, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

“জীবনে যদি পারফেক্ট জীবনসঙ্গী না জোটে

  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ২৩ পড়া হয়েছে

·অনলাইন বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬,

অনেকেই বলেন, “জীবনে যদি পারফেক্ট জীবনসঙ্গী না জোটে, তাহলে জীবনটা নাকি নরক হয়ে যায়।”
আচ্ছা, পারফেকশন বলতে ঠিক কী বোঝায়?
সত্যি বলতে, আমার ঠিক জানা নেই।
ছোটবেলা থেকে আমি আমার বাবা-মাকে দেখেছি, মাসি-মেসোকে দেখেছি, পিসি-পিসেমশাইকে দেখেছি। তাঁরা কেউই পারফেক্ট ছিলেন না।
বাবার রাগ ছিল, মায়ের অভিমান ছিল। ঝগড়া হয়েছে, কথা বন্ধ থেকেছে, সংসারে টানাপোড়েন এসেছে, অর্থকষ্টও ছিল। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এসব খুব কাছ থেকে দেখেই বড় হয়েছি।
কিন্তু একটা জিনিস খুব কমই দেখেছি…
রাগ হলেই সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়ার তাড়া।
অভিমান হলেই “এবার আর একসঙ্গে নয়”—এই সিদ্ধান্ত।
তাই আজ যখন শুনি, “পারফেক্ট মানুষ না পেলে সম্পর্ক টেকে না”, তখন সত্যিই নিজেকে প্রশ্ন করি—
পারফেক্ট মানুষ বলে কি সত্যিই কেউ আছে?
বাস্তবটা হলো, পারফেকশন একটা কল্পনা। পৃথিবীতে এমন একজন মানুষও নেই, যার কোনো খামতি নেই। আমরা প্রত্যেকেই কিছু গুণ, কিছু সীমাবদ্ধতা, কিছু ভুল আর কিছু অসম্পূর্ণতা নিয়েই মানুষ।
তাহলে আমরা নিজেরাই যখন অসম্পূর্ণ, তখন জীবনের সঙ্গীর কাছে নিখুঁত হওয়ার প্রত্যাশা করি কীভাবে?
আমি বলছি না, সবকিছু মেনে নিতে হবে। অসম্মান, প্রতারণা, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে কখনও আপস করা উচিত নয়।
কিন্তু ছোট ছোট ভুল, অভ্যাসের অমিল, মতের পার্থক্য, রাগ-অভিমান—এসব কি একটু ধৈর্য, একটু বোঝাপড়া আর একটু ভালোবাসা দিয়ে সামলে নেওয়া যায় না?
আজ দশ বছরের ভালোবাসার সম্পর্কও বিয়ের কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে।
তাহলে খামতিটা কোথায়?
ভালোবাসায়?
নাকি আমাদের ধৈর্যে?
নাকি আমাদের প্রত্যাশায়?
নাকি আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সম্পর্কে সমস্যা এলেই মনে হয়—”মুভ অন করাই হয়তো সহজ।”
হয়তো আগের প্রজন্মের জীবন আলাদা ছিল। সুযোগ-সুবিধা কম ছিল, জীবনও ছিল অনেক কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ের মধ্যেও তাঁরা একটা জিনিস জানতেন—সম্পর্ক শুধু সুখের দিনে নয়, কঠিন দিনেও পাশে থাকার নাম।
তাই রাগ হলেও রাতে একসঙ্গে খাওয়া হতো।
অভিমান হলেও সকালে চায়ের কাপটা এগিয়ে দেওয়া হতো।
কথা বন্ধ থাকলেও অসুস্থ হলে ওষুধটা ঠিক সময়ে খাইয়ে দেওয়া হতো।
আজও কত বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখি…
বালিশের নিচে বামের কৌটো, টেবিলে ওষুধের পাতা, হাঁটুর ব্যথা, চোখে মোটা চশমা…
তবুও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করেন—
“ওষুধ খেয়েছ?”
সেখানে হয়তো রোম্যান্টিক সংলাপ নেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি নেই, প্রতিদিন “আই লাভ ইউ” বলাও নেই।
আছে শুধু একসঙ্গে কাটানো চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরের জীবন।
আছে হাজার ঝগড়ার পরেও একে অপরকে ছেড়ে না যাওয়ার অভ্যাস।
আছে এই বিশ্বাস—মানুষটা পারফেক্ট নয়, তবুও এই মানুষটাই আমার।
হয়তো ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা এটাই।
আজ আমরা সম্পর্ক শুরু করার আগে নিখুঁত মানুষ খুঁজি।
হয়তো তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন, এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া, যার সঙ্গে অসম্পূর্ণ হয়েও সারাজীবন পথ চলা যায়।
কারণ দিনের শেষে…
পারফেক্ট মানুষ বলে কেউ নেই।
আছে শুধু দুটি অসম্পূর্ণ মানুষ, যারা প্রতিদিন একটু একটু করে একে অপরকে বুঝতে শেখে, ক্ষমা করতে শেখে, সম্মান করতে শেখে, আর সম্পর্কটাকে জিতিয়ে রাখতে শেখে।
হয়তো সুখী দাম্পত্যের রহস্য পারফেকশন নয়…
একটু ধৈর্য, একটু ছাড়, আর অনেকটা “আমরা”।😊😊
হয়তো লেখাটা একটু বড় হয়ে গেলো, পড়তে ইচ্ছা হবে না তবুও যদি ব্যস্ততা র মাঝে সময়পান
ভালোথাকবেন সুস্থ থাকবেন

