, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এস এম জামাল উদ্দিনমৃত্যু বার্ষিকী

  • প্রকাশের সময় : ১১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৬৩ পড়া হয়েছে

রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,

আজ চট্রল বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা,
চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা, ৮০-৯০ দশকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রতি অবহেলার প্রথম প্রতিবাদী জনপ্রিয় সংগঠন বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ( যে সংগঠনের আমি ছিলাম প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক) রাজনীতিবিদ এস এম জামাল উদ্দিন এর মৃত্যু বার্ষিকী। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
এস এম জামাল উদ্দিন হাটহাজারী থানার প্রথম মুসলিম ডিগ্রী পাশ হেদায়েত আলী মাস্টারের ২য় সন্তান। তিনি স্কুল জীবন হতে রাজনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের জড়িত ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ-র কাছের মানুষ ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি এম এ আজিজের শীষ্য ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি চেরাগী পাহাড়স্হ আজাদী পত্রিকার অফিসের পাশে তাঁর নিজ বাণিজ্যিক ভবনকে আমার প্রস্তাবে ১৯৮৮ সালে বঙ্গবন্ধুর নামে নাম করণ করেছেন। এরশাদ আমলে চট্টগ্রাম যখন অবহেলিত হচ্ছিল তখন সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে আমি ও শিল্পী শাহরিয়ার খালেদের ( ইতিমধ্যে আমরা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটি করে সফল আন্দোলন করেছি) প্রস্তাব অনুযায়ী ও সর্বসম্মতিক্রমে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবীতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন,তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠা থেকে এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে একটা বিশাল চ্যালেন্জ আমি গ্রহণ করি। ইতিমধ্যে আমি দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি করে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে আর সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে কাজের ইতিমধ্যে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যেটি ছিল এই সংগ্রামের জন্য অনেক সহায়ক । এ কমিটিতে আওয়ামী লীগের এম এ মন্নান, এসকে শামসুল হুদার, বিএনপির আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন, বাকশালের মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী, গণ ফোরামের নূরুল আমিন, সিপিবির মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যপের কামাল আজিজুল হক, আজাদীর অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কবির, এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, ছাত্র লীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র দল নেতা, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংস্থার আবদুল হামিদ, সমাজসেবক মা ও শিশু হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজনীতিবিদ কালাম চৌধুরী, শিক্ষক নেতা রফিকুল আনোয়ার সিদ্দিকী ছিলেন । এর পর যুক্ত হয়েছেন পূর্বকোণের ইউসুফ চৌধুরী, অধ্যাপক মমতাজউদদীন, ছাত্রনেতা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাংবাদিক নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট মনজুর মাহমুদ, অধ্যাপক শফিউল বশর, কমার্স কলেজের সাবেক জিএস সোলায়মান খাঁন. এডভোকেট কবির কোরাইশী, অধ্যাপিকা সালমা চৌধুরী, এম এ সালাম, অধ্যাপিকা রওশন আরা, মাজহারুল হক শাহ এমপি, আবদুস শুক্কুর সহ অনেকে । সকল মত ও দলের নেতাদের নিয়ে একসাথে কাজ করা কঠিন ছিল তবে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রয়োজন আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলাম এবং পেয়েছিলাম ৫ শতাধিক সংগঠনের সমর্থন । সর্বাত্মক সফল হয়েছিলো অনেক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৫ দফার ভিত্তিতে ১৯৮৯ সালের ৩০ -৩১ ডিসেম্বর বৃহত্তর চট্টগ্রামে আমাদের ৪৮ ঘন্টা হরতাল ।
সেই আন্দোলন না হলে চট্টগ্রাম আজ একশত বছর পিছিয়ে থাকতো। এস এম জামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম বিষয়ে কোন আপোষ করেন নাই এবং চট্টগ্রাম উন্নয়নের দাবীতে কয়েকটি সফল হরতাল, অবরোধ, গন অনশন, প্রতিবাদী জনসভাসহ শত কর্মসুচী পালন করেছেন।তাঁর এই অবদানের জন্য ” চট্টল বন্ধু ” উপাধি দেওয়া হয় ।
২০১৫ থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে আমরা সেই সংগ্রামকেই অব্যাহত রেখেছি। তাঁর সুযোগ্য কন্যা ডাঃ নাহিদা খানম নাগরিক ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমানে সৌদিআরবে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত । আমাদের প্রতিষ্ঠিত সেই বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটিও এখনো আছে, জামাল সাহেবের মৃত্যুর পর পরবর্তীতে সভাপতি হয়েছেন পুর্বকোণ পত্রিকার সম্পাদক ইউসুফ চৌধুরী, তসলিম উদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমানে জসিমউদ্দীন চৌধুরী ।
এস এম জামাল উদ্দিন ৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে হাটহাজারী আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ব্যার্রিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে এবং এর পর তৎকালীন চট্টগ্রাম পৌরসভার ( এখন সিটি কর্পোরেশন) এর ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন।
তাঁর নামে চট্টগ্রামে একটি সড়ক নামকরণের জন্য তৎকালীন মেয়র মহিউদ্দীন সাহেব ঘোষণা দিলেও আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে আমি জামাল সাহেবের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, আরেকজন মেয়র ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, কিন্তু কিছুই হয়নি । এখন যাঁরা এসব এবং সরকারি মন্ত্রী, এমপি ইত্যাদি চট্টগ্রাম থেকে আছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে বলবো- আপনারা এখন যেই চট্টগ্রাম দেখছেন, যেটুকু উন্নয়নের উপর দাঁড়িয়ে আপনারা আছেন সেটা আজ আপনারা দেখতেন না যদিনা আমরা কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য আর এর প্রতি অবহেলা ও বিমাতাসুলভ আচরণের প্রতিবাদ না করতাম । এ জন্য অতীতে এস এম জামাল উদ্দিন এবং আমাদেরকে পুলিশী হয়রানি, গ্রেফতারী পরোয়ানার সম্মুখীন হতে হয়েছে , আন্দোলন চালিয়ে যেতে নিজেদের পকেট থেকে অর্থ ব্যয়, সময় ব্যয়সহ অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে । কিন্তু অনেক সুযোগ থাকলেও এর বিনিময়ে আমরা কোন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করিনি । কাজেই বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম জামাল উদ্দিনের নামে পূর্ব প্রতিশ্রুত একটি সড়ক বা কিছু একটা চট্টগ্রাম শহরে করে আপনারা আপনাদের কর্তব্যটুকু পালন করুন ।
( এ লিখাতে কারো নাম বাদ গেলে, জানাবেন।

