, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র লোডশেডিং :ঢাকা সহ সারা দেশে ?

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • ২৩ পড়া হয়েছে

অনলাইন  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আজ বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ দিতেই ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি।

সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর শুরুর দিকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করেছে সামিট। এরপর সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত সোমবার এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা যায়নি। তাই সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পেট্রোবাংলার নির্দেশে সরবরাহ কমিয়ে দেয় সামিট।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। আজ দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ চাহিদা কমে গেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুটের কম। এতে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। গতকালও এটি ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট।

এতে গ্যাস সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা। বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের দিনে চাহিদা ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে তারা সরবরাহ পায় ১৫৫ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমার পর এটি ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গত দুই দিন ১০০ কোটি ঘনফুট করে পাচ্ছিল। আজ সন্ধ্যার পর থেকে এটি আরও কমতে পারে।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। আজ দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে সামিট।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে  বলেন, আগামীকাল রাতে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার ভোরে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার দুপুরের পর থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে সামিট। শুক্র-শনি ছুটির দিনে বিদ্যুৎ-জ্বালানির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কম হতে পারে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সংকট সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেশি সমস্যায়। দেশে মানুষের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ আছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ যাতে না কমে, পেট্রোবাংলাকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই শিল্পে কমেছে গ্যাসের সরবরাহ। বাসাবাড়িতেও রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে। তবে গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ দিতেই ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে রোববার থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির বড় রকমের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো। এ সংস্থা দুটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ১১টা থেকে এটি শুরু হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়। গতকাল মধ্যরাতে পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, মণিপুরি পাড়াসহ বেশি কিছু এলাকা থেকে  লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা। কেউ কেউ বলেছেন, একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে তাঁর এলাকায়।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন।

জনপ্রিয়

তীব্র লোডশেডিং :ঢাকা সহ সারা দেশে ?

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা  জানিয়েছেন, মজুত যাতে ফুরিয়ে না যায়, সে জন্য গত সোমবার সন্ধ্যা থেকেই সামিটের টার্মিনাল থেকে সরবরাহ কমানো হয়। মঙ্গলবার এটি ২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। বুধবার থেকে আজ বিকেল পর্যন্ত ১০ কোটি ঘনফুট করে সরবরাহ করা হচ্ছিল। আজ বিকেল ৫টায় সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ দিতেই ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রতিমন্ত্রী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়

আমদানি করা এলএনজি সরবরাহের জন্য কক্সবাজারের মহেশখালীতে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর মধ্যে মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালের সক্ষমতা ৬০ কোটি ঘনফুট ও দেশীয় কোম্পানি সামিটের টার্মিনালের সক্ষমতা ৫০ কোটি ঘনফুট। গত ২১ জুলাই অগ্নিদুর্ঘটনায় এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যায়। এতে গ্যাসের সরবরাহ কমে যায়, বেড়ে যায় সংকট। রান্নার চুলা থেকে শুরু করে শিল্পকারখানা ও বিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাহত হয়। যানবাহনেও সিএনজি পেতে দীর্ঘ সারি পড়ে যায় ফিলিং স্টেশনে।

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনালে দুটি বয়লার আছে। প্রতিটি বয়লারের সক্ষমতা ৩০ কোটি ঘনফুট। এর মধ্যে একটি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অক্ষত বয়লারটি থেকে ৬ আগস্ট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। আর ক্ষতিগ্রস্ত বয়লারটি চালু করতে কাজ চলছে। এটি চালু করার আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার জন্য টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করতে হবে। এতে ৭২ ঘণ্টা পুরোপুরি সরবরাহ বন্ধ থাকবে এক্সিলারেটের। এটি কবে করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এখনো নির্দিষ্ট করে কোনো সময় ঠিক করা হয়নি।

সূত্র বলছে, এক্সিলারেটের টার্মিনাল বন্ধের পর শুরুর দিকে দিনে ৫৬ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করেছে সামিট। এরপর সামিটের টার্মিনাল থেকে প্রতিদিন ৫০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল। গত সোমবার এলএনজি নিয়ে নতুন একটি জাহাজ আসে বঙ্গোপসাগরে। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন জাহাজ থেকে সামিটের টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর করা যায়নি। তাই সোমবার সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে পেট্রোবাংলার নির্দেশে সরবরাহ কমিয়ে দেয় সামিট।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। আজ দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুৎ চাহিদা কমে গেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ

দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে ২৭০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এর মধ্যে এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। এখন এলএনজি থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে ৩০ কোটি ঘনফুটের কম। এতে গ্যাসের মোট সরবরাহ নেমে এসেছে ১৯৩ কোটি ঘনফুটে। গতকালও এটি ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট।

এতে গ্যাস সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে দেশের ছয়টি গ্যাস বিতরণ সংস্থা। বৃহত্তম গ্যাস বিতরণ সংস্থা তিতাসের দিনে চাহিদা ১৯০ থেকে ২০০ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে তারা সরবরাহ পায় ১৫৫ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ কমার পর এটি ১২০ কোটি ঘনফুটে নেমে আসে। গত দুই দিন ১০০ কোটি ঘনফুট করে পাচ্ছিল। আজ সন্ধ্যার পর থেকে এটি আরও কমতে পারে।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, জ্বালানিসংকট মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও এর কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। প্রকৃতির ওপর ভরসা করতে হচ্ছে সরকারকে। আজ দিনভর দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা কমে গেছে। এতে কমেছে লোডশেডিংয়ের মাত্রা। এ ছাড়া আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, কাল রাতের মধ্যে সমুদ্র স্বাভাবিক হতে পারে। এটি ঠিক থাকলে শনিবার থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে পারবে সামিট।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আজ রাতে  বলেন, আগামীকাল রাতে আবহাওয়ার উন্নতি হলে শনিবার ভোরে জাহাজ থেকে টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তর শুরু হবে। সে ক্ষেত্রে শনিবার দুপুরের পর থেকে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু করবে সামিট। শুক্র-শনি ছুটির দিনে বিদ্যুৎ-জ্বালানির চাহিদা কিছুটা কম থাকায় মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কম হতে পারে।

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে দেশের সব বিপণিবিতান, মার্কেট ও দোকানপাট খোলার সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন নিয়মে বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এসব প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা যাবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নতুন এ সিদ্ধান্ত গতকাল বুধবার থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সংকট সহনীয় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুৎ খাত বেশি সমস্যায়। দেশে মানুষের প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ আছে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের সরবরাহ যাতে না কমে, পেট্রোবাংলাকে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাই শিল্পে কমেছে গ্যাসের সরবরাহ। বাসাবাড়িতেও রান্নার চুলা জ্বালাতে সমস্যা হতে পারে। তবে গ্রামের মানুষের ভোগান্তি কিছুটা কমাতে ঢাকাতেও লোডশেডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, গ্রামের মানুষকে ভোগান্তি থেকে কিছুটা পরিত্রাণ দিতেই ঢাকাতে সহনীয় লোডশেডিং করা হচ্ছে। সব ঠিকঠাক থাকলে রোববার থেকে বিদ্যুৎ-জ্বালানি পরিস্থিতির বড় রকমের উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

ঢাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে দুই বিতরণ সংস্থা ডিপিডিসি ও ডেসকো। এ সংস্থা দুটির দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, গতকাল বুধবার রাত থেকে ঢাকায়ও লোডশেডিং শুরু হয়েছে। বুধবার রাত ১১টা থেকে এটি শুরু হয়। এতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং দেখা দেয়। গতকাল মধ্যরাতে পান্থপথ, যাত্রাবাড়ী, রাজাবাজার, লালমাটিয়া, মণিপুরি পাড়াসহ বেশি কিছু এলাকা থেকে  লোডশেডিংয়ের অভিযোগ করেন গ্রাহকেরা। কেউ কেউ বলেছেন, একাধিকবার লোডশেডিং হয়েছে তাঁর এলাকায়।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, রাত ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৫০ মেগাওয়াট, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট ও ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ২০০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করা হবে। আর বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো লোডশেডিং করা হবে না। কোনো এলাকায় একবারের বেশি লোডশেডিং হবে না। তার মানে, ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার একজন গ্রাহক মাত্র ১ ঘণ্টা লোডশেডিং পাবেন।