, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাথমিক স্কুল ও আমাদের শিক্ষা

  • প্রকাশের সময় : ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ১১ পড়া হয়েছে
অনলাইন মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রাথমিক স্কুল ও আমাদের শিক্ষা
হামিদুল আলম সখা
গুণিজনদের একটি সত:সিদ্ধ কথা, ” শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।” সেই শিক্ষা শুরু হয় নিজের বাড়ি থেকে। বাবা – মায়ের কাছ থেকে। তারপর স্কুল। একসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছোট ওয়ান, বড় ওয়ান ছিল । এ দুটি ক্লাশ পাস করার পর ক্লাশ টু তে পড়তে হতো । এভাবেই একটি একটি করে উপরের ক্লাশে অধ্যায়ণ করে ক্লাশ টেন  পর্যন্ত পড়ে,  এস এস সি পরীক্ষা দিতে হতো।
আশির দশকে বাংলাদেশে কিন্ডার গার্ডেন নামে প্রাইভেট স্কুলের সূচনা হয়। অতি উৎসাহী হয়ে বাবা মা তার সন্তানকে ৫ বৎসর হবার আগেই কিন্ডার গার্ডেন এ বাচ্চা ভর্তি করিয়ে দেয়। এবং বাচ্চাটি পিছনে মায়েরা শ্রম দেয়। কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে মায়েরা গিয়ে বসে থাকে স্কুল ছুটি অব্দি। ধীরে ধীরে ব্যাঙের ছাতার মত এই কিন্ডার গার্ডেন স্কুল রাজধানীতে যেমন ভাবে বৃদ্ধি পায় তেমনি গতিতে জেলা , উপজেলায় প্রচুর কিন্ডার গার্ডেন স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যে বাচ্চাগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় যেতো সেই বাচ্চাগুলো কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে যায়।ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ছাত্র ছাত্রী শূন্য হয়ে পড়ে। এখানে কিছু দরিদ্র বাবা মার সন্তান পড়াশোনা করে।
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ এদেশের শতকরা ৮০ভাগ লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। আমরা যত যাই বলি না কেন , বাংলাদেশে এখনো শিল্পের দিকে অগ্রসর হতে পারেনি । কোন কোন সময় শিল্প যদি একটু এগিয়ে যায় , দেখা যায় দু চার  বছর পর ওইসব শিল্প রুগ্ন শিল্প হিসেবে দেখা যায় ।  সুতরাং আমরা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল । আর কৃষি উপনির্ভরশীল হওয়ার কারণে গ্রামেগঞ্জে যারা কৃষক তারা ফসল ফলায় । সেই ফসল আমরা পেয়ে থাকি এবং জীবন ধারণ করে থাকি ।  আমাদের দেশে কৃষকদের মূল্যায়ন তেমনটা হয় না । কারণ যারা শহরে থাকে তারা কৃষকদের সম্মান তো দেয় না মূল্যায়নও করে না । অথচ একজন কৃষক যে ধান চাষ করে সেই ধানের   চাল খেয়ে আমরা বেঁচে থাকি । যে গম করে সেই গমের আটা খেয়ে আমরা বেঁচে থাকি । কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পাট, চা, মৎস ইত্যাদি আমরা বিদেশে রপ্তানি করে অনেক অর্থ আমরা পেয়ে থাকি।  আমাদের অধিকাংশ মানুষের রাজস্ব থেকে সরকার যে  অর্থ পায় তা দিয়ে দেশ চলে।
অথচ বাংলাদেশের সরকার  যখন বাজেট প্রণয়ন করে তখন কিন্তু কৃষকদের কথা , কৃষির কথা কোন সরকার  চিন্তা করে না । আমার মনে হয় সামরিক খাতে আমরা যে বাজেট প্রণয়ন করে থাকি তার চেয়ে অধিকারে বাজেট দেওয়া দরকার কৃষিখাতে । কারন আমাদের দেশের মূল ভিত্তি হলো কৃষি । অথচ কৃষি খাতকে আমরা সব সময় নিগৃহীত করি। সুতরাং কৃষককে বাঁচাতে হবে । তবেই কৃষি  বাঁচবে ।  কৃষকদের ছেলেমেয়েদের জন্য যে শিক্ষা ব্যবস্থা সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়।  এই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঢেলে সাজাতে হবে।  এখানে শিক্ষক নিয়োগ যথাযথ থাকতে হবে এখানে শিক্ষার্থী যারা থাকবে তাদের যথাযথ যত্ন করতে হবে এবং শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’  এই প্রবাদ বাক্যকে শিরোধার্য করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
এখন আসা যাক আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি করছে । প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি সঠিকভাবে ডাটা নিতে পারে যে আমাদের দেশে কতগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ? সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কতজন প্রধান শিক্ষক আছে  ? কতজন সহকারী প্রধান শিক্ষক আছে ? কতজন সরকারি শিক্ষক আছে।?এই ডাটা বা পরিসংখ্যান নিয়ে আমরা যদি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যাবে যে কোন সরকারের আমলেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তেমন কাজ করেনি।
বর্তমান সময়ের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫৫৬৭টি। হেড শিক্ষক এর পদ শূন্য আছে ৩৬,২৩৫টি। সহকারী শিক্ষক এর পদ শূন্য আছে ১৩,৫০০টি। আর সাধারণ শিক্ষক এর পদ খালি আছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার।
এখন প্রশ্ন হলো শেখ হাসিনা সরকার কেন এইসব শিক্ষক এর শূন্য পদে চাকরি দেয় নি। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে তারা কি এই প্রাথমিক শিক্ষার দিকে দৃষ্টিপাত করবে?
