, বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ হত্যা:প্রধান আসামি গ্রেফতার

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ৪৪ পড়া হয়েছে
অনলাইন রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেলে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৯) কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
পিবিআই জানায়, গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৮ মিনিটে নিহত মোসাঃ শান্তা বেগম (৩৩) তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়দানকারী আসামি মোঃ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩য় তলার ৩০৭ নং কক্ষ ভাড়া নেন। একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৪৮ মিনিটে হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ ওই কক্ষ থেকে শান্তা বেগমের গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে জিএমপি বাসন থানায় মামলা নং-৩৯, তারিখ-২৩/০৭/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটি পিবিআই এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুলাই সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ডিএমপির দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামি মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য সন্দেহের জেরে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে পূর্বের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে শান্তা বেগমকে হত্যা করে এবং তার মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাতনামা হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই ক্রাইম সিন টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয় এবং একই সঙ্গে পৃথক একটি টিমকে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পিবিআই প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত ধারাবাহিক তদন্তের ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
26/07/26
ক্যাপশন-মৃত গৃহবধু ও আটকৃত ঘাতক স্বামী
জনপ্রিয়

আবাসিক হোটেলে গৃহবধূ হত্যা:প্রধান আসামি গ্রেফতার

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
অনলাইন রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
মোঃ শরীফুল আজম (বাবু)
বিশেষ প্রতিনিধি:
গাজীপুর মহানগরীর চান্দনা চৌরাস্তার আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেলে চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ হত্যা মামলার রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), গাজীপুর জেলা। এ ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মোঃ সাইফুল ইসলাম (৩৯) কে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।
পিবিআই জানায়, গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১টা ৪৮ মিনিটে নিহত মোসাঃ শান্তা বেগম (৩৩) তার তৃতীয় স্বামী পরিচয়দানকারী আসামি মোঃ সাইফুল ইসলামের সঙ্গে বাসন থানাধীন চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার আনোয়ারা ম্যানশন ইভ্যালি আবাসিক হোটেলের ৩য় তলার ৩০৭ নং কক্ষ ভাড়া নেন। একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৪৮ মিনিটে হোটেল কর্তৃপক্ষের সংবাদের ভিত্তিতে বাসন থানা পুলিশ ওই কক্ষ থেকে শান্তা বেগমের গলায় ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতযুক্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের পিতা মোঃ শহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করলে জিএমপি বাসন থানায় মামলা নং-৩৯, তারিখ-২৩/০৭/২০২৬, ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড রুজু হয়। মামলাটি পিবিআই এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় ২৩ জুলাই পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পান পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান আনসারী।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোঃ মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুলাই সকাল আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে ডিএমপির দক্ষিণখান থানাধীন ফায়দাবাদ ট্রান্সমিটার মোড় এলাকা থেকে প্রধান আসামি মোঃ সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে নিহত শান্তা বেগমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার ও জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়, পারিবারিক কলহ ও দাম্পত্য সন্দেহের জেরে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন হোটেল কক্ষে পূর্বের বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আসামি ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে শান্তা বেগমকে হত্যা করে এবং তার মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, অজ্ঞাতনামা হত্যাকাণ্ডের সংবাদ প্রাপ্তির পরপরই ক্রাইম সিন টিমকে ঘটনাস্থলে প্রেরণ করা হয় এবং একই সঙ্গে পৃথক একটি টিমকে ছায়া তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। পিবিআই প্রধানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনায় পরিচালিত ধারাবাহিক তদন্তের ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
26/07/26
ক্যাপশন-মৃত গৃহবধু ও আটকৃত ঘাতক স্বামী