, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ” র” এর প্রধান কেন বাংলাদেশে এসেছেন?

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
  • ২৯ পড়া হয়েছে
অনলাইন বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীতে ভারতের চেয়ে ২২ গুণ ছোট স্বাধীন দেশটির নাম বাংলাদেশ।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪:৩১ মিনিটে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাকমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তানের আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীর নেতৃত্বে ৯৩ হাজার সৈন্যের আত্মসমর্পণের পর মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বলা হলো – ” শেখ মুজিব ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন।”
সেই গুজব এখনও চলছে। এভাবেই মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে গুটিকয়েক রাজনৈতিক দল।
বঙ্গবন্ধু কিছু একটা সই করছেন। তাঁর পাশেই সম্মানের সাথে দাঁড়িয়ে আছেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাকমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এটি ১৯৭২ সালের ১২ মার্চের ছবি। বঙ্গবন্ধকে ( Farewell Parade) বিদায়ী কুচকাওয়াজ জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নিজেদের বিদায়পত্র নিচ্ছেন পাকিস্তানী সেনারা।একটা দেশ স্বাধীন করে দেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়া পৃথিবীর মানবতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত। ইচ্ছে করলেই তারা বাংলাদেশ দখল করে নিতে পারতো। যুদ্ধের পর প্রায় তিন মাস বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ সরকার ” মাত্র এক টাকা” বেতন দিয়েছে , এমন একটি উদাহরণ পৃথিবীর কেউ দেখাতে পারবে না। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব এখনও অব্যাহত আছে।
১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। এখনও বাংলাদেশের সেই আয়তন আছে। গত ৫৫ বছরে ভারত সরকার বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জায়গাও দখল করেনি। ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ শাসন করেননি। কিন্তু গুজব রটিয়ে দেয়া হলো , ” শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন ! ” এমন হাস্যকর দাবির পক্ষে স্লোগান দেয়া জাতীয় কাঙালরা গত দুই বছরে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভারতের সাথে একটি চুক্তিও বাতিল করেননি। অর্থাৎ তাদের স্লোগান ” দিল্লী না ঢাকা ” পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার গত ৫৫ বছর ধরে নিজেদের লজ্জা স্থান ভারতের কাছে বন্ধক এই গুজব ও মিথ্যার ভয়াবহ রাজনীতি করছে বিএনপি ও জামায়াত। ভারত বিরোধিতা আর পাকিস্তান জিন্দাবাদ দেয়া ছাড়া বাংলাদেশের জন্য এদের একটা অর্জন বাংলাদেশের কোন নাগরিক দেখাতে পারবে না।
ভারতের নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াত ” গুজরাটের কসাই” বানিয়ে চায়না মন্ত্রী মমতার পক্ষে বহু বয়ান দেয়।সেই গুজরাটের কসাই এর ‘ র চীফ ” পরাগ জৈন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ” ভারত বয়কট ” স্লোগান কেউ শুনেছেন
ভারতের ” র ” এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াতের প্রোপাগান্ডা নতুন কিছু নয়। অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ” ২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে চাকরি করে ” এমন ভয়াবহ মিথ্যাচার পর্যন্ত করেছেন ‌