যদি শিক্ষকের পদে চাকরি দেয়া যায় তবে আমাদের এ প্রজন্মের বেকারত্ব কিছুটা হলেও দুর হবে। এবং প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয়গুলো সচল হবে । যাদের ঘামে ঝরানো ফসল খেয়ে আমরা জীবন ধারণ করে থাকি তাদের সন্তানরা শিক্ষার আলো পাবে। দেশে শিক্ষিতের হার বাড়বে।
লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক , সম্পাদক দি ব্যাংকার্স মিরর ও ত্রৈমাসিক মহুয়া।
ই- মেইলে: shakhaabb@gmail.com
জনপ্রিয়

প্রাথমিক স্কুল ও আমাদের শিক্ষা

প্রকাশের সময় : ০৩:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
প্রাথমিক স্কুল ও আমাদের শিক্ষা
হামিদুল আলম সখা
গুণিজনদের একটি সত:সিদ্ধ কথা, ” শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড।” সেই শিক্ষা শুরু হয় নিজের বাড়ি থেকে। বাবা – মায়ের কাছ থেকে। তারপর স্কুল। একসময় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছোট ওয়ান, বড় ওয়ান ছিল । এ দুটি ক্লাশ পাস করার পর ক্লাশ টু তে পড়তে হতো । এভাবেই একটি একটি করে উপরের ক্লাশে অধ্যায়ণ করে ক্লাশ টেন  পর্যন্ত পড়ে,  এস এস সি পরীক্ষা দিতে হতো।
আশির দশকে বাংলাদেশে কিন্ডার গার্ডেন নামে প্রাইভেট স্কুলের সূচনা হয়। অতি উৎসাহী হয়ে বাবা মা তার সন্তানকে ৫ বৎসর হবার আগেই কিন্ডার গার্ডেন এ বাচ্চা ভর্তি করিয়ে দেয়। এবং বাচ্চাটি পিছনে মায়েরা শ্রম দেয়। কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে মায়েরা গিয়ে বসে থাকে স্কুল ছুটি অব্দি। ধীরে ধীরে ব্যাঙের ছাতার মত এই কিন্ডার গার্ডেন স্কুল রাজধানীতে যেমন ভাবে বৃদ্ধি পায় তেমনি গতিতে জেলা , উপজেলায় প্রচুর কিন্ডার গার্ডেন স্কুল প্রতিষ্ঠা লাভ করে। যে বাচ্চাগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় যেতো সেই বাচ্চাগুলো কিন্ডার গার্ডেন স্কুলে যায়।ফলে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ছাত্র ছাত্রী শূন্য হয়ে পড়ে। এখানে কিছু দরিদ্র বাবা মার সন্তান পড়াশোনা করে।
বাংলাদেশ একটি কৃষি প্রধান দেশ এদেশের শতকরা ৮০ভাগ লোক কৃষির উপর নির্ভরশীল। আমরা যত যাই বলি না কেন , বাংলাদেশে এখনো শিল্পের দিকে অগ্রসর হতে পারেনি । কোন কোন সময় শিল্প যদি একটু এগিয়ে যায় , দেখা যায় দু চার  বছর পর ওইসব শিল্প রুগ্ন শিল্প হিসেবে দেখা যায় ।  সুতরাং আমরা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল । আর কৃষি উপনির্ভরশীল হওয়ার কারণে গ্রামেগঞ্জে যারা কৃষক তারা ফসল ফলায় । সেই ফসল আমরা পেয়ে থাকি এবং জীবন ধারণ করে থাকি ।  আমাদের দেশে কৃষকদের মূল্যায়ন তেমনটা হয় না । কারণ যারা শহরে থাকে তারা কৃষকদের সম্মান তো দেয় না মূল্যায়নও করে না । অথচ একজন কৃষক যে ধান চাষ করে সেই ধানের   চাল খেয়ে আমরা বেঁচে থাকি । যে গম করে সেই গমের আটা খেয়ে আমরা বেঁচে থাকি । কৃষকের উৎপাদিত পণ্য পাট, চা, মৎস ইত্যাদি আমরা বিদেশে রপ্তানি করে অনেক অর্থ আমরা পেয়ে থাকি।  আমাদের অধিকাংশ মানুষের রাজস্ব থেকে সরকার যে  অর্থ পায় তা দিয়ে দেশ চলে।
