, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধিকাংশ পুরুষই ক্ষমতা, অর্থ, প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী তৈরি করে

  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২৩ পড়া হয়েছে
অনলাইন ২৩ জুলাই, ২০২৬
বিয়ের পর এই দেশে মনে হয়, সুযোগ পেলে অধিকাংশ পুরুষই কোনো না কোনোভাবে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করে—বিশেষ করে যখন তারা জীবনের সফল সময়ে পৌঁছে যায়।অধিকাংশ পুরুষই সঙ্গে ক্ষমতা, অর্থ বা প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চারপাশে নতুন মানুষের আনাগোনাও বাড়ে। নিজের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানে সুন্দরী কর্মী নিয়োগ তাদের চারপাশে নতুন মানুষের আনাগোনাও বাড়ে। নিজের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানে সুন্দরী কর্মী নিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব কিংবা অন্য নানা মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। এমন সম্পর্কের আগ্রহী মানুষেরও অভাব থাকে না।
যদি একজন স্ত্রী এসব জানতে পেরে আত্মসম্মানের কারণে অভিমান করে সংসার ছেড়ে দেন, অনেক ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত তিনিই বেশি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। জীবনের একটা সময় এসে একাকীত্ব সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। সন্তানরা বড় হয়ে গেলে তাদের ভবিষ্যৎ, দায়িত্ব ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে নতুন করে জীবন শুরু করাও সহজ থাকে না।
শিক্ষিত ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন নারীদের আত্মসম্মান স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তাই স্বামীর পরকীয়া কিংবা অন্য কোনো নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেওয়া তাদের জন্য খুবই কঠিন। বন্ধুত্ব এক বিষয়, কিন্তু সেই সম্পর্ক যখন ভালোবাসায় রূপ নেয়, তখন তা সহ্য করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।
আমাদের সমাজে একজন নারীর সামাজিক মর্যাদা অনেক সময় তার স্বামীর পরিচয়, সম্মান ও অবস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। স্বামী সম্মানিত হলে স্ত্রীও সম্মান পান, আবার স্বামীর বদনাম হলে তার প্রভাব স্ত্রীর জীবনেও পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক নারী রাগ, কষ্ট বা অভিমানে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এতে কি সত্যিই তার সম্মান বেড়ে যায়, নাকি যদি স্বামী নির্দোষ হন, তবে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য পাশে দাঁড়ানোই বেশি বিচক্ষণতার পরিচয় হতো?
অবশ্যই, যদি কোনো সম্পর্কে প্রতারণা, নির্যাতন বা বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা সত্যিই ঘটে এবং তা চলতেই থাকে, তাহলে সেই সম্পর্কে থাকবেন কি না—সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। প্রত্যেক মানুষেরই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুস্থ সম্পর্ক বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
তাই আমার কথা একটাই—জীবনের সব আকর্ষণ, মোহ আর আনন্দ যদি উপভোগ করতেই চাও, তবে এমনভাবে করো যেন একদিন নিজেই আন্তরিকভাবে বলতে পারো, “আমি ক্লান্ত। এবার আমার এমন একজন মানুষ দরকার, যে শুধু আমারই থাকবে। আমিও শুধু তার প্রতিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততায় আমরা দুজন সারাজীবন পাশাপাশি পথ চলতে পারব।”
একজন নারীর জীবনে তার নিজের সংসার, পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও মানসিক শান্তির মূল্য অনেক বড়। সেই সম্পর্ক টিকে থাকে তখনই, যখন দুজন মানুষই একে অপরের প্রতি সমানভাবে দায়বদ্ধ ও বিশ্বস্ত থাকেন।picture AI..