শেখ হাসিনার ১৬ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় কোন ” র চীফ ” বাংলাদেশে এসেছেন , এমন একটি দাপ্তরিক প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তখন আসলে জামায়াত ও হেফাজত ইসলাম ধ্বংস হয়ে গেছে গুজব ছড়িয়ে লুঙ্গি উল্টিয়ে পাকিস্তানের করাচী দেখিয়ে দিতো। আজ বিএনপি ও জামায়াতের লুঙ্গির তলায় পাকিস্তান জিন্দাবাদ ঠিক থাকলেও বাংলাদেশ ঠিক নাই। বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থা এমন হয়েছে যে , ” মোদী বাংলাদেশ সফরে আসলে এরা মোদীর পা ধুয়ে জল খাবে।”
জল তখন আর হিন্দুদের ভাষা থাকবে না ‌।
এজন্যই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতকে বলা হয় আন্তর্জাতিক মানের ভণ্ড। এই ভণ্ডদের চিকিৎসা নরেন্দ্র মোদীর হাতে।
বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াত ভণ্ডদের সবুজ সংকেত পেয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ” র” এর চীফ ঢাকায় পা দিয়েছেন। নয়তো তা কিছুতেই সম্ভব নয় , এটা একটা ছোট বাচ্চা শিশুও বুঝে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ও বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরাগ জৈন বাংলাদেশে এসেছেন ‌। তাঁর মানে হচ্ছে ” রিজিওনাল সিকিউরিটি ডায়ানামিকস” এর আড়ালে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ব্যাক ডোর তথা পেছনের দরজা দিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাথে গোপনে আঁতাত করেছে বিএনপি ও জামায়াত। দেশের মানুষকে ধর্মের নামে ” পাকিস্তানের কলা” খাইয়ে এত বছর বোকা বানিয়ে রেখেছিল এই আন্তর্জাতিক ভণ্ডরা।
গত দুই বছরে ধরে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে ” ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ ” । এখন সেটা নতুন সম্পর্কের রিসেট বাটনের মধ্যে আছে। পেছনের দরজা দিয়ে ( Conductive Environment) তথা অনুকূল পরিবেশের নামে শেখ হাসিনা নিয়ে চলছে দর- কষাকষি । কিন্তু জাতির সাথে তামাশা করে কেউ কেউ বলছে , ” শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকে তাকে সোজা ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে! “
তাই জাতীয় কাঙালদের কাছে আমার প্রশ্ন : বাংলাদেশ সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়াই কি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ” র” এর প্রধান বাংলাদেশে এসেছেন?
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান পরাগ জৈন বাংলাদেশে আসছেন, এটা পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জানে না
ওরা সব জানে। পাকিস্তানের এখন বেলুচিস্তান ও কাশ্মীর নিয়ে হাটু ভেঙে কোমর ভাঙার দশা। ১১ আগষ্ট বেলুচিস্তান কী একটা ঘোষণাও করে দিয়েছে। আজ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তার নিজ দেশে বিমান হামলা করে ২৭ জন পাকিস্তানের নাগরিক হত্যা করেছে। এজন্যই পাকিস্তানকে বলা হয় পৃথিবীর বৃহত্তম মেরুদণ্ডহীন দেশ। এই মেরুদণ্ডহীন দেশের পক্ষে বাংলাদেশের যে জাতীয় কাঙালরা স্লোগান দেয় তাদের ” ডিএনএ” নিয়ে খোদ পাকিস্তানের সরকার চিন্তিত।
পৃথিবীতে পাকিস্তানের দুটো আব্বা আছে । ভারতীয় মুভির একটি জনপ্রিয় ডায়ালগ ছিল – ” মেরা দো দো বাপ ” । এই দুই বাপের জন্ম দেশটির নাম হচ্ছে পাকিস্তান। এজন্যই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘ র’ প্রধান বাংলাদেশে আসার আগে চীন সফর করেছেন। মানে ” ডাল মে কুছ কালা হ্যায় ” । এসব অন্য একদিন বলবো। অর্থাৎ প্রথমে পাকিস্তানের বাপের চিকিৎসা , তারপর পাকিস্তানের আন্ডা বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দিতে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান।
বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার নাম হচ্ছে দীনেশ ত্রিবেদী । কাকে কীভাবে খেলতে হয় তা তিনি ভালোই জানেন।
তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তিনি দিল্লী উড়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করার জন্য।তাঁর মানে সবকিছুই পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এজন্যই বাংলাদেশের একটি প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে – ” তলে তলে টেম্পু চলে” ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই এই বিএনপি ও জামায়াত হচ্ছে তলে তলে টেম্পু চালানো পার্টি। এদের ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্লোগান ও গুজব ছড়ানো ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক অর্জন নেই। বিএনপি ও জামায়াত রাজনীতি করে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। ক্ষমতা জন্য এরা নরেন্দ্র মোদীকে বাপ ডাকলেও অবাক হবো না।যাদের নৈতিক চরিত্র বলে কিছুই নেই , তাদের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব। বিএনপি ও জামায়াত হচ্ছে একটা চরিত্রহীন রাজনৈতিক মুখোশ।
দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে বার্তাবাহক।ঢাকার বার্তা দিল্লীতে পৌঁছানো হচ্ছে তার কাজ।ব্রিকস ও বিমসটেক এর আড়ালে চলছে ” শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ” নিয়ে পেছনের দরজার আলোচনা। জনগণের কাছে লুকালেও বিএনপি ও জামায়াতের এসব রাজনৈতিক মুখোশ এখন আর কারো অজানা নয়। নরেন্দ্র মোদীর পা ধুয়ে জল খাওয়ার জন্য তারা এখন অস্থির হয়ে আছে। এই অস্থিরতার সুযোগটাই নিবেন নরেন্দ্র মোদি।আর কিছুদিন পর পাকিস্তান ডুবতে ডুবতে পাকিস্তানের আন্ডা বাচ্চাদের স্লোগান বাংলাদেশে পাল্টাতে শুরু করবে।
বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াতকে ” বাইট অ্যান্ড ব্লিংক ” ফাঁদে ফেলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিএনপি ও জামায়াত মোদী সরকারের বাইট নামক আকর্ষণীয় টোপ দেখে আর লোভ সামলাতে না পেরে এখন ফাঁদে আটকা পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে চীনের মতো নরেন্দ্র মোদী এখন ” ডেব্ট – ট্র্যাপ ডিপ্লোম্যাসি ‘ অনুসরণ করছে।‌নাও , খাও , এরপর ধরা দাও। নরেন্দ্র মোদীর এই জালে আটকা পড়েছে বিএনপি ও জামায়াত। চীনের একই জালে আটকা পড়ে পাকিস্তানের এখন যায় যায় অবস্থা। এজন্যই নরেন্দ্র মোদি ও বিএনপি জামায়াত সম্পর্কেকে বলা হয় –
” আজ বুঝবা না, বুঝবা কাল । পাছা থাপড়াবা , পাড়বা গাল। “
বিএনপি ও জামায়াত জাতীয় গুজব পার্টির ভবিষ্যৎ অন্ধকার । এদের ধ্বংস অনিবার্য। ধীরে ধীরে নরেন্দ্র মোদীর ” জিরো – সাম -গেম ” আপনিও বুঝতে শুরু করবেন। প্রতিপক্ষের মুভ অনুসরণ করেই এইবার নরেন্দ্র মোদী তার কিস্তিমাত করবেন। ইতিমধ্যে দীনেশ ত্রিবেদী ও পরাগ জৈনকে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী তার ” জুগজোয়াং” তথা লিবারেজ থিওরি খেলে দিয়েছেন।
এজন্যই বলা হয় –
” আপনার জয় মানেই প্রতিপক্ষের শতভাগ পরাজয়।”
সত্য সবসময় সুন্দর।
𝙻𝚊𝚜𝚝 𝙽𝚒𝚐𝚑𝚝 𝙿𝚘𝚜𝚝’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ” র” এর প্রধান কেন বাংলাদেশে এসেছেন?

