
অনলাইন ১৬ জুলাই, ২০২৬
দীর্ঘ ১৮ বছর ৮ মাস ১০ দিনের অপেক্ষার পর আবার কলকাতায় ফিরছেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্রসদনে মৌলবাদ-বিরোধী কবি-সাহিত্যিকদের একটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই প্রত্যাবর্তনকে অনেকেই বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন।
কলকাতায় ফেরার আগে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় তসলিমা নাসরিন বলেন, “কলকাতা আমার কাছে শুধু শহর নয়, এটি আমার হারিয়ে যাওয়া ঘর। এত বছর পর মনে হচ্ছে নির্বাসনের শেষে আবার নিজের ঘরে ফিরছি।” তিনি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানান এবং অনুষ্ঠান আয়োজক সেক্যুলার মিশন ও এইচআরবিএফএফ-এর প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, ২০০৭ সালের নভেম্বরে তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘দ্বিখণ্ডিত’-কে কেন্দ্র করে কলকাতায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর লেখালেখিকে ঘিরে বিতর্ক বাড়তে থাকে এবং শহরের কয়েকটি এলাকায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হয়।
সেই সময় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। পরবর্তীতে রাজ্য সরকার ‘দ্বিখণ্ডিত’ বইটির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে এবং তসলিমা নাসরিন কলকাতা ছেড়ে চলে যান। এই ঘটনাকে বহু বিশ্লেষক বাংলা সাহিত্য ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরবর্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারও তাঁকে কলকাতায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়নি—এমন দাবি বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়েছে। বর্তমানে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের আমলে তাঁর কলকাতা প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, ১ আগস্টের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত থাকতে পারেন বলেও আলোচনা রয়েছে, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত ঘোষণা এখনও প্রকাশিত হয়নি।
নিজের অনুভূতি জানিয়ে তসলিমা নাসরিন বলেন, “কলকাতা সবসময় আমার মনের ভিতর ছিল। আনন্দ, আবেগ, বেদনা—সব মিলিয়ে ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এতদিন পর আবার কলকাতার মাটিতে পা রাখব, এ যেন সত্যিই নির্বাসনের পর ঘরে ফেরা।”
Pappu Roy cyclist’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















