
অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬
“তৌহিদী জনতার উৎপাত নবীর মৃত্যুর দিন থেকে। দাফনের জন্য যখন গোসল দিতে নেওয়া হয়, তখন একদল মিছিল শুরু করলো— গোসল দেওয়া যাবে না। গোসল দিলে কাপড় খুলতে হবে, নবীর অবমাননা হবে! আবু বকরকে যখন খলিফা নির্বাচন করা হয়, তখন আরেকদল ফাতেমা ও আলীর ঘর জ্বালিয়ে দিতে গেলো, কারণ তাঁরা খলিফার প্রতি আনুগত্য প্রকাশে দেরি করছিলেন! ইরানীরা বলে, ফাতেমাকে কিল-ঘুষি মেরে জখমও করা হয়েছিলো, লাথি মেরে তাঁর গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দিয়েছিলো। এরাই তৌহিদী জনতা। আবু বকর ২৭ মাস শাসন করেছিলেন, এবং পুরো সময়টাই তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে কাটাতে হয়েছিলো। তৌহিদী জনতাই প্রথম ইসলাম ত্যাগ করে মুসাইলিমাকে নতুন নবী মেনেছিলো।
খলিফা উমরকে কারা হত্যা করিয়েছিলো? তৌহিদী জনতা। আবু লুলুয়াকে দিয়ে। নামাজ পড়া অবস্থায়। খলিফা উসমানকে অবরুদ্ধ করেছিলো কারা? তৌহিদী জনতা। কোরান পড়া অবস্থায় তাঁকে খুন করেছিলো। তাঁর স্ত্রী বাঁচাতে গিয়েছিলেন, উনাকেও ছুরি মেরেছিলো।
হযরত আলী? তাঁকেও তৌহিদী জনতা খুন করেছিলো। কোনো কাফের মুশরিক নয়। ফজরের নামাজ পড়ছিলেন, এ অবস্থায় আব্দুর রহমান নামের এক তৌহিদী জঙ্গী ছুরি চালিয়ে দেয়। এবং সেই জঙ্গী ছিলো ইতিহাসের প্রথম ইসলামী রাজনীতিক দল খারেজী কাফেলার সদস্য। পৃথিবীতে যতো ইসলামী দল আছে, এগুলো সব খারেজী কাফেলার বংশধর। যাকে তাকে কাফের নাস্তিক বলার চল খারেজিরাই শুরু করেছিলো। কথায় কথায় তাকফির। কোরানের ভুলভাল তাফসিরও খারেজিদের আবিষ্কার। নারীদের বুরকা পরতে হবে, এ নিয়মও খারেজিরা চালু করেছিলো।
এবং বাংলাদেশে, তৌহিদী জনতার ভেতর যে-বিকৃত যৌনাচার দেখা যায়, সেটার উৎসও খারেজিরা। নবীপত্নী আয়েশা, ইমাম হাসানের স্ত্রী হাফসা, ইমাম হুসাইনের স্ত্রী সহরবানু, উনাদের প্রত্যেককে যৌন হয়রানি ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ আছে তৎকালীন তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে। নবীর বংশ নির্বংশ করেছিলো তৌহিদী জনতা। ইমাম হাসানকে বিষপ্রয়োগ, হুসাইনকে কারবালায় হত্যা, এগুলো তৌহিদী জনতা করেছিলো। কাফেররা নয়। হুসাইনের পুত্র আলি আকবর, শিশুপুত্র আলি আসগর, হাসানের তিন পুত্র কাসেম, আবু বকর, ও আব্দুল্লাহ, এঁরা নবীর রক্তবাহক ছিলেন। এঁদের প্রত্যেককে তৌহিদী জনতা হত্যা করেছিলো।
এমনকি কাবা ঘরও রক্ষা পায়নি। উমাইয়াবাহিনী ও যুবায়েরবাহিনী যখন মুখোমুখি হয়, ৬৮৩ সালে, তখন তৌহিদী জনতা কাবা ঘর জ্বালিয়ে দিয়েছিলো। এই যে এখন গণহত্যা গণহত্যা শুনি, ম্যাসকিলিং, কেউ কি জানে যে কাবা ঘরে একবার গণহত্যা হয়েছিলো? হ্যাঁ, তৌহিদী জনতা কাবা ঘরে গণহত্যা চালিয়েছিলো, খুন করেছিলো হাজার হাজার হাজীকে। ৯৩০ সালে। এবং হাজীরা যে কালো পাথরে চুমো খায়, হাজরে আসওয়াদ, এটা তৌহিদী জনতা চুরি করে বাহরাইনে নিয়ে গিয়েছিলো। ২০ বছর সেটির হদিস পাওয়া যায়নি। হাজীরা চুমো খেতে পারেনি।
ফাতেমী খলিফারা অনেক লাইব্রেরি নির্মাণ করেছিলো, যেগুলোকে দার আল-হিকমা ডাকা হতো। সেই লাইব্রেরিগুলো কারা ধ্বংস করেছিলো? তৌহিদী জনতা। কতো গুরুত্বপূর্ণ বই যে তৌহিদী জনতা পুড়িয়েছে, ইয়ত্তা নেই। ২০১৬ সালে মসজিদে নববীতে যে-আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছিলো, সেটা তৌহিদী জঙ্গীই করেছিলো। কী বলবো এদেরকে? মুসলমানরা তৌহিদী জনতা উরফে তৌহিদী জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে শক্তভাবে না দাঁড়ালে, এদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সন্তানদের সচেতন না করলে, ইসলামের বিলুপ্তি আসন্ন। মুসলিম-বিদ্বেষও বাড়বে। পৃথিবীতে হাজার হাজার ধর্ম এসেছে, হাজার হাজার ধর্ম বিলুপ্ত হয়েছে। ইসলামের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী ধর্ম পৃথিবীতে ছিলো, কিন্তু অন্ধ অনুসারীদের কর্মকাণ্ডে লুপ্ত হয়েছে। ১৪০০ বছর খুব বেশি সময় নয়। হিন্দু ধর্ম তো ৭ হাজার বছরের বেশি সময় ধরে টিকে আছে।”
.
— মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
পৃষ্ঠা ১৯, বই: মূর্তিভাঙা প্রকল্প (দ্বিতীয় খণ্ড) – অপ্রকাশিত
United Front – যুক্তফ্রন্ট’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















