, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে রাহুল-মমতারা মিছিল করে যাবেন সুপ্রিম কোর্টে,মিছিলে গোটা ভারত হাঁটবে। সোমবার দিল্লি পুলিশ পরীক্ষায় রোটন তাঁর বাবার চেহলাম আয়োজনে ও বাধা ফজলে করিম চৌধুরী! আমাদের বিড়ি টানা,হাতাকাটা জামা পরার উপর যতক্ষণ না আক্রমণ আসবে ততোক্ষণ ? এই মানুষ এভাবে পচে গেল কেন? অবশেষে ডিপ স্টেট এবং ইউনূস ও খলিল সাহেবদের সাকসেস! রোটন ভাইয়ের জানাজা পড়তে যাওয়া মুসল্লীদের মসজিদ থেকে বের করে, নির্মম নির্যাতন করেছে বিএনপির ক্যাডাররা!! জাতীয় কংগ্রেসের প্রথম মুসলিম সভাপতি — বদরুদ্দীন তৈয়বজী পাকিস্তানপন্থী খাঁটি মুসলমান ইনকিলাব মঞ্চ বাবা-মায়ের কাছ থেকে যা শিখেছি ত্রপা মজুমদার

১৯৫৭ সাল:আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে তেজস্বী নেতা শেখ মুজিবুর ভারতেরপ্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে

  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ১০৬ পড়া হয়েছে

পটভূমি: দিল্লির দরবারে পূর্ব পাকিস্তানের স্বর

১ অনলাইন ১৭ জুলাই ২০২৬: ,৯৫৭ সাল। পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক গতিপথ তখন পরিবর্তনের এক চরম মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। যুক্তফ্রন্টের ঝোড়ো বিজয়ের পরবর্তী সময়ে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রদেশে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তরুণ, তেজস্বী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ঠিক এই সময়েই দিল্লির রাজকীয় আবহে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন পূর্ব বাংলার এই দুই শীর্ষ প্রতিনিধি।

বাহ্যিকভাবে এটি একটি সাধারণ কূটনৈতিক সফর মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ। ভারত ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যকার চরম মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মাঝে দাঁড়িয়ে পূর্ব বাংলার এই সফরটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রের আধিপত্যবাদী নীতির বাইরে গিয়ে বাঙালি নেতৃত্ব যে নিজস্ব একটি আঞ্চলিক ও বৈদেশিক ইমেজ গড়ে তুলতে চাইছে—নয়াদিল্লির রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের মোড়কে সেই বার্তাই হয়তো পরোক্ষভাবে দেওয়া হচ্ছিল।
আতাউর রহমান খানের কূটনৈতিক পরিমিতিবোধ
তৎকালীন প্রাদেশিক রাজনীতিতে আতাউর রহমান খান ছিলেন একজন সজ্জন, ধীরস্থির ও নিয়মতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিবিদ। যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের পর পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই নয়াদিল্লি সফর কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র কূটনৈতিক সত্তা তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে গণ্য করা যায়।
ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে করমর্দন বা মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি এই বার্তাটি স্পষ্ট করেছিলেন যে, পাকিস্তানের পূর্ব অংশটি কেবল একটি অবহেলিত ভূখণ্ড নয়, বরং তার নিজস্ব শাসনক্ষমতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তৎকালীন জটিল উপমহাদ্বেশীয় ভূ-রাজনীতিতে এমন একটি পদক্ষেপ প্রাদেশিক সরকারের কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসকেই ফুটিয়ে তোলে।
শেখ মুজিব: ভবিষ্যৎ জননায়কের কূটনৈতিক হাতেখড়ি
১৯৫৭ সালের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান আজকের মতো বিশ্বমঞ্চে নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠেননি সত্য, তবে তাঁর মাঝে যে এক অনন্য নেতৃত্বের বারুদ সুপ্ত ছিল—তার প্রমাণ ইতিহাস বারবার দিয়েছে। এই সফরে আতাউর রহমান খানের পাশে যে ঋজু ও আত্মপ্রত্যয়ী তরুণকে আমরা দেখতে পাই, তিনিই মূলত রাজপথ কাঁপানো জননেতা শেখ মুজিব।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শন কখনো শুধু ক্ষমতার চেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না। দলের জন্য তাঁর সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা তৈরি হয়েছিল এই সময়কালেই। মন্ত্রী হয়েও এই সফরে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রাচার ও কূটনীতির মারপ্যাঁচগুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তা তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছিল। এটি তাঁকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এক অনন্য প্রজ্ঞা এনে দিয়েছিল।
সফরের নেপথ্য রাজনীতি ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
ইতিহাস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমষ্টি নয়; এটি পূর্বাপর ঘটনার এক অদৃশ্য সুতোর টান। ১৯৫৭ সালের এই সফরের কিছুদিনের মধ্যেই শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাঠপর্যায়ে দলকে গোছানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই মহিমান্বিত ত্যাগের পেছনে হয়তো এই উপলব্ধিটুকুই কাজ করেছিল যে, প্রশাসনের সংকীর্ণ চার দেয়ালে বন্দি থেকে বাঙালি জাতির কাঙ্ক্ষিত মুক্তি সম্ভব নয়।
নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সেই সাদাকালো ছবিটির দিকে তাকালে বোঝা যায়, সেটি কেবল ফ্রেমবন্দি কোনো মুহূর্ত ছিল না। সেটি ছিল একটি জাতির আপন ঠিকানায় পৌঁছানোর ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে সেদিন আতাউর রহমান খান এবং তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানের যে করমর্দন হয়েছিল, তা ছিল উপমহাদেশীয় মানচিত্রে বাঙালিদের নিজেদের অংশীদারিত্ব দাবি করার এক নিভৃত দলিল।

