, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সার্জিও গোর বাংলাদেশে এসেছে।

  • প্রকাশের সময় : ০৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ১৪ পড়া হয়েছে

অনলাইন শুক্রবার, ৩১ জুলাই

সার্জিও গোর বাংলাদেশে এসেছে।

তার আগে বাংলাদেশে এসে হোটেল ওয়েস্টইনে বসে খেলছে

সিআইএ’র সাবেক চিফ অফিসার জেরাল্ড হ্যামিল্টন।

এ মুহুর্তে আমাদের নজর নিবদ্ধ থাকার কথা সার্জিও গোর কি করছে – সেদিকে।
কার সাথে কখন দেখা করছে – সেটা নিয়ে সবার সতর্ক দৃষ্টি থাকার কথা।
সার্জিও আজ কক্সবাজার যাবে, রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে বসবে।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে এমেরিকার অর্থায়নে অন্তত ২০ হাজার তরুণকে সশস্ত্র ট্রেইনিং ও অ’স্ত্র দেয়া হয়েছে। এর বাইরে আরো কিছু আছে তুরস্কের শেল্টারে। আলাদা গ্রুপ ও নামে।
সার্জিও সবগুলো একসাথ করার চেষ্টা করবে।
তাদের আর কি কি দিলে কি লক্ষ্য অর্জন হবে – এসব সার্জিওর মূল এজেন্ডা।
কিন্তু চাইলে তো রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এসব ইনফরমেশন এবং গিভ-এন-টেইক সল্যুশনস অন্যভাবেও করা যেত।
তাহলে কেন সার্জিও সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করতে গেলেন?
মূলত এটা একটা প্রদর্শনী। এটা দিয়ে তারেক রহমানের সরকারকে একদিকে হালকা চাপ দেয়া গেল, আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিশন এগিয়ে গেলো। কারণ, রোহিঙ্গা মিশনে মার্কিনী ইনভেস্টমেন্ট পেকে উঠেছে। শীঘ্রই তারা ফল চাইবে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে। অন্যথায় ফল অন্যদিকে চলে যাবে।
অন্যদিকে মিয়ানমারের দিকে । এটা বড় আলাপ। সংক্ষেপে – মিয়ানমারের জান্তা প্রধান এরইমধ্যে ভারত এবং চীন সফর করেছেন। মালয়েশিয়ার সাথেও কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়েছে। লক্ষণ ভালো নয়। মিয়ানমার শীঘ্রই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে সেটেলমেন্ট করার উদ্যোগ নেবে। এটা ভারতেরও চাওয়া।
কিন্তু এমেরিকা এটা হতে দিতে চায় না। তারা চায় রোহিঙ্গাদের এখানে স্থায়ী করে বিষফোঁড়া হিসেবে জিঁইয়ে রাখতে। তাহলে এটা তাদের একটা কার্ড হয়ে হাতে থাকলো। তাছাড়া এরমধ্যেই বেশ ইনভেস্ট করেছে এমেরিকা। মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সাপ্লাই দিয়ে ফেলেছে। সবই অপচয়ের খাতায় চলে যাবে।
সার্জিওর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প সাধারণত সেখানেই সার্জিওদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে পাঠান – যেখানে দ্রুত কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে যেতে হবে।
বাংলাদেশেও নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে দ্রুত কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে এমেরিকা।
★★
ঠিক এ সময়ে আমাদের চোখ অন্যদিকে আটকে রাখার মহান দায়িত্ব নিয়েছে মার্কিন কনিষ্ঠ পুত্র এনসিপি।
এই কাজের জন্য তারা বড় বাজেটও পেয়েছে।
খেয়াল করুন –
সার্জিও গোর বাংলাদেশে আসছে ২৯ জুলাই। এনসিপির সাথে ছাত্রদলের সংঘাত হয়েছে ২৮ জুলাই।
তারপর থেকে তারা মিডিয়া এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ জনগণের চোখ অন্যদিকে ফিরিয়ে রেখেছে।
যদিও পুরো মিশন এবং এনসিপির আন্দোলনের সাথে গোপনে বিএনপি জড়িতে আছে। এটা ১০০% গ্যারান্টি।
অর্থাৎ, এটা পরিকল্পিত দুষ্টু মিষ্টি আন্দোলন – যেটার গতিমুখ অন্যদিকে যাবে।
অর্থাৎ, হবিগঞ্জের ঝামেলা বিন্দু থেকে তাদের সাজানো নাটক।
যদি প্রশ্ন করা হয় – তোমাদের হবিগঞ্জ যাওয়া কেন?
যদি জানতে চাওয়া হয় – কিভাবে এমন সুন্দর সময় তোমরা নির্বাচন করতে পারলে? ঠিক এ সময়ে কেন তোমাদেরকে নাটক সাজাতে হলো?
কোনো উত্তর নেই।
★★★
হবিগঞ্জের সমাবেশকে চাঙ্গা রাখার দায়িত্ব পুলিশও পালন করছে।
