, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাত

  • প্রকাশের সময় : ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
  • ৫৭ পড়া হয়েছে
অনলাইন বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
হামিদুল আলম সখা
বাংলাদেশের জীবনে রাজনৈতিক বলি,অর্থনীতি বলি ,সামাজিক ব্যবস্থা বলি সবকিছুই নির্ভর করে আমাদের আর্থিক খাতের উপর। যে দেশে নিজস্ব উৎপাদন বেশি সমৃদ্ধ সেই দেশ তত উন্নত। অন্যভাবে বলা যায় যে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সমৃদ্ধ সেই দেশের অর্থনীতি তত সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ মূলত একটি কৃষি প্রধান দেশ। আমাদের দেশের উৎপাদিত পণ্য বিদেশি রপ্তানি করে আমরা বৈদেশিক  মুদ্রা অর্জন করে থাকি। আমাদের দেশে ধান ,পাট ,চা ,চামড়া,মৎস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশে একটি বিরাট সম্পদ মানব সম্পদ। আমরা জানি আমাদের মানব সম্পদ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী। তারা তাদের  উপার্জনের যে টাকা পাঠায় এটাকে আমরা  বৈদেশিক রেমিটেন্স বলে আখ্যায়িত করে থাকি। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদেশে গিয়ে শ্রমের বিনিময়ে অর্থ অর্জন করে থাকে।তারা যে অর্থ পেয়ে থাকে সেই টাকা আমাদের দেশে পাঠায়।  এটি আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। সুতরাং তাদেরকে কোন অবস্থায় খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। আমাদের দেশে পাঁচ বছর পর পর সরকার পরিবর্তন হয়ে থাকে। বিগত দিনের আমরা দেখেছি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার দল সরকারে ছিল। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় ১৬ বছর সরকারি ক্ষমতায় ছিল। এই সময়ে দেশের আর্থিক অবকাঠামো অনেক উন্নত হয়েছিল । যেমন রাস্তাঘাট, ব্রিজ ,কালভার্ট, মেট্রো রেল ,পদ্মা সেতু ,কর্ণফুলী টানেল , বিদ্যুতের বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে।যে কারণে আমাদের জাতীয় মাথাপিছু আয় বেরিয়েছিল। ২০২৪ এ আগস্ট মাসে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার এর পতন হয় । ২০২৪ সালের ৮ আগষ্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল কে বাদ রেখে অন্যান্য দল নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এই অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রধান হন ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। এই অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করে।তারা ১৮ মাস সরকার পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বিরোধী দলে থাকে জামাতে ইসলামী সহ ১১ দল।
যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন দেশকে সুন্দর ও সুস্থভাবে পরিচালনা করার জন্য দায়িত্ব নেয়। বর্তমান সরকার ২০২৬ ২৭ সালের বাজেট পেশ করেছে। জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা চলছে। বাজেটে সমস্ত মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে এক বছর যাতে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালিত  পারে সে রকম একটি বাজেট পেশ করেছে। অর্থমন্ত্রী জনাব আমির মাহমুদ খশরু বাজেট  পেশ করেন।এবারের বাজেটে ঘাটতি রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ঘাটতি বাজেট পূরণ করার জন্য রাজস্ব আয়, বৈদেশিক ঋণ উপর নির্ভরশীল হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন।
আমরা সাধারণত দেখে থাকি বাজেটে  গুরুত্ব দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাত, সামরিক খাত , শিল্প ও কৃষি খাত।
ঘাটতি বাজেট পূরণ করার জন্য আমাদেরকে রাজস্ব বাজেট ও বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। বিশ্ব ব্যাংক ,আইএমএফ ,এডিবি সাধারণত আমাদের ঋণ সহযোগিতা করে থাকে।  বৈশ্বিক ও দূর্যোগের বিরূপ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য ত্রান ও পুনর্বাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় বাজেটে।
আমাদের দেশের এখনো নিম্ন আয়ের মানুষ অনেক বেশী ৭০%-৮০% হওয়ায় কারণে  বাজেটে বিশেষ বিবেচনা করতে হয়। বলা হয়ে থাকে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আশা করি এবারের জাতীয় সংসদ সুষ্ঠুভাবে দেশ চালাতে পারবে।
#
লেখক: আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সম্পাদক, মহুয়া।
জনপ্রিয়

