, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

জিনাত আমান ‘সন্তানের দিকে তাকিয়ে থেকে গিয়েছিলাম’

  • প্রকাশের সময় : ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
  • ৫৪ পড়া হয়েছে
অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
বলিউড অভিনেত্রী জিনাত আমান তার ব্যক্তিগত জীবন ও মাজহার খানের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি ‘বিটুইন আস বাই অনামিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ে, সন্তান ও দাম্পত্য জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

অতীতের দিকে ফিরে জিনাত বলেন, তখন তিনি খুবই তরুণ ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তখন তরুণী ছিলাম। সেই সময় যা বিশ্বাস করতাম এবং যা চাইতাম, তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিছু সিদ্ধান্ত আমার জন্য ভালো ছিল, আবার কিছু ছিল না।

মাজহারকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আমি মাজহারকে বিয়ে করি, তখন আমি মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম, বিয়ের মাধ্যমেই একটি পরিবার গড়ে তোলা যায়।’

‘সন্তানের জন্যই থেকে গিয়েছিলাম’

দাম্পত্য জীবনের কঠিন সময়গুলো নিয়েও কথা বলেন জিনাত।

জিনাত বলেন, ‘আমি থেকে গিয়েছিলাম, কারণ আমি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কারণ আমাদের সন্তান ছিল এবং আমি আশা করেছিলাম যে পরিস্থিতি বদলে যাবে।’

তবে একসময় তিনি বুঝতে পারেন, অন্য একজন মানুষের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে নিজের জীবন ও ভালো থাকা নষ্ট করা ঠিক নয়।

‘নিজেকে ধ্বংস করে অন্যকে বাঁচানো যায় না’

জিনাত বলেন, মাজহারের অনেক সমস্যার সময় তিনি তার পাশে ছিলেন। এমনকি তার হয়ে বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইও করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পারেন, একজন মানুষকে পরিবর্তন করতে হলে তাকেই নিজের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

জিনাতের ভাষায়, ‘নিজেকে ধ্বংস করে আপনি অন্য একজন মানুষকে বাঁচাতে পারবেন না।’

মাজহার তার সন্তানদের বাবা হওয়ায় তার সম্পর্কে কোনো খারাপ বা অসম্মানজনক কথা বলতে চান না বলেও জানান জিনাত।

সাক্ষাৎকারে বলিউডে পরকীয়া নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, পরকীয়া শুধু বলিউডের সমস্যা নয়। এটি মানুষের একটি দুর্বলতা।

তবে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি আলোচনায় আসে বলে মনে করেন তিনি। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গসিপে পরিণত করার বিষয়টিও পছন্দ করেন না জিনাত। তার মতে, কারও ব্যক্তিগত কষ্টকে অন্যদের বিনোদনের বিষয় বানানো উচিত নয়।

ব্যক্তিগত জীবন এখন আরো সহজে প্রকাশ্যে আসে

বর্তমান সময়ের সঙ্গে অতীতের আরেকটি বড় পার্থক্যের কথাও বলেন জিনাত। তার মতে, এখন ছবি, ভিডিওসহ ব্যক্তিগত মুহূর্ত খুব সহজেই রেকর্ড করে সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, যে বিষয়টি বদলেছে, তা হলো সবকিছু নথিবদ্ধ করা, ছবি তোলা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার আমাদের ক্ষমতা।

জনসমক্ষে থাকার কারণে নিজের জীবনেও বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জিনাত। তবে নিজের ব্যক্তিগত ইতিহাস নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করতে চান না তিনি।

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না

এর আগে সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারেও মাজহারের সঙ্গে সম্পর্কের কঠিন সময় নিয়ে কথা বলেছিলেন জিনাত। তিনি জানিয়েছিলেন, মাজহারকে ছেড়ে আসতে তার অনেক সময় লেগেছিল। কারণ, সম্পর্ক শেষ করার সময়ও তার মনে মাজহারের প্রতি মায়া ও দায়িত্ববোধ ছিল।

জিনাত বলেন, ‘আমি চলে যাওয়ার সময়ও তাকে নিয়ে চিন্তা করতাম। তার অনেক সমস্যার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করেছি। তাই চলে আসাটা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এটি ছিল নিজেকে রক্ষা করার বিষয়।’

দীর্ঘ সময় পর নিজের জীবনের সেই অধ্যায়ের দিকে ফিরে জিনাত এখন মনে করেন, বয়স মানুষকে অতীতের সিদ্ধান্তগুলোকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। নিজের পুরোনো সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকে দোষারোপ না করে সেগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

জিনাত আমান ‘সন্তানের দিকে তাকিয়ে থেকে গিয়েছিলাম’

প্রকাশের সময় : ০২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন রবিবার, ৩০ আগস্ট ২০২৬
বলিউড অভিনেত্রী জিনাত আমান তার ব্যক্তিগত জীবন ও মাজহার খানের সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছেন। সম্প্রতি ‘বিটুইন আস বাই অনামিকা’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের বিয়ে, সন্তান ও দাম্পত্য জীবনের নানা অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।