তারা এই আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। চাইবে আরো মাইর খেয়ে জনগণের সিম্প্যাথি কালেক্ট করতে। প্রয়োজনে আবারও গোপালগঞ্জ যাত্রা করবে এবং আওয়ামীলীগের হাতে মাইর খাওয়ার চেষ্টা করবে।
এবং সেই মাইরকে সিম্প্যাথিতে ক্যাশ করার চেষ্টা করবে।
মূলত তারা এক ঢিলে ২ পাখি মারার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না।
—একদিকে সার্জিওর মিশন উপলক্ষে মানুষের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা। যতদিন সার্জিও দেশে থাকছে এবং যতদিন মিশনের পিক আওয়ার থাকছে – ততদিন মিডিয়া এবং মানুষের চোখ এক পলকের জন্যও অন্যদিকে সরতে পারবে না।
এই শর্তেই তারা বাজেট পেয়ে মাঠ গরম করতে নেমেছে।
— অন্যদিকে, এই সুযোগে তাদের হারানো ইজ্জত পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা।
কারণ, ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে শেখ হাসিনার ফিরে আসা। ঠেকানোর কুদরত নাই। বিএনপির দ্বারা সম্ভব নয়। জামাত লাগালাগি করে শক্তি ক্ষয় করে ফেলেছে। এনসিপির উপর জনগণ দারুণ ক্ষিপ্ত।
বিএনপি জামাতের গোপন জরিপেই ধরা পড়েছে – জনগণের ৭০% সমর্থন শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনার দিকে।
এই রিপোর্ট সেনাবাহিনীও জানে। স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনী কখনোই ৭০% জনমতের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাইবে না। অন্য মেকানিজম তো আছেই।
এগুলোই তাদের মাথা নষ্ট করে দিয়েছে।
ফলে, জনগণকে ইনক্লুড করার চেষ্টা ছাড়া উপায় নাই।
জনগণকে ইনক্লুড করার তরিকা হচ্ছে –
— জনগণের আবেগ নিয়ে খেলতে হবে।
— জনগণের ভিতরে বীর রসের সঞ্চার করতে হবে।
— মাইর খেয়ে, রক্তাক্ত হয়ে জনগণের সিম্প্যাথি কালেক্ট করতে হবে।
এগুলো করতে প্রয়োজনে সত্যি সত্যি মাইর খেতে তারা রাজি হবে। এবং সেগুলো ব্যাপক প্রচারের জন্য মার্কিন আরেক দফা বাজেট হয়ে গেছে।
মিডিয়া কাভারেজ, সিম্প্যাথি কালেক্ট, সারাদেশে মিছিলের জন্য টাকার স্রোত ঢেলে দেয়া সব করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জের মাইরের ভিডিও ঠিকঠাক নাড়া দেয়নি জনগণকে।
তাছাড়া, এই মাইর বিএনপি থেকে আসছে বলে বেশি জোরে চিল্লাতেও পারছে না তারা।
যেন – বাসর ঘরে স্বামীর মাইর খাচ্ছে , পাশের ঘরে শ্বশুর শাশুড়ী আছে। তাই চিল্লানো বারণ। ফলে এখানে নাটক জমবে না।
সুতরাং, তাদেরকে নাটকের দৃশ্য ও মোড় ঘুরাতে হবে। ওটাই তাদের লক্ষ্য।
অতএব, তাদের আরো কঠিন মাইর খাওয়া, আরো জোরে চিল্লানো এবং সিম্প্যাথি কালেক্ট করার প্রয়োজনে কিছু অঘটন ঘটানোর দরকার হবে। এবং সেটা আন্দোলনকে ঘুরিয়ে আওয়ামীলীগের সাথে জড়িয়ে পড়ার পর। তাহলেই কেবল আওয়ামীলীগের গায়ে দোষ চাপিয়ে জনগণকে বলা যাবে – দেখছো, আওয়ামীলীগ গণহত্যাকারী, খুনি, নৃশংস।
এই প্রক্রিয়ায় জনগণের সিম্প্যাথি নিতে চায় তারা।
তার জন্য আন্দোলনের মুখ লক্ষ্যের দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। এবং সার্জিও দেশ ছাড়ার পরপরই সেটা করবে।
ততোদিন জনগণের চোখ আটকে রাখাই মূল উদ্দেশ্য – যাতে সার্জিও চুপচাপ কাজ সেরে চলে যেতে পারে।
তো এনসিপি অনেকটা সফল হয়েছে।
তারা জনগণকে আটকে দিতে পেরেছে। আমাদের মানুষদের চোখও বন্দী করে ফেলতে পেরেছে। মিডিয়া তো কিনে বসে আছেই।
★★★★
কিন্তু ভাই-বন্ধুরা, আমাদেরকে আরো সতর্ক হতে হবে। আরো খেলোয়াড় হতে হবে।
সারাদেশে সংঘাত সৃষ্টি করে কড়া মাইর খেয়ে জনগণের সিম্প্যাথি কালেক্ট করার যে মিশন তারা হাতে নিতে চাচ্ছে – সেটাকেই ক্যাশ করে উল্টো খেলে দিতে হবে।
এই খেলায় মাইরও দিতে হবে, জনগণের সমর্থনও ধরে রাখতে হবে।
কারণ, সাধারণ জনগণই তাদেরকে বাঁশডলা দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। শুধু বিভ্রান্ত না হলে সেটা সাবধানে হেন্ডেল করতে হবে। আর নজর রাখতে হবে – তারা যেন আর কিছুতেই জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

