, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
জেলা প্রশাসন এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না:পরিষ্কার বললাম।অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না জামায়াত এমপি সৌদি বিমানবন্দর বন্ধ৫১ ফ্লাইট বাতিলঢাকা থেকে৫ হাজার ৪১৮ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ধর্ম নয়, নাগরিক হিসেবে সবার অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব: প্রধানমন্ত্রী মায়েদের সঙ্গে কারাগারে বন্দি ৩০৩ শিশু পূর্ণাঙ্গ রায়:ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতে হবে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর লাশের পাশে ধূমপান করছেন স্বামী:আটক কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই রোটনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। অর্থনীতিতে নোবেল পেলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট ই হল ও মাইকেল উডফোর্ড দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ কোনো মন্তব্য করতে রা‌জি নয়: শামা ওবায়েদ জিএম কাদেরের উত্তরার বাসভবনে হামলা

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু

  • প্রকাশের সময় : ১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন সোমবার,২৮সেপ্টেম্বর২০২৬ 

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রাম। ১৯৪৫ সালের ৩ মে এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তাঁর বাবা নুরুজ্জামান চৌধুরী এবং মা খোরশেদা বেগম। ১৯৫৮ সালে পটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকার নটর ডেম কলেজে ভর্তি হন। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেন। পরে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা প্রশাসনে পড়েন এবং অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন।
১৯৬৫ সালে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। চট্টগ্রামের বাটালি রোডে প্রতিষ্ঠা করেন রয়েল ইন্ডাস্ট্রি। পরে আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল, আসিফ সিনথেটিক, প্যান আম বনস্পতি, আফরোজা অয়েল মিল ও বেঙ্গল সিনথেটিক প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে আরামিট মিল অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন আরামিট গ্রুপ। তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের দুই দফার সভাপতি ছিলেন।
তবে ব্যবসার পাশাপাশি তাঁর জীবনের আরেকটি বড় অধ্যায় ছিল রাজনীতি। ১৯৬৭ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের পাথরঘাটার জুপিটার হাউস হয়ে ওঠে তাঁর কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। অসহযোগ আন্দোলনের সময় সেখান থেকেই সংগ্রাম কমিটির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে লন্ডনসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলেও সফর করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকেন। ১৯৭৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে কারাভোগ ও নির্যাতনের শিকার হন।
১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদেরও সদস্য হন এবং সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।
আনোয়ারার হাইলধর থেকে শুরু হওয়া তাঁর জীবনের পথচলায় তাই পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসা, শিল্পোদ্যোগ, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও সংসদীয় জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়—যে কারণে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ইতিহাসে তাঁর নামটি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়।

অ্যাডভোকেট মঈনুল রাজু’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

জেলা প্রশাসন এমপিকে পাত্তা দিচ্ছেন না:পরিষ্কার বললাম।অভদ্র হতে বাধ্য করবেন না জামায়াত এমপি

আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু

প্রকাশের সময় : ১০:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন সোমবার,২৮সেপ্টেম্বর২০২৬ 

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার হাইলধর গ্রাম। ১৯৪৫ সালের ৩ মে এই গ্রামেই জন্মগ্রহণ করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। তাঁর বাবা নুরুজ্জামান চৌধুরী এবং মা খোরশেদা বেগম। ১৯৫৮ সালে পটিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করে ঢাকার নটর ডেম কলেজে ভর্তি হন। উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ার সময় বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেন। পরে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসা প্রশাসনে পড়েন এবং অ্যাসোসিয়েট ডিগ্রি নিয়ে ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন।
১৯৬৫ সালে বড় ভাইয়ের সঙ্গে ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন শুরু। চট্টগ্রামের বাটালি রোডে প্রতিষ্ঠা করেন রয়েল ইন্ডাস্ট্রি। পরে আসিফ স্টিল মিল, জাভেদ স্টিল মিল, আসিফ সিনথেটিক, প্যান আম বনস্পতি, আফরোজা অয়েল মিল ও বেঙ্গল সিনথেটিক প্রোডাক্টসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে আরামিট মিল অধিগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন আরামিট গ্রুপ। তিনি ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের দুই দফার সভাপতি ছিলেন।
তবে ব্যবসার পাশাপাশি তাঁর জীবনের আরেকটি বড় অধ্যায় ছিল রাজনীতি। ১৯৬৭ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন তিনি। ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আনোয়ারা ও পশ্চিম পটিয়া থেকে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় চট্টগ্রামের পাথরঘাটার জুপিটার হাউস হয়ে ওঠে তাঁর কর্মকাণ্ডের অন্যতম কেন্দ্র। অসহযোগ আন্দোলনের সময় সেখান থেকেই সংগ্রাম কমিটির কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে লন্ডনসহ ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলেও সফর করেন।
স্বাধীনতার পর তিনি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকেন। ১৯৭৭ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখার কারণে কারাভোগ ও নির্যাতনের শিকার হন।
১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০৮ সালে চট্টগ্রাম-১২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য হিসেবে ১৯৭২ সালে গঠিত বাংলাদেশ গণপরিষদেরও সদস্য হন এবং সংবিধান প্রণয়নে ভূমিকা রাখেন। নবম জাতীয় সংসদে তিনি পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
২০১২ সালের ৪ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি রোগে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর।
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত হন আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবু।
আনোয়ারার হাইলধর থেকে শুরু হওয়া তাঁর জীবনের পথচলায় তাই পাশাপাশি রয়েছে ব্যবসা, শিল্পোদ্যোগ, রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধ ও সংসদীয় জীবনের দীর্ঘ অধ্যায়—যে কারণে চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ইতিহাসে তাঁর নামটি আলাদা করে উল্লেখ করা হয়।

অ্যাডভোকেট মঈনুল রাজু’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।