, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামাত-শিবির ৭১-এ যা করেছিল, এখনো তাই করবে

  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
  • ৭ পড়া হয়েছে

অনলাইন শুক্রবার ২১ আগস্ট,
সাংবাদিক নুরুল কবীরের কথা শুনে আমি অনেকক্ষণ ধরে হাসলাম। উনাদের মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন, ইসলামী ছাত্র শিবির যদি বাংলাদেশ ও বাঙালির বিরুদ্ধে গোলাম আজমের অতীত ষড়যন্ত্র নিয়ে ভালোভাবে জানে, তাহলে হয়তো তারা তাদের বর্তমান অবস্থান পরিত্যাগ করবে। নুরুল কবীর আসলেই জানেন না একজন শিবিরের মগজ কীভাবে কাজ করে। আমি কয়দিন আগেও বলেছিলাম, দুইজন শিবির যদি একসাথে ১৯৭১ নিয়ে আলাপ করা শুরু করে, তাহলে তারা পরস্পরকে এই বলে সান্ত্বনা দেয়—একাত্তরে পাকসেনা ও রাজাকারেরা পর্দা করা কোনো মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করেনি, তারা ধর্ষণ করেছে কেবল বেপর্দা বাঙালি ভাবাপন্ন মুসলিম ও হিন্দু নারীদের। যদি পুনরায় বাংলাদেশে যুদ্ধ হয়, তাহলেও জামাত-শিবির ৭১-এ যা করেছিল, এখনো তাই করবে। ইসলামের যে ধারায় তারা বিশ্বাস করে, তা অনুযায়ী দ্বীনকে রক্ষা করার জন্য গণহত্যা করা কোনো অপরাধ নয়। তাদের মতে মুক্তিযোদ্ধারা ইসলামবিরোধী শক্তি—তারা তিন লাখ মরলেও যা, ত্রিশ লাখ মরলেও তা। বরং মুক্তিযুদ্ধে যদি ত্রিশ লাখের তিন গুণ বেশি মানুষ মারা যেত, সেটাই তাদের অবসর সময়ে আত্মতৃপ্তি দিত। যে শিশুকে পাকিস্তান সেনারা মায়ের কোল থেকে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে, তার ব্যাপারে শিবিরের সাফাই হলো—ঐ শিশু তো মৃত্যুর পর বেহেশতেই যাবে, তাই এইসব নিয়ে কাতর হওয়া হাস্যকর। তারা মনে করে, একাত্তরে নারী ধর্ষণ, বুটের চাপে থ্যাতলে যাওয়া শিশু, কাঁচের বৈয়মে রাখা মুক্তিযোদ্ধার উপড়ে ফেলা চোখ—এইসব বিষয় নিয়ে আমরা যত কাতর হবো, ততই ভারতীয় আধিপত্যবাদ শক্তিশালী হবে, যা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষতিকর। তাদের কাছে বাংলা ভাষা থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ—সবই ইসলামের শত্রু, ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রতীক।
তাদের এই ধরণের চিন্তার পেছনে আছে “মুসলিম উম্মাহ” নামক এক অশ্বডিম্বের ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী স্থানীয় কৃষ্টি, স্বতন্ত্র জাতিসত্তা, ঐতিহ্য—এইসবই মানুষের উপর আপতিক বা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এমন সব উৎস থেকে এসে এক আদমের সন্তানের মধ্যে বৈচিত্র এনেছে। জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য ইসলামি দলের উদ্দেশ্যই হলো এই বৈচিত্র ধ্বংস করে এক খলিফার অধীনে অখণ্ড মুসলিম উম্মাহ প্রতিষ্ঠা করা। মানব সভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কে অবৈজ্ঞানিক, মিথ-নির্ভর চিন্তা, জগত সম্পর্কে ভাববাদী ধারণা, সামন্তবাদী মনস্তত্ত্ব ইত্যাদির যোগফলে এই “মুসলিম উম্মাহ” নামক অশ্বডিম্বের আবির্ভাব। নিজেরাই নিজেদের হত্যা করে, কিছুক্ষণ পর পর এসে তারা এই অশ্বডিম্বের উপর তা দেয়। এই অশ্বডিম্ব থেকে খিলাফত বের করে আনার জন্য যদি সারা দুনিয়া জুড়ে রক্তসমুদ্র বইয়ে দিতে হয়, তাহলেও এরা তাই করবে। তাই মুক্তিযুদ্ধে এদের অতীত নৃশংসতার ইতিহাস এদের দুর্বল করবে না, বরং আরও শতগুণ নৃশংস হতে উৎসাহিত করবে।
লেখকঃ রাজিবুর রহমান
বাংলা ১৭ শ্রাবণ ১৪৩২ (ইংরেজি ২ আগস্ট ২০২৫)

