, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজাকার’

  • প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
  • ৩৮ পড়া হয়েছে

অনলাইন  রবিবার, ০২ আগস্ট 

জামাতকে যখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ‘রাজাকার’ বলে গালমন্দ করে, তখন আমার অট্টহাসি আসে😁! 🤦‍♂️ নতুন প্রজন্ম এসব হয়তো মেনে নিচ্ছে, কারণ তারা সম্ভবত পেছনের আসল ইতিহাসটাই জানে না। চলুন, একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক:
১. বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
বিএনপির ১ম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান।
তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতা হয়ে জাতিসংঘে গিয়ে জোর গলায় বলেছিলেন— “আমি একজন বাঙালি হয়ে বলছি, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান ঢাকায় কোনো গণহত্যা চালায়নি।”
স্বাধীনতার পর তিনি ‘রাজাকার আইনে’ গ্রেফতার হয়ে ২ বছর জেল খাটেন। পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে ১৯৭৬ সালে মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন স্বাধীনতা-বিরোধী অপশক্তিকে নিয়ে দল গঠন করেন, যার নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’।
২. বিএনপির প্রথম সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায়):
তিনি ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া— আরেক প্রখ্যাত রাজাকার নেতা!
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজাকার আইনে তিনি ৫ বছর জেল খাটেন।
১৯৭৫ সালের নভেম্বরে মুক্ত হয়ে ভাসানীর দলে যোগ দেন এবং ভাসানীর মৃত্যুর পর ন্যাপ (ভাসানী)-এর প্রধান হন।
৩. জাগদল থেকে বিএনপি গঠন এবং জোটের রাজনীতি:
১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান ১৯ দফা ঘোষণা করে ‘জাগদল’ গঠন করেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের সভায় যদি ১০ হাজার মানুষ হতো, সেখানে শাহ আজিজ বা যাদু মিয়ার সভায় হতো ৪০ হাজার মানুষ!
ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের এই বিরোধী শক্তিগুলোর সাথে হাত মেলান। শাহ আজিজ ও যাদু মিয়াদের প্রস্তাবে দলের নাম পরিবর্তন করতে রাজি হন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ৩টি দল একত্রিত হয়ে জন্ম নেয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (BNP)।
ফলাফল? সারা বাংলাদেশের চিহ্নিত রাজাকার, চরম ডানপন্থী এবং পথভ্রষ্ট অতি-বামেরা দলবেঁধে বিএনপিতে যোগ দেয় এবং রাতারাতি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। 🔥
৪. জামায়াতের ভূমিকা:
ঐ একই সময়ে জিয়াউর রহমান জামায়াতের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খানকেও বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আব্বাস আলী খান বিএনপিকে পূর্ণাঙ্গ ‘ইসলামভিত্তিক দল’ বানানোর শর্ত দেওয়ায় জিয়াউর রহমান, শাহ আজিজ ও যাদু মিয়ারা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
ফলে জামায়াত ও বিএনপি একীভূত না হয়ে রাজনৈতিক ‘মিত্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতিতে একযোগে অবস্থান নেয়। 🤝
যে দলের ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে উঠেছে শাহ আজিজ আর যাদু মিয়াদের মতো চিহ্নিত রাজাকারদের কাঁধে ভর দিয়ে, সেই দলের মুখে ‘রাজাকার’ গালি দেওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়! 🎭

Habibur Rahman Khan’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন রাজাকার’

প্রকাশের সময় : ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬

অনলাইন  রবিবার, ০২ আগস্ট 

জামাতকে যখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা ‘রাজাকার’ বলে গালমন্দ করে, তখন আমার অট্টহাসি আসে😁! 🤦‍♂️ নতুন প্রজন্ম এসব হয়তো মেনে নিচ্ছে, কারণ তারা সম্ভবত পেছনের আসল ইতিহাসটাই জানে না। চলুন, একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক:
১. বিএনপির প্রথম প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?
বিএনপির ১ম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শাহ আজিজুর রহমান।
তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের প্রতিনিধিদলের নেতা হয়ে জাতিসংঘে গিয়ে জোর গলায় বলেছিলেন— “আমি একজন বাঙালি হয়ে বলছি, ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান ঢাকায় কোনো গণহত্যা চালায়নি।”
স্বাধীনতার পর তিনি ‘রাজাকার আইনে’ গ্রেফতার হয়ে ২ বছর জেল খাটেন। পরবর্তীতে মুক্ত হয়ে ১৯৭৬ সালে মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন স্বাধীনতা-বিরোধী অপশক্তিকে নিয়ে দল গঠন করেন, যার নাম দেওয়া হয় ‘জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট’।
২. বিএনপির প্রথম সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী (প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদায়):
তিনি ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া— আরেক প্রখ্যাত রাজাকার নেতা!
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজাকার আইনে তিনি ৫ বছর জেল খাটেন।
১৯৭৫ সালের নভেম্বরে মুক্ত হয়ে ভাসানীর দলে যোগ দেন এবং ভাসানীর মৃত্যুর পর ন্যাপ (ভাসানী)-এর প্রধান হন।
৩. জাগদল থেকে বিএনপি গঠন এবং জোটের রাজনীতি:
১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান ১৯ দফা ঘোষণা করে ‘জাগদল’ গঠন করেন। কিন্তু জিয়াউর রহমানের সভায় যদি ১০ হাজার মানুষ হতো, সেখানে শাহ আজিজ বা যাদু মিয়ার সভায় হতো ৪০ হাজার মানুষ!
ক্ষমতার সমীকরণ মেলাতে জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের এই বিরোধী শক্তিগুলোর সাথে হাত মেলান। শাহ আজিজ ও যাদু মিয়াদের প্রস্তাবে দলের নাম পরিবর্তন করতে রাজি হন জিয়াউর রহমান। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ৩টি দল একত্রিত হয়ে জন্ম নেয় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল’ (BNP)।
ফলাফল? সারা বাংলাদেশের চিহ্নিত রাজাকার, চরম ডানপন্থী এবং পথভ্রষ্ট অতি-বামেরা দলবেঁধে বিএনপিতে যোগ দেয় এবং রাতারাতি বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। 🔥
৪. জামায়াতের ভূমিকা:
ঐ একই সময়ে জিয়াউর রহমান জামায়াতের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আমীর আব্বাস আলী খানকেও বিএনপিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আব্বাস আলী খান বিএনপিকে পূর্ণাঙ্গ ‘ইসলামভিত্তিক দল’ বানানোর শর্ত দেওয়ায় জিয়াউর রহমান, শাহ আজিজ ও যাদু মিয়ারা তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
ফলে জামায়াত ও বিএনপি একীভূত না হয়ে রাজনৈতিক ‘মিত্র’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী রাজনীতিতে একযোগে অবস্থান নেয়। 🤝
যে দলের ভিত্তিপ্রস্তর গড়ে উঠেছে শাহ আজিজ আর যাদু মিয়াদের মতো চিহ্নিত রাজাকারদের কাঁধে ভর দিয়ে, সেই দলের মুখে ‘রাজাকার’ গালি দেওয়া ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কৌতুক ছাড়া আর কিছুই নয়! 🎭

Habibur Rahman Khan’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।