
অনলাইন রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
চিলে নিলো কান,এ আওয়াজ শুনতে শুনতে কান যেখানে ঝালাপালা হয়ে উঠেছে সেখানে কানে হাত দেয়ার দরকার কি? কান যেখানে উড়নচন্ডী বুলি শুনতে শুনতে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে সেখানে কান থাকলেই কি আর না থাকলেই কি!কুকুরের উদরে ঘিভাত হজম হওয়া এবং পরাধীন মানসে স্বাধীনতা শব্দটি ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য হওয়া সমান কথা। হজমের বদলা বদহজমিই এখানে প্রণিধানযোগ্য।স্বাধীনতার ছদ্মাবরণে এদেশ পরাধীনতা লাভ করেছে এই উদগার বা বমিতো এ দেশে পুরানো উপসর্গ।এখন পরোক্ষ পরাধীনতাকে প্রত্যক্ষ করার রিহার্সেল শুরু হয়েছে।তাতে পালে কতটুকু বাতাস ধরেছে সেটি নির্ণয়ের সময় এখনও আসেনি।আমি কি আর আমি আছি -এ গানের শুলুক সন্ধানে হয়তো কালান্তরের পথ পানে চেয়ে থাকতে হবে।
ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ডক্টরেট ডিগ্রীধারী প্রফেসর এবং সাবেক ইন্টেরিম গভর্ণমেন্টের উপদেষ্টা আসিফ নজরুল তার স্বপ্রণোদিত গবেষণা দিয়ে উল্লেখ করেছিলেন যে স্বাধীন বাংলাদেশে ৩৬ লক্ষ ভারতীয় বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত রয়েছে।যেখানে বাংলাদেশীরা নিজ রাষ্ট্রের চাকুরীতে নিয়োজিত হবার কথা সেখানে ভারতীয়রা সব জবরদখলে নিয়ে যাচ্ছে সেটিই তিনি প্রমাণ করতে চেয়েছেন। আসিফ নজরুলতো ফুটপাথের ভাড়াটে টোকাই নন যে শিখিয়েদেওয়া স্লোগান আওড়াবেন অথবা চাবাগানের গলির বাসিন্দা নন যে বাংলা মদ গিলে প্রলাপ বকবেন।তার কথারতো একটি গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেড়ে ইন্টেরিম ইনুছ সরকারের আইন উপদেষ্টা হয়েছিলেন আসিফ নজরুল। ইনুছের কীচেন ক্যাবিনেটের তিনি ছিলেন প্রভাবশালী সদস্য। আইন উপদেষ্টা হিসেবে ক্ষমতার রেন্স দিয়ে বিচার বিভাগকে এমনভাবে টাইট দিয়েছেন যে বিচারের বাণী গোঙানি দিয়ে আহাজারি করছে। জামিনযোগ্য ধারায় বন্দী আসামীরা কারাভ্যন্তরে শুধু গিজ গিজ করছেনা মৃত্যুবরণও করছে রাজনৈতিক কোপানলে পতিত হয়ে।এ ক্ষেত্রে তার দক্ষতা অতুলনীয়। কিন্তু তার গবেষণা লব্ধ ৩৬লক্ষ ভারতীয় নিয়োগপ্রাপ্ত দের শনাক্ত করণ ও বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে তিনি ছিলেন নির্বিকার।