, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এই শহরে আমার একটা মায়ের বাসা

  • প্রকাশের সময় : ১১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ২২ পড়া হয়েছে

·অনলাইন : ১৫ জুলাই, ২০২৬ 

এই শহরে আমার একটা মায়ের বাসা খুব দরকার ছিল।
অথবা অন্তত একটা বোনের বাসা।
যেখানে মনটা ভেঙে গেলে, শরীরটা ভেঙে পড়লে—
বাচ্চা দুটোকে নিয়ে গুটিশুটি পায়ে ঢুকে পড়া যেত।
আম্মা আর খালারা ব্যস্ত থাকত বাচ্চাদের নিয়ে।
কেউ খাওয়াত, কেউ গোসল করাত,
কারও কোলে ঘুম আসত।
আম্মা টেবিলে গরম ভাত আর তরকারি নামিয়ে দিয়ে বলত—
“আমি রাখতেসি বাবুদের, তুই খা গিয়া।”
আর আমি…
একদিন অন্তত তাড়া ছাড়া খেতাম।
মুরগির হাড়গুলো আরাম করে চাবাতাম,
কাউকে তাড়া দিতে হতো না,
কাউকে ডাকতে হতো না।
রাতে আম্মা আর বোন দুই বাচ্চাকে নিয়ে রাখত,
আমাকে শুধু বলত—
“তুই ঘুমা।”
আমি ঘুমাতাম।
এমন এক ঘুম,
যাতে ছয় মাসের ক্লান্তি একসাথে চুপ করে যেত।
কিন্তু এগুলো আসলে অলস কল্পনা না—
এগুলো হলো একা মায়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন।
এই শহরে
এক প্লেট ভাত খেতে চাইলেও
আমাকেই চাল ফুটাতে হয়।
দম বন্ধ লাগলেও
এই ঘরেই বসে
একই রুটিনে দিন কাটাতে হয়।
নিজের শরীর ভেঙে পড়লেও
বাচ্চাদের সব দায়িত্ব
বইতে হয়।
কারও কথায়, আচরণে কষ্ট পেলেও
চোখের পানি
আমাকেই একা মুছতে হয়।
এটাই জীবন।
যেখানে ক্লান্তি দেখানোর ছুটি নেই,
দুর্বল হওয়ার সুযোগ নেই,
তবু…
এই জীবনই আমাকে প্রতিদিন
আরও শক্ত করে তোলে।
জীবন!————–Adv.Laila

Adv Laila Sultana’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন

জনপ্রিয়

এই শহরে আমার একটা মায়ের বাসা

প্রকাশের সময় : ১১:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

·অনলাইন : ১৫ জুলাই, ২০২৬ 

এই শহরে আমার একটা মায়ের বাসা খুব দরকার ছিল।
অথবা অন্তত একটা বোনের বাসা।
যেখানে মনটা ভেঙে গেলে, শরীরটা ভেঙে পড়লে—
বাচ্চা দুটোকে নিয়ে গুটিশুটি পায়ে ঢুকে পড়া যেত।
আম্মা আর খালারা ব্যস্ত থাকত বাচ্চাদের নিয়ে।
কেউ খাওয়াত, কেউ গোসল করাত,
কারও কোলে ঘুম আসত।
আম্মা টেবিলে গরম ভাত আর তরকারি নামিয়ে দিয়ে বলত—
“আমি রাখতেসি বাবুদের, তুই খা গিয়া।”
আর আমি…
একদিন অন্তত তাড়া ছাড়া খেতাম।
মুরগির হাড়গুলো আরাম করে চাবাতাম,
কাউকে তাড়া দিতে হতো না,
কাউকে ডাকতে হতো না।
রাতে আম্মা আর বোন দুই বাচ্চাকে নিয়ে রাখত,
আমাকে শুধু বলত—
“তুই ঘুমা।”
আমি ঘুমাতাম।
এমন এক ঘুম,
যাতে ছয় মাসের ক্লান্তি একসাথে চুপ করে যেত।
কিন্তু এগুলো আসলে অলস কল্পনা না—
এগুলো হলো একা মায়ের অসম্পূর্ণ স্বপ্ন।
এই শহরে
এক প্লেট ভাত খেতে চাইলেও
আমাকেই চাল ফুটাতে হয়।
দম বন্ধ লাগলেও
এই ঘরেই বসে
একই রুটিনে দিন কাটাতে হয়।
নিজের শরীর ভেঙে পড়লেও
বাচ্চাদের সব দায়িত্ব
বইতে হয়।
কারও কথায়, আচরণে কষ্ট পেলেও
চোখের পানি
আমাকেই একা মুছতে হয়।
এটাই জীবন।
যেখানে ক্লান্তি দেখানোর ছুটি নেই,
দুর্বল হওয়ার সুযোগ নেই,
তবু…
এই জীবনই আমাকে প্রতিদিন
আরও শক্ত করে তোলে।
জীবন!————–Adv.Laila

Adv Laila Sultana’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন