, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দাবি হেফাজতের মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ২৪ পড়া হয়েছে

অনলাইন  রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬

মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী পস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান।

হেফাজতের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমানের সই করা লিখিত দাবিতে প্রথমেই মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাসের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে হেফাজত। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের ডিগ্রি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধের দাবিও রয়েছে তাদের লিখিত দাবিতে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এ দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবিও জানিয়েছে হেফাজত।

সবশেষে তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গে হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি, টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমার অনুমতি না

রোববার বিকেল ৪টায় বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেম এ সভায় অংশ নেন।

 

জনপ্রিয়

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ দাবি হেফাজতের মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন  রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২৬

মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে আইন পাস, কুরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন না করাসহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ৯ দফা দাবি জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

রোববার (৯ আগস্ট) বিকালে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহাসিক আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া বাবুনগর মাদ্রাসায় প্রধানমন্ত্রী পস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান।

হেফাজতের মহাসচিব মুহাম্মাদ সাজেদুর রহমানের সই করা লিখিত দাবিতে প্রথমেই মহান আল্লাহ, রাসুল (সা.), পবিত্র কুরআন ও ইসলাম ধর্মের অবমাননা রোধে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে আইন পাসের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে কোরআন-সুন্নাহর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো আইন পাস না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২১ সালের মোদিবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাযজ্ঞে জড়িত, হুকুমের আসামি ও খুনিদের বিচার নিশ্চিতের মাধ্যমে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়।

কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্সের সমমানের স্বীকৃতি কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে হেফাজত। বিশেষ করে ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে সরকারি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে সরকারি মাদ্রাসার ডিগ্রির পাশাপাশি কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিসের মাস্টার্স সমমানের ডিগ্রি শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করার দাবি জানানো হয়েছে।

শিক্ষার প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলাম ধর্ম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।

এ ছাড়া কাদিয়ানী সম্প্রদায়কে অমুসলিম ঘোষণা এবং হিজবুত তাওহিদকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানানো হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে দেশি-বিদেশি মিশনারিগুলোর ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা বন্ধের দাবিও রয়েছে তাদের লিখিত দাবিতে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে আলেমদের বিরুদ্ধে করা মিথ্যা মামলাগুলো প্রত্যাহার করে এ দেশের আলেম-ওলামাকে রাষ্ট্রীয় পুনর্গঠনে অংশীদার করার দাবিও জানিয়েছে হেফাজত।

সবশেষে তাবলিগ জামাত ও বিশ্ব ইজতেমা প্রসঙ্গে হেফাজতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতের কার্যক্রম ও টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা উলামায়ে কেরামের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভারতের বিতর্কিত মাওলানা সাদ সাহেবের বাংলাদেশে আগমনে নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার পাশাপাশি, টঙ্গী ময়দানে সাদপন্থিদের ইজতেমার অনুমতি না

রোববার বিকেল ৪টায় বাবুনগর মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমদের এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী। দেশের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৭০ জন বিশিষ্ট আলেম এ সভায় অংশ নেন।