে—তাদেরই একটা অংশকে নিয়ে আজ সরকার গঠন করা হয়েছে।
​আপনারা যদি এই ধরনের লাগামহীন ও প্ররোচনামূলক কথা বলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন, তবে একদিন দেশের ক্ষুব্ধ জনতা আপনাদেরকেই ধাওয়া করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এবং আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করবে।
​কার সাথে আগলা কথা বলছেন, কার সাথে লাগামছাড়া আচরণ করছেন—তা ভালো করে বুঝে নিন।
​রাষ্ট্র চলে আইন ও সংবিধানের নিয়মে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবেগ, স্লোগান বা হুঙ্কারে নয়।
​আসুন, একটু ঠান্ডা মাথায় দেশের আইন, সংবিধান, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখি কেন কাউকে জোর করে বা বিচার ছাড়াই সরাসরি ফাঁসি দেওয়া আইনগতভাবে অসম্ভব।
​🇧🇩 বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে নারীর ফাঁসি কার্যকরের শূন্য রেকর্ড
​শুরুতেই আমাদের দেশের একটি ঐতিহাসিক আইনি সত্য জানা দরকার।
​১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত—স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বহু নারী অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে।
​কিন্তু নির্মম বা চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দায়ে নিম্ন আদালতে ফাঁসির আদেশ হলেও, আপিল বিভাগ, উচ্চ আদালত কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার মারপ্যাচে আজ পর্যন্ত কোনো একজন নারী আসামিরও ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি।
​যে দেশে গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে সাধারণ বা দাগী অপরাধের দায়েও কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর করার ইতিহাস নেই, সে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নারী নেত্রীকে নিয়ে হুট করে “সরাসরি ফাঁসি” দেওয়ার কথা বলা নিছক রাজনৈতিক জনরোষ বা অতি আবেগ ছাড়া আর কিছুই নয়।
​🇧🇩 বিচারহীনতা ও বিচারবহির্ভূত শাস্তির সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা
​বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনগত সুরক্ষা এবং যথাযথ বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
​অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন, প্রজাতন্ত্রের আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে সরাসরি কোনো শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধ।
​কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে হলে আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ থাকতে হয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন বা ডেথ রেফারেন্স লাগবে।
​সুতরাং, রাস্তাঘাটে, গণমাধ্যমে বা জনসভায় চিৎকার করে কাউকে ধরে এনে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ দেশের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই।
​🇧🇩 আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি
​বর্তমান বাস্তবতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।
​তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করার বিষয়টি কেবল ইচ্ছা বা দাবির ওপর নির্ভর করে না; এটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
​বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।
​এই চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, হুট করে চাইলেই কাউকে জবরদস্তি করে সীমান্ত পার করে বা তুলে আনা যায় না।
​কোনো ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনতে হলে সুনির্দিষ্ট আইনি নথিপত্র দিয়ে ভারতের আদালতে আইনি লড়াই জিততে হয়।
​ভারত সরকার বা ভারতীয় আদালত যদি মনে করে যে বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তবে তারা সেই প্রত্যর্পণ আটকে দিতে পারে।
​ফলে, কেউ যদি মনে করেন যে রাতারাতি অন্য দেশ থেকে কাউকে ধরে এনে ফাঁসি দিয়ে দেওয়া সম্ভব, তবে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অসম্ভব এবং একধরনের অবাস্তব মিথ্যা প্রচারণা।
​🇧🇩 আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও আপিলের অধিকার
​আইন অনুযায়ী যদি কোনো আদালতে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় বা ফাঁসির আদেশও হয়, তবুও তার আইনি পথ শেষ হয়ে যায় না।
​দণ্ডিত ব্যক্তির উচ্চ আদালতে (আপিল বিভাগে) আপিল করার সাংবিধানিক অধিকার থাকে এবং আপিলেও রায় বহাল থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা বা ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে।
​এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে ফাঁসি দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃপক্ষের নেই।
​🇧🇩 অতি উৎসাহী প্রচারণার অবাস্তবতা বনাম আইনের শাসন
​রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা অতি উৎসাহী জনতা অনেক সময় চটকদার ও আবেগঘন কথাবার্তা বলে থাকে।
​কিন্তু রাষ্ট্র চলে আইনের নিয়মে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আবেগ বা জনরোষের ওপর ভিত্তি করে নয়।
​একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে বিচারবহির্ভূত পন্থায় কিছু করা হলে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং আইনের শাসনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে।
​🇧🇩 উপসংহার
​পরিশেষে বলা যায়, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বা যেকোনো হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে জনসমক্ষে যেসব অতি উত্তেজনাকর কথা বলা হয়, তার সঙ্গে আইনি ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
​ইতিহাসের পাতা সাক্ষ্য দেয় যে বাংলাদেশে নারী ফাঁসির কোনো নজির যেমন নেই, তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দেশের সংবিধানের বেড়াজাল ভেদ করে কাউকে “সরাসরি ফাঁসি” দেওয়ার কোনো আইনি পথও খোলা নেই।
​জনগণকে এই সত্য ও আইনি জটিলতাগুলো পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত, যাতে কেউ ভুল বা অবাস্তব প্রত্যাশার মোহে বিভ্রান্ত না হন।
​রাষ্ট্র চলবে সংবিধানের ধারায়, আইনের শাসন এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।
​🟡 বিশেষ ঘোষণা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই এই বাংলাদেশে আসবে ইনশাআল্লাহ।
​মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবাই দোয়া করবেন।
​সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
​জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!