অতীতের দিকে ফিরে জিনাত বলেন, তখন তিনি খুবই তরুণ ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তখন তরুণী ছিলাম। সেই সময় যা বিশ্বাস করতাম এবং যা চাইতাম, তার ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিছু সিদ্ধান্ত আমার জন্য ভালো ছিল, আবার কিছু ছিল না।

মাজহারকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন আমি মাজহারকে বিয়ে করি, তখন আমি মা হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম। আমি বিশ্বাস করতাম, বিয়ের মাধ্যমেই একটি পরিবার গড়ে তোলা যায়।’

‘সন্তানের জন্যই থেকে গিয়েছিলাম’

দাম্পত্য জীবনের কঠিন সময়গুলো নিয়েও কথা বলেন জিনাত।

জিনাত বলেন, ‘আমি থেকে গিয়েছিলাম, কারণ আমি একটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, কারণ আমাদের সন্তান ছিল এবং আমি আশা করেছিলাম যে পরিস্থিতি বদলে যাবে।’

তবে একসময় তিনি বুঝতে পারেন, অন্য একজন মানুষের সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে নিজের জীবন ও ভালো থাকা নষ্ট করা ঠিক নয়।

‘নিজেকে ধ্বংস করে অন্যকে বাঁচানো যায় না’

জিনাত বলেন, মাজহারের অনেক সমস্যার সময় তিনি তার পাশে ছিলেন। এমনকি তার হয়ে বিভিন্ন সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াইও করেছেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পারেন, একজন মানুষকে পরিবর্তন করতে হলে তাকেই নিজের জন্য চেষ্টা করতে হবে।

জিনাতের ভাষায়, ‘নিজেকে ধ্বংস করে আপনি অন্য একজন মানুষকে বাঁচাতে পারবেন না।’

মাজহার তার সন্তানদের বাবা হওয়ায় তার সম্পর্কে কোনো খারাপ বা অসম্মানজনক কথা বলতে চান না বলেও জানান জিনাত।

সাক্ষাৎকারে বলিউডে পরকীয়া নিয়েও কথা বলেন এই অভিনেত্রী। তার মতে, পরকীয়া শুধু বলিউডের সমস্যা নয়। এটি মানুষের একটি দুর্বলতা।

তবে বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক সাধারণ মানুষের তুলনায় বেশি আলোচনায় আসে বলে মনে করেন তিনি। ব্যক্তিগত সম্পর্ককে গসিপে পরিণত করার বিষয়টিও পছন্দ করেন না জিনাত। তার মতে, কারও ব্যক্তিগত কষ্টকে অন্যদের বিনোদনের বিষয় বানানো উচিত নয়।

ব্যক্তিগত জীবন এখন আরো সহজে প্রকাশ্যে আসে

বর্তমান সময়ের সঙ্গে অতীতের আরেকটি বড় পার্থক্যের কথাও বলেন জিনাত। তার মতে, এখন ছবি, ভিডিওসহ ব্যক্তিগত মুহূর্ত খুব সহজেই রেকর্ড করে সবার কাছে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। তিনি বলেন, যে বিষয়টি বদলেছে, তা হলো সবকিছু নথিবদ্ধ করা, ছবি তোলা এবং ছড়িয়ে দেওয়ার আমাদের ক্ষমতা।

জনসমক্ষে থাকার কারণে নিজের জীবনেও বিভিন্ন ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জিনাত। তবে নিজের ব্যক্তিগত ইতিহাস নিয়ে অতিরিক্ত আলোচনা করতে চান না তিনি।

বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত সহজ ছিল না

এর আগে সিমি গারেওয়ালের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারেও মাজহারের সঙ্গে সম্পর্কের কঠিন সময় নিয়ে কথা বলেছিলেন জিনাত। তিনি জানিয়েছিলেন, মাজহারকে ছেড়ে আসতে তার অনেক সময় লেগেছিল। কারণ, সম্পর্ক শেষ করার সময়ও তার মনে মাজহারের প্রতি মায়া ও দায়িত্ববোধ ছিল।

জিনাত বলেন, ‘আমি চলে যাওয়ার সময়ও তাকে নিয়ে চিন্তা করতাম। তার অনেক সমস্যার বিরুদ্ধে আমি লড়াই করেছি। তাই চলে আসাটা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এটি ছিল নিজেকে রক্ষা করার বিষয়।’

দীর্ঘ সময় পর নিজের জীবনের সেই অধ্যায়ের দিকে ফিরে জিনাত এখন মনে করেন, বয়স মানুষকে অতীতের সিদ্ধান্তগুলোকে নতুনভাবে দেখতে শেখায়। নিজের পুরোনো সিদ্ধান্তের জন্য নিজেকে দোষারোপ না করে সেগুলো থেকে শিক্ষা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

সূত্র: এনডিটিভি