Syful Islam Russel’s Post

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

সার্জিও গোর বাংলাদেশে এসেছে।

প্রকাশের সময় : ০৪:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

অনলাইন শুক্রবার, ৩১ জুলাই

সার্জিও গোর বাংলাদেশে এসেছে।

তার আগে বাংলাদেশে এসে হোটেল ওয়েস্টইনে বসে খেলছে

সিআইএ’র সাবেক চিফ অফিসার জেরাল্ড হ্যামিল্টন।

এ মুহুর্তে আমাদের নজর নিবদ্ধ থাকার কথা সার্জিও গোর কি করছে – সেদিকে।
কার সাথে কখন দেখা করছে – সেটা নিয়ে সবার সতর্ক দৃষ্টি থাকার কথা।
সার্জিও আজ কক্সবাজার যাবে, রোহিঙ্গা নেতাদের সাথে বসবে।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে এমেরিকার অর্থায়নে অন্তত ২০ হাজার তরুণকে সশস্ত্র ট্রেইনিং ও অ’স্ত্র দেয়া হয়েছে। এর বাইরে আরো কিছু আছে তুরস্কের শেল্টারে। আলাদা গ্রুপ ও নামে।
সার্জিও সবগুলো একসাথ করার চেষ্টা করবে।
তাদের আর কি কি দিলে কি লক্ষ্য অর্জন হবে – এসব সার্জিওর মূল এজেন্ডা।
কিন্তু চাইলে তো রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে এসব ইনফরমেশন এবং গিভ-এন-টেইক সল্যুশনস অন্যভাবেও করা যেত।
তাহলে কেন সার্জিও সরাসরি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ভিজিট করতে গেলেন?
মূলত এটা একটা প্রদর্শনী। এটা দিয়ে তারেক রহমানের সরকারকে একদিকে হালকা চাপ দেয়া গেল, আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিশন এগিয়ে গেলো। কারণ, রোহিঙ্গা মিশনে মার্কিনী ইনভেস্টমেন্ট পেকে উঠেছে। শীঘ্রই তারা ফল চাইবে রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে। অন্যথায় ফল অন্যদিকে চলে যাবে।
অন্যদিকে মিয়ানমারের দিকে । এটা বড় আলাপ। সংক্ষেপে – মিয়ানমারের জান্তা প্রধান এরইমধ্যে ভারত এবং চীন সফর করেছেন। মালয়েশিয়ার সাথেও কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়েছে। লক্ষণ ভালো নয়। মিয়ানমার শীঘ্রই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিয়ে সেটেলমেন্ট করার উদ্যোগ নেবে। এটা ভারতেরও চাওয়া।
কিন্তু এমেরিকা এটা হতে দিতে চায় না। তারা চায় রোহিঙ্গাদের এখানে স্থায়ী করে বিষফোঁড়া হিসেবে জিঁইয়ে রাখতে। তাহলে এটা তাদের একটা কার্ড হয়ে হাতে থাকলো। তাছাড়া এরমধ্যেই বেশ ইনভেস্ট করেছে এমেরিকা। মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সাপ্লাই দিয়ে ফেলেছে। সবই অপচয়ের খাতায় চলে যাবে।
