, মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯৭১ সালের ১৩ জুন সকাল ১০টা। সৈয়দপুর রেলস্টেশন:বীভৎস এক হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী

  • প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
  • ৩৩ পড়া হয়েছে
অনলাইন ১৭ জুলাই ২০২৬
————————————————————-
১৯৭১ সালের ১৩ জুন সকাল ১০টা। সৈয়দপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল যে ট্রেন, সেটা দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না একটু পরেই সেটি বীভৎস এক হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হতে চলেছে।
ঘূর্ণাক্ষরেও কেউ কিছু আঁচ করতে পারেননি। বরং বেশ কয়েক দিন ধরে অবরুদ্ধ বিহারি-অধ্যুষিত এই শহর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আশায় ছিল অনেকের মন।
কদিন ধরেই সৈয়দপুর শহরে পা‌কিস্তা‌নি সেনা‌দের পক্ষ থেকে মাই‌কে একটা ঘোষনা দেওয়া হচ্ছিল- বলা হ‌চ্ছিল, শহরে যেসব হিন্দু মাড়োয়ারি আটকা পড়ে আছেন, তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য একটা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেনটি সৈয়দপুর রেলস্টেশন থেকে ভারতের শিলিগুড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
মাইকে ঘোষণা শুনে যুদ্ধে লুটতরাজের হাত থেকে তখনও যা কিছু সম্বল বেঁচে গিয়েছিল, তা-ই গোছাতে শুরু করে দেন মাড়োয়ারিরা। ১৩ জুন সকালে তারা সমবেত হতে থাকেন সৈয়দপুর রেলস্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো বিশেষ ট্রেনে গাদাগাদি করে উঠে বসলেন সবাই।
ঠিক সকাল ১০টার দিকে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। চলছিল ধীরে ধীরে। শহর থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে কারখানা পেরিয়েই হঠাৎ থেমে যায় ট্রেন। জায়গাটা স্টেশন থেকে দুই মাইল দূরে। নাম তার গোলাহাট।
ট্রেন থামার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেন কেউ কেউ। বন্ধ জানালা একটু ফাঁক করতেই তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে যায়। বাইরে সারি সারি পাকিস্তানি হানাদার সেনা। সঙ্গে তাদের দোসর বিহারিরা। সেনা সদস্যদের হাতে রাইফেল। আর বিহারিদের হাতে চকচক করছিল ধারালো রামদা।
থেমে থাকা ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে ঢুকেই পাকিস্তানি সেনারা চিৎকার করে উর্দুতে বলতে থাকেন –
‘একজন একজন করে নেমে আসো।
তোমাদের মারতে এসেছি আমরা। তবে পাকিস্তানের দামি গুলি খরচ করা হবে না। সকলকে রামদার কোপে বলি দেওয়া হবে।’
সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ। ধারালো রামদা দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছিল গলা, যেন বলি দেওয়া হচ্ছে। ওই হত্যাযজ্ঞে শিশু, বৃদ্ধ, নারীরাও রেহাই পাননি। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়, ওই ট্রেন হত্যাযজ্ঞে ৪৪৮ জনকে একে একে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন তাঁর ‘ট্রেন’ উপন্যাসে সৈয়দপুরের গোলাহাট বধ্যভূমি ও ট্রেন ট্র্যাজেডির নির্মম বর্ণনা তুলে ধরেছেন। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ‘৭১ এর ১৩ জুন সৈয়দপুরের গোলাহাটে নিহত সকল

নন্দিত আরাধনা’s Post

যদি কিছু মনে না করেন 
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।
জনপ্রিয়

১৯৭১ সালের ১৩ জুন সকাল ১০টা। সৈয়দপুর রেলস্টেশন:বীভৎস এক হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী

প্রকাশের সময় : ১০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬
অনলাইন ১৭ জুলাই ২০২৬
————————————————————-
১৯৭১ সালের ১৩ জুন সকাল ১০টা। সৈয়দপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল যে ট্রেন, সেটা দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না একটু পরেই সেটি বীভৎস এক হত্যাযজ্ঞের সাক্ষী হতে চলেছে।
ঘূর্ণাক্ষরেও কেউ কিছু আঁচ করতে পারেননি। বরং বেশ কয়েক দিন ধরে অবরুদ্ধ বিহারি-অধ্যুষিত এই শহর ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার আশায় ছিল অনেকের মন।
কদিন ধরেই সৈয়দপুর শহরে পা‌কিস্তা‌নি সেনা‌দের পক্ষ থেকে মাই‌কে একটা ঘোষনা দেওয়া হচ্ছিল- বলা হ‌চ্ছিল, শহরে যেসব হিন্দু মাড়োয়ারি আটকা পড়ে আছেন, তাদের নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেওয়া হবে। এ জন্য একটা বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রেনটি সৈয়দপুর রেলস্টেশন থেকে ভারতের শিলিগুড়ির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে।
মাইকে ঘোষণা শুনে যুদ্ধে লুটতরাজের হাত থেকে তখনও যা কিছু সম্বল বেঁচে গিয়েছিল, তা-ই গোছাতে শুরু করে দেন মাড়োয়ারিরা। ১৩ জুন সকালে তারা সমবেত হতে থাকেন সৈয়দপুর রেলস্টেশনে। প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো বিশেষ ট্রেনে গাদাগাদি করে উঠে বসলেন সবাই।
ঠিক সকাল ১০টার দিকে স্টেশন থেকে ছেড়ে যায় ট্রেনটি। চলছিল ধীরে ধীরে। শহর থেকে বেরিয়ে রেলওয়ে কারখানা পেরিয়েই হঠাৎ থেমে যায় ট্রেন। জায়গাটা স্টেশন থেকে দুই মাইল দূরে। নাম তার গোলাহাট।
ট্রেন থামার কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা করেন কেউ কেউ। বন্ধ জানালা একটু ফাঁক করতেই তাদের অন্তরাত্মা কেঁপে যায়। বাইরে সারি সারি পাকিস্তানি হানাদার সেনা। সঙ্গে তাদের দোসর বিহারিরা। সেনা সদস্যদের হাতে রাইফেল। আর বিহারিদের হাতে চকচক করছিল ধারালো রামদা।
থেমে থাকা ট্রেনের কম্পার্টমেন্টে ঢুকেই পাকিস্তানি সেনারা চিৎকার করে উর্দুতে বলতে থাকেন –
‘একজন একজন করে নেমে আসো।
তোমাদের মারতে এসেছি আমরা। তবে পাকিস্তানের দামি গুলি খরচ করা হবে না। সকলকে রামদার কোপে বলি দেওয়া হবে।’
সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় বেপরোয়া হত্যাযজ্ঞ। ধারালো রামদা দিয়ে কেটে ফেলা হচ্ছিল গলা, যেন বলি দেওয়া হচ্ছে। ওই হত্যাযজ্ঞে শিশু, বৃদ্ধ, নারীরাও রেহাই পাননি। বিভিন্ন সূত্রে বলা হয়, ওই ট্রেন হত্যাযজ্ঞে ৪৪৮ জনকে একে একে রামদা দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন তাঁর ‘ট্রেন’ উপন্যাসে সৈয়দপুরের গোলাহাট বধ্যভূমি ও ট্রেন ট্র্যাজেডির নির্মম বর্ণনা তুলে ধরেছেন। বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছি ‘৭১ এর ১৩ জুন সৈয়দপুরের গোলাহাটে নিহত সকল

নন্দিত আরাধনা’s Post

যদি কিছু মনে না করেন 
 মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার  কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।