, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ :দাওয়াত পাননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • প্রকাশের সময় : ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ৮ পড়া হয়েছে
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ :দাওয়াত পাননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
অনলাইন শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
কিছুক্ষণ আগেই টেলিফোনে কথা হলো সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে। শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেয়ার পর জানতে চাইলাম—
বঙ্গভবনে নতুন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানে আপনাকে দেখলাম না? দাওয়াত পাননি?
উনার উত্তরটা ছিল এক কথায় হতবাক করে দেয়ার মতো!
সোজাসুজি বললেন, “ভাই, দাওয়াত না দিলে আমি যাব কীভাবে? দাওয়াত ছাড়া তো আর বঙ্গভবনে নিজে থেকে যাওয়া যায় না।”
বিষয়টি আমাকে সত্যিই বিস্মিত করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। ক্ষমতার পালাবদলও গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
কিন্তু একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে তাঁর উত্তরসূরির শপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো রাষ্ট্রীয় সৌজন্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টিতে প্রশ্ন তোলে।
বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন যেসব সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেগুলো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক বা ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর পদমর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান তো অস্বীকার করা যায় না।
অথচ দেখুন রাষ্ট্রীয় তামাশাটা কোন পর্যায়ের! যে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে প্রোটোকল ভেঙে দাওয়াতটুকু পর্যন্ত দেওয়া হলো না, সেই একই অনুষ্ঠানে কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ঠিকই দাওয়াত পেয়েছেন।
শুধু দাওয়াতই পাননি, তিনি অনুষ্ঠানমঞ্চে ভিভিআইপি আসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঠিক পাশে বসেছেন!
যে সাবেক রাষ্ট্রপতির হাত ধরে দেশের সংবিধান রক্ষা পেল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকল এবং এই নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হলো— তাকেই কি না নিজের উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে এভাবে ব্রাত্য রাখা হলো!
রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার। এই শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ দেশের ইতিহাসে একটা ‘বাজে দৃষ্টান্ত’ হয়ে থাকবে।
আজ যিনি সাবেক, একদিন বর্তমান রাষ্ট্রপতিও সাবেক হবেন। ব্যক্তি বদলান, সরকার বদলায়—কিন্তু রাষ্ট্রের মর্যাদা, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সৌজন্যের ধারাবাহিকতা টিকে থাকা জরুরি।

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানো তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে উপেক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও একটি অস্বস্তিকর দৃষ্টান্ত।

Helal Uddin’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ :দাওয়াত পাননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

প্রকাশের সময় : ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ :দাওয়াত পাননি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন
অনলাইন শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
কিছুক্ষণ আগেই টেলিফোনে কথা হলো সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সাথে। শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেয়ার পর জানতে চাইলাম—
বঙ্গভবনে নতুন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের শপথ অনুষ্ঠানে আপনাকে দেখলাম না? দাওয়াত পাননি?
উনার উত্তরটা ছিল এক কথায় হতবাক করে দেয়ার মতো!
সোজাসুজি বললেন, “ভাই, দাওয়াত না দিলে আমি যাব কীভাবে? দাওয়াত ছাড়া তো আর বঙ্গভবনে নিজে থেকে যাওয়া যায় না।”
বিষয়টি আমাকে সত্যিই বিস্মিত করেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে। ক্ষমতার পালাবদলও গণতন্ত্রের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
কিন্তু একজন সাবেক রাষ্ট্রপতিকে তাঁর উত্তরসূরির শপথের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ না জানানো রাষ্ট্রীয় সৌজন্য ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারের দৃষ্টিতে প্রশ্ন তোলে।
বিশেষ করে ৫ আগস্ট-পরবর্তী কঠিন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন যেসব সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, সেগুলো বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাঁর ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক বা ভিন্নমত থাকতে পারে, কিন্তু সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর পদমর্যাদা ও প্রাপ্য সম্মান তো অস্বীকার করা যায় না।
অথচ দেখুন রাষ্ট্রীয় তামাশাটা কোন পর্যায়ের! যে সাবেক রাষ্ট্রপতিকে প্রোটোকল ভেঙে দাওয়াতটুকু পর্যন্ত দেওয়া হলো না, সেই একই অনুষ্ঠানে কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস ঠিকই দাওয়াত পেয়েছেন।
শুধু দাওয়াতই পাননি, তিনি অনুষ্ঠানমঞ্চে ভিভিআইপি আসনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঠিক পাশে বসেছেন!
যে সাবেক রাষ্ট্রপতির হাত ধরে দেশের সংবিধান রক্ষা পেল, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকল এবং এই নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হলো— তাকেই কি না নিজের উত্তরসূরির শপথ অনুষ্ঠানে এভাবে ব্রাত্য রাখা হলো!
রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ জানানো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক শিষ্টাচার। এই শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ দেশের ইতিহাসে একটা ‘বাজে দৃষ্টান্ত’ হয়ে থাকবে।
আজ যিনি সাবেক, একদিন বর্তমান রাষ্ট্রপতিও সাবেক হবেন। ব্যক্তি বদলান, সরকার বদলায়—কিন্তু রাষ্ট্রের মর্যাদা, প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় সৌজন্যের ধারাবাহিকতা টিকে থাকা জরুরি।

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণ না জানানো তাই শুধু একজন ব্যক্তিকে উপেক্ষার প্রশ্ন নয়; এটি আমাদের রাষ্ট্রীয় ও রাজনৈতিক সংস্কৃতিরও একটি অস্বস্তিকর দৃষ্টান্ত।

Helal Uddin’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।