, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান না ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি

  • প্রকাশের সময় : ১৮ ঘন্টা আগে
  • ৪ পড়া হয়েছে
অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,

মাত্র ১৫ মাস আগে প্রিন্স হ্যারি বলেছিলেন, ‘এমন কোনো পরিস্থিতি আমি কল্পনা করতে পারি না, যেখানে আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের আবার যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসব।’

রাজপরিবারের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে মীমাংসার অযোগ্য বিরোধ, বৈরী গণমাধ্যম এবং প্রকাশ্যে রাজপরিবারের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হওয়া ব্রিটিশ জনসাধারণের তোপের মুখে ২০২০ সালে ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

সে সময় হ্যারি বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমার সন্তানদের আমার জন্মভূমি দেখাতে পারব না—এটা সত্যিই খুব দুঃখজনক।’

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে, হ্যারির সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্ক আরও মেরামত করার সুযোগ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ক্যানসার ধরা পড়ে। বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, চিকিৎসায় চার্লস ভালো সাড়া দিচ্ছেন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারীরা বলেছেন, পরিবারটি লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকবে।

তাদের এই ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের কিছু মানুষের মনে একটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তা হলো—কী বদলে গেল?

রাজপরিবারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারীদের মতে, এর একটি কারণ হতে পারে সন্তানদের নিয়ে হ্যারির আকাঙ্ক্ষা। তিনি যেভাবে বড় হয়েছেন, নিজের সন্তানদের তিনি হয়তো তেমনভাবেই বড় করতে চান। তিনি অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে নিজের শৈশবের মধুর স্মৃতি স্মরণ করেন।

‘ব্রিটেন (যুক্তরাজ্য) আমার সন্তানদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি চাই, তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছে, যুক্তরাজ্যেও যেন ততটাই স্বাচ্ছন্দ্য ও আপন অনুভব করে।

প্রিন্স হ্যারি

তবে হ্যারি এ–ও চান, তাঁর সন্তানেরা যেন জনসাধারণের অতিরিক্ত নজরদারি ও সংবাদমাধ্যমের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ছাড়াই সে অভিজ্ঞতা পায়।

প্রিন্স হ্যারি বারবার এ বিষয়গুলোর নিন্দা করেছেন।

২০২৩ সালে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতে এক শুনানিতে হ্যারির আইনজীবী তাঁর একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে হ্যারি বলেন, ‘ব্রিটেন (যুক্তরাজ্য) আমার সন্তানদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি চাই, তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছে, যুক্তরাজ্যেও যেন ততটাই স্বাচ্ছন্দ্য ও আপন অনুভব করে।’

প্রথম সন্তান আর্চিকে কোলে নিয়ে মেগান ও প্রিন্স হ্যারি। ছবিটি ২০১৯ সালে আর্চির জন্মের কয়েক মাস পর তোলাছবি: রয়টার্স

এ নিয়ে ‘আফটার এলিজাবেথ: ক্যান দ্য মনার্কি সেভ ইটসেলফ?’—বইয়ের লেখক এবং রয়্যাল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির ফেলো এড ওয়েন্স বলেন, ‘তাঁরা চান, তাঁদের সন্তানেরা যেমন মার্কিন হিসেবে বেড়ে উঠবে, তেমনি যুক্তরাজ্যে নাগরিক হিসেবেও বেড়ে উঠুক। তাঁরা চান, সন্তানেরা তাদের বাবার দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও উত্তরাধিকারকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করুক।’

এই লেখক মনে করেন, হ্যারি দ্রুতই ফিরবেন। এখানে আরও কিছু বিষয় কাজ করছে বলেও মনে করেন তিনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে, হ্যারির সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্ক আরও মেরামত করার সুযোগ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ক্যানসার ধরা পড়ে। বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, চিকিৎসায় চার্লস ভালো সাড়া দিচ্ছেন।

তবে গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছিলেন, ‘আমার বাবা আর কত দিন বেঁচে থাকবেন, তা আমি জানি না।’