সার্জিওর এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ট্রাম্প সাধারণত সেখানেই সার্জিওদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে পাঠান – যেখানে দ্রুত কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্তে যেতে হবে।
বাংলাদেশেও নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে দ্রুত কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে এমেরিকা।
★★
ঠিক এ সময়ে আমাদের চোখ অন্যদিকে আটকে রাখার মহান দায়িত্ব নিয়েছে মার্কিন কনিষ্ঠ পুত্র এনসিপি।
এই কাজের জন্য তারা বড় বাজেটও পেয়েছে।
খেয়াল করুন –
সার্জিও গোর বাংলাদেশে আসছে ২৯ জুলাই। এনসিপির সাথে ছাত্রদলের সংঘাত হয়েছে ২৮ জুলাই।
তারপর থেকে তারা মিডিয়া এবং মিডিয়ার মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়া অর্থাৎ জনগণের চোখ অন্যদিকে ফিরিয়ে রেখেছে।
যদিও পুরো মিশন এবং এনসিপির আন্দোলনের সাথে গোপনে বিএনপি জড়িতে আছে। এটা ১০০% গ্যারান্টি।
অর্থাৎ, এটা পরিকল্পিত দুষ্টু মিষ্টি আন্দোলন – যেটার গতিমুখ অন্যদিকে যাবে।
অর্থাৎ, হবিগঞ্জের ঝামেলা বিন্দু থেকে তাদের সাজানো নাটক।
যদি প্রশ্ন করা হয় – তোমাদের হবিগঞ্জ যাওয়া কেন?
যদি জানতে চাওয়া হয় – কিভাবে এমন সুন্দর সময় তোমরা নির্বাচন করতে পারলে? ঠিক এ সময়ে কেন তোমাদেরকে নাটক সাজাতে হলো?
কোনো উত্তর নেই।
★★★
হবিগঞ্জের সমাবেশকে চাঙ্গা রাখার দায়িত্ব পুলিশও পালন করছে।
তারা এই আন্দোলনকে দীর্ঘায়িত করে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করবে। চাইবে আরো মাইর খেয়ে জনগণের সিম্প্যাথি কালেক্ট করতে। প্রয়োজনে আবারও গোপালগঞ্জ যাত্রা করবে এবং আওয়ামীলীগের হাতে মাইর খাওয়ার চেষ্টা করবে।
এবং সেই মাইরকে সিম্প্যাথিতে ক্যাশ করার চেষ্টা করবে।
মূলত তারা এক ঢিলে ২ পাখি মারার সুযোগ হাতছাড়া করতে চাচ্ছে না।
—একদিকে সার্জিওর মিশন উপলক্ষে মানুষের চোখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে রাখা। যতদিন সার্জিও দেশে থাকছে এবং যতদিন মিশনের পিক আওয়ার থাকছে – ততদিন মিডিয়া এবং মানুষের চোখ এক পলকের জন্যও অন্যদিকে সরতে পারবে না।
এই শর্তেই তারা বাজেট পেয়ে মাঠ গরম করতে নেমেছে।
— অন্যদিকে, এই সুযোগে তাদের হারানো ইজ্জত পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা।
কারণ, ঘাড়ের উপর নিশ্বাস ফেলছে শেখ হাসিনার ফিরে আসা। ঠেকানোর কুদরত নাই। বিএনপির দ্বারা সম্ভব নয়। জামাত লাগালাগি করে শক্তি ক্ষয় করে ফেলেছে। এনসিপির উপর জনগণ দারুণ ক্ষিপ্ত।
বিএনপি জামাতের গোপন জরিপেই ধরা পড়েছে – জনগণের ৭০% সমর্থন শেখ হাসিনাকে সসম্মানে ফিরিয়ে আনার দিকে।