Shabera Shormin Haque Didha’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

অধিকাংশ পুরুষই ক্ষমতা, অর্থ, প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নারী তৈরি করে

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
অনলাইন ২৩ জুলাই, ২০২৬
বিয়ের পর এই দেশে মনে হয়, সুযোগ পেলে অধিকাংশ পুরুষই কোনো না কোনোভাবে স্ত্রীর সঙ্গে প্রতারণা করে—বিশেষ করে যখন তারা জীবনের সফল সময়ে পৌঁছে যায়।অধিকাংশ পুরুষই সঙ্গে ক্ষমতা, অর্থ বা প্রভাব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চারপাশে নতুন মানুষের আনাগোনাও বাড়ে। নিজের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানে সুন্দরী কর্মী নিয়োগ তাদের চারপাশে নতুন মানুষের আনাগোনাও বাড়ে। নিজের ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানে সুন্দরী কর্মী নিয়োগ, ব্যবসায়িক অংশীদারিত্ব কিংবা অন্য নানা মাধ্যমে নতুন সম্পর্ক গড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। এমন সম্পর্কের আগ্রহী মানুষেরও অভাব থাকে না।
যদি একজন স্ত্রী এসব জানতে পেরে আত্মসম্মানের কারণে অভিমান করে সংসার ছেড়ে দেন, অনেক ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত তিনিই বেশি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন। জীবনের একটা সময় এসে একাকীত্ব সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায়। সন্তানরা বড় হয়ে গেলে তাদের ভবিষ্যৎ, দায়িত্ব ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে নতুন করে জীবন শুরু করাও সহজ থাকে না।
শিক্ষিত ও আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন নারীদের আত্মসম্মান স্বাভাবিকভাবেই বেশি থাকে। তাই স্বামীর পরকীয়া কিংবা অন্য কোনো নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক মেনে নেওয়া তাদের জন্য খুবই কঠিন। বন্ধুত্ব এক বিষয়, কিন্তু সেই সম্পর্ক যখন ভালোবাসায় রূপ নেয়, তখন তা সহ্য করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না।
আমাদের সমাজে একজন নারীর সামাজিক মর্যাদা অনেক সময় তার স্বামীর পরিচয়, সম্মান ও অবস্থানের সঙ্গে জড়িয়ে যায়। স্বামী সম্মানিত হলে স্ত্রীও সম্মান পান, আবার স্বামীর বদনাম হলে তার প্রভাব স্ত্রীর জীবনেও পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক নারী রাগ, কষ্ট বা অভিমানে বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—এতে কি সত্যিই তার সম্মান বেড়ে যায়, নাকি যদি স্বামী নির্দোষ হন, তবে সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য পাশে দাঁড়ানোই বেশি বিচক্ষণতার পরিচয় হতো?
অবশ্যই, যদি কোনো সম্পর্কে প্রতারণা, নির্যাতন বা বিশ্বাসভঙ্গের ঘটনা সত্যিই ঘটে এবং তা চলতেই থাকে, তাহলে সেই সম্পর্কে থাকবেন কি না—সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। প্রত্যেক মানুষেরই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সুস্থ সম্পর্ক বেছে নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
তাই আমার কথা একটাই—জীবনের সব আকর্ষণ, মোহ আর আনন্দ যদি উপভোগ করতেই চাও, তবে এমনভাবে করো যেন একদিন নিজেই আন্তরিকভাবে বলতে পারো, “আমি ক্লান্ত। এবার আমার এমন একজন মানুষ দরকার, যে শুধু আমারই থাকবে। আমিও শুধু তার প্রতিই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকব। ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও বিশ্বস্ততায় আমরা দুজন সারাজীবন পাশাপাশি পথ চলতে পারব।”
একজন নারীর জীবনে তার নিজের সংসার, পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান ও মানসিক শান্তির মূল্য অনেক বড়। সেই সম্পর্ক টিকে থাকে তখনই, যখন দুজন মানুষই একে অপরের প্রতি সমানভাবে দায়বদ্ধ ও বিশ্বস্ত থাকেন।picture AI..

Shabera Shormin Haque Didha’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।