গত ছয় বছরে আটলান্টিকের ওপারে থেকে হ্যারি ও মেগান প্রকাশ্যে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের তীব্র সমালোচনা করে গেছেন। বিবিসিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকার ছিল তার সর্বশেষ অধ্যায়।

২০২৫ সালে হ্যারি তাঁর বাবার সঙ্গে রাজার লন্ডনের বাসভবনে চা পান করেন। এটিকে তাঁদের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়। গত মাসে হ্যারি ও মেগান তাঁদের সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে গেলে বাবা ও ছেলের সম্পর্কে দূরত্ব আরও কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। তাঁরা লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের বাসভবন হাইগ্রোভ হাউসে রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন।

অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে, ‘স্পেয়ার’ নামের একটি বইয়ে এবং নেটফ্লিক্সে ছয় পর্বের প্রামাণ্যচিত্রে হ্যারি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে এমনভাবে ক্ষোভ উগরে দেন, যা এর আগে রাজপরিবারের কোনো সাবেক সদস্য করার সাহস দেখাননি।

২০২৫ সালে হ্যারি তাঁর বাবার সঙ্গে রাজার লন্ডনের বাসভবনে চা পান করেন। এটিকে তাঁদের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়।

আর গত মাসে হ্যারি ও মেগান তাঁদের সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে গেলে বাবা ও ছেলের সম্পর্কে দূরত্ব আরও কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। পরিবারটি লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের বাসভবন হাইগ্রোভ হাউসে রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে।

জনপ্রিয়

যুক্তরাজ্যে ফিরতে চান না ফিরছেন প্রিন্স হ্যারি

প্রকাশের সময় : ১৮ ঘন্টা আগে
অনলাইন সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬,

মাত্র ১৫ মাস আগে প্রিন্স হ্যারি বলেছিলেন, ‘এমন কোনো পরিস্থিতি আমি কল্পনা করতে পারি না, যেখানে আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানদের আবার যুক্তরাজ্যে নিয়ে আসব।’

রাজপরিবারের সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে মীমাংসার অযোগ্য বিরোধ, বৈরী গণমাধ্যম এবং প্রকাশ্যে রাজপরিবারের সমালোচনা করায় ক্ষুব্ধ হওয়া ব্রিটিশ জনসাধারণের তোপের মুখে ২০২০ সালে ডিউক ও ডাচেস অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান।

সে সময় হ্যারি বিবিসিকে বলেছিলেন, ‘আমার সন্তানদের আমার জন্মভূমি দেখাতে পারব না—এটা সত্যিই খুব দুঃখজনক।’

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে, হ্যারির সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্ক আরও মেরামত করার সুযোগ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ক্যানসার ধরা পড়ে। বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, চিকিৎসায় চার্লস ভালো সাড়া দিচ্ছেন।

ব্রিটিশ রাজপরিবারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারীরা বলেছেন, পরিবারটি লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে থাকবে।

তাদের এই ফিরে আসা যুক্তরাজ্যের কিছু মানুষের মনে একটি প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, তা হলো—কী বদলে গেল?

রাজপরিবারের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণকারীদের মতে, এর একটি কারণ হতে পারে সন্তানদের নিয়ে হ্যারির আকাঙ্ক্ষা। তিনি যেভাবে বড় হয়েছেন, নিজের সন্তানদের তিনি হয়তো তেমনভাবেই বড় করতে চান। তিনি অত্যন্ত আবেগের সঙ্গে নিজের শৈশবের মধুর স্মৃতি স্মরণ করেন।

‘ব্রিটেন (যুক্তরাজ্য) আমার সন্তানদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি চাই, তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছে, যুক্তরাজ্যেও যেন ততটাই স্বাচ্ছন্দ্য ও আপন অনুভব করে।

প্রিন্স হ্যারি

তবে হ্যারি এ–ও চান, তাঁর সন্তানেরা যেন জনসাধারণের অতিরিক্ত নজরদারি ও সংবাদমাধ্যমের তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ ছাড়াই সে অভিজ্ঞতা পায়।