প্রকাশের সময় : ১০:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
পৃথিবীতে ভারতের চেয়ে ২২ গুণ ছোট স্বাধীন দেশটির নাম বাংলাদেশ।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিকেল ৪:৩১ মিনিটে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাকমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার কাছে পাকিস্তানের আব্দুল্লাহ খান নিয়াজীর নেতৃত্বে ৯৩ হাজার সৈন্যের আত্মসমর্পণের পর মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বলা হলো – ” শেখ মুজিব ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন।”
সেই গুজব এখনও চলছে। এভাবেই মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা লুটছে গুটিকয়েক রাজনৈতিক দল।
বঙ্গবন্ধু কিছু একটা সই করছেন। তাঁর পাশেই সম্মানের সাথে দাঁড়িয়ে আছেন ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সেনাকমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। এটি ১৯৭২ সালের ১২ মার্চের ছবি। বঙ্গবন্ধকে ( Farewell Parade) বিদায়ী কুচকাওয়াজ জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নিজেদের বিদায়পত্র নিচ্ছেন পাকিস্তানী সেনারা।একটা দেশ স্বাধীন করে দেওয়ার মাত্র তিন মাসের মাথায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়া পৃথিবীর মানবতার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দৃষ্টান্ত। ইচ্ছে করলেই তারা বাংলাদেশ দখল করে নিতে পারতো। যুদ্ধের পর প্রায় তিন মাস বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে বাংলাদেশ সরকার ” মাত্র এক টাকা” বেতন দিয়েছে , এমন একটি উদাহরণ পৃথিবীর কেউ দেখাতে পারবে না। কিন্তু ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে গুজব এখনও অব্যাহত আছে।
১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়া বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৮ হাজার বর্গকিলোমিটার। এখনও বাংলাদেশের সেই আয়তন আছে। গত ৫৫ বছরে ভারত সরকার বাংলাদেশের এক ইঞ্চি জায়গাও দখল করেনি। ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ শাসন করেননি। কিন্তু গুজব রটিয়ে দেয়া হলো , ” শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনা ভারতের কাছে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন ! ” এমন হাস্যকর দাবির পক্ষে স্লোগান দেয়া জাতীয় কাঙালরা গত দুই বছরে শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবুর রহমানের ভারতের সাথে একটি চুক্তিও বাতিল করেননি। অর্থাৎ তাদের স্লোগান ” দিল্লী না ঢাকা ” পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার গত ৫৫ বছর ধরে নিজেদের লজ্জা স্থান ভারতের কাছে বন্ধক এই গুজব ও মিথ্যার ভয়াবহ রাজনীতি করছে বিএনপি ও জামায়াত। ভারত বিরোধিতা আর পাকিস্তান জিন্দাবাদ দেয়া ছাড়া বাংলাদেশের জন্য এদের একটা অর্জন বাংলাদেশের কোন নাগরিক দেখাতে পারবে না।
ভারতের নরেন্দ্র মোদীকে বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াত ” গুজরাটের কসাই” বানিয়ে চায়না মন্ত্রী মমতার পক্ষে বহু বয়ান দেয়।সেই গুজরাটের কসাই এর ‘ র চীফ ” পরাগ জৈন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। ” ভারত বয়কট ” স্লোগান কেউ শুনেছেন
ভারতের ” র ” এর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াতের প্রোপাগান্ডা নতুন কিছু নয়। অন্তবর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ” ২৬ লক্ষ ভারতীয় বাংলাদেশে চাকরি করে ” এমন ভয়াবহ মিথ্যাচার পর্যন্ত করেছেন ‌
