, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দীপাবলীর কত দরজায় কড়া নাড়া?

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
  • ৭ পড়া হয়েছে
অনলাইন শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬
কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস সাতকাহন-এর পাতায় একদিন পড়েছিলাম দীপাবলীর কথা। জীবনের কঠিন আঘাত, প্রতিকূলতা, সামাজিক বাধা-বিপত্তি আর নানা অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়েও যে মেয়ে কখনো হার মানেনি। বারবার ভেঙেছে, আবার নিজেকেই শক্ত করে গড়ে তুলেছে। নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছে। সেই দীপাবলী ছিল সংগ্রাম, সাহস, আত্মমর্যাদা আর আত্মনির্ভরতার এক অনন্য প্রতীক।
আজ হঠাৎ মনে হলো, উপন্যাসের সেই দীপাবলী যেন বইয়ের পাতা ছেড়ে বাস্তবের মাটিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির স্বামী অ্যাডভোকেট তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর, বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে মেয়েটিকে ছুটতে হয়েছে মায়ের জন্য। একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে কারাগারে থাকা মাকে বাবাকে শেষবারের মতো দেখানোর আকুতি—এই দুইয়ের ভার একসঙ্গে কাঁধে নিয়েই সে ছুটেছে কারাগার থেকে সরকারি দপ্তরে, অফিস থেকে আদালতের দরজায়।
কত আবেদন, কত অনুরোধ, কত দরজায় কড়া নাড়া—শুধু একটি কারণে, মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে যেন মা তাঁর জীবনসঙ্গীকে শেষবারের মতো দেখতে পারেন। একজন সন্তানের জন্য এর চেয়ে কঠিন, এর চেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি আর কী হতে পারে!
তার চোখে ছিল বাবাকে হারানোর অশ্রু, মুখে ছিল গভীর শোক। কিন্তু সেই শোক তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বরং মায়ের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ তাকে ছুটিয়ে নিয়ে গেছে এক দরজা থেকে আরেক দরজায়। শোকের ভারে নুয়ে পড়েও সে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়নি।
সেদিন সাতকাহন-এর দীপাবলীর সংগ্রাম পড়েছিলাম উপন্যাসের পাতায়। আর আজ বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে যেন আরেক দীপাবলীর পথচলা দেখলাম—যে দীপাবলী কোনো কল্পকাহিনির চরিত্র নয়; রক্ত-মাংসের একজন মানুষ, যে গভীর শোকের মধ্যেও নিজের মায়ের জন্য লড়তে জানে, ভালোবাসার জন্য দাঁড়াতে জানে, দায়িত্বের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে জানে।
জীবন কখনো কখনো মানুষকে এমন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করায়, যেখানে চোখের জল ফেলারও সময় থাকে না। তখন কান্না এক পাশে রেখে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। আজকের এই দীপাবলী যেন সেই কঠিন সত্যেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
উপন্যাসের দীপাবলীকে পড়েছিলাম। আজ বাস্তবের দীপাবলীকে দেখলাম।
একজন ছিল কাগজের পাতায়, আরেকজন বাস্তবের পথে।
কিন্তু দুজনের গল্পের ভেতরেই এক জায়গায় অদ্ভুত মিল—
কঠিন সময় যতই আসুক, তারা থেমে যায় না।
দীপাবলী—শুধু একটি নাম নয়;
কখনো কখনো একটি নামই হয়ে ওঠে সংগ্রাম, সাহস, ভালোবাসা আর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক।Md Jane Alom’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

দীপাবলীর কত দরজায় কড়া নাড়া?

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন শুক্রবার ২১ আগস্ট, ২০২৬
কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের কালজয়ী উপন্যাস সাতকাহন-এর পাতায় একদিন পড়েছিলাম দীপাবলীর কথা। জীবনের কঠিন আঘাত, প্রতিকূলতা, সামাজিক বাধা-বিপত্তি আর নানা অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড়িয়েও যে মেয়ে কখনো হার মানেনি। বারবার ভেঙেছে, আবার নিজেকেই শক্ত করে গড়ে তুলেছে। নিজের পথ নিজেই তৈরি করেছে। সেই দীপাবলী ছিল সংগ্রাম, সাহস, আত্মমর্যাদা আর আত্মনির্ভরতার এক অনন্য প্রতীক।
আজ হঠাৎ মনে হলো, উপন্যাসের সেই দীপাবলী যেন বইয়ের পাতা ছেড়ে বাস্তবের মাটিতে এসে দাঁড়িয়েছে।
সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির স্বামী অ্যাডভোকেট তৌফিক নেওয়াজের মৃত্যুর পর, বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখে মেয়েটিকে ছুটতে হয়েছে মায়ের জন্য। একদিকে বাবাকে হারানোর গভীর শোক, অন্যদিকে কারাগারে থাকা মাকে বাবাকে শেষবারের মতো দেখানোর আকুতি—এই দুইয়ের ভার একসঙ্গে কাঁধে নিয়েই সে ছুটেছে কারাগার থেকে সরকারি দপ্তরে, অফিস থেকে আদালতের দরজায়।
কত আবেদন, কত অনুরোধ, কত দরজায় কড়া নাড়া—শুধু একটি কারণে, মৃত্যুর শেষ মুহূর্তে যেন মা তাঁর জীবনসঙ্গীকে শেষবারের মতো দেখতে পারেন। একজন সন্তানের জন্য এর চেয়ে কঠিন, এর চেয়ে বেদনাদায়ক পরিস্থিতি আর কী হতে পারে!
তার চোখে ছিল বাবাকে হারানোর অশ্রু, মুখে ছিল গভীর শোক। কিন্তু সেই শোক তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। বরং মায়ের জন্য কিছু একটা করার তাগিদ তাকে ছুটিয়ে নিয়ে গেছে এক দরজা থেকে আরেক দরজায়। শোকের ভারে নুয়ে পড়েও সে নিজের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ায়নি।
সেদিন সাতকাহন-এর দীপাবলীর সংগ্রাম পড়েছিলাম উপন্যাসের পাতায়। আর আজ বাস্তবের মাটিতে দাঁড়িয়ে যেন আরেক দীপাবলীর পথচলা দেখলাম—যে দীপাবলী কোনো কল্পকাহিনির চরিত্র নয়; রক্ত-মাংসের একজন মানুষ, যে গভীর শোকের মধ্যেও নিজের মায়ের জন্য লড়তে জানে, ভালোবাসার জন্য দাঁড়াতে জানে, দায়িত্বের কাছে নিজেকে সমর্পণ করতে জানে।
জীবন কখনো কখনো মানুষকে এমন পরীক্ষার সামনে দাঁড় করায়, যেখানে চোখের জল ফেলারও সময় থাকে না। তখন কান্না এক পাশে রেখে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিতে হয়। আজকের এই দীপাবলী যেন সেই কঠিন সত্যেরই এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি।
উপন্যাসের দীপাবলীকে পড়েছিলাম। আজ বাস্তবের দীপাবলীকে দেখলাম।
একজন ছিল কাগজের পাতায়, আরেকজন বাস্তবের পথে।
কিন্তু দুজনের গল্পের ভেতরেই এক জায়গায় অদ্ভুত মিল—
কঠিন সময় যতই আসুক, তারা থেমে যায় না।
দীপাবলী—শুধু একটি নাম নয়;
কখনো কখনো একটি নামই হয়ে ওঠে সংগ্রাম, সাহস, ভালোবাসা আর ঘুরে দাঁড়ানোর প্রতীক।Md Jane Alom’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।