সত্যের সন্ধানে’s Post

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

জামাত-শিবির ৭১-এ যা করেছিল, এখনো তাই করবে

প্রকাশের সময় : ০৯:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন শুক্রবার ২১ আগস্ট,
সাংবাদিক নুরুল কবীরের কথা শুনে আমি অনেকক্ষণ ধরে হাসলাম। উনাদের মতো অনেকেই বিশ্বাস করেন, ইসলামী ছাত্র শিবির যদি বাংলাদেশ ও বাঙালির বিরুদ্ধে গোলাম আজমের অতীত ষড়যন্ত্র নিয়ে ভালোভাবে জানে, তাহলে হয়তো তারা তাদের বর্তমান অবস্থান পরিত্যাগ করবে। নুরুল কবীর আসলেই জানেন না একজন শিবিরের মগজ কীভাবে কাজ করে। আমি কয়দিন আগেও বলেছিলাম, দুইজন শিবির যদি একসাথে ১৯৭১ নিয়ে আলাপ করা শুরু করে, তাহলে তারা পরস্পরকে এই বলে সান্ত্বনা দেয়—একাত্তরে পাকসেনা ও রাজাকারেরা পর্দা করা কোনো মুসলিম নারীকে ধর্ষণ করেনি, তারা ধর্ষণ করেছে কেবল বেপর্দা বাঙালি ভাবাপন্ন মুসলিম ও হিন্দু নারীদের। যদি পুনরায় বাংলাদেশে যুদ্ধ হয়, তাহলেও জামাত-শিবির ৭১-এ যা করেছিল, এখনো তাই করবে। ইসলামের যে ধারায় তারা বিশ্বাস করে, তা অনুযায়ী দ্বীনকে রক্ষা করার জন্য গণহত্যা করা কোনো অপরাধ নয়। তাদের মতে মুক্তিযোদ্ধারা ইসলামবিরোধী শক্তি—তারা তিন লাখ মরলেও যা, ত্রিশ লাখ মরলেও তা। বরং মুক্তিযুদ্ধে যদি ত্রিশ লাখের তিন গুণ বেশি মানুষ মারা যেত, সেটাই তাদের অবসর সময়ে আত্মতৃপ্তি দিত। যে শিশুকে পাকিস্তান সেনারা মায়ের কোল থেকে নিয়ে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করেছে, তার ব্যাপারে শিবিরের সাফাই হলো—ঐ শিশু তো মৃত্যুর পর বেহেশতেই যাবে, তাই এইসব নিয়ে কাতর হওয়া হাস্যকর। তারা মনে করে, একাত্তরে নারী ধর্ষণ, বুটের চাপে থ্যাতলে যাওয়া শিশু, কাঁচের বৈয়মে রাখা মুক্তিযোদ্ধার উপড়ে ফেলা চোখ—এইসব বিষয় নিয়ে আমরা যত কাতর হবো, ততই ভারতীয় আধিপত্যবাদ শক্তিশালী হবে, যা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ক্ষতিকর। তাদের কাছে বাংলা ভাষা থেকে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ—সবই ইসলামের শত্রু, ভারতীয় আধিপত্যবাদের প্রতীক।
তাদের এই ধরণের চিন্তার পেছনে আছে “মুসলিম উম্মাহ” নামক এক অশ্বডিম্বের ধারণা। এই ধারণা অনুযায়ী স্থানীয় কৃষ্টি, স্বতন্ত্র জাতিসত্তা, ঐতিহ্য—এইসবই মানুষের উপর আপতিক বা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক এমন সব উৎস থেকে এসে এক আদমের সন্তানের মধ্যে বৈচিত্র এনেছে। জামায়াতে ইসলাম ও অন্যান্য ইসলামি দলের উদ্দেশ্যই হলো এই বৈচিত্র ধ্বংস করে এক খলিফার অধীনে অখণ্ড মুসলিম উম্মাহ প্রতিষ্ঠা করা। মানব সভ্যতার ইতিহাস সম্পর্কে অবৈজ্ঞানিক, মিথ-নির্ভর চিন্তা, জগত সম্পর্কে ভাববাদী ধারণা, সামন্তবাদী মনস্তত্ত্ব ইত্যাদির যোগফলে এই “মুসলিম উম্মাহ” নামক অশ্বডিম্বের আবির্ভাব। নিজেরাই নিজেদের হত্যা করে, কিছুক্ষণ পর পর এসে তারা এই অশ্বডিম্বের উপর তা দেয়। এই অশ্বডিম্ব থেকে খিলাফত বের করে আনার জন্য যদি সারা দুনিয়া জুড়ে রক্তসমুদ্র বইয়ে দিতে হয়, তাহলেও এরা তাই করবে। তাই মুক্তিযুদ্ধে এদের অতীত নৃশংসতার ইতিহাস এদের দুর্বল করবে না, বরং আরও শতগুণ নৃশংস হতে উৎসাহিত করবে।
লেখকঃ রাজিবুর রহমান
বাংলা ১৭ শ্রাবণ ১৪৩২ (ইংরেজি ২ আগস্ট ২০২৫)

সত্যের সন্ধানে’s Post

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।