Monwar Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এস এম জামাল উদ্দিনমৃত্যু বার্ষিকী

প্রকাশের সময় : ১১:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,

আজ চট্রল বন্ধু বীর মুক্তিযোদ্ধা,
চট্টগ্রাম উন্নয়ন আন্দোলনের পুরোধা, ৮০-৯০ দশকে বৃহত্তর চট্টগ্রামের প্রতি অবহেলার প্রথম প্রতিবাদী জনপ্রিয় সংগঠন বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন গণ-সংগ্রাম কমিটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ( যে সংগঠনের আমি ছিলাম প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক) রাজনীতিবিদ এস এম জামাল উদ্দিন এর মৃত্যু বার্ষিকী। আমি তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।
এস এম জামাল উদ্দিন হাটহাজারী থানার প্রথম মুসলিম ডিগ্রী পাশ হেদায়েত আলী মাস্টারের ২য় সন্তান। তিনি স্কুল জীবন হতে রাজনীতি ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের জড়িত ছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এ-র কাছের মানুষ ছিলেন।
বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে বাংলাদেশ শ্রমিক লীগ প্রতিষ্ঠায় অন্যতম ভুমিকা পালন করেছেন। তিনি এম এ আজিজের শীষ্য ছিলেন এবং মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। তিনি চেরাগী পাহাড়স্হ আজাদী পত্রিকার অফিসের পাশে তাঁর নিজ বাণিজ্যিক ভবনকে আমার প্রস্তাবে ১৯৮৮ সালে বঙ্গবন্ধুর নামে নাম করণ করেছেন। এরশাদ আমলে চট্টগ্রাম যখন অবহেলিত হচ্ছিল তখন সামরিক শাসনকে উপেক্ষা করে আমি ও শিল্পী শাহরিয়ার খালেদের ( ইতিমধ্যে আমরা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিয়ে চাক্তাই খাল খনন সংগ্রাম কমিটি করে সফল আন্দোলন করেছি) প্রস্তাব অনুযায়ী ও সর্বসম্মতিক্রমে বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নের দাবীতে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন,তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সংগ্রাম কমিটির চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রতিষ্ঠা থেকে এ কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে একটা বিশাল চ্যালেন্জ আমি গ্রহণ করি। ইতিমধ্যে আমি দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতি করে আর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে আর সর্বস্তরের মানুষকে নিয়ে কাজের ইতিমধ্যে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, যেটি ছিল এই সংগ্রামের জন্য অনেক সহায়ক । এ কমিটিতে আওয়ামী লীগের এম এ মন্নান, এসকে শামসুল হুদার, বিএনপির আব্দুল্লাহ আল নোমান, মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন, বাকশালের মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন চৌধুরী, গণ ফোরামের নূরুল আমিন, সিপিবির মোহাম্মদ শাহ আলম, ন্যপের কামাল আজিজুল হক, আজাদীর অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদ, আইনজীবী সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল কবির, এডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, পরিবহন মালিক সমিতির নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন নেতা, ছাত্র লীগ, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র দল নেতা, সাংবাদিক, ক্রীড়া সংস্থার আবদুল হামিদ, সমাজসেবক মা ও শিশু হাসপাতালের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শেখ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, রাজনীতিবিদ কালাম চৌধুরী, শিক্ষক নেতা রফিকুল আনোয়ার সিদ্দিকী ছিলেন । এর পর যুক্ত হয়েছেন পূর্বকোণের ইউসুফ চৌধুরী, অধ্যাপক মমতাজউদদীন, ছাত্রনেতা মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, সাংবাদিক নাসিরউদ্দিন চৌধুরী, এডভোকেট মনজুর মাহমুদ, অধ্যাপক শফিউল বশর, কমার্স কলেজের সাবেক জিএস সোলায়মান খাঁন. এডভোকেট কবির কোরাইশী, অধ্যাপিকা সালমা চৌধুরী, এম এ সালাম, অধ্যাপিকা রওশন আরা, মাজহারুল হক শাহ এমপি, আবদুস শুক্কুর সহ অনেকে । সকল মত ও দলের নেতাদের নিয়ে একসাথে কাজ করা কঠিন ছিল তবে বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রয়োজন আমরা সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পেরেছিলাম এবং পেয়েছিলাম ৫ শতাধিক সংগঠনের সমর্থন । সর্বাত্মক সফল হয়েছিলো অনেক আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৫ দফার ভিত্তিতে ১৯৮৯ সালের ৩০ -৩১ ডিসেম্বর বৃহত্তর চট্টগ্রামে আমাদের ৪৮ ঘন্টা হরতাল ।
সেই আন্দোলন না হলে চট্টগ্রাম আজ একশত বছর পিছিয়ে থাকতো। এস এম জামাল উদ্দিন চট্টগ্রাম বিষয়ে কোন আপোষ করেন নাই এবং চট্টগ্রাম উন্নয়নের দাবীতে কয়েকটি সফল হরতাল, অবরোধ, গন অনশন, প্রতিবাদী জনসভাসহ শত কর্মসুচী পালন করেছেন।তাঁর এই অবদানের জন্য ” চট্টল বন্ধু ” উপাধি দেওয়া হয় ।
২০১৫ থেকে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম গঠন করে আমরা সেই সংগ্রামকেই অব্যাহত রেখেছি। তাঁর সুযোগ্য কন্যা ডাঃ নাহিদা খানম নাগরিক ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমানে সৌদিআরবে চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত । আমাদের প্রতিষ্ঠিত সেই বৃহত্তর চট্টগ্রাম উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটিও এখনো আছে, জামাল সাহেবের মৃত্যুর পর পরবর্তীতে সভাপতি হয়েছেন পুর্বকোণ পত্রিকার সম্পাদক ইউসুফ চৌধুরী, তসলিম উদ্দিন চৌধুরী ও বর্তমানে জসিমউদ্দীন চৌধুরী ।
এস এম জামাল উদ্দিন ৭৯ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে হাটহাজারী আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ব্যার্রিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের বিরুদ্ধে এবং এর পর তৎকালীন চট্টগ্রাম পৌরসভার ( এখন সিটি কর্পোরেশন) এর ভাইস চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছিলেন।
তাঁর নামে চট্টগ্রামে একটি সড়ক নামকরণের জন্য তৎকালীন মেয়র মহিউদ্দীন সাহেব ঘোষণা দিলেও আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে আমি জামাল সাহেবের রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, আরেকজন মেয়র ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলাম, কিন্তু কিছুই হয়নি । এখন যাঁরা এসব এবং সরকারি মন্ত্রী, এমপি ইত্যাদি চট্টগ্রাম থেকে আছেন তাঁদের উদ্দেশ্যে বলবো- আপনারা এখন যেই চট্টগ্রাম দেখছেন, যেটুকু উন্নয়নের উপর দাঁড়িয়ে আপনারা আছেন সেটা আজ আপনারা দেখতেন না যদিনা আমরা কক্সবাজারসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য আর এর প্রতি অবহেলা ও বিমাতাসুলভ আচরণের প্রতিবাদ না করতাম । এ জন্য অতীতে এস এম জামাল উদ্দিন এবং আমাদেরকে পুলিশী হয়রানি, গ্রেফতারী পরোয়ানার সম্মুখীন হতে হয়েছে , আন্দোলন চালিয়ে যেতে নিজেদের পকেট থেকে অর্থ ব্যয়, সময় ব্যয়সহ অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে । কিন্তু অনেক সুযোগ থাকলেও এর বিনিময়ে আমরা কোন সরকারি সুবিধা গ্রহণ করিনি । কাজেই বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম জামাল উদ্দিনের নামে পূর্ব প্রতিশ্রুত একটি সড়ক বা কিছু একটা চট্টগ্রাম শহরে করে আপনারা আপনাদের কর্তব্যটুকু পালন করুন ।
( এ লিখাতে কারো নাম বাদ গেলে, জানাবেন।

Monwar Hossain’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।