তার প্রদত্ত থিওরীর জট ভাঙ্গেন নি। তাই ধরে নিতে হবে মুখের রাও এবং পায়ুপথের শব্দ একই মানদন্ডে ওজন করা চলে এবং সমান দামেও বিক্রি হয়! এখন শুধু আসিফ নজরুল নয় আরও নজরুলদের উদ্ভব ঘটছে যারা দাবী করছে যে পুলিশ বিভাগ সহ সিভিল প্রশাসনেও ভারতীয় নিয়োগপ্রাপ্তরা তাদের অবস্থান সংহত করে ফেলেছে। তাদের মতে-গত ২০০৯ সনের পীলখানা হত্যাযজ্ঞে ভারতীয়দের সংশ্লিষ্টতা ছিলো। হত্যা্কারীদের মুখের ভাষা নাকি ছিলো হিন্দি। তখনতো ডিজিটাল যুগের সূচনা হয়ে গিয়েছিলো। আক্রান্তরা ফোনে তাদের অবস্থা জানান দিতে পেরেছিলেন।এমতাবস্থায় হিন্দি ভাষীদের কথোপথনও ধারণ করা হয়েছিলো। সুতরাং ফুক্কা আওয়াজের পরিবর্তে আসল আওয়াজ (হিন্দি কথোপকথন )জাতিকে শুনালেইতো ল্যাটা চুকে যেতো।কিন্তু তার ধারেকাছে না গিয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদের ডপকি বাজানো ও নতুন সুর তোলা হচ্ছে নিত্যনতুন আঙ্গিকে।বাংলাদেশের সব অনিষ্টের মূল হচ্ছে ভারত।২৫ বছরের গোলামী চুক্তির বলে দেশটির সমূহ সম্ভাবনাকে গ্রাস করে নেওয়ার পর এখন নাকি দেশের কিয়দংশ দখল করে নেবে ,এমন আতঙ্কও ছড়ানো হচ্ছে।দেশের আয়ুস্কাল পন্চাশ বছর অতিক্রম করলেও ২৫বছরের গোলামী চুক্তিতে কয়টি ধারা ছিলো এবং তাতে কি কি সন্নিবিষ্ট ছিলো বেকুব জাতি তার কিছুই জানলোনা। অবশ্য ভারতের সাথে গোলামী চুক্তির চাইতে আমেরিকার সাথে সম্পাদিত দাসত্ব চুক্তি সরস বিধায় চুক্তি কার্য্যকর হবার আগেই তার খোল নলচে পরিস্কার হয়েছে।গোলামীতে যারা তুষ্ট নয় দাসত্বে তারা তৃপ্ত অবশ্যই।এখন তাদের নিকট ভারতীয় গোলামীর চাইতে মিরিকিনি দাসত্ব যেনো সুধারসে পূর্ণ।
অপরদিকে পাকিস্তানি চঙ্গলের সুরও কম উঠেনি। ২৪ এর লাল বিপ্লবের পর নাকি বাংলাদেশ ফের পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেছে। No visa সিষ্টেম করে পাকিস্তান নাকি বাংলাদেশীকে স্বাগতঃ জানাচ্ছে। পাকিস্তানী পণ্যে নাকি গোটা দেশ সয়লাব হয়ে যাচ্ছে।পিলে চমকানো প্রচারণা হচ্ছে যে,সেনা সদরে পাকিস্তানি জেনারেলদের কানেকশন বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তানি সেনা নির্ভরতা নাকি বাড়ছে।সেনা বাহিনীতে মৌলবাদী ধারাও নাকি গতিশীল হচ্ছে। এ লক্ষে শেখ হাসিনার শাসনালের সূচনা লগ্ন থেকেই নাকি মাদ্রাসা পাসদেরকে কৌশলে সেনা বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত করণ শুরু হয়েছিলো।একইভাবে কমিশন রেংকেরও পদায়ন নিশ্চিত করা হয়।কি পরিকল্পিত বিন্যাস!