Satarupa Ganguly’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

“জীবনে যদি পারফেক্ট জীবনসঙ্গী না জোটে

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

·অনলাইন বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬,

অনেকেই বলেন, “জীবনে যদি পারফেক্ট জীবনসঙ্গী না জোটে, তাহলে জীবনটা নাকি নরক হয়ে যায়।”
আচ্ছা, পারফেকশন বলতে ঠিক কী বোঝায়?
সত্যি বলতে, আমার ঠিক জানা নেই।
ছোটবেলা থেকে আমি আমার বাবা-মাকে দেখেছি, মাসি-মেসোকে দেখেছি, পিসি-পিসেমশাইকে দেখেছি। তাঁরা কেউই পারফেক্ট ছিলেন না।
বাবার রাগ ছিল, মায়ের অভিমান ছিল। ঝগড়া হয়েছে, কথা বন্ধ থেকেছে, সংসারে টানাপোড়েন এসেছে, অর্থকষ্টও ছিল। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে এসব খুব কাছ থেকে দেখেই বড় হয়েছি।
কিন্তু একটা জিনিস খুব কমই দেখেছি…
রাগ হলেই সম্পর্ক ছেড়ে দেওয়ার তাড়া।
অভিমান হলেই “এবার আর একসঙ্গে নয়”—এই সিদ্ধান্ত।
তাই আজ যখন শুনি, “পারফেক্ট মানুষ না পেলে সম্পর্ক টেকে না”, তখন সত্যিই নিজেকে প্রশ্ন করি—
পারফেক্ট মানুষ বলে কি সত্যিই কেউ আছে?
বাস্তবটা হলো, পারফেকশন একটা কল্পনা। পৃথিবীতে এমন একজন মানুষও নেই, যার কোনো খামতি নেই। আমরা প্রত্যেকেই কিছু গুণ, কিছু সীমাবদ্ধতা, কিছু ভুল আর কিছু অসম্পূর্ণতা নিয়েই মানুষ।
তাহলে আমরা নিজেরাই যখন অসম্পূর্ণ, তখন জীবনের সঙ্গীর কাছে নিখুঁত হওয়ার প্রত্যাশা করি কীভাবে?
আমি বলছি না, সবকিছু মেনে নিতে হবে। অসম্মান, প্রতারণা, মানসিক বা শারীরিক নির্যাতনের সঙ্গে কখনও আপস করা উচিত নয়।
কিন্তু ছোট ছোট ভুল, অভ্যাসের অমিল, মতের পার্থক্য, রাগ-অভিমান—এসব কি একটু ধৈর্য, একটু বোঝাপড়া আর একটু ভালোবাসা দিয়ে সামলে নেওয়া যায় না?
আজ দশ বছরের ভালোবাসার সম্পর্কও বিয়ের কয়েক মাস বা কয়েক বছরের মধ্যেই ভেঙে যাচ্ছে।
তাহলে খামতিটা কোথায়?
ভালোবাসায়?
নাকি আমাদের ধৈর্যে?
নাকি আমাদের প্রত্যাশায়?
নাকি আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সম্পর্কে সমস্যা এলেই মনে হয়—”মুভ অন করাই হয়তো সহজ।”
হয়তো আগের প্রজন্মের জীবন আলাদা ছিল। সুযোগ-সুবিধা কম ছিল, জীবনও ছিল অনেক কঠিন। কিন্তু সেই কঠিন সময়ের মধ্যেও তাঁরা একটা জিনিস জানতেন—সম্পর্ক শুধু সুখের দিনে নয়, কঠিন দিনেও পাশে থাকার নাম।
তাই রাগ হলেও রাতে একসঙ্গে খাওয়া হতো।
অভিমান হলেও সকালে চায়ের কাপটা এগিয়ে দেওয়া হতো।
কথা বন্ধ থাকলেও অসুস্থ হলে ওষুধটা ঠিক সময়ে খাইয়ে দেওয়া হতো।
আজও কত বৃদ্ধ দম্পতিকে দেখি…
বালিশের নিচে বামের কৌটো, টেবিলে ওষুধের পাতা, হাঁটুর ব্যথা, চোখে মোটা চশমা…
তবুও রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করেন—
“ওষুধ খেয়েছ?”
সেখানে হয়তো রোম্যান্টিক সংলাপ নেই, সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি নেই, প্রতিদিন “আই লাভ ইউ” বলাও নেই।
আছে শুধু একসঙ্গে কাটানো চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরের জীবন।
আছে হাজার ঝগড়ার পরেও একে অপরকে ছেড়ে না যাওয়ার অভ্যাস।
আছে এই বিশ্বাস—মানুষটা পারফেক্ট নয়, তবুও এই মানুষটাই আমার।
হয়তো ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর সংজ্ঞা এটাই।
আজ আমরা সম্পর্ক শুরু করার আগে নিখুঁত মানুষ খুঁজি।
হয়তো তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন, এমন একজন মানুষকে খুঁজে পাওয়া, যার সঙ্গে অসম্পূর্ণ হয়েও সারাজীবন পথ চলা যায়।
কারণ দিনের শেষে…
পারফেক্ট মানুষ বলে কেউ নেই।
আছে শুধু দুটি অসম্পূর্ণ মানুষ, যারা প্রতিদিন একটু একটু করে একে অপরকে বুঝতে শেখে, ক্ষমা করতে শেখে, সম্মান করতে শেখে, আর সম্পর্কটাকে জিতিয়ে রাখতে শেখে।
হয়তো সুখী দাম্পত্যের রহস্য পারফেকশন নয়…
একটু ধৈর্য, একটু ছাড়, আর অনেকটা “আমরা”।😊😊
হয়তো লেখাটা একটু বড় হয়ে গেলো, পড়তে ইচ্ছা হবে না তবুও যদি ব্যস্ততা র মাঝে সময়পান
ভালোথাকবেন সুস্থ থাকবেন

Satarupa Ganguly’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।