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও আর্থিক খাত

প্রকাশের সময় : ০৬:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬
হামিদুল আলম সখা
বাংলাদেশের জীবনে রাজনৈতিক বলি,অর্থনীতি বলি ,সামাজিক ব্যবস্থা বলি সবকিছুই নির্ভর করে আমাদের আর্থিক খাতের উপর। যে দেশে নিজস্ব উৎপাদন বেশি সমৃদ্ধ সেই দেশ তত উন্নত। অন্যভাবে বলা যায় যে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা যত সমৃদ্ধ সেই দেশের অর্থনীতি তত সমৃদ্ধ। বাংলাদেশ মূলত একটি কৃষি প্রধান দেশ। আমাদের দেশের উৎপাদিত পণ্য বিদেশি রপ্তানি করে আমরা বৈদেশিক  মুদ্রা অর্জন করে থাকি। আমাদের দেশে ধান ,পাট ,চা ,চামড়া,মৎস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আমাদের দেশে একটি বিরাট সম্পদ মানব সম্পদ। আমরা জানি আমাদের মানব সম্পদ পৃথিবীর সবচেয়ে বেশী। তারা তাদের  উপার্জনের যে টাকা পাঠায় এটাকে আমরা  বৈদেশিক রেমিটেন্স বলে আখ্যায়িত করে থাকি। লক্ষ লক্ষ মানুষ বিদেশে গিয়ে শ্রমের বিনিময়ে অর্থ অর্জন করে থাকে।তারা যে অর্থ পেয়ে থাকে সেই টাকা আমাদের দেশে পাঠায়।  এটি আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে। সুতরাং তাদেরকে কোন অবস্থায় খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। আমাদের দেশে পাঁচ বছর পর পর সরকার পরিবর্তন হয়ে থাকে। বিগত দিনের আমরা দেখেছি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার দল সরকারে ছিল। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় ১৬ বছর সরকারি ক্ষমতায় ছিল। এই সময়ে দেশের আর্থিক অবকাঠামো অনেক উন্নত হয়েছিল । যেমন রাস্তাঘাট, ব্রিজ ,কালভার্ট, মেট্রো রেল ,পদ্মা সেতু ,কর্ণফুলী টানেল , বিদ্যুতের বিভিন্ন অবকাঠামোর উন্নয়ন হয়েছে।যে কারণে আমাদের জাতীয় মাথাপিছু আয় বেরিয়েছিল। ২০২৪ এ আগস্ট মাসে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে  বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার এর পতন হয় । ২০২৪ সালের ৮ আগষ্ট বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল কে বাদ রেখে অন্যান্য দল নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। এই অন্তর্ভুক্তি সরকারের প্রধান হন ডঃ মুহাম্মদ ইউনুস। এই অন্তর্বর্তী সরকার বঙ্গভবনে মহামান্য রাষ্ট্রপতির নিকট শপথ গ্রহণ করে।তারা ১৮ মাস সরকার পরিচালনা করে। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। বিরোধী দলে থাকে জামাতে ইসলামী সহ ১১ দল।
যারাই ক্ষমতায় আসুক না কেন দেশকে সুন্দর ও সুস্থভাবে পরিচালনা করার জন্য দায়িত্ব নেয়। বর্তমান সরকার ২০২৬ ২৭ সালের বাজেট পেশ করেছে। জাতীয় সংসদে বাজেট নিয়ে আলোচনা চলছে। বাজেটে সমস্ত মন্ত্রণালয়ের দিকে তাকিয়ে এক বছর যাতে সুন্দরভাবে দেশ পরিচালিত  পারে সে রকম একটি বাজেট পেশ করেছে। অর্থমন্ত্রী জনাব আমির মাহমুদ খশরু বাজেট  পেশ করেন।এবারের বাজেটে ঘাটতি রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ঘাটতি বাজেট পূরণ করার জন্য রাজস্ব আয়, বৈদেশিক ঋণ উপর নির্ভরশীল হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মতামত ব্যক্ত করেছেন।
আমরা সাধারণত দেখে থাকি বাজেটে  গুরুত্ব দেওয়া হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত, শিক্ষা খাত, সামরিক খাত , শিল্প ও কৃষি খাত।
ঘাটতি বাজেট পূরণ করার জন্য আমাদেরকে রাজস্ব বাজেট ও বৈদেশিক ঋণের উপর নির্ভরশীল হতে হয়। বিশ্ব ব্যাংক ,আইএমএফ ,এডিবি সাধারণত আমাদের ঋণ সহযোগিতা করে থাকে।  বৈশ্বিক ও দূর্যোগের বিরূপ অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য ত্রান ও পুনর্বাসনকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয় বাজেটে।
আমাদের দেশের এখনো নিম্ন আয়ের মানুষ অনেক বেশী ৭০%-৮০% হওয়ায় কারণে  বাজেটে বিশেষ বিবেচনা করতে হয়। বলা হয়ে থাকে কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আশা করি এবারের জাতীয় সংসদ সুষ্ঠুভাবে দেশ চালাতে পারবে।
#
লেখক: আজীবন সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, সম্পাদক, মহুয়া।