আমিন ভাই এগিয়ে যাও’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

শেখ হাসিনাকে কেন ফাঁসি দেওয়া সম্ভব নয়?

প্রকাশের সময় : ১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন সোমবার২৩সেপ্টেম্বর ২০২৬

🇧🇩 আবেগের রাজনীতি বনাম আইনি বাস্তবতা: শেখ হাসিনাকে কেন ফাঁসি দেওয়া সম্ভব নয়? বিস্তারিত নিচে দেওয়া হলো
​বর্তমান সরকার, সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং আমলা মহলে যারা লাগামহীন ও হঠকারী বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন, তাদের প্রতি স্পষ্ট হুশিয়ারি উচ্চারণ করা প্রয়োজন।
​এই ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবাস্তব কথাবার্তা অবিলম্বে বন্ধ করুন।
​বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনার ফাঁসি হবে না এবং তাঁর কোনো একজন নেতাকর্মীরও ফাঁসি হওয়ার কোনো আইনি সুযোগ নেই।
​বরং উল্টো এই সরকারের ভেতরের এমন বহু বিতর্কিত ও মামলার আসামি ব্যক্তিরা রয়েছেন, যাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ ও ফাঁসিযোগ্য অপরাধের মামলা রয়েছে—তাদেরই একটা অংশকে নিয়ে আজ সরকার গঠন করা হয়েছে।
​আপনারা যদি এই ধরনের লাগামহীন ও প্ররোচনামূলক কথা বলে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে থাকেন, তবে একদিন দেশের ক্ষুব্ধ জনতা আপনাদেরকেই ধাওয়া করে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে এবং আইন অনুযায়ী বিচারের মুখোমুখি করবে।
​কার সাথে আগলা কথা বলছেন, কার সাথে লাগামছাড়া আচরণ করছেন—তা ভালো করে বুঝে নিন।
​রাষ্ট্র চলে আইন ও সংবিধানের নিয়মে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবেগ, স্লোগান বা হুঙ্কারে নয়।
​আসুন, একটু ঠান্ডা মাথায় দেশের আইন, সংবিধান, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ইতিহাস বিশ্লেষণ করে দেখি কেন কাউকে জোর করে বা বিচার ছাড়াই সরাসরি ফাঁসি দেওয়া আইনগতভাবে অসম্ভব।
​🇧🇩 বাংলাদেশের আইনি ইতিহাসে নারীর ফাঁসি কার্যকরের শূন্য রেকর্ড
​শুরুতেই আমাদের দেশের একটি ঐতিহাসিক আইনি সত্য জানা দরকার।
​১৯৭৪ সাল থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত—স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে বিচারিক প্রক্রিয়ায় বহু নারী অপরাধীকে মৃত্যুদণ্ড বা ফাঁসির রায় দেওয়া হয়েছে।
​কিন্তু নির্মম বা চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দায়ে নিম্ন আদালতে ফাঁসির আদেশ হলেও, আপিল বিভাগ, উচ্চ আদালত কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমার মারপ্যাচে আজ পর্যন্ত কোনো একজন নারী আসামিরও ফাঁসি কার্যকর করা হয়নি।
​যে দেশে গত পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ে সাধারণ বা দাগী অপরাধের দায়েও কোনো নারীর ফাঁসি কার্যকর করার ইতিহাস নেই, সে দেশের একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও নারী নেত্রীকে নিয়ে হুট করে “সরাসরি ফাঁসি” দেওয়ার কথা বলা নিছক রাজনৈতিক জনরোষ বা অতি আবেগ ছাড়া আর কিছুই নয়।
​🇧🇩 বিচারহীনতা ও বিচারবহির্ভূত শাস্তির সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা
​বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি নাগরিকের আইনগত সুরক্ষা এবং যথাযথ বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে।
​অপরাধ যত গুরুতরই হোক না কেন, প্রজাতন্ত্রের আইন অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে ট্রায়াল বা বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করে সরাসরি কোনো শাস্তি দেওয়া সম্পূর্ণ অসাংবিধানিক ও অবৈধ।
​কাউকে অপরাধী সাব্যস্ত করতে হলে আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়, আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের আইনি সুযোগ থাকতে হয় এবং বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর উচ্চ আদালতের চূড়ান্ত অনুমোদন বা ডেথ রেফারেন্স লাগবে।
​সুতরাং, রাস্তাঘাটে, গণমাধ্যমে বা জনসভায় চিৎকার করে কাউকে ধরে এনে সরাসরি ফাঁসির মঞ্চে ঝুলিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ দেশের প্রচলিত ফৌজদারি কার্যবিধিতে নেই।