এই রিপোর্ট সেনাবাহিনীও জানে। স্বাভাবিকভাবেই সেনাবাহিনী কখনোই ৭০% জনমতের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে চাইবে না। অন্য মেকানিজম তো আছেই।
এগুলোই তাদের মাথা নষ্ট করে দিয়েছে।
ফলে, জনগণকে ইনক্লুড করার চেষ্টা ছাড়া উপায় নাই।
জনগণকে ইনক্লুড করার তরিকা হচ্ছে –
— জনগণের আবেগ নিয়ে খেলতে হবে।
— জনগণের ভিতরে বীর রসের সঞ্চার করতে হবে।
— মাইর খেয়ে, রক্তাক্ত হয়ে জনগণের সিম্প্যাথি কালেক্ট করতে হবে।
এগুলো করতে প্রয়োজনে সত্যি সত্যি মাইর খেতে তারা রাজি হবে। এবং সেগুলো ব্যাপক প্রচারের জন্য মার্কিন আরেক দফা বাজেট হয়ে গেছে।
মিডিয়া কাভারেজ, সিম্প্যাথি কালেক্ট, সারাদেশে মিছিলের জন্য টাকার স্রোত ঢেলে দেয়া সব করা হচ্ছে।
হবিগঞ্জের মাইরের ভিডিও ঠিকঠাক নাড়া দেয়নি জনগণকে।
তাছাড়া, এই মাইর বিএনপি থেকে আসছে বলে বেশি জোরে চিল্লাতেও পারছে না তারা।
যেন – বাসর ঘরে স্বামীর মাইর খাচ্ছে , পাশের ঘরে শ্বশুর শাশুড়ী আছে। তাই চিল্লানো বারণ। ফলে এখানে নাটক জমবে না।
সুতরাং, তাদেরকে নাটকের দৃশ্য ও মোড় ঘুরাতে হবে। ওটাই তাদের লক্ষ্য।
অতএব, তাদের আরো কঠিন মাইর খাওয়া, আরো জোরে চিল্লানো এবং সিম্প্যাথি কালেক্ট করার প্রয়োজনে কিছু অঘটন ঘটানোর দরকার হবে। এবং সেটা আন্দোলনকে ঘুরিয়ে আওয়ামীলীগের সাথে জড়িয়ে পড়ার পর। তাহলেই কেবল আওয়ামীলীগের গায়ে দোষ চাপিয়ে জনগণকে বলা যাবে – দেখছো, আওয়ামীলীগ গণহত্যাকারী, খুনি, নৃশংস।
এই প্রক্রিয়ায় জনগণের সিম্প্যাথি নিতে চায় তারা।
তার জন্য আন্দোলনের মুখ লক্ষ্যের দিকে ঘুরিয়ে দিতে হবে। এবং সার্জিও দেশ ছাড়ার পরপরই সেটা করবে।
ততোদিন জনগণের চোখ আটকে রাখাই মূল উদ্দেশ্য – যাতে সার্জিও চুপচাপ কাজ সেরে চলে যেতে পারে।
তো এনসিপি অনেকটা সফল হয়েছে।
তারা জনগণকে আটকে দিতে পেরেছে। আমাদের মানুষদের চোখও বন্দী করে ফেলতে পেরেছে। মিডিয়া তো কিনে বসে আছেই।
★★★★
কিন্তু ভাই-বন্ধুরা, আমাদেরকে আরো সতর্ক হতে হবে। আরো খেলোয়াড় হতে হবে।
সারাদেশে সংঘাত সৃষ্টি করে কড়া মাইর খেয়ে জনগণের সিম্প্যাথি কালেক্ট করার যে মিশন তারা হাতে নিতে চাচ্ছে – সেটাকেই ক্যাশ করে উল্টো খেলে দিতে হবে।
এই খেলায় মাইরও দিতে হবে, জনগণের সমর্থনও ধরে রাখতে হবে।
কারণ, সাধারণ জনগণই তাদেরকে বাঁশডলা দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে। শুধু বিভ্রান্ত না হলে সেটা সাবধানে হেন্ডেল করতে হবে। আর নজর রাখতে হবে – তারা যেন আর কিছুতেই জনগণকে বিভ্রান্ত করতে না পারে।

Syful Islam Russel’s Post

 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।