উল্লেখিত প্রচারণার আলোকে দেশ যদি ভারত কিংবা পাকিস্তানের আধিপত্য বাদের ছায়া তলে আশ্রিত হয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশ রইলো কোথায়? প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান একবার বলেছিলেন -Some body is for Awami legue and Some body is for B N p ,but nobody is for BangIadesh.এ অকাট সত্যের আলোকে যদি বলা যায় -কেহ আছে ভারত নিয়ে কেহবা পাকিস্তান নিয়ে ব্যাকুল।তাহলে বাংলাদেশ কোথায়?দাসত্বপণার প্রতিযোগীতায় স্বভূমে কি আমরা পরবাসি?সময় এসেছে এ প্রশ্নের উত্তর সমজে নেয়ার।
বৃটিশরাজ স্বেচ্ছায় ভারত ও পাকিস্তানের স্বাধীনতাকে নিশ্চিত করার পাশা পাশি দুই স্বাধীন রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্কও বজায় রেখেছিলো। কিন্তু বাংলাদেশী স্বাধীনতাতো তার ব্যতিক্রম।পাকিস্তানী রাষ্ট্রব্যবস্থা্কে সরাসরি চ্যালেন্জ করে যুদ্ধের মাধ্যমে ইপ্সীত স্বাধীন বাংলাদেশকে ছিনিয়ে আনা হয়েছিলো শহীদের রক্ত ও মাবোনের ইজ্জতের বিনিময়ে। তাই বাংলাদেশী স্বাধীনতাকে পাকিস্তান সরল দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণ করবে কি ভাবে?বাংলাদেশকে কিভাবে কপোকাৎ করা যায় এবং কিভাবে তার অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত রাখা যায় সে পথেই পাকিস্তান হাটবে।একইভাবে বাঙাল মুল্লুকের বাসিন্দাদের একটি ক্ষুদ্রাংশ যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অগ্রাহ্য করে পাকিস্তান ভাংতে চায়নি তারাও লব্ধ স্বাধীনতাকে যেমনি মেনে নিতে পারেনি তেমনি স্বাধীনতাকে বিতর্কিত ও প্রশ্ন বিদ্ধ করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ।নানান ইস্যুতে তারা বালাদেশী স্বাধীনতাকে ভারতের কারসাজি হিসাবে শনাক্তে তৎপর। সুতরাং জন্মলগ্ন থেকেই বাংলাদেশ এক বৈরী কোপানলে নিপতিত।
জন্মের অব্যবহিত পর থেকেই নবলব্ধ স্বাধীনতাকে ঘিরে চক্রান্ত শুরু হয়েছিলো এবং আজবধি তা অব্যাহত আছে।সূচনাটি হয়েছিলো পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে।সত্তুরের নির্বাচনে পার্বত্য চট্রগ্রাম থেকে জাতীয় পরিষদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন রাজা ত্রিদিব রায়।তিনি ছিলেন পাকিস্তান সেনা বাহিনীর একজন অবসর প্রপ্ত মেজর এবং আই এস আইয়ের সাথে ডাইরেক্টলি সম্পর্কযুক্ত।রাজা ত্রিবিদ রায় ৭১ সনে পাকি বাহিনীকে সরসরি সমর্থন দিয়ে পার্বত্য এলাকা ছেড়ে রাওয়াল পিন্ডিতে অবস্থান করছিলেন প্রাণ ভয়ে।৭২ সনে ভুট্টো পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হলে তার মন্ত্রী পরিষদে ত্রিবিদ রায় মন্ত্রীও হয়েছিলেন।আই এস আইয়ের যোগ সাজসে এবং ত্রিবিদ রায়ের ইশারায় পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ী বিদ্রোহীদের উদ্ভব ঘটেছিলো বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে রাখার লক্ষ্য নিয়ে।এ প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত হয়েছিলো কথিত চীনাপন্থী হক-তোয়াহা ও সিরাজ শিকদারের অনুসারিরা।তাদের দলকে ভারি করেছিলো বাংলাদেশ থেকে পলাতক পাকি যোগসাজস কারীদের নেট ওয়ার্ক।