, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৬ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

  • প্রকাশের সময় : ০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৫৯ পড়া হয়েছে
অনলাইন মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬,
 রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন শেষে বাসায় ফেরার পথে দুই তরুণীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাহুল (২৩), ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম (জর্জ) জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত পাঁচ আসামিকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের জন্য বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে খাবার শেষে তারা শুভাঢ্যা এলাকায় বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন।

এসময় একটি অটোমিশুক নিয়ে এসে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে। দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তরুণীদের রতনের খামার এলাকার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় আসামিরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। পরে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ঘটনার চার দিন পর ২৯ জুন এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত চলাকালে র‌্যাব মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তদন্তে ওই ফোনে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরজিৎ কুমার ঘোষ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ছয় আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের রায় দেন।

 

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ৬ জনের আমৃত্যু কারাদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০২:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
অনলাইন মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬,
 রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বন্ধুর জন্মদিন উদযাপন শেষে বাসায় ফেরার পথে দুই তরুণীকে অপহরণ করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
একই সঙ্গে প্রত্যেককে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগী বা তাদের পরিবারের কাছে পৌঁছে দিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- রাহুল (২৩), ডায়মন্ড (২০), আফসার উদ্দিন অনিম (২২), পারভেজ হক পলাশ (২৫), মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন (২১) এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু (২৪)। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এরশাদ আলম (জর্জ) জানান, দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উপস্থিত পাঁচ আসামিকে সাজা পরোয়ানার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে দুই তরুণী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু এক বন্ধুর জন্মদিন উদযাপনের জন্য বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্টুরেন্টে খাবার শেষে তারা শুভাঢ্যা এলাকায় বাসায় ফেরার জন্য অটোরিকশার অপেক্ষায় ছিলেন।

এসময় একটি অটোমিশুক নিয়ে এসে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে। দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পর তরুণীদের রতনের খামার এলাকার একটি নির্জন মাঠে নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ঘটনার সময় আসামিরা ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে এবং ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনও নিয়ে যায়। পরে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ঘটনার চার দিন পর ২৯ জুন এক ভুক্তভোগীর বাবা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত চলাকালে র‌্যাব মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে এক ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তদন্তে ওই ফোনে দুই তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়, যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই শরজিৎ কুমার ঘোষ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত ছয় আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের রায় দেন।