প্রিন্স হ্যারি বারবার এ বিষয়গুলোর নিন্দা করেছেন।

২০২৩ সালে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতে এক শুনানিতে হ্যারির আইনজীবী তাঁর একটি বিবৃতি পড়ে শোনান। সেখানে হ্যারি বলেন, ‘ব্রিটেন (যুক্তরাজ্য) আমার সন্তানদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমি চাই, তারা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়িতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করছে, যুক্তরাজ্যেও যেন ততটাই স্বাচ্ছন্দ্য ও আপন অনুভব করে।’

প্রথম সন্তান আর্চিকে কোলে নিয়ে মেগান ও প্রিন্স হ্যারি। ছবিটি ২০১৯ সালে আর্চির জন্মের কয়েক মাস পর তোলাছবি: রয়টার্স

এ নিয়ে ‘আফটার এলিজাবেথ: ক্যান দ্য মনার্কি সেভ ইটসেলফ?’—বইয়ের লেখক এবং রয়্যাল হিস্টোরিক্যাল সোসাইটির ফেলো এড ওয়েন্স বলেন, ‘তাঁরা চান, তাঁদের সন্তানেরা যেমন মার্কিন হিসেবে বেড়ে উঠবে, তেমনি যুক্তরাজ্যে নাগরিক হিসেবেও বেড়ে উঠুক। তাঁরা চান, সন্তানেরা তাদের বাবার দেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও উত্তরাধিকারকে নিজেদের মধ্যে ধারণ করুক।’

এই লেখক মনে করেন, হ্যারি দ্রুতই ফিরবেন। এখানে আরও কিছু বিষয় কাজ করছে বলেও মনে করেন তিনি।

এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে, হ্যারির সঙ্গে তাঁর বাবার সম্পর্ক আরও মেরামত করার সুযোগ। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের ক্যানসার ধরা পড়ে। বাকিংহাম প্যালেস জানিয়েছে, চিকিৎসায় চার্লস ভালো সাড়া দিচ্ছেন।

তবে গত বছর বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হ্যারি বলেছিলেন, ‘আমার বাবা আর কত দিন বেঁচে থাকবেন, তা আমি জানি না।’

গত ছয় বছরে আটলান্টিকের ওপারে থেকে হ্যারি ও মেগান প্রকাশ্যে যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারের তীব্র সমালোচনা করে গেছেন। বিবিসিকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকার ছিল তার সর্বশেষ অধ্যায়।

২০২৫ সালে হ্যারি তাঁর বাবার সঙ্গে রাজার লন্ডনের বাসভবনে চা পান করেন। এটিকে তাঁদের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়। গত মাসে হ্যারি ও মেগান তাঁদের সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে গেলে বাবা ও ছেলের সম্পর্কে দূরত্ব আরও কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। তাঁরা লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের বাসভবন হাইগ্রোভ হাউসে রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করেন।

অপরাহ উইনফ্রের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে, ‘স্পেয়ার’ নামের একটি বইয়ে এবং নেটফ্লিক্সে ছয় পর্বের প্রামাণ্যচিত্রে হ্যারি রাজপরিবারের বিরুদ্ধে এমনভাবে ক্ষোভ উগরে দেন, যা এর আগে রাজপরিবারের কোনো সাবেক সদস্য করার সাহস দেখাননি।

২০২৫ সালে হ্যারি তাঁর বাবার সঙ্গে রাজার লন্ডনের বাসভবনে চা পান করেন। এটিকে তাঁদের মধ্যকার সম্পর্কের তিক্ততা কাটিয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ বলে মনে করা হয়।

আর গত মাসে হ্যারি ও মেগান তাঁদের সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্যে গেলে বাবা ও ছেলের সম্পর্কে দূরত্ব আরও কিছুটা কমেছে বলে মনে হয়। পরিবারটি লন্ডনের বাইরে রাজপরিবারের বাসভবন হাইগ্রোভ হাউসে রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলার সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করে।