জাসদীয় বিপ্লবীদের নেপথ্যে কোন মহলের ইন্ধন ছিলো সেটি এখনও স্পষ্ট নয়।তবে পাকিস্তানের আই এস আই এখনও লক্ষভ্রষ্ট হয়নি। বাংলাদেশে পাকিস্তানি ভাব ধারা জিইয়ে রাখা এবং ভারতের সেভেনসিষ্টর্সে বিচ্ছন্নতাবাদ অব্যাহত রাখতে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বাজেটে প্রতিবছর একটি গোপন বরাদ্দ নিশ্চত রয়েছে।তাই বুঝতে হবে -এদেশে পাকিস্তানি গুণগান গাওয়া এবং বাংলাদেশী বাস্তবতাকে প্রশ্ন বিদ্ধ যারা করছে তারা কেবল মুসলিম লীগ ও জামায়েতের নাতিপুতিরা নয়। তাদের সাথে রয়েছে পাকিস্তানের কড়িভোগী বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজেরও একটি অংশ।উল্লেখিত মহলের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এখানে বহুমুখী প্রপাগান্ডা চলেছে এবং চলবেও।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতীয় সমর্থন এবং সহযোগীতা ছিলো বলেই এ দেশে ভারতীয় আধিপত্য জাল বিস্তার কি সম্ভব?অন্যদিকে পাকিস্তানীরা তাদের হারানো নিধির খোঁজ করতে গিয়ে পুরনো মিরাশ কায়েমর বাসনা কি হাতের মোয়ার মতো?তাই যদি হয় তাহলে এতো আত্মত্যাগ ,এতো সম্ভ্রম ক্ষয় ,দুর্গতির
সাগরে হাবুডুবু খাওয়ার পাশাপাশি অজস্র বীরত্ব গাথা কি ধূলোয় বিলীন হয়ে যাবে? যে ত্যাগ তিতিক্ষায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ অভিষিক্ত হয়েছিলো,সমসাময়িক বিশ্বের জন্য সেটি ছিলো বিরল স্মারকসম।ফাঁটা বাশের চিপায় পড়ে সেই গৌরব মৃতকল্প হবার নয়।এখনও এই জনপদে ৭১ সনের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও রক্ত বিধৌত মুক্তি য়ুদ্ধ হাজার বছরের মধ্যে শ্রেষ্ট উপাখ্যান হিসেবে গণ্য।এই উপাখ্যানকে ছাঁই ভষ্ম দিয়ে লেপ্টানোর গরল গিলোটিন খেলা দেখে মানুষ স্তম্ভিত এবং বাকরুদ্ধ।কিন্তু স্তম্ভিত আবহ কেঁটে গেলে বোধোদয় ধীর লয়ে ডানা মেলে।মুক্তিযুদ্ধ এবং মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নিয়ে সময়ের বিপ্রতীপ বাস্তবতায় যারা কটাক্ষ করার সাথে সাথে অপমানিত করেছে এবং করছে তারা দর্পনের বাইরে নয়।সময়ের আয়নায় তাদের অবয়ব অঙ্কিত হয়ে গেছে।দেনা পাওনার হিসেবের বাইরে থাকার কোন অবকাশ নেই।সবাইকে স্মরণে রাখতে হবে -দিনে দিনে বাড়িতেছে দেনা ,শোধিতে হইবে ঝণ। এটাই হচ্ছে কালের বাস্তবতা।
Sorwar Ahmed’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
Zulfikar Ali
ইতিহাসের নিরিখে অসাধারণ পর্যালোচনা। দুর্জন বিদ্যান হলেও পরিত্যাজ্য। আসিফ নজরুলদের মতো জ্ঞানপাপী শিক্ষকদের চেয়ে আমার দেশের নিরক্ষর কৃষক, দিনমজুর অনেক সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত। যেসব সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত লোক সামান্য অর্থের লোভে মাতৃভূমিকে বর্গীদের হাতে তুলে দিতে পারে, দাসত্বের মালা তাদের গলায়ই শোভা পায়। এ দেশ স্বাধীন হয়েছে অগণিত কৃষক -শ্রমিক ভাই বোনদের রক্তের বিনিময়ে। আগামীতে পরাধীনতার শৃঙ্খলে ভাঙতে সেই ৭১ সালের মতো কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরাই এগিয়ে আসবে ইনশাআল্লাহ। বাঙালি মাথা নোওয়ানো জাতি নয়।





