Mahmudul Hasan Jahid’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।

জনপ্রিয়

গণভবনের ভিডিও ধারণসহ রেকিকরা হয় শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে

১৯৫৭ সাল:আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে তেজস্বী নেতা শেখ মুজিবুর ভারতেরপ্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে

প্রকাশের সময় : ০৮:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

পটভূমি: দিল্লির দরবারে পূর্ব পাকিস্তানের স্বর

১ অনলাইন ১৭ জুলাই ২০২৬: ,৯৫৭ সাল। পূর্ব বাংলার রাজনৈতিক গতিপথ তখন পরিবর্তনের এক চরম মুহূর্তে দাঁড়িয়ে। যুক্তফ্রন্টের ঝোড়ো বিজয়ের পরবর্তী সময়ে আতাউর রহমান খানের নেতৃত্বে প্রদেশে কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের শিল্প, বাণিজ্য ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তরুণ, তেজস্বী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ঠিক এই সময়েই দিল্লির রাজকীয় আবহে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন পূর্ব বাংলার এই দুই শীর্ষ প্রতিনিধি।

বাহ্যিকভাবে এটি একটি সাধারণ কূটনৈতিক সফর মনে হলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে ছিল সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক সমীকরণ। ভারত ও পাকিস্তানের রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্যকার চরম মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের মাঝে দাঁড়িয়ে পূর্ব বাংলার এই সফরটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কেন্দ্রের আধিপত্যবাদী নীতির বাইরে গিয়ে বাঙালি নেতৃত্ব যে নিজস্ব একটি আঞ্চলিক ও বৈদেশিক ইমেজ গড়ে তুলতে চাইছে—নয়াদিল্লির রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের মোড়কে সেই বার্তাই হয়তো পরোক্ষভাবে দেওয়া হচ্ছিল।
আতাউর রহমান খানের কূটনৈতিক পরিমিতিবোধ
তৎকালীন প্রাদেশিক রাজনীতিতে আতাউর রহমান খান ছিলেন একজন সজ্জন, ধীরস্থির ও নিয়মতান্ত্রিক ধারার রাজনীতিবিদ। যুক্তফ্রন্ট সরকার গঠনের পর পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার রক্ষায় তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই নয়াদিল্লি সফর কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের একটি স্বতন্ত্র কূটনৈতিক সত্তা তুলে ধরার প্রয়াস হিসেবে গণ্য করা যায়।
ভারতের রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে করমর্দন বা মতবিনিময়ের মাধ্যমে তিনি এই বার্তাটি স্পষ্ট করেছিলেন যে, পাকিস্তানের পূর্ব অংশটি কেবল একটি অবহেলিত ভূখণ্ড নয়, বরং তার নিজস্ব শাসনক্ষমতা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রয়েছে। তৎকালীন জটিল উপমহাদ্বেশীয় ভূ-রাজনীতিতে এমন একটি পদক্ষেপ প্রাদেশিক সরকারের কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসকেই ফুটিয়ে তোলে।
শেখ মুজিব: ভবিষ্যৎ জননায়কের কূটনৈতিক হাতেখড়ি
১৯৫৭ সালের এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে শেখ মুজিবুর রহমান আজকের মতো বিশ্বমঞ্চে নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক হয়ে ওঠেননি সত্য, তবে তাঁর মাঝে যে এক অনন্য নেতৃত্বের বারুদ সুপ্ত ছিল—তার প্রমাণ ইতিহাস বারবার দিয়েছে। এই সফরে আতাউর রহমান খানের পাশে যে ঋজু ও আত্মপ্রত্যয়ী তরুণকে আমরা দেখতে পাই, তিনিই মূলত রাজপথ কাঁপানো জননেতা শেখ মুজিব।
তাঁর রাজনৈতিক দর্শন কখনো শুধু ক্ষমতার চেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না। দলের জন্য তাঁর সর্বোচ্চ ত্যাগের মানসিকতা তৈরি হয়েছিল এই সময়কালেই। মন্ত্রী হয়েও এই সফরে তিনি যেভাবে রাষ্ট্রাচার ও কূটনীতির মারপ্যাঁচগুলো খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন, তা তাঁর পরবর্তী রাজনৈতিক জীবনে অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছিল। এটি তাঁকে শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নয়, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও এক অনন্য প্রজ্ঞা এনে দিয়েছিল।
সফরের নেপথ্য রাজনীতি ও ঐতিহাসিক মূল্যায়ন
ইতিহাস কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমষ্টি নয়; এটি পূর্বাপর ঘটনার এক অদৃশ্য সুতোর টান। ১৯৫৭ সালের এই সফরের কিছুদিনের মধ্যেই শেখ মুজিবুর রহমান স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মাঠপর্যায়ে দলকে গোছানোর সিদ্ধান্ত নেন। এই মহিমান্বিত ত্যাগের পেছনে হয়তো এই উপলব্ধিটুকুই কাজ করেছিল যে, প্রশাসনের সংকীর্ণ চার দেয়ালে বন্দি থেকে বাঙালি জাতির কাঙ্ক্ষিত মুক্তি সম্ভব নয়।
নয়াদিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের সেই সাদাকালো ছবিটির দিকে তাকালে বোঝা যায়, সেটি কেবল ফ্রেমবন্দি কোনো মুহূর্ত ছিল না। সেটি ছিল একটি জাতির আপন ঠিকানায় পৌঁছানোর ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ড. রাজেন্দ্র প্রসাদের সঙ্গে সেদিন আতাউর রহমান খান এবং তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানের যে করমর্দন হয়েছিল, তা ছিল উপমহাদেশীয় মানচিত্রে বাঙালিদের নিজেদের অংশীদারিত্ব দাবি করার এক নিভৃত দলিল।

Mahmudul Hasan Jahid’s Post

মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।