​🇧🇩 আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভারত-বাংলাদেশ বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি
​বর্তমান বাস্তবতায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন।
​তাঁকে দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তির মুখোমুখি করার বিষয়টি কেবল ইচ্ছা বা দাবির ওপর নির্ভর করে না; এটি সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভরশীল।
​বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে।
​এই চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, হুট করে চাইলেই কাউকে জবরদস্তি করে সীমান্ত পার করে বা তুলে আনা যায় না।
​কোনো ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনতে হলে সুনির্দিষ্ট আইনি নথিপত্র দিয়ে ভারতের আদালতে আইনি লড়াই জিততে হয়।
​ভারত সরকার বা ভারতীয় আদালত যদি মনে করে যে বিচার প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা আন্তর্জাতিক মানের নিরপেক্ষতার ঘাটতি রয়েছে, তবে তারা সেই প্রত্যর্পণ আটকে দিতে পারে।
​ফলে, কেউ যদি মনে করেন যে রাতারাতি অন্য দেশ থেকে কাউকে ধরে এনে ফাঁসি দিয়ে দেওয়া সম্ভব, তবে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতির বাস্তবতায় সম্পূর্ণ অসম্ভব এবং একধরনের অবাস্তব মিথ্যা প্রচারণা।
​🇧🇩 আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা ও আপিলের অধিকার
​আইন অনুযায়ী যদি কোনো আদালতে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্ত রায় বা ফাঁসির আদেশও হয়, তবুও তার আইনি পথ শেষ হয়ে যায় না।
​দণ্ডিত ব্যক্তির উচ্চ আদালতে (আপিল বিভাগে) আপিল করার সাংবিধানিক অধিকার থাকে এবং আপিলেও রায় বহাল থাকলে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা বা ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ থাকে।
​এই দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কাউকে ফাঁসি দেওয়ার কোনো আইনি এখতিয়ার রাষ্ট্রের কোনো কর্তৃপক্ষের নেই।
​🇧🇩 অতি উৎসাহী প্রচারণার অবাস্তবতা বনাম আইনের শাসন
​রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল বা অতি উৎসাহী জনতা অনেক সময় চটকদার ও আবেগঘন কথাবার্তা বলে থাকে।
​কিন্তু রাষ্ট্র চলে আইনের নিয়মে, কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির আবেগ বা জনরোষের ওপর ভিত্তি করে নয়।
​একটি গণতান্ত্রিক ও সভ্য রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে বিচারবহির্ভূত পন্থায় কিছু করা হলে তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং আইনের শাসনকে পুরোপুরি ধ্বংস করে।
​🇧🇩 উপসংহার
​পরিশেষে বলা যায়, শেখ হাসিনাকে ঘিরে বা যেকোনো হাই-প্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে জনসমক্ষে যেসব অতি উত্তেজনাকর কথা বলা হয়, তার সঙ্গে আইনি ও ঐতিহাসিক বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
​ইতিহাসের পাতা সাক্ষ্য দেয় যে বাংলাদেশে নারী ফাঁসির কোনো নজির যেমন নেই, তেমনি আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও দেশের সংবিধানের বেড়াজাল ভেদ করে কাউকে “সরাসরি ফাঁসি” দেওয়ার কোনো আইনি পথও খোলা নেই।
​জনগণকে এই সত্য ও আইনি জটিলতাগুলো পরিষ্কারভাবে জানানো উচিত, যাতে কেউ ভুল বা অবাস্তব প্রত্যাশার মোহে বিভ্রান্ত না হন।
​রাষ্ট্র চলবে সংবিধানের ধারায়, আইনের শাসন এবং স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই কেবল প্রকৃত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।
​🟡 বিশেষ ঘোষণা: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা খুব শীঘ্রই এই বাংলাদেশে আসবে ইনশাআল্লাহ।
​মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবাই দোয়া করবেন।
​সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন।
​জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু!

আমিন ভাই এগিয়ে যাও’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।