
অনলাইন বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
ঢাবি ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষে পড়ার সময় বেশ কিছুকাল আমি ক্লাস নাইনের একজন ছাত্রীকে পড়াতাম।
প্রথম দিনেই সুন্দরী ছাত্রীর সুন্দরী মা আমাকে বললেন, ‘বহুত টিচার রাখছি, মাগার কেউ তারে পাশ করাইবার পারে নাই। আপনের কিন্তু আমি বহুত প্রছংসা শুনছি। অরে কিন্তু পাস করাইয়া দিতেই হইবো।’
ট্যুইশনটা আমি বেশ কয়েকমাস কন্টিনিউ করেছিলাম। কারণ, আন্টি আমাকে বেশ আদরযত্ন করতেন, মজার মজার নাস্তা দিতেন, এবং ছাত্রীটিকেও মানুষ হিসাবে আমি খুব পছন্দ করতাম। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই আমি বুঝে গেলাম, আমি কেন, আরো এক ডজন শিক্ষক এসে রাতদিন পড়ালেও ওকে সব বিষয়ে পাশ করাতে পারবেনা।
কারণ, হিন্দি সিরিয়াল, রুপচর্চা, হালকা পাতলা প্রেম এবং কিছুদিন পরেই বিবাহ চিন্তা ছাড়া আর কোন কিছুতেই আমার ছাত্রীটির আগ্রহ নাই, পড়াশোনায় তো নাইই!
তখন, আমি মহিলা সোলায়মান সুখন হয়ে গেলাম এবং নানারকম উৎসাহ দিয়ে, গল্পগুজব করে, বহু কষ্টে ধীরে ধীরে তাকে পড়ালেখার প্রতি ১০% মনোযোগী করে তুলতে পারলাম।
যাইহোক, মাসকয়েক যেতেই বুঝলাম যে, ছাত্রীটির সামগ্রিক চিন্তাভাবনায়, জীবন যাপনে পড়ালেখার আগ্রহ /সময়/ পাশ করার ইচ্ছা এতোই কম যে, আমি কেন, আরো একশোজন সুখনও কিছু করতে পারবেনা।
প্রথম সাময়িকের রেজাল্ট দেয়ার পর সে তার ছলোছলো আঁখি নিয়ে অংকে চৌত্রিশ ও ইংরেজিতে চল্লিশ পাওয়ার সংবাদ দিলো এবং আমি তখন সসম্মানে কেটে পড়ার তালে আন্টিকে জানালাম যে, সময়ের অভাবে আমি আর পড়াতে পারছিনা।
পরবর্তীতে তাকে একাধিক ঢাবি/ বুয়েট পড়ুয়া শিক্ষক দিয়ে পড়ানো হলেও কন্যারত্নটি এসএসসি পাশ করতে ব্যর্থ হয়েছিল।
দোষটা তো বুয়েটপড়ুয়া শিক্ষকের নয়, দোষ কপালেরও নয়, দোষ আন্টিরও নয়- দোষ হলো ছাত্রীটির পড়ালেখা না করার অভ্যাসের এবং পাশ করার আগ্রহ না থাকা স্বভাবের!
তো, জীবন থেকে আমি যা বুঝলাম, তা হলো – “You can take a horse to the water,but you cannot make it drink”!
জোর করে প্রেমও হয়না, পড়ালেখাও হয়না। নিজে অনুধাবন না কপ্রলে, নিজে উদ্যোগ না নিলে, অন্য কেউ আসলে ঠেলেঠুলে, ধরে বেঁধে কাউকে খুব বেশিদূর নিয়ে যেতে পারে না।
পড়ালেখায় আপনি তাকেই সাহায্য করতে পারবেন, যার নিজের ন্যূনতম প্রচেষ্টা আছে, ইচ্ছা ও আগ্রহ আছে, পরিশ্রম করার সামান্য হলেও অভ্যাস আছে, আত্মোন্নতির চেষ্টা আছে।
একইসাথে, অসুখ হলে ভালো ডাক্তার দেখানো যেমন জরুরী, তেমনি জরুরী – রোগের মূল কারণ খুঁজে বের করে প্রতিকার খোঁজার।
আর, তারচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, জীবন যাপন পদ্ধতিতে কার্যকর পরিবর্তন আনা।
না হয়, একশো শিক্ষক নিয়োগ করে, নিজে পড়ালেখা না করলে যেমন ছাত্রী পাশ করবেনা, তেমনি, রোগের মূলে না গিয়ে/ জীবনযাপন পদ্ধতি না পাল্টে দুইশ ডাক্তার দেখিয়েও লাভ হবেনা। 
কথা গ্যারান্টেড!
Kazi Tahmina’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।




















