
অনলাইন সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমানে নিজেই নিজেকে “কিং-মেকার” হিসেবে উপস্থাপন করা সিআইএ-এনইডি (CIA-NED) ফান্ড-প্রাপ্ত তাসনিম খলিলের পেছনের গল্প জানা উচিৎ। তারেক রহমানকে “Dark Prince of Bogra” (বগুড়ার অন্ধকারাচ্ছন্ন রাজপুত্র) হিসেবে পরিচিত করানোর পেছনে অন্যতম ভূমিকা ছিলো এই তাসনিম খলিলের।
এক-এগারোর সময় ডেইলি স্টার-এর সম্পাদক মাহফুজ আনামের সঙ্গে ডিজিএফআই (সেনা গোয়েন্দা সংস্থা)-এর বিশেষ ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ ছিল। সে কারণেই সংস্থাটির পছন্দ হয়নি বলে ডেইলি স্টার প্রকাশিত ফোরাম ম্যাগাজিনের একটি সংখ্যা তখন প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ওই সংখ্যায় তারেক রহমান, ডিজিএফআই এবং জঙ্গি মদদ নিয়ে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল।
বাংলা ট্রিবিউন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডেইলি স্টার-এর সাবেক সাংবাদিক তাসনিম খলিল এমন তথ্যই জানিয়েছিলেন।
তাসনিম খলিল এক-এগারোর সময় ডেইলি স্টার-এ সম্পাদনা সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হন এবং নির্যাতনের শিকার হন।
ফোরাম ম্যাগাজিনে তারেক রহমান, ডিজিএফআই এবং জঙ্গি মদদ নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনটির লেখকও ছিলেন তাসনিম খলিল।
তাসনিম খলিলের আটক, নির্যাতন এবং এক-এগারোর সময় বাংলাদেশের নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর ভূমিকা সম্পর্কে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিবেদনেও তথ্য পাওয়া যায়। (প্রাসঙ্গিক সূত্র সমূহ প্রথম কমেন্টে)
বর্তমানে কথিত “আয়নাঘর” আটককেন্দ্রগুলোর বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আনার জন্য পরিচিত সাংবাদিক তাসনিম খলিল ২০০৭ সালে নিজেই তার নিজের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বহু আগে এমন একটি আটককেন্দ্রে আটক হয়েছিলেন। এরূপ তার বর্ণনা অনুযায়ী, “আয়নাঘর” ধারণাটি ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণকারী আওয়ামী লীগ সরকারেরও পূর্ববর্তী।
তাসনিম খলিলের ভাষ্যমতে, ফোরাম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত তার লেখা “প্রিন্স অব বগুড়া” (Prince of Bogra) শীর্ষক একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনের বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি লিখেছেন:
«”In that story, titled ‘Prince of Bogra’, I exposed how Tarique Rahman was sponsoring militant groups and how DGFI creates and harbors Islamic militant organizations in Bangladesh.”»
( অনুবাদ: প্রিন্স অব বগুড়া’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদনে আমি তুলে ধরেছিলাম কীভাবে তারেক রহমান জঙ্গি গোষ্ঠীগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছিলেন এবং কীভাবে ডিজিএফআই বাংলাদেশে ইসলামপন্থী জঙ্গি সংগঠনগুলো সৃষ্টি ও লালন-পালন করতো। )
নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, খলিল বিশ্বাস করতেন যে এই প্রতিবেদনটিই তার আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের কারণ ছিল।
২০০৭–২০০৮ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় “মাইনাস টু” এজেন্ডার অধীনে বহু রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং অন্যান্য ব্যক্তিকে আটক করা হয় বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাসনিম খলিল এই সময়টিকে বাংলাদেশের রাজনীতিকে দেশের বেসামরিক ও সামরিক অভিজাত গোষ্ঠীর একটি অংশের অনুকূলে মেরুকরণমুক্ত (depolarize) করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ তাদের ২০০৮ সালের প্রতিবেদনে তাসনিম খলিলের গ্রেপ্তার, আটক এবং নির্যাতনের অভিযোগ নথিভুক্ত করেছে। এছাড়া তার আটক হওয়ার ঘটনাটি নিয়ে সমসাময়িক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ভয়েসেস। (প্রাসঙ্গিক সূত্র সমূহ দ্বিতীয় কমেন্টে)
@আকিব মুহম্মদ ফুয়াদ
Mohammed Abu Abbas Bhuya’s Post
মতামতঃ লেখকের নিজস্ব। এ লেখার কোন দায় ডিজিটাল পত্রিকার কতৃপক্ষ দায়ী নন।





