অথচ বাংলাদেশের সরকার  যখন বাজেট প্রণয়ন করে তখন কিন্তু কৃষকদের কথা , কৃষির কথা কোন সরকার  চিন্তা করে না । আমার মনে হয় সামরিক খাতে আমরা যে বাজেট প্রণয়ন করে থাকি তার চেয়ে অধিকারে বাজেট দেওয়া দরকার কৃষিখাতে । কারন আমাদের দেশের মূল ভিত্তি হলো কৃষি । অথচ কৃষি খাতকে আমরা সব সময় নিগৃহীত করি। সুতরাং কৃষককে বাঁচাতে হবে । তবেই কৃষি  বাঁচবে ।  কৃষকদের ছেলেমেয়েদের জন্য যে শিক্ষা ব্যবস্থা সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়।  এই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঢেলে সাজাতে হবে।  এখানে শিক্ষক নিয়োগ যথাযথ থাকতে হবে এখানে শিক্ষার্থী যারা থাকবে তাদের যথাযথ যত্ন করতে হবে এবং শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড’  এই প্রবাদ বাক্যকে শিরোধার্য করে আমাদেরকে এগিয়ে যেতে হবে।
এখন আসা যাক আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় কি করছে । প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় যদি সঠিকভাবে ডাটা নিতে পারে যে আমাদের দেশে কতগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ? সেই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কতজন প্রধান শিক্ষক আছে  ? কতজন সহকারী প্রধান শিক্ষক আছে ? কতজন সরকারি শিক্ষক আছে।?এই ডাটা বা পরিসংখ্যান নিয়ে আমরা যদি পর্যালোচনা করি তাহলে দেখা যাবে যে কোন সরকারের আমলেই প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর তেমন কাজ করেনি।
বর্তমান সময়ের একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায় বাংলাদেশে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় আছে ৬৫৫৬৭টি। হেড শিক্ষক এর পদ শূন্য আছে ৩৬,২৩৫টি। সহকারী শিক্ষক এর পদ শূন্য আছে ১৩,৫০০টি। আর সাধারণ শিক্ষক এর পদ খালি আছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার।
এখন প্রশ্ন হলো শেখ হাসিনা সরকার কেন এইসব শিক্ষক এর শূন্য পদে চাকরি দেয় নি। বর্তমান বিএনপি সরকার ক্ষমতায় রয়েছে তারা কি এই প্রাথমিক শিক্ষার দিকে দৃষ্টিপাত করবে?
যদি শিক্ষকের পদে চাকরি দেয়া যায় তবে আমাদের এ প্রজন্মের বেকারত্ব কিছুটা হলেও দুর হবে। এবং প্রাথমিক সরকারী বিদ্যালয়গুলো সচল হবে । যাদের ঘামে ঝরানো ফসল খেয়ে আমরা জীবন ধারণ করে থাকি তাদের সন্তানরা শিক্ষার আলো পাবে। দেশে শিক্ষিতের হার বাড়বে।
লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক , সম্পাদক দি ব্যাংকার্স মিরর ও ত্রৈমাসিক মহুয়া।
ই- মেইলে: shakhaabb@gmail.com