
· অনলাইন সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
“নতুন প্রজন্ম জানো কি? মেজর জিয়া নেপথ্যের খু/নী?’
ইতিহাস জানুন, বুঝুন, রাজনীতি করুন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হ/ত্যাকাণ্ড ছিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসের এক ভয়াবহ মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হ/ত্যার মধ্য দিয়ে শুধু একটি পরিবার নয়, সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই নির্মূল করার চেষ্টা করা হয়। আদালতের নথি ও আসামিদের স্বীকারোক্তিতে লে. কর্নেল সৈয়দ ফারুক রহমান, লে. কর্নেল খন্দকার আবদুর রশীদ এবং লে. কর্নেল শরীফুল হক ডালিমকে ষড়যন্ত্র ও অপারেশনের কেন্দ্রীয় সামরিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পাওয়া যায়। তাঁদের সঙ্গে মেজর বজলুল হুদা, মেজর এস.এইচ.এম.বি. নূর চৌধুরী, মেজর সুলতান শাহরিয়ার রশীদ খান, মেজর রাশেদ চৌধুরী, মেজর আজিজ পাশা ও লে. কর্নেল এ কে এম মহিউদ্দীনসহ অন্য কর্মকর্তারা হত্যাকাণ্ড বাস্তবায়নে অংশ নেন। রাজনৈতিক স্তরে তৎকালীন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; হত্যাকাণ্ডের পর তিনিই রাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ করেন এবং হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বন্ধ করতে পরবর্তীতে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়। বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের রায়েও হত্যাকাণ্ডের পর মোশতাকের ক্ষমতা গ্রহণ ও ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারির বিষয়টি নথিভুক্ত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের পূর্বপর্বে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারীদের যোগাযোগের বিষয়টিও বিভিন্ন স্বীকারোক্তি ও সাক্ষ্যে উঠে এসেছে। ফারুক রহমানের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, ১৯৭৫ সালের এপ্রিল মাসে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন; পরে খন্দকার আবদুর রশীদও জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। ফারুকের বক্তব্যে আরও বলা হয়, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার সময় রশীদের দায়িত্ব ছিল জিয়াউর রহমান, খন্দকার মোশতাক ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। মেজর এ কে এম মহিউদ্দীনের জবানবন্দিতেও বলা হয়, ফারুক ও রশীদ জিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং জিয়া তাঁদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেননি। হ/ত্যাকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগের অভিযোগ ও তাঁদের পরবর্তী আচরণ ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। হত্যাকাণ্ডের পর ফারুক, রশীদ, ডালিমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বঙ্গভবনে অবস্থান করেন এবং মোশতাক সরকারের সঙ্গে ক্ষমতার কাঠামোর অংশ হয়ে ওঠেন; ২৪ আগস্ট জিয়াউর রহমান সেনাপ্রধান নিযুক্ত হন।
১৫ আগস্টের পর ঘটনাপ্রবাহ আরও গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত বহন করে। হত্যাকারী কর্মকর্তাদের একটি অংশ বঙ্গভবনে থেকে কার্যত ক্ষমতার কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং তাদের সঙ্গে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যোগাযোগ চলতে থাকে। পরবর্তীকালে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে উঠে আসেন এবং তাঁর শাসনামলে ১৫ আগস্টের হত্যাকারীদের কয়েকজনকে বিদেশি কূটনৈতিক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা এই হ/ত্যাকাণ্ডের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিণতি নিয়ে দীর্ঘ বিতর্কের জন্ম দেয়। একই সময়ে বিদেশি শক্তির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন লেখক ও গবেষণায় এসেছে; বিশেষ করে মার্কিনীদের জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণ সাপেক্ষ না হলেও জনগণ তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি উচ্চারণ করে। তাই ইতিহাসের বিচারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য অবস্থান হলো, প্রত্যক্ষ হ/ত্যাকাণ্ডের জন্য দণ্ডিত সামরিক কর্মকর্তাদের ভূমিকা প্রতিষ্ঠিত; খন্দকার মোশতাকের রাজনৈতিক ভূমিকা গুরুতরভাবে নথিবদ্ধ; আর জিয়াউর রহমানের সঙ্গে হ/ত্যাকারী কর্মকর্তাদের যোগাযোগ, তাঁর পরবর্তী ক্ষমতায় উত্থান এবং হত্যাকারীদের প্রতি পরবর্তী রাষ্ট্রীয় আচরণ ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ও প্রমাণিত অধ্যায়।
nm Ariful Islam’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