শেখ হাসিনার ১৬ বছর রাষ্ট্র ক্ষমতায় কোন ” র চীফ ” বাংলাদেশে এসেছেন , এমন একটি দাপ্তরিক প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তখন আসলে জামায়াত ও হেফাজত ইসলাম ধ্বংস হয়ে গেছে গুজব ছড়িয়ে লুঙ্গি উল্টিয়ে পাকিস্তানের করাচী দেখিয়ে দিতো। আজ বিএনপি ও জামায়াতের লুঙ্গির তলায় পাকিস্তান জিন্দাবাদ ঠিক থাকলেও বাংলাদেশ ঠিক নাই। বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থা এমন হয়েছে যে , ” মোদী বাংলাদেশ সফরে আসলে এরা মোদীর পা ধুয়ে জল খাবে।”
জল তখন আর হিন্দুদের ভাষা থাকবে না ‌।
এজন্যই বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও জামায়াতকে বলা হয় আন্তর্জাতিক মানের ভণ্ড। এই ভণ্ডদের চিকিৎসা নরেন্দ্র মোদীর হাতে।
বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াত ভণ্ডদের সবুজ সংকেত পেয়ে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ” র” এর চীফ ঢাকায় পা দিয়েছেন। নয়তো তা কিছুতেই সম্ভব নয় , এটা একটা ছোট বাচ্চা শিশুও বুঝে। বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ ও বাংলাদেশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরাগ জৈন বাংলাদেশে এসেছেন ‌। তাঁর মানে হচ্ছে ” রিজিওনাল সিকিউরিটি ডায়ানামিকস” এর আড়ালে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন নিয়ে ব্যাক ডোর তথা পেছনের দরজা দিয়ে নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাথে গোপনে আঁতাত করেছে বিএনপি ও জামায়াত। দেশের মানুষকে ধর্মের নামে ” পাকিস্তানের কলা” খাইয়ে এত বছর বোকা বানিয়ে রেখেছিল এই আন্তর্জাতিক ভণ্ডরা।
গত দুই বছরে ধরে বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্রনীতি হচ্ছে ” ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ ” । এখন সেটা নতুন সম্পর্কের রিসেট বাটনের মধ্যে আছে। পেছনের দরজা দিয়ে ( Conductive Environment) তথা অনুকূল পরিবেশের নামে শেখ হাসিনা নিয়ে চলছে দর- কষাকষি । কিন্তু জাতির সাথে তামাশা করে কেউ কেউ বলছে , ” শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বিমানবন্দর থেকে তাকে সোজা ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে যাওয়া হবে! “
তাই জাতীয় কাঙালদের কাছে আমার প্রশ্ন : বাংলাদেশ সরকারের সবুজ সংকেত ছাড়াই কি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ” র” এর প্রধান বাংলাদেশে এসেছেন?
ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান পরাগ জৈন বাংলাদেশে আসছেন, এটা পাকিস্তান সরকার ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই জানে না
ওরা সব জানে। পাকিস্তানের এখন বেলুচিস্তান ও কাশ্মীর নিয়ে হাটু ভেঙে কোমর ভাঙার দশা। ১১ আগষ্ট বেলুচিস্তান কী একটা ঘোষণাও করে দিয়েছে। আজ পাকিস্তানের সেনাবাহিনী তার নিজ দেশে বিমান হামলা করে ২৭ জন পাকিস্তানের নাগরিক হত্যা করেছে। এজন্যই পাকিস্তানকে বলা হয় পৃথিবীর বৃহত্তম মেরুদণ্ডহীন দেশ। এই মেরুদণ্ডহীন দেশের পক্ষে বাংলাদেশের যে জাতীয় কাঙালরা স্লোগান দেয় তাদের ” ডিএনএ” নিয়ে খোদ পাকিস্তানের সরকার চিন্তিত।
পৃথিবীতে পাকিস্তানের দুটো আব্বা আছে । ভারতীয় মুভির একটি জনপ্রিয় ডায়ালগ ছিল – ” মেরা দো দো বাপ ” । এই দুই বাপের জন্ম দেশটির নাম হচ্ছে পাকিস্তান। এজন্যই ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘ র’ প্রধান বাংলাদেশে আসার আগে চীন সফর করেছেন। মানে ” ডাল মে কুছ কালা হ্যায় ” । এসব অন্য একদিন বলবো। অর্থাৎ প্রথমে পাকিস্তানের বাপের চিকিৎসা , তারপর পাকিস্তানের আন্ডা বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দিতে বাংলাদেশে এসেছেন ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনীর প্রধান।
বাংলাদেশের ভারতীয় হাইকমিশনার নাম হচ্ছে দীনেশ ত্রিবেদী । কাকে কীভাবে খেলতে হয় তা তিনি ভালোই জানেন।
তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাতের মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই তিনি দিল্লী উড়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদির সাথে দেখা করার জন্য।তাঁর মানে সবকিছুই পূর্বপরিকল্পিত ছিল। এজন্যই বাংলাদেশের একটি প্রচলিত প্রবাদ হচ্ছে – ” তলে তলে টেম্পু চলে” ।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকেই এই বিএনপি ও জামায়াত হচ্ছে তলে তলে টেম্পু চালানো পার্টি। এদের ভারতের বিরুদ্ধে মিথ্যা স্লোগান ও গুজব ছড়ানো ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক অর্জন নেই। বিএনপি ও জামায়াত রাজনীতি করে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। ক্ষমতা জন্য এরা নরেন্দ্র মোদীকে বাপ ডাকলেও অবাক হবো না।যাদের নৈতিক চরিত্র বলে কিছুই নেই , তাদের পক্ষে সবকিছুই সম্ভব। বিএনপি ও জামায়াত হচ্ছে একটা চরিত্রহীন রাজনৈতিক মুখোশ।
দীনেশ ত্রিবেদী হচ্ছেন নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে বার্তাবাহক।ঢাকার বার্তা দিল্লীতে পৌঁছানো হচ্ছে তার কাজ।ব্রিকস ও বিমসটেক এর আড়ালে চলছে ” শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ” নিয়ে পেছনের দরজার আলোচনা। জনগণের কাছে লুকালেও বিএনপি ও জামায়াতের এসব রাজনৈতিক মুখোশ এখন আর কারো অজানা নয়। নরেন্দ্র মোদীর পা ধুয়ে জল খাওয়ার জন্য তারা এখন অস্থির হয়ে আছে। এই অস্থিরতার সুযোগটাই নিবেন নরেন্দ্র মোদি।আর কিছুদিন পর পাকিস্তান ডুবতে ডুবতে পাকিস্তানের আন্ডা বাচ্চাদের স্লোগান বাংলাদেশে পাল্টাতে শুরু করবে।
বাংলাদেশের বিএনপি ও জামায়াতকে ” বাইট অ্যান্ড ব্লিংক ” ফাঁদে ফেলেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। বিএনপি ও জামায়াত মোদী সরকারের বাইট নামক আকর্ষণীয় টোপ দেখে আর লোভ সামলাতে না পেরে এখন ফাঁদে আটকা পড়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে চীনের মতো নরেন্দ্র মোদী এখন ” ডেব্ট – ট্র্যাপ ডিপ্লোম্যাসি ‘ অনুসরণ করছে।‌নাও , খাও , এরপর ধরা দাও। নরেন্দ্র মোদীর এই জালে আটকা পড়েছে বিএনপি ও জামায়াত। চীনের একই জালে আটকা পড়ে পাকিস্তানের এখন যায় যায় অবস্থা। এজন্যই নরেন্দ্র মোদি ও বিএনপি জামায়াত সম্পর্কেকে বলা হয় –
” আজ বুঝবা না, বুঝবা কাল । পাছা থাপড়াবা , পাড়বা গাল। “
বিএনপি ও জামায়াত জাতীয় গুজব পার্টির ভবিষ্যৎ অন্ধকার । এদের ধ্বংস অনিবার্য। ধীরে ধীরে নরেন্দ্র মোদীর ” জিরো – সাম -গেম ” আপনিও বুঝতে শুরু করবেন। প্রতিপক্ষের মুভ অনুসরণ করেই এইবার নরেন্দ্র মোদী তার কিস্তিমাত করবেন। ইতিমধ্যে দীনেশ ত্রিবেদী ও পরাগ জৈনকে দিয়ে নরেন্দ্র মোদী তার ” জুগজোয়াং” তথা লিবারেজ থিওরি খেলে দিয়েছেন।
এজন্যই বলা হয় –
” আপনার জয় মানেই প্রতিপক্ষের শতভাগ পরাজয়।”
সত্য সবসময় সুন্দর।
𝙻𝚊𝚜𝚝 𝙽𝚒𝚐𝚑𝚝 𝙿𝚘𝚜